খেলাধুলা

ইচ্ছাকৃতভাবেই অবৈধ কাজটা করেছি : সাকিব

মোঃ ইমরান হোসেন ডিসেম্বর ০৮, ২০২৫

বাংলাদেশের অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে। তার এই ছিটকে যাওয়ার শুরু গত বছর, যখন অবৈধ বোলিং অ্যাকশনের কারণে তিনি বোলিং থেকে নিষিদ্ধ হন। এবার তিনি জানান, নিষিদ্ধ হওয়ার সেই ম্যাচে তিনি ইচ্ছাকৃতভাবেই বেআইনি অ্যাকশন ব্যবহার করেছিলেন।

 

ঘটনাটি ২০২৪ সালের। সারের হয়ে খেলার সময় তিনি ক্লান্তির কারণে সচেতনভাবেই কিছু ডেলিভারিতে অবৈধ অ্যাকশনের আশ্রয় নেন। পরে সেই অ্যাকশন রিপোর্ট হলে তাকে সাময়িক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হয়। লাফবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন পরীক্ষায় তার অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হলে ইসিবি ইংল্যান্ডের সব ধরনের প্রতিযোগিতায় তার বোলিং নিষিদ্ধ করে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও প্রযোজ্য হয়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সাকিব বলেন, ‘আমার মনে হয় কিছুটা ইচ্ছা করেই এটা করছিলাম। কারণ ওই ম্যাচে আমি ৭০ ওভারের বেশি বোলিং করেছি। কখনোই কোনো টেস্টে এত ওভার করিনি। সারের হয়ে সমারসেটের বিরুদ্ধে চার দিনের ম্যাচ খেলছিলাম, খুব ক্লান্ত ছিলাম।’

তিনি জানান, পাকিস্তানে টানা দুটি টেস্ট খেলে সিরিজ জয়ের পর তিনি সারের হয়ে ওই ম্যাচ খেলতে যান। তার ভাষায়, ‘আম্পায়ার চাইলে আমাকে আগে সতর্ক করতে পারত। তবে নিয়ম অনুযায়ী তারা যা করেছে, তা করার অধিকার ছিল। আমি অভিযোগ করিনি।’

পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি নিজের অ্যাকশন পুনরায় পর্যালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষার ভিডিও দেখলাম। মনে হলো ঠিক আছে, এটাই ঘটেছে। তারপর দুই সপ্তাহ ট্রেনিং করলাম। সারের সহায়তায় দুটো সেশনেই সব ঠিক হয়ে গেল। তখনই বুঝলাম, ব্যাপারটা এত কঠিন নয়।

 

গত মৌসুমে সারের হয়ে তিনি মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন, যেখানে মোট ৬৩.২ ওভার বল করেন। এ বছর লাফবরা বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃতীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি আবারও বোলিংয়ের অনুমতি পান। এর আগে চেন্নাইয়ের দ্বিতীয় পরীক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় তাকে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দলেও রাখা হয়নি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

খেলাধুলা

আরও দেখুন
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত
ফোর্বসের শীর্ষ আয়ে আবারও রোনালদো, পিছিয়ে মেসি

আবারও ফোর্বসের শীর্ষ উপার্জনকারী ক্রীড়া অ্যাথলেট হয়েছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এ নিয়ে টানা চতুর্থ এবং সবমিলিয়ে ষষ্ঠবার ক্রীড়াবিদদের মধ্যে আয়ের শীর্ষে অবস্থান করছেন সিআরসেভেন। ২০২৫ সালে ৩০০ মিলিয়ন ডলার (৩৬৮৮ কোটি টাকারও বেশি) আয় করেছেন রোনালদো। মাঠে আয় ২২৫ মিলিয়ন এবং মাঠের বাইরে ৬৫ মিলিয়ন ডলার করেছেন এই ফুটবলার। এই তালিকার দুইয়ে আছেন মেক্সিকোর বক্সার কানেলো আলভারেজ। ৩৫ বছর বয়সী আলভারেজ ২০২৫ সালে মোট ১৭০ মিলিয়ন ডলার (২০৯০ কোটি টাকার বেশি) আয় করেছেন। এর মধ্যে মাঠে ১৬০ মিলিয়ন এবং বাহ্যিক কার্যক্রমে ১০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন মেক্সিকোর এই বক্সার। অন্যদিকে, রোনালদোর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি আছেন তালিকার ক্রীড়াঙ্গনের শীর্ষ আয়ের তালিকায় তিনে। গত এক বছরে মেসির আয় ১৪০ মিলিয়ন ডলার (১৭২১ কোটি টাকার বেশি)। এর মধ্যে তিনি ৭০ মিলিয়ন মাঠের পারফরম্যান্স এবং বাকি ৭০ মিলিয়ন ডলার মাঠের বাইরের নানা কার্যক্রমে পকেটে পুরলেন। ক্রীড়া অ্যাথলেটদের ভেতর এরপর শীর্ষ উপার্জনকারী ব্যক্তিদের মাঝে ১০-এর ভেতর আছেন– যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল কিংবদন্তি লেব্রন জেমস (১৩৭.৮ মিলিয়ন ডলার), জাপানের বেসবল খেলোয়াড় শোহেই ওহতানি (১২৭.৬ মিলিয়ন ডলার), যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল তারকা স্টিফেন কুরি (১২৪.৭ মিলিয়ন ডলার), স্পেনের গলফার জন রাম (১০৭ মিলিয়ন ডলার), ফ্রান্সের সাবেক ও আল হিলালের তারকা করিম বেনজেমা (১০৪ মিলিয়ন ডলার), যুক্তরাষ্ট্রের বাস্কেটবল খেলোয়াড় কেভিন ডুরান্ট (১০৩.৮ মিলিয়ন ডলার)  এবং যুক্তরাজ্যের অটো-রেসিং তারকা লুইস হ্যামিল্টন (১০০ মিলিয়ন ডলার)।

মারিয়া রহমান মে ২৩, ২০২৬
ফাইল ছবি

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিসিবি পরিচালক হচ্ছেন যারা

ছবি : সংগৃহীত

রোনালদোদের কোচ হতে পারেন গার্দিওলা!

ছবি : সংগৃহীত

হেলসকে ছাড়িয়ে কোহলির রেকর্ড

ছবি : সংগৃহীত
রেয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন আলাবা

মৌসুমে নিজেদের শেষ ম‍্যাচের আগে রেয়াল মাদ্রিদ আরও একজন ডিফেন্ডারের দল ছাড়ার খবর জানাল। দানি কার্ভাহালের মতো আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে ম‍্যাচ দিয়ে সান্তিয়াগো বের্নাবেউ ছাড়বেন ডাভিড আলাবা।   লা লিগার শেষ রাউন্ডে শনিবার বিলবাওয়ের বিপক্ষে খেলবে রেয়াল। এর আগের দিন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ৩৩ বছর বয়সী অস্ট্রিয়ান ডিফেন্ডারের দল ছাড়ার খবর জানায় রেয়াল। বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ২০২১ সালে ফ্রি ট্রান্সফারে ইউরোপের সফলতম ক্লাবটিতে যোগ দেন আলাবা। পাঁচ বছরের বেশি সময়ে রেয়ালের হয়ে ১৩১ ম‍্যাচ খেলেন তিনি, জেতেন ১১টি শিরোপা। ২০২৩ সালে গুরুতর এসিএল চোটে ৩৯৯ দিন মাঠের বাইরে ছিলেন আলাবা। এরপর ফিরলেও আর সেরা অবস্থায় ফিরতে পারেননি তিনি। চলতি মৌসুমে সব মিলিয়ে তিনি খেলতে পেরেছেন কেবল ৫০৭ মিনিট। সব মিলিয়ে রেয়ালে শেষের ডাক শুনছিলেন আলাবা। এবার ক্লাব জানাল নবায়ন হচ্ছে না চুক্তি। রেয়াল অধিনায়ক কার্ভাহালও বিলবাও ম‍্যাচ দিয়ে বিদায় জানাবেন প্রিয় বের্নাবেউকে। ভবিষ‍্যৎ এখনও ঠিক হয়নি আলাবার। দেশের হয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে খেলবেন তিনি। এরপরও হয়তো ঠিক করবেন নতুন গন্তব‍্য।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বকাপের বাকি ১৯ দিন: দি ট্রেবল ক্লাব

আলভারো আরবেলোয়া ও হোসে মরিনহো। ছবি: সংগৃহীত

মরিনহোর ফেরার গুঞ্জনের মাঝে রিয়াল ছাড়লেন আরবেলোয়া

ছবি : সংগৃহীত

গার্দিওলার সম্মানে ভাস্কর্য গড়বে ম্যানচেস্টার সিটি

ছবি : সংগৃহীত
জিম্বাবুয়ে সিরিজ শেষে এবার বাংলাদেশের লক্ষ্য অস্ট্রেলিয়া

সিরিজ জিতলেই বোনাস—বাংলাদেশ ক্রিকেটে রীতিটা নতুন নয়। ক্রিকেটারদের কেন্দ্রীয় চুক্তিতেই উল্লেখ আছে ‘উইনিং বোনাস’–এর কথা। বড় সাফল্যে বোনাস থাকে এর বাইরেও। এবারও যেমন পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জেতায় বাংলাদেশ দলকে বোনাস দিতে চেয়েছিল বিসিবি। কিন্তু রীতি ভেঙে ক্রিকেটাররা বিসিবিকে জানিয়েছেন, তাঁরা বোনাস নেবেন না। এই টাকায় শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সুইমিংপুল নির্মাণ আর জিম সংস্কারের অনুরোধ জানিয়েছেন ক্রিকেটাররা।   বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মানসিকতার পরিবর্তন ইদানীং মাঠের খেলাতেই দেখা যাচ্ছে। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে স্পোর্টিং উইকেট বানিয়ে টেস্ট জয়ের পর পরের ম্যাচটা ফ্ল্যাট উইকেটে খেলে নিরাপদ থাকতে চাওয়াটা যেমন অস্বাভাবিক হতো না। কিন্তু সিলেটেও বাংলাদেশ দল স্পোর্টিং উইকেটেই খেলেছে। প্রতিপক্ষ পাকিস্তান মাঝে ভয় ধরালেও সেখানেও জিতেছে বাংলাদেশই। পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সাফল্যে বিশ্ব ক্রিকেটকেই একটা বার্তা দেওয়া গেছে বলে মনে করেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। গতকাল প্রথম আলোকে জাতীয় দলের এই সাবেক অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা সবাইকে একটা বার্তা দিতে পেরেছি, এমনকি নিজেদেরকেও। অনেক দেশই একটা টেস্ট জিতলে পরের টেস্টের জন্য ফ্ল্যাট উইকেট বানায়। হারার ভয় যেন না থাকে, সিরিজটা জেতা যায়...উদ্দেশ্য এটাই থাকে। আগে হলে আমরাও এমন করতাম। কিন্তু এখন আমরা তা করি না।’ পাকিস্তানের বিপক্ষে ২–০তে সিরিজ জয়ে উচ্ছ্বাস আছে বিসিবির অন্তর্বর্তীকালীন সভাপতি তামিম ইকবালেরও। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের দায়িত্বেও এখন তামিম নিজেই। সিরিজ জয়ের কৃতিত্বটা তিনি দিয়েছেন দল সংশ্লিষ্টদেরই। মিরপুরে বিসিবি কার্যালয়ে গতকাল তামিম সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, ‘মাঠে যাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন, তাঁদেরকে বাহবা দিতে হবে। কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, ক্রিকেট অপারেশনস ম্যানেজার—এটা তাঁদের সাফল্য।’ ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে হারানোর পর টেস্টে বাংলাদেশের পরবর্তী প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে। জুলাইয়ে এক টেস্ট ও তিন ওয়ানডের সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ দল জিম্বাবুয়ে সফর করবে। তবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ নয়। টেস্টে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তাই অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর পর আগামী আগস্টে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে দল। বাংলাদেশের বর্তমান দলের কোনো ক্রিকেটারেরই অবশ্য কোনো সংস্করণের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলার অভিজ্ঞতা নেই। কঠিন সে লড়াইয়ের আগে দলকে আরও উন্নতির তাগাদা দিয়েছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন। উন্নতিটা কোথায় দরকার, হাবিবুল তা বলেছেন নির্দিষ্ট করেই, ‘একটা জায়গায় অবশ্যই আমাদের উন্নতি করতে হবে, সেটা হচ্ছে ওপেনিং। তিন নম্বরে যে খেলবে, সে ১০–১২ ওভারের মধ্যেই উইকেটে চলে আসছে। এটা ভালো বিষয় নয়। আমরা এখন র‌্যাঙ্কিংয়ের ৭ নম্বরে আছি। ৪–৫–এ যেতে চাইলে আমাদের এই জায়গায় উন্নতি করতেই হবে।’ টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ স্মৃতিটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য আনন্দেরই। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে দুই টেস্টের সিরিজের একটিতে জিতেছিল বাংলাদেশ। মাঝে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি টেস্ট থাকলেও লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশের চিন্তাটা এখন অস্ট্রেলিয়াকে ঘিরে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্টটিকে বলা যায় অস্ট্রেলিয়া–পরীক্ষার আগে নিজেদের তৈরি করার একটা সুযোগ। চোট কিংবা ‘ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্ট’–এর কারণে কাউকে বিশ্রাম দিতে না হলে সম্ভাব্য সেরা দল নিয়েই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে চায় বাংলাদেশ। হাবিবুলের বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য এখন বাংলাদেশের আছে, ‘অস্ট্রেলিয়ায় বড় একটা চ্যালেঞ্জ। এই টেস্ট সিরিজের দিকে আমি তাকিয়ে থাকব। আমার বিশ্বাস, অস্ট্রেলিয়াকে আমরা এই সিরিজে অন্তত চ্যালেঞ্জ জানাতে পারব। আমি বলছি না জিতব, কিন্তু তাদের চ্যালেঞ্জ অবশ্যই জানাতে পারি।’ ঘরের মাঠে সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়ার পর ভিন্ন কন্ডিশনেও একই বার্তা দেওয়ার এটাই উপযুক্ত সময় বাংলাদেশ দলের জন্য।  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়া সিরিজে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন আশরাফুল

ছবি : সংগৃহীত

হামজা-জামালদের দায়িত্বে নতুন কোচ থমাস ডুলি

ছবি : সংগৃহীত

১০০০ গোলের মাইলফলক ছুঁতে আর কত দূরে রোনালদো

0 Comments