বিশ্ব

হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই দলের প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হবে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দেশটির সরকার এ সিদ্ধান্ত নেয়।

সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, হাসপাতালে তাকে চিকিৎসা এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। এর আগে পিটিআই সমর্থকরা পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নিয়ে তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছিলেন।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি তার দৃষ্টিশক্তি কমতে থাকা নিয়ে সমস্যায় পড়ছেন। তবে তাকে সুচিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল না। সমর্থকরা আন্দোলন শুরু করলে তার হাসপাতালের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লা তারার জানিয়েছেন, ইমরান খানের চোখের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা একটি বিশেষ হাসপাতালে করবেন। এ বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টেও বিস্তারিতভাবে জমা দেওয়া হবে।

সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী তারিক ফজল চৌধুরী বলেছেন, কারাবন্দি ইমরানকে মানবাধিকার অনুযায়ী সমস্ত সুবিধা দেওয়া হবে এবং তাকে কারাগার থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সৌদি আরব কেন তুরস্কের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে

  মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও তুরস্কের সম্পর্ক দ্রুত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সম্প্রতি সৌদি সফর করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। এ সফর দুই দেশের নতুন কৌশলগত অংশীদারত্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন অবস্থান গড়ে তুলতে নির্ভরযোগ্য মিত্র খুঁজছেন। বিশেষ করে ইয়েমেন, আফ্রিকা ও গাজা পরিস্থিতির কারণে সৌদি পররাষ্ট্রনীতি আবার সক্রিয় হয়েছে। ২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর সৌদি নেতৃত্ব আঞ্চলিক রাজনীতিতে কিছুটা নীরব ছিল। সে সময় অভ্যন্তরীণ সংস্কার ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে মনোযোগ দেন যুবরাজ। তবে এখন আবার আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে রিয়াদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সৌদি আরব তেলনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হতে চায় এবং তরুণ জনসংখ্যার চাহিদা পূরণে নতুন উন্নয়ন কৌশল নিয়েছে। এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় শক্তিশালী আঞ্চলিক অংশীদার প্রয়োজন হয়ে উঠেছে। এ প্রেক্ষাপটে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গাজা সংকট, আফ্রিকার স্থিতিশীলতা এবং ইয়েমেন পরিস্থিতিতে তুরস্কের কূটনৈতিক ভূমিকা দুই দেশকে কাছাকাছি এনেছে। এছাড়া সৌদি-পাকিস্তান সম্ভাব্য সামরিক জোটে তুরস্ক যুক্ত হতে পারে, এমন আলোচনা নতুন শক্তি-অক্ষ তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তুরস্কের জন্যও এটি কৌশলগত ভারসাম্যের বিষয়। দেশটি সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে চাইছে। এরদোয়ানের সাম্প্রতিক সৌদি সফরের পর যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশ সোমালিয়ার ভৌগোলিক অখণ্ডতা, গাজায় শান্তি, সুদানের স্থিতিশীলতা ও সিরিয়া ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন আঞ্চলিক বাস্তবতায় সৌদি আরব ও তুরস্কের এ ঘনিষ্ঠতা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এই অংশীদারত্ব কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট আই

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

চীনকে ‘আসল হুমকি’ বলল তাইওয়ান

ছবি : সংগৃহীত

এস্তোনিয়ায় বরফের ওপর দিয়ে চলছে গাড়ি

ছবি : সংগৃহীত

হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে ইমরান খানকে

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ছবি: সংগৃহীত
যে কারণে শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি

বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন না ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি আসতে না পারলেও দেশটির গুরুত্বপূর্ণ এক মন্ত্রী অবশ্য শপথ অনুষ্ঠানে আসছেন। ঢাকার নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মোদিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এদিকে শপথ অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের উপস্থিত থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে। নতুন মন্ত্রিসভার শপথের আনুষ্ঠানিকতায় যুক্ত হতে ইতিমধ্যে সার্কভুক্ত দেশসহ কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণপত্র পাঠিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে ভারতের এআই ইম্প্যাক্ট সামিটের জন্য শপথে আসছেন না নরেন্দ্র মোদি। বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নেয়। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত আমন্ত্রিত দেশের তালিকায় রয়েছে চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও সার্কভুক্ত দেশগুলো। গত শুক্রবার বিএনপির বিজয়ের পর তারেক রহমানকে ফোন করে অভিনন্দন জানিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের ইঙ্গিত দেন মোদি। নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, দিল্লিতে এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধান ও প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন এবং কয়েকটি দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে সাইডলাইন বৈঠকে অংশ নেবেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যস্ততার কারণে ঢাকায় আসছেন না মোদি। তবে সূত্র জানিয়েছে, প্রতিনিধি হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আসতে পারেন। এর আগে বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাযায় ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ঢাকায় আসেন। ২৪ প্রেক্ষাপটে ড. ইউনুস সরকার দায়িত্ব নিলে ভারতের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন দেখা দেয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন নিজে কয়েকবার গণমাধ্যমকে বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। সর্বশেষ পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বিদায়ী ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, এ সরকার অনেকবার চেষ্টা করেও ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক করতে পারেনি। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখন থমকে রয়েছে। নতুন সরকার এলে সম্পর্ক ‘মসৃণ হবে।   কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেওয়ায় দেশটির সঙ্গে অন্তরবর্তী সরকারের সুসম্পর্ক হয়নি। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আগমন দূরত্ব কিছুটা কমিয়েছিল। সে প্রেক্ষাপটে ধারণা করা হচ্ছে, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের উচ্চপদস্থ কোনো মন্ত্রীর আগমন দু'দেশের থমকে যাওয়া সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬ 0
পাকিস্তানের একটি পেট্রোল পাম্প। ছবি: সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে দুঃসংবাদ দিল পাকিস্তান

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

রমজানে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা পাকিস্তানের

তেল রিফাইনারিতে আগুন। ছবি: সংগৃহীত

কিউবায় তেল শোধনাগারে দুর্ঘটনা, ভয়াবহ জ্বালানি সংকট

আফগান শরনার্থীরা। ছবি: সংগৃহীত
দেড় লাখ আফগানিকে ফেরত পাঠাল পাকিস্তান-ইরান

চলতি বছরে প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান নাগরিক দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা। পাকিস্তান ও ইরান থেকে তারা দেশে ফিরেছেন। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, এত বিপুল ও দ্রুত প্রত্যাবর্তন আফগানিস্তানকে আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ইউএনএইচসিআরের আফগানিস্তান প্রতিনিধি আরাফাত জামাল জেনেভায় এক ব্রিফিংয়ে বলেন, চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার আফগান ইরান ও পাকিস্তান থেকে ফিরে এসেছেন। কাবুল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি বলেন, তীব্র শীত, তুষারপাত ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রার মধ্যে এত মানুষের ফিরে আসা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইউএনএইচসিআর জানায়, ২০২৫ সালে ইতোমধ্যে ২৯ লাখ মানুষ দেশে ফিরেছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত মোট প্রত্যাবর্তনের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৪ লাখে। সংস্থাটির মুখপাত্র বাবর বালুচ জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রত্যাবর্তনের হার ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। গত বছর এ সময়ে সংখ্যা ছিল এক লাখের কিছু কম। দশকের পর দশক আফগান শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়ার পর সম্প্রতি পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তে কড়াকড়ি বাড়িয়ে ব্যাপক বহিষ্কার কার্যক্রম জোরদার করেছে। ফলে লাখ লাখ মানুষ এমন এক দেশে ফিরছেন, যেখানে দারিদ্র্য, মানবাধিকার সংকটে নাজুক অর্থনীতি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব বিদ্যমান। জামাল বলেন, ইউএনএইচসিআরের জরিপ অনুযায়ী অনেক পরিবারের সদস্যদের নাগরিক নথিপত্র নেই এবং ৯০ শতাংশের বেশি পরিবার দৈনিক ৫ ডলারেরও কম আয়ে জীবনযাপন করছে। তিনি আরও জানান, অনেকে টেকসই জীবিকা গড়তে না পেরে আবার দেশ ছাড়ার কথাও ভাবছেন। বর্তমানে ইউএনএইচসিআর পুনর্বাসন ও পুনঃএকীভূতকরণ কার্যক্রমে জোর দিচ্ছে। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর বাস্তুচ্যুত ও প্রত্যাবর্তনকারীদের সহায়তায় ২১ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রয়োজন হলেও এখন পর্যন্ত তহবিলের মাত্র ৮ শতাংশ সংগ্রহ হয়েছে। জামাল বলেন, দীর্ঘ নির্বাসনের পর নিজ দেশে ফিরে আসা আফগানদের জন্য টেকসই সমাধান খুঁজে বের করার এখনই গুরুত্বপূর্ণ সময়।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬ 0
বন্দিদের সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়া থেকে কয়েক হাজার কুখ্যাত অপরাধীকে সরাল যুক্তরাষ্ট্র

দুর্ঘটনাকবলিত বিমান। ছবি: সংগৃহীত

মাঝ আকাশে ইঞ্জিনে বিস্ফোরণ, প্রাণে বাঁচলেন যাত্রীরা

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

ইরানে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

0 Comments