পবিত্র হিজরি নববর্ষ ১৪৪৮ উপলক্ষে সংযুক্ত আরব আমিরাতে (ইউএই) সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগামী ১৫ জুন (সোমবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, হিজরি নববর্ষের ছুটি শেষে মঙ্গলবার (১৬ জুন) থেকে দেশজুড়ে স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে।
সোমবার ছুটি হওয়ায় যেসব কর্মচারীর সাপ্তাহিক ছুটি শনিবার ও রোববার, তারা টানা তিন দিনের অবকাশ উপভোগের সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, শারজাহে চার দিনের কর্মসপ্তাহ অনুসরণকারী সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা শুক্রবার, শনিবার ও রোববারের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সোমবারের সরকারি ছুটি যুক্ত হওয়ায় টানা চার দিনের ছুটি ভোগ করবেন।
ইসলামী বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী মহররম মাসের প্রথম দিন থেকে নতুন হিজরি বছরের সূচনা হয়। চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ইসলামী নববর্ষ নির্ধারিত হলেও আমিরাত সরকার ইতোমধ্যে ১৫ জুনকে হিজরি নববর্ষের সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এ উপলক্ষে দুবাই সরকারি মানবসম্পদ বিভাগ দেশটির নেতৃত্ব, সরকার ও জনগণের পাশাপাশি সমগ্র মুসলিম বিশ্বের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অব্যাহত উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতা কামনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, হিজরি বা ইসলামী বর্ষপঞ্জি চন্দ্রভিত্তিক হওয়ায় এর মাস ও বছর গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের তুলনায় প্রতি বছর কিছুটা এগিয়ে আসে। মহররম মাসের প্রথম দিনকে ইসলামী নতুন বছরের সূচনা হিসেবে গণ্য করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
জুলাই বিপ্লবে রেমিট্যান্স শাটডাউনের গুরুত্ব এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা নিয়ে মালয়েশিয়ায় এক বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিকেলে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রেমিট্যান্স শাটডাউন ছিল দেশের আন্দোলনের প্রতি প্রবাসীদের ঐক্যবদ্ধ সংহতি ও প্রতিবাদের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক, যা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গণঅভ্যুত্থনের প্রতি সমর্থন জোরদারে ভূমিকা রাখে। কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন লোকমান হাকিম। পরে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ড. আবুল বাশার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়া চ্যাপ্টারের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক। বিশেষ বক্তা ছিলেন সংগঠনের সদস্য সচিব আলম রওশন। এছাড়া বক্তব্য দেন এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সদস্য আকাশ আলমগীর, সেলাংগর আঞ্চলিক কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল এবং কুয়ালালামপুর আঞ্চলিক কমিটির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস বিথী। অনুষ্ঠানে জুলাইযোদ্ধা আব্দুল আহাদ সরাসরি উপস্থিত থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করেন। ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন শহীদ তাহমিদের মা, শহীদ ইমনের ভাই, জুলাইযোদ্ধা কানিজ ফাতেমা, আহত জুলাইযোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক এবং শহীদ সাজ্জাদের বাবা। আলোচনায় বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত যোদ্ধাদের অবদানের যথাযথ মূল্যায়নের আহ্বান জানান। তারা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের অবদান সংরক্ষণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে দেশে-বিদেশে গণতন্ত্রকামী মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আহত জুলাইযোদ্ধা মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আন্দোলনে আহত হওয়ার পরও তিনি এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাননি। তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি উদ্যোগ কামনা করেন। জবাবে এনসিপি ডায়াসপোরা অ্যালায়েন্স মালয়েশিয়ার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের সঙ্গে সমন্বয় করে কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করা হবে এবং আহত যোদ্ধার প্রাপ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হবে। মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগঠনের নেতাকর্মী, সদস্য এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে আলোচনা সভা ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উগ্রবাদ-সংশ্লিষ্ট পোস্ট প্রকাশের অভিযোগে দুই বাংলাদেশির কাজের অনুমতি (ওয়ার্ক পারমিট) বাতিল করেছে সিঙ্গাপুর। তদন্ত শেষে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ওই দুই বাংলাদেশির নাম রিশাদ তায়ানী ও সাহেদুল ইসলাম। তদন্ত শেষে গত ৮ জুলাই তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। শুক্রবার (১৭ জুলাই) দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ (আইএসডি) এ তথ্য জানিয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করেছে সিএনএ। বাংলাদেশে পৌঁছানোর পর একই দিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আইএসডি জানায়, বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হয়েছে। তবে তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
কুয়েতের জিলিব আল-শুয়ুখ এলাকায় অবৈধ ও অনিরাপদ আবাসিক ভবনের বিরুদ্ধে বড় ধরনের যৌথ অভিযান চালিয়েছে দেশটির সরকার। অভিযানের ফলে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের বহু প্রবাসী আবাসন সংকটে পড়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) প্রথম উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ অভিযানে কুয়েত সেনাবাহিনী, ন্যাশনাল গার্ড, ফায়ার ফোর্স এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা অংশ নেয়। অভিযানে অনিরাপদ ভবন, রাষ্ট্রীয় জমি দখল, অতিরিক্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসন, আবাসিক আইন লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি এবং লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ভবনগুলোর পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে, লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করে এবং জরিমানা আরোপ করে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও প্রবাসীদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা করা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ ফাহাদ ইউসুফ সৌদ আল-সাবাহ বলেন, জিলিব আল-শুয়ুখে শুরু হওয়া এ অভিযান পর্যায়ক্রমে কুয়েতের অন্যান্য এলাকাতেও পরিচালিত হবে। জননিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলার কথাও উল্লেখ করেন। জানা গেছে, জিলিব আল-শুয়ুখ এলাকাকে নতুনভাবে পরিকল্পিত নগরীতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নতুন আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স দেওয়া সীমিত রাখা হয়েছে। তুলনামূলক কম ভাড়া এবং কর্মস্থলে যাতায়াতের সুবিধার কারণে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের কাছে এলাকাটি জনপ্রিয়। সর্বশেষ অভিযানে বহু ভবনের পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অনেক প্রবাসী বাসস্থান হারিয়েছেন। আশপাশের এলাকায় বাসার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ভাড়াও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে অনেকেই নতুন বাসা খুঁজে পাচ্ছেন না, কর্মস্থলে যাতায়াতেও সমস্যার মুখে পড়ছেন। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবাসনের অভাবে কিছু প্রবাসী খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।