নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে জোরালো বিক্ষোভের জেরে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ইন্টারনেট ব্যবহারে চলছে দীর্ঘমেয়াদি ও কঠোর বিধিনিষেধ। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত জুনের শুরু থেকে অঞ্চলটিতে মোবাইল ডাটা ও ব্রডব্যান্ড সেবা প্রায় বন্ধ রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি এরই মধ্যে ১০০ দিন পার করেছে।
চলমান অচলাবস্থা ও জনজীবন
বিক্ষোভের পর অঞ্চলটিতে তিন ধাপে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যার শেষ ধাপটি সম্পন্ন হয়েছিল গত ১০ আগস্ট। নতুন সরকার গঠিত হলেও আংশিক ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সেখানকার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিংয়ের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও অ্যাপে প্রবেশ করা এখনো সম্ভব হচ্ছে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পুরো অঞ্চলের ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও। এছাড়া ইন্টারনেট না থাকায় শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষ পিছিয়ে গেছে এবং বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষকে ভর্তি পরীক্ষাও পেছাতে হয়েছে।
ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে আসছে স্বাধীন সংস্থা 'নেটব্লকস'। তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে অঞ্চলটিতে এই আংশিক ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থা চলছে।
যেভাবে শুরু হয়েছিল উত্তেজনা
গত ২৭ জুলাই নির্ধারিত স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মূলত এই উত্তেজনার সূত্রপাত ঘটে। গত ৫ জুন কর্তৃপক্ষ তৃণমূলভিত্তিক সংগঠন 'জম্মু কাশ্মীর জয়েন্ট আওয়ামি অ্যাকশন কমিটি' (জেকেজেএসি)-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। উল্লেখ্য, এই সংগঠনটি আইনসভায় ভারত-শাসিত কাশ্মীরের শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত ১২টি আসন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিল।
এই নিষেধাজ্ঞার পরপরই কর্তৃপক্ষ ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দেয় এবং বিক্ষোভ দমনে কঠোর অবস্থান নেয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে এবং গত ২৭ জুলাই তা এক রক্তক্ষয়ী ও প্রাণঘাতী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
বাসিন্দা ও স্থানীয় বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা এরই মধ্যে ৫০ ছাড়িয়ে গেছে। নিহতদের এই তালিকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাত সদস্যও রয়েছেন। তবে স্বাধীন কোনো সূত্রের মাধ্যমে এই হতাহতের সংখ্যা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কাশ্মীরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
কাশ্মীর মূলত একটি দীর্ঘদিনের বিরোধপূর্ণ অঞ্চল, যার পুরোটাই নিজেদের বলে দাবি করে থাকে ভারত ও পাকিস্তান উভয় দেশ। এর মধ্যে পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীর একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত হয়ে থাকে। অঞ্চলটির নিজস্ব একজন প্রধানমন্ত্রী এবং ৪৫ সদস্যের একটি আইনসভাও রয়েছে। যার মধ্যে ১২টি আসন ভারত-শাসিত কাশ্মীর থেকে পাকিস্তানের অন্য অংশে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত চরম ঝুঁকির কারণে বিক্ষোভের তীব্রতা রয়েছে— এমন কয়েকটি ঘাঁটিতে ভোটগ্রহণ করা সম্ভব হয়নি। তবে স্বায়ত্তশাসিত এই অঞ্চলের বাকি অংশের নির্বাচনের প্রাপ্ত ফলাফলের ওপর ভিত্তি করেই বর্তমানে সরকার গঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
থাইল্যান্ডের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দরে ট্যাক্সিওয়েতে আটকে পড়েছে এমিরেটসের এয়ারবাস এ-৩৮০। পাঁচ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে একই বিমানবন্দরে দ্বিতীয়বারের মতো স্থানীয় সময় সোমবার রাতে আটকে পড়ল উড়োজাহাজটি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২ নভেম্বর রাত ৯টা ১১ মিনিটে দুবাইগামী এমিরেটসের ইকে৩৭৩ ফ্লাইটটি ট্যাক্সিওয়ে ই২১-তে চলাচল করতে গিয়ে আটকে যায়। পরে একটি টোয়িং গাড়ির সাহায্যে রাত ১০টা ১৮ মিনিটে উড়োজাহাজটিকে সরানো হয়। এর চার মিনিট পর সেটি উড্ডয়ন করে। পরিদর্শনে ট্যাক্সিওয়ের পৃষ্ঠ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। কর্তৃপক্ষের ধারণা, দীর্ঘদিনের ভারি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে মাটির নিচে পানি জমে পেভমেন্ট দুর্বল হয়ে পড়েছিল। উড়োজাহাজের ভারে সেটি দেবে যায়। উড্ডয়নের সময় এয়ারবাস এ৩৮০-এর ওজন সর্বোচ্চ ৫৭৫ টন পর্যন্ত হতে পারে। মেরামতের জন্য মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার রাত পর্যন্ত বিমানবন্দরের ০২আর/২০এল নম্বরের মাঝের রানওয়ে বন্ধ রাখা হয়। তবে অন্য দুটি রানওয়ে দিয়ে উড়োজাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হওয়ায় ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো প্রভাব পড়েনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর আগে গত ২৮ অক্টোবর একই এলাকার কাছে চায়না এয়ারলাইনসের একটি বোয়িং ৭৩৭-৮০০ উড়োজাহাজের চাকা ক্ষতিগ্রস্ত পেভমেন্টে দেবে গিয়ে আটকে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পালাবদল ঘটেছে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। চারটি আসন পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। গত বছরও দলটির জন্য এমন জয়কে প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছিল। এই জয়ের ফলে আগামী ২০২৭ সালে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আবারও দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর নজরদারি, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় নিয়োগ এবং আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে দলটি। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বাড়ানোর প্রয়োজন ছিল। নির্বাচনে নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও ওহাইওতে রিপাবলিকানদের হারিয়ে সেই লক্ষ্য পূরণ করেছে তারা। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে পরাজিত করেন। সাউথ ক্যারোলাইনায় শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ হারান রিপাবলিকান ডারলিন গ্রাহামকে। টেক্সাসে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি জেমস টালারিকো পরাজিত করেন অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে। আর ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন জয়ী হন। নির্বাচনের ফলাফলকে ট্রাম্পের জন্য রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যান হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। নির্বাচনী প্রচারে অক্টোবরজুড়ে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে ব্যাপক প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি। তবে তার জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক ইউনিট সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বুধবারই হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করে রেখেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অনুমোদন এখনো মেলেনি। এর মধ্যেই ইরান ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র যুক্ত করার প্রযুক্তি এগিয়ে নিচ্ছে বলে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে ইসরায়েল। যদিও ইসরায়েলের দেওয়া গোয়েন্দা তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন ও উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের কর্মকর্তারা। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরদিনই ইরানে হামলার সম্ভাবনা নিয়ে মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস। সংবাদমাধ্যমটির তথ্য অনুযায়ী, সেন্টকমের হামলার পরিকল্পনা প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ইরানের ওপর সামরিক হামলার পরিবর্তে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন অবরোধ অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। তাদের ধারণা, অর্থনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানের শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করা সম্ভব। তবে অন্য কর্মকর্তাদের যুক্তি, দেশটির শাসনব্যবস্থাকে দুর্বল করতে সামরিক পদক্ষেপই কার্যকর হতে পারে। এদিকে, ইসরায়েলি গোয়েন্দারা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, ইরান দ্রুত এমন প্রযুক্তি তৈরি করছে, যার মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র যুক্ত করা সম্ভব হবে। এমনকি অন্য দেশে রাসায়নিক অস্ত্র পাচার করে হামলা চালানোর সক্ষমতাও অর্জনের চেষ্টা করছে তেহরান। গত দুই সপ্তাহে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও রাসায়নিক অস্ত্রের হুমকিকে বেশি জরুরি হিসেবে তুলে ধরেছেন। তবে এ তথ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিলেও অন্যরা ইসরায়েলি সরকারের এই সতর্কবার্তাকে ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ তৈরির প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি করছে কি না, তা নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দা মহলে বড় ধরনের মতভেদ নেই। মূল বিতর্ক হলো, ইরানের নেতারা এসব অস্ত্র বাস্তবে ব্যবহার করবেন কি না, বিশেষ করে দেশটির ওপর নতুন করে হামলা না হলে। ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গেও কিছু গোয়েন্দা তথ্য ভাগ করেছে। তবে কয়েকটি দেশ ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। তাদের ধারণা, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আরও তীব্র পর্যায়ে যেতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল। এক আঞ্চলিক কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের রাসায়নিক অস্ত্রের সক্ষমতা নিয়ে কিছু মূল্যায়ন জানিয়েছে, কিন্তু এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেয়নি। ফলে কয়েকটি উপসাগরীয় সরকার এসব দাবিকে গুরুত্বহীন বলে মনে করছে। ইসরায়েলের সতর্কবার্তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তার মধ্যে ২০০২ সালে ইরাকের গণবিধ্বংসী অস্ত্র নিয়ে দেওয়া ভুল গোয়েন্দা তথ্যের স্মৃতিও ফিরে এসেছে। সে সময় ইরাকের কাছে এ ধরনের অস্ত্র রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দৃঢ়ভাবে জানিয়েছিল। পরে দেখা যায়, দেশটি তাদের পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জীবাণু অস্ত্র কর্মসূচি অনেকটাই বন্ধ বা স্থগিত করেছিল। ইরানের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রে রাসায়নিক অস্ত্র যুক্ত করা তুলনামূলক সহজ হলেও রাসায়নিক উপাদান কার্যকরভাবে ছড়িয়ে দেওয়া কঠিন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। সীমান্ত পেরিয়ে বোমা পাচার করাও সহজ নয়। এ ক্ষেত্রে ড্রোন ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে, ইসরায়েল রাসায়নিক হামলার আশঙ্কার কথা জানালেও দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ডের চলমান সামরিক মহড়ায় এ ধরনের হামলা মোকাবিলার বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা থেকে সুরক্ষার নির্দেশনা নিয়েও সেনা কর্মকর্তা বা সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচার চালানো হয়নি। এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টাও চলছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এমন একটি চুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, যার মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমাধান এবং নতুন করে সামরিক সংঘাত এড়ানোর পথ তৈরি হতে পারে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরি অবস্থান করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ট্রাম্প এখনো বড় ধরনের হামলার অনুমোদন দেননি। ইরান রাসায়নিক অস্ত্র কর্মসূচির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তেহরানের দাবি, এ ধরনের অভিযোগ ইসরায়েলের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের অংশ। ২০০৩ সালে ইরান স্বীকার করেছিল, ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তারা রাসায়নিক অস্ত্রের সক্ষমতা তৈরি করেছিল। তবে পরে তা ভেঙে ফেলার দাবি করে দেশটি। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের পক্ষ থেকে আসা প্রতিটি হুমকি তারা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং তা মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস নিউইয়র্ক টাইমসের প্রশ্নের জবাব না দিলেও একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যেকোনো সম্ভাব্য হুমকি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের রক্ষা করবেন ট্রাম্প। সূত্রঃ জেরুজালেম পোস্ট ও টাইমস অফ ইসরায়েল