টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এবারই প্রথম খেলতে এসেছে ইতালি। নেপালকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে জয়েরও দেখা পেয়েছে তারা। স্বপ্নের বিশ্বকাপে আজ ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয়েছিল ইতালি। সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে আজ হারলেও ইতালি যে লড়াকু পারফরম্যান্স দেখিয়েছে, তা প্রশংসা কুড়ানোর মতোই। এর আগে নেপালের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে ঘাম ঝরাতে হয়েছে ইংল্যান্ডকে। এবার দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের ঘাম ঝরাতে বাধ্য করল সহযোগী সদস্য দেশ ইতালি। সুপার এইটের আগে যা ইংলিশদের জন্য দুশ্চিন্তার কারণই বটে।
ইডেন গার্ডেনসে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৭ উইকেট হারিয়ে ২০২ রানের পাহাড় জড়ো করে ইংল্যান্ড। দলের পক্ষে একমাত্র অর্ধশতক হাঁকান উইল জ্যাকস। ২২ বলের মোকাবেলায় ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকার পথে হাঁকান তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। এছাড়া টম ব্যান্টন ২১ বলে ৩০, ফিল সল্ট ১৫ বলে ২৮ ও স্যাম কারান ১৯ বলে ২৫ রান করেন। ইতালির পক্ষে গ্র্যান্ট স্টুয়ার্ট ও ক্রিশান কালুগামাগে পান দুটি করে উইকেট।
জবাব দিতে নেমে দলীয় ১ রানে অ্যানথনি মোস্কা ও জেজে স্মাটসকে হারিয়ে ফেলে ইতালি। অধিনায়ক হ্যারি মানেতিও সুবিধা করতে পারেননি। তবে ওপেনার জাস্টিন মোস্কাকে নিয়ে হাল ধরেন বেন মানেতি।
দলীয় ২২ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর ৯২ রানের জুটি গড়েন বেন মানেতি ও জাস্টিন মোস্কা। জাস্টিন ৩৪ বলে ৪৩ রান করে বিদায় নিলেও বেন তুলে নেন অর্ধশতক। ২৫ বলে ৬০ রান করার পথে চার হাঁকান চারটি, ছক্কা ছয়টি।
এছাড়া গ্র্যান্ট স্টেওয়ার্টের ২৩ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস পথ দেখায় ইতালিকে। একসময় মনে হচ্ছিল টপকেই যাবে ইংল্যান্ডের রানের পাহাড়। তবে শেষপর্যন্ত আশা জাগিয়েও জয়হীন থেকেই মাঠ ছাড়ে ইতালি, ২৪ রানের ব্যবধানে ইংল্যান্ড তুলে নেয় আসরের তৃতীয় জয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পেল মরক্কো। আজেদিন উনাহির দারুণ ফিনিশে কানাডার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে উত্তর আফ্রিকার দলটি। ম্যাচের ৫০তম মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে আসে গোলটি। ডান প্রান্তের কর্নার ফ্ল্যাগের কাছ থেকে নেওয়া ফ্রি-কিক পেছনে বাড়িয়ে দেন আশরাফ হাকিমি। সেখানে দৌড়ে এসে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে জোরালো শটে বল জড়িয়ে দেন জালের নিচের ডান কোণে উনাহি। সুন্দর পরিকল্পিত সেট-পিস থেকে করা এই গোলের পর উচ্ছ্বাসে ভাসে মরক্কো শিবির। গোলের কয়েক মুহূর্ত আগেই দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখার শঙ্কায় ছিলেন উনাহি। তবে শেষ পর্যন্ত মাঠে থেকেই দলকে গুরুত্বপূর্ণ লিড এনে দেন তিনি। প্রথমার্ধে বল দখলে পিছিয়ে থাকার পরও ৩টি আক্রমণ করে দুটি লক্ষ্যে রাখে কানাডা। তবে মরক্কো মাত্র একটি আক্রমণ করতে সক্ষম হয় আর সেটিই অবশ্য লক্ষ্যে ছিলো। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ঠিকই এগিয়ে গেছে মরক্কো।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে প্রথমবারের মতো জয়ের স্বাদ পেয়েছে মিসর। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাতে টাইব্রেকার রোমাঞ্চে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে ফারাওরা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পাওয়া ঐতিহাসিক এই জয়টি ফিলিস্তিনের জনগণকে উৎসর্গ করেছেন মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তার এমন বার্তার পর যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার ধ্বংসস্তূপেও বয়ে গেছে আনন্দের বন্যা। শনিবার রাতে টেক্সাসের ডালাস স্টেডিয়ামে নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষে ১-১ সমতায় শেষ হয় অস্ট্রেলিয়া ও মিসরের মধ্যকার খেলা। পরে ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। সেখানে অজিদের ৪-২ ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় মিসর। কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করার লড়াইয়ে মিসরের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে হোসাম হাসান বলেন, ‘আল্লাহ ফিলিস্তিনিদের বিজয় দান করুন এবং তাদের শহীদদের প্রতি রহমত বর্ষণ করুন। এই জয়কে আমি মিসরের জনগণ এবং ফিলিস্তিনের সেই সম্মানিত মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করছি।’ মিসরের কোচের সেই বার্তা মুহূর্তের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। গাজার অনেক বাসিন্দা মিসরের ঐতিহাসিক জয়ে নিজেদের আনন্দ প্রকাশের পাশাপাশি জয় উৎসর্গ করায় দেশটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এদিকে ধ্বংসস্তূপ আর তাঁবুতে বন্দি হাজারো ফিলিস্তিনি বড় পর্দায় মিসরের খেলা উপভোগ করেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মিসরের জয়ের খবর আসতেই গাজাজুড়ে আনন্দের বন্যা বয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, বোমা হামলায় বিধ্বস্ত ভবনের পাশেই অস্থায়ী পর্দায় খেলা দেখছেন গাজার শত শত মানুষ। গাজার ছোট ছোট শিশুদের মুখে আঁকা ছিল মিসরের পতাকা। একেকটি গোলের পর বাঁধভাঙা উল্লাস ফেটে পড়েন তারা। গাজার বাসিন্দা তামের নাহেদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই প্রথম আমি এত আগ্রহ নিয়ে বিশ্বকাপ দেখছি। হাজারো মানুষ তাঁবু ও ধ্বংসস্তূপ থেকে বের হয়ে ম্যাচটি দেখতে জড়ো হয়েছিল। চারপাশের সব কষ্টের মাঝেও কয়েক মুহূর্তের জন্য মানুষ যেন জীবনকে উদযাপন করার সুযোগ পেল।’ এর আগে জয়ের পরই কোচ হোসাম হাসান মাঠে মিসরের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে প্রবেশ করে উল্লাস করেন। এ সময় মিসরের খেলোয়াড়রা মাঠে সিজদায় অবনত হয়ে শুকরিয়া আদায় করেন।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। শেষ পর্যন্ত ৩-২ গোলের জয় নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্ট নন অধিনায়ক লিওনেল মেসি। ম্যাচ শেষে তিনি স্বীকার করেছেন, প্রতিপক্ষের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হওয়ায় পুরো ম্যাচজুড়েই ভুগতে হয়েছে তাদের। মেসি বলেন, কেপ ভার্দে এমন একটি দল, যারা শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। তবে এই ম্যাচে আর্জেন্টিনা সেট-পিস থেকে সুযোগ কাজে লাগাতে পেরেছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে তারা করতে পারছিল না। তার মতে, দলের কয়েকজন খেলোয়াড় আকাশে ভেসে আসা বলে দারুণ দক্ষ এবং সেই শক্তিকেই কাজে লাগিয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোল আদায় করা সম্ভব হয়েছে। তিনি জানান, আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয় ক্ষেত্রেই সেট-পিস নিয়ে দল নিয়মিত অনুশীলন করেছে এবং বড় টুর্নামেন্টে এটি ম্যাচের পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। নিজেদের ভুলের কথাও অকপটে তুলে ধরেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তিনি বলেন, প্রতিপক্ষের ওপর সমন্বিত প্রেসিং গড়ে তুলতে পারেনি আর্জেন্টিনা। মাঝমাঠ ও রক্ষণভাগের মধ্যে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা সহজেই জায়গা বের করে নিতে পেরেছে। মেসির ভাষায়, দলটি অনেক সময় অগোছালো ছিল এবং প্রতিপক্ষ প্রায়ই সংখ্যাগত সুবিধা পেয়েছে। এমনকি বলের দখলে না থাকলেও কেপ ভার্দে আর্জেন্টিনাকে সারাক্ষণ দৌড়ের ওপর রেখেছিল, কারণ কার্যকরভাবে চাপ সৃষ্টি করা সম্ভব হয়নি। ম্যাচের আগে থেকেই প্রতিপক্ষকে কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেছিলেন মেসি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, কেপ ভার্দে এর আগে শক্তিশালী স্পেন ও উরুগুয়ের বিপক্ষেও হারেনি। তাই ম্যাচটি সহজ হবে না, সেটি তারা আগেই জানতেন। তিনি বলেন, প্রথম গোল করার পর আর্জেন্টিনা ভেবেছিল ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে চলে আসবে। কিন্তু বাস্তবে উল্টো হয়েছে। দল বলের দখল হারিয়েছে, রক্ষণাত্মক হয়ে পড়েছে এবং প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তবু ইতিবাচক দিকও দেখছেন বিশ্বকাপজয়ী এই অধিনায়ক। তার মতে, বর্তমান বিশ্বকাপে দলগুলোর শক্তির পার্থক্য খুবই কম। ফলে প্রতিটি ম্যাচই কঠিন এবং কোনো প্রতিপক্ষকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছে এবং এখন প্রয়োজন বিশ্রাম নিয়ে পরবর্তী ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া। একই সঙ্গে এদিনের ভুলগুলো বিশ্লেষণ করে দ্রুত শুধরে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন মেসি।