বিশ্ব

অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল দক্ষিণ আফ্রিকা, গ্রেফতার ৯ শতাধিক

মারিয়া রহমান জুলাই ০২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকাজুড়ে অভিবাসীবিরোধী বিক্ষোভে ৯০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।


বুধবার (১ জুলাই) দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে মঙ্গলবারের এসব কর্মসূচির বেশিরভাগই শান্তিপূর্ণ থাকলেও কয়েকটি এলাকায় সহিংসতা, লুটপাট ও গুলির ঘটনা ঘটে।


পুলিশের উপ-জাতীয় কমিশনার টেবেলো মোসিকিলি এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, দেশজুড়ে মোট ১২০টি মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১০৮টি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হলেও ১২টিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।


তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে অবস্থান, জনসাধারণের মধ্যে সহিংসতা সৃষ্টি, অবৈধ অভিবাসীদের আশ্রয় দেওয়া, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।


পুলিশের পৃথক এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার গভীর রাতে জোহানেসবার্গের আলেকজান্দ্রা টাউনশিপে বিদেশি নাগরিকদের মালিকানাধীন ছোট দোকান, যা স্থানীয়ভাবে ‘স্পাজা শপ’ নামে পরিচিত, সেগুলোতে লুটপাটের সময় গুলিতে একজন নিহত হন।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেশটির নয়টি প্রদেশের মধ্যে পাঁচটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি জোহানেসবার্গের অভ্যন্তরীণ শহরাঞ্চল হিলব্রো এলাকায় সেনা সদস্যও মোতায়েন করা হয়। সেখানে গুলির ঘটনায় অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।


অন্যদিকে, বন্দরনগরী ডারবানে এক বিদেশি নাগরিকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর আগের রাতে নিজেকে হামলার লক্ষ্যবস্তু মনে করে তিনি একটি বহুতল ভবনের অষ্টম তলা থেকে লাফ দেন এবং এতে তার মৃত্যু হয়।


মঙ্গলবারের বিক্ষোভের আয়োজন করা হয় একটি অভিবাসীবিরোধী আন্দোলনের নির্ধারিত ‘ডেডলাইন’ উপলক্ষে। ওই আন্দোলন অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে দেশটিতে অভিবাসীবিরোধী উত্তেজনা বাড়ছে।


সূত্র: রয়টার্স

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, এমন কোনো নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে না।   হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা ডিজেল রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছি না।’ তিনি আরও বলেন, এমন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ইচ্ছা তার কখনোই ছিল না।   এর আগে জি-৭ নেতারা আগামী চার মাসে জরুরি মজুত থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল ডিজেল ও অপরিশোধিত তেল বাজারে ছাড়ার বিষয়ে একমত হন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে এসব জ্বালানি বাজারে ছাড়া হবে।   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ জানান, জি-৭ নেতারা এ বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা রয়েছে।   জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে জি-৭ দেশগুলো নিজেদের মধ্যে জ্বালানি রপ্তানিতে কোনো বাধা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। একই সঙ্গে শোধনাগারগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও উৎপাদন কার্যক্রম সমন্বয়ের মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।   সূত্র: শাফাক নিউজ

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের পথে পাকিস্তানের চন্দ্রযান ‘জিন্নাহ-১’

সংগৃহীত ছবি

সুস্থ আছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি: শাশুড়ির দাবি

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপ জরুরি ভিত্তিতে বাজারে মজুত ডিজেল ছাড়বে: ট্রাম্প

ইসরাইলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন আরব-ইসরাইলি প্রার্থী

ইসরাইলে অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় সংসদীয় নির্বাচন থেকে বৃহস্পতিবার নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন আরব-ইসরাইলি রাজনীতিক সামি আবু শেহাদেহ।    দেশটির সুপ্রিম কোর্টের অধিকাংশ বিচারক তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়ার পর সামি আবু শেহাদেহ এ সিদ্ধান্ত নেন।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে আরব-ইসরাইলি দলগুলো সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।    জনমত জরিপেও দেখা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট কিংবা প্রধান বিরোধী জোট-কোনোটিই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার মতো অবস্থানে নেই।   জেরুজালেম থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।   আবু শেহাদেহ বামপন্থী ফিলিস্তিনি দল বালাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিনি ইসরাইেলের পার্লামেন্ট নেসেটের সদস্য ছিলেন তিনি।   বালাদ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দলটির নেতা প্রার্থিতা প্রত্যাহার করলেও তার রাজনৈতিক লড়াই এখানেই শেষ হচ্ছে না। দলের নেতৃত্বে তিনিই থাকছেন।   গত সপ্তাহে কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের আবেদনের পর ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি আবু শেহাদেহকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করে।   আবু শেহাদেহ একটি নিবন্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরে হামাসের হামলাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করার পর এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।   তার মন্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা সৃষ্টি হয়। তবে, ওই হামলাকে সমর্থন করার কথা অস্বীকার করেন আবু শেহাদেহ।    অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে তার করা আপিলের শুনানি হয় বৃহস্পতিবার। এ সময় আদালত কোনো রায় না দিয়ে স্বেচ্ছায় প্রার্থিতা প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেয় সামি আবু শেহাদেহকে।   একই সঙ্গে অধিকাংশ বিচারক তাকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখার পক্ষে বলেও ইঙ্গিত দেয় আদালত।   সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য তাকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।   বালাদ বলেছে, আনুষ্ঠানিকভাবে অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্ত এড়াতে আবু শেহাদেহের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।    ইসরাইলে কোনো প্রার্থীকে অযোগ্য ঘোষণার ঘটনা বিরল। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচন কমিটি অনুমোদিত অধিকাংশ নিষেধাজ্ঞা বাতিল করেছে।   ইসরাইলি আইনে কোনো প্রার্থীকে কেবল তখনই নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা যায়, যদি তিনি ইহুদি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ইসরাইলের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন অথবা কোনো শত্রু রাষ্ট্র বা সন্ত্রাসী সংগঠনের পক্ষে দেশের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামকে সমর্থন করেন।   আবু শেহাদেহের পক্ষে থাকা ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠন আদালাহ অভিযোগ করেছে, তাকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারে চাপ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট কার্যত তাকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করেছে।   এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানিয়েছে ‘সুপ্রিম কোর্ট তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়ায় একজন ফিলিস্তিনি নেতাকে ইসরায়েলের নেসেট নির্বাচনের প্রার্থিতা থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে’।   আদালত বলেছে, মানবাধিকারকর্মী, আইনপ্রণেতা ও দলীয় নেতা হিসেবে আবু শেহাদেহের কয়েক দশকের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ‘যেকোনো ধরনের সহিংসতার প্রতি তার ধারাবাহিক ও দ্ব্যর্থহীন বিরোধিতা’ স্পষ্ট হয়েছে।   এটি ‘ফিলিস্তিনি নাগরিকদের প্রতিনিধিত্ব ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকারের ওপর গুরুতর আঘাত’ বলেও সংগঠনটি মন্তব্য করেছে।    আবু শেহাদেহ ছাড়াও গত সপ্তাহে নির্বাচন কমিটি দুটি আরব নির্বাচনী জোটকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত রাখে। সেগুলো হলো ইউনাইটেড আরব লিস্ট এবং জয়েন্ট লিস্ট। তিন দলীয় জয়েন্ট লিস্টে বালাদও ছিলো।   এসব দলের আপিলের শুনানি শুক্রবারও চালিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের।   ইসরাইলি আরব নাগরিকরা ‘ফিলিস্তিনি নাগরিক’ হিসেবেও পরিচিত। তারা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ২০ শতাংশ। তাদের অধিকাংশই নিজেদের ফিলিস্তিনি হিসেবে পরিচয় দেন।   ১৯৪৮ সালে ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর দেশটির সীমানার মধ্যে থেকে যাওয়া ফিলিস্তিনিদের বংশধর তারা। ইসরাইলে সংখ্যাগরিষ্ঠ ইহুদি জনগোষ্ঠীর তুলনায় তারা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন বলে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ রয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০২, ২০২৬
রয়টার্স ছবি

ইরান ঘিরে সামরিক উপস্থিতি ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে পৌঁছেছে ৪ সদস্যের নভোচারী দল

ছবি: সংগৃহীত

জব্দ করা পশ্চিমা কোম্পানির সম্পদ ফেরত দেওয়া হতে পারে: পুতিন

ডিজেলের দাম বাড়ায় জরুরি বৈঠকে বসছে ইইউ

ডিজেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি মোকাবিলায় অভিন্ন পদক্ষেপ ঠিক করতে শুক্রবার জরুরি বৈঠকে বসছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সদস্য দেশগুলো। এর এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপীয় মিত্রদের কৌশলগত জ্বালানি মজুত ‘অবিলম্বে’ বাজারে ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছে।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   ইউরোপীয় কমিশনের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার রাতে জানান, ইইউর সদস্য দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইউরোপীয় কমিশনের জরুরি বৈঠকটি শুক্রবার দিনের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে।   জ্বালানির বাড়তি দামের চাপ কমাতে ইউরোপের সহায়তা পেতে ওয়াশিংটনও চাপ বাড়াচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বুধবার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার সম্ভাবনার কথা জানান।   ইউরোপীয় কমিশনের বাণিজ্যবিষয়ক প্রধান মারোস সেফকোভিচ বৃহস্পতিবার মিলওয়াকিতে জি২০-এর বাণিজ্যমন্ত্রীদের বৈঠকের ফাঁকে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করলে তা ‘ইউরোপীয়দের জন্য অপ্রত্যাশিত’ হবে।   তিনি বলেন, সম্ভাব্য ডিজেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার ‘ইউরোপের অর্থনৈতিক কার্যক্রমের ওপর খুবই গুরুতর প্রভাব পড়বে।’   সেফকোভিচ জানান, বৈঠকে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ারের সঙ্গে জ্বালানি রপ্তানি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি। তবে আটলান্টিকের দুই পাড়ের অংশীদাররা ‘ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যাতে এ বিষয়ে কোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি তৈরি না হয়।’   ‘চলমান সরবরাহ সংকট’   বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসন বিশেষ করে ফ্রান্স ও জার্মানিকে তাদের কৌশলগত ডিজেল মজুতের একটি অংশ বাজারে ছাড়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইরানবিরোধী যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে ডিজেলের দাম বেড়েছে বলে এসব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।   মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, ‘আমাদের ইউরোপীয় অংশীদারদের বিদ্যমান প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন দ্রুত করতে হবে এবং চলমান সরবরাহ বিঘ্ন মোকাবিলায় অতিরিক্ত জ্বালানি অবিলম্বে বাজারে সরবরাহ করতে হবে।’   উচ্চ জ্বালানি মূল্য আগামী মাসের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির জন্য রাজনৈতিক চাপের কারণ হয়ে উঠেছে।   মার্কিন এক কর্মকর্তা এএফপিকে বলেন, ‘পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ বাড়ানো এবং ভোক্তাদের খরচ কমানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে ইউরোপের সঙ্গে সহযোগিতা করা ইউরোপেরই স্বার্থে।’   মিলওয়াকিতে জি২০-এর বাণিজ্য আলোচনায় মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি গ্রিয়ারও তুলনামূলক সমঝোতামূলক অবস্থান নেন। তিনি বলেন, ডিজেল সংকট মোকাবিলায় দুই পক্ষেরই একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ রয়েছে।   বৃহস্পতিবার টেক্সাসে সাংবাদিকদের ট্রাম্পও বলেন, তিনি ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার অনুরোধ ‘করতে পারেন’।   ‘ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান’ খুঁজবে ফ্রান্স   ফ্রান্সের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী নিকোলা ফোরিসিয়ের মিলওয়াকিতে এএফপিকে বলেন, ‘আমি ভাবতেই পারি না যে (ডিজেল রপ্তানিতে) নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হবে।’   তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ—উভয় অঞ্চলের জন্য ডিজেলের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, দুই পক্ষই ‘সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করবে।’   ফোরিসিয়ের আরও বলেন, ‘ফ্রান্সে আমরা সারা বিশ্বে ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা করব। আমেরিকানদের সঙ্গে না হলে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে।’   এর আগে বুধবার ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার বিষয়টি তিনি এখনো বিবেচনা করছেন। তবে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এমন সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত পেট্রলের দামও বাড়িয়ে দিতে পারে।   ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে ভাবছি।’   তার পাশে থাকা মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেন, ডিজেলের দাম কমাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষ থেকে শিগগিরই ‘ঘোষণা শুনতে পাবে বিশ্ব।’   ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে, গত সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ ও ট্রাম্পের বৈঠকে কৌশলগত জ্বালানি মজুত থেকে তেল বা ডিজেল ছাড়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানায়নি।   তবে ম্যাখোঁ শিগগিরই জি৭ নেতাদের নিয়ে একটি ভার্চুয়াল বৈঠক ডাকবেন। সেখানে বাড়তে থাকা জ্বালানির দাম মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে। এর মধ্যে কৌশলগত মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার বিষয়ে সমন্বয়ও থাকতে পারে।   গত ১৮ সেপ্টেম্বর ম্যাখোঁ এ ধরনের একটি বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তার প্রেস অফিস জানিয়েছে, জি৭-এর ওই বৈঠক অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে হতে পারে।   এএএ মোটর ক্লাবের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গড় দাম ৭০ শতাংশেরও বেশি বেড়ে প্রতি গ্যালন ৬.৩৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।   জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় রয়েছে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০২, ২০২৬
ছবি : রয়টার্স।

ইরান সংঘাতের আবহে ট্রাম্পের নোবেল জয় নিয়ে সংশয়

জাহাজের আকৃতির ভূতাত্ত্বিক কাঠামো। তুরস্কের আগ্রি দোগুবেয়াজিত জেলায়। ছবি: নোয়াজ আর্ক স্ক্যানস ডটকমের সৌজন্যে

তুরস্কে নূহ (আ.)-এর নৌকার কথিত স্থানে গবেষণার নতুন তথ্য উন্মোচন

মার্কিন অস্ত্র বিক্রির নিষিদ্ধ তালিকা থেকে সিরিয়াকে বাদ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

সিরিয়ার নতুন সরকারের ওপর থেকে সামরিক নিষেধাজ্ঞা তুলল যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments