বিশ্ব

বিশ্বমঞ্চে চীনা নববর্ষ : প্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও কূটনীতির মহামিলন

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

ফেব্রুয়ারি ১৬, বেইজিং সময় রাত ৮টা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি দর্শকের চোখ তখন চীনের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক আয়োজন—চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) আয়োজিত ২০২৬ সালের চীনা বসন্ত উৎসব গালার দিকে। ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি, রুশসহ ৮৫টি ভাষার টেলিভিশন ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং বিশ্বের ২০০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৩,৩০০টির বেশি গণমাধ্যমের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয়েছে।

এ বছর চীনা চান্দ্র পঞ্জিকা অনুযায়ী ‘অশ্ব বর্ষ’।


চীনা সংস্কৃতিতে ঘোড়া আত্মউন্নয়ন, অধ্যবসায় ও অগ্রগতির প্রতীক। সেই দর্শনকে সামনে রেখে এবারের গালার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘সুদক্ষ ঘোড়া ছুটে আসছে, তার গতি অপ্রতিরোধ্য’, যা মানুষকে স্বপ্ন পূরণের পথে নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার অনুপ্রেরণা দেয়।
১৯৮৩ সাল থেকে সম্প্রচারিত হয়ে আসা এই গালা এখন বিশ্বব্যাপী চীনা পরিবারগুলোর পুনর্মিলনী উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশ ও অঞ্চলে বসন্ত উৎসব সরকারি ছুটি হিসেবে স্বীকৃত, এবং বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ মানুষ বিভিন্নভাবে এই উৎসব উদযাপন করে।
ইয়

প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যের অভূতপূর্ব সংমিশ্রণ

এবারের গালার অন্যতম বড় আকর্ষণ হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর এআইজিসি প্রযুক্তির ব্যবহার। হাজার হাজার ঘোড়ার সম্মিলিত দৌড়ের দৃশ্য ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে। একই সঙ্গে ‘রেশম পথ’-প্রেরণায় নির্মিত নৃত্য পরিবেশনায় প্রাচীন দেয়ালচিত্রের ঘোড়াকে যেন বাস্তব জগতে নিয়ে আসা হয়েছে।

দড়াবাজি বা অ্যাক্রোব্যাটিক পরিবেশনায়ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভিনব ব্যবহার দর্শকদের মুগ্ধ করেছে।


ঐতিহ্যবাহী কসরতের সঙ্গে আধুনিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দর্শকরা একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও প্রযুক্তিগত সৌন্দর্যের নতুন অভিজ্ঞতা পেয়েছেন।
প্রায় তিন দশক ধরে গালার সমাপনী গান হিসেবে পরিবেশিত হয়ে আসা ‘অবিস্মরণীয় আজকের রাত’ গানটিও এ বছর আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপন করা হয়েছে।


রোবটের যুগে সাংস্কৃতিক মঞ্চ

২০২৬ সালের গালা শুধু সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের প্রদর্শনীও হয়ে উঠেছে। সিএমজি’র স্টুডিওতে চার ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট কাজ করছে—কেউ মঞ্চে পারফর্ম করছে, কেউ নেপথ্যে সেবা দিচ্ছে।

গ্যালাক্সি জেনারেল, সংইয়ান ডাইনামিক্স, ইউশু টেকনোলজি এবং ম্যাজিক অ্যাটম—এই চার প্রতিষ্ঠানের রোবট একসঙ্গে মঞ্চে অংশ নিচ্ছে।


২০২৫ সালের গালায় প্রথমবার রোবট পারফরম্যান্সের সূচনা হলেও এবারের আয়োজন চীনের হিউম্যানয়েড রোবট প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু প্রযুক্তি প্রদর্শনী নয়; বরং জাতীয় পর্যায়ের হিউম্যানয়েড রোবট উন্নয়ন কৌশল বাস্তবায়নের একটি বাস্তব উদাহরণ। গালার মঞ্চ থেকে শিল্পক্ষেত্রে রোবটের বিস্তৃত প্রয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়েছে।


বরফের শহর হারবিনে অনন্য শাখা ভেন্যু

চীনের উত্তরাঞ্চলের শহর হারবিন এবারের গালার শাখা ভেন্যুগুলোর মধ্যে অন্যতম আকর্ষণ। ‘বরফ শহর’ নামে পরিচিত এই শহরের মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে বরফ ও তুষার দিয়ে।
হারবিন আইস ওয়ার্ল্ডে নির্মিত মঞ্চে বড় প্রযুক্তিগত পর্দা না থাকলেও বরফের স্বচ্ছতা ও আলোছায়ার অনন্য সমন্বয় দর্শকদের এক বিশেষ আবহ উপহার দিয়েছে। স্থানীয় শিল্পী, অভিনেতা ও গায়কদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানগুলো শহরের আন্তরিকতা ও উৎসবমুখর পরিবেশকে তুলে ধরেছে।

দুবাইয়ের আকাশে চীনা উৎসবের আলো

চীনা বসন্ত উৎসবের বৈশ্বিক প্রভাবের আরেকটি প্রতীক দেখা গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বুর্জ খলিফা ভবনে। বসন্ত উৎসবের প্রাক্কালে সেখানে সিএমজি’র বিশেষ আলোক প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়, যা টানা সপ্তম বছর অনুষ্ঠিত হলো।
প্রদর্শনীতে গালার মাসকট, প্রাচীন চীনা অক্ষরে ‘ঘোড়া’, এবং দ্রুতগামী ঘোড়ার দৃশ্য ভবনের গায়ে ভেসে ওঠে। আয়োজকদের মতে, এটি নতুন যুগে চীনের সাহসিকতা, সংগ্রাম ও উন্নয়নের প্রতীক।
ঘোড়া চীন ও আরব—উভয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রতীক হওয়ায় এই আয়োজন দুই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক সংযোগও তুলে ধরেছে। অসংখ্য পর্যটক ও স্থানীয় মানুষ এই প্রদর্শনী উপভোগ করেছেন।


আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শুভেচ্ছা ও কূটনৈতিক বার্তা

চীনা নববর্ষ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতা ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রধানরা চীনা জনগণকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়া-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্বের অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চীনের আধুনিকায়ন ও বৈশ্বিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

এ ছাড়া নেপাল, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও চীনের উন্নয়ন ও জনগণের সুখ-সমৃদ্ধি কামনা করেছেন।


বিশ্বায়নের প্রতীক

সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের চীনা বসন্ত উৎসব গালা শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয়; এটি প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক বন্ধনের এক অনন্য সম্মিলন।

বেইজিংয়ের মঞ্চ থেকে হারবিনের বরফ নগরী, আবার দুবাইয়ের আকাশচুম্বী ভবন পর্যন্ত—চীনা নববর্ষ এখন সত্যিই বৈশ্বিক উৎসবে পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আয়োজন দেখিয়ে দিয়েছে—ঐতিহ্য যখন প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয় এবং সংস্কৃতি যখন বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে যায়, তখন একটি উৎসব শুধু একটি দেশের নয়, পুরো মানবসমাজের সম্পদ হয়ে ওঠে।

সূত্র: সিএমজি

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মোজতবাকে সুপ্রিম লিডার বানিয়ে ইরান ‘বড় ভুল করেছে’

  আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সুপ্রিম লিডার করে ইরান ‘বড় ভুল করেছে’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে ট্রাম্প বলেন, “আমি মনে করি তারা বড় ভুল করেছে। এরআগে মোজতবাকে ‘গুরুত্ব ও প্রভাবহীন’ হিসেবেও অভিহিত করেছিলেন ট্রাম্প। মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, ইরানের তেলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এখনই ভাবার সময় আসেনি। তবে এমন কিছুর সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দিচ্ছেন না। সূত্র: আলজাজিরা

মারিয়া রহমান মার্চ ১০, ২০২৬ 0

দৌড়েও মিটিংয়ে ৫ মিনিট দেরি, পুরো জাতির কাছে ক্ষমা চাইলেন জাপানের প্রতিমন্ত্রী

ইরানে বিপ্লবী গার্ডের ড্রোন হেডকোয়ার্টারে হামলার দাবি ইসরায়েলের

সংগৃহীত ছবি

লেবানন থেকে ছোড়া মিসাইলে ইসরায়েলে ১৬ জন আহত

ছবি: সংগৃহীত
তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার ইরানের

তুরস্ক, সাইপ্রাস ও আজারবাইজানে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাঈল বাঘেই এ বিষয়ে ইরানের অবস্থান পরিষ্কার করেন। সোমবার (০৯ মার্চ) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।   এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বলেন, গত এক সপ্তাহে তুরস্ক, সাইপ্রাস এবং আজারবাইজানে ইরান থেকে কোনো ধরনের সামরিক আক্রমণ চালানো হয়নি। ইরানের ভূখণ্ড থেকে এসব দেশের দিকে কোনো আক্রমণ শুরু করা হয়নি। তিনি বলেন, যেসব হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে তার কিছু হয়তো সাজানোও হতে পারে। আমরা বারবার সতর্ক করেছি যে শত্রুপক্ষ আমাদের সঙ্গে অন্যান্য দেশের সম্পর্কের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে কিছু হামলা সাজিয়ে ঘটাতে পারে। এদিকে উত্তর সাইপ্রাসে ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অঞ্চলের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে ছয়টি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উত্তর সাইপ্রাসে মোতায়েন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি অনুযায়ী আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

এবার তুরস্কে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

ছবি: সংগৃহীত

কাতারে হামলার ছবি-ভিডিও শেয়ারের অভিযোগে ৩১৩ জন গ্রেপ্তার

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় নিহতের সংখ্যা জানাল ইরান

ছবি : সংগৃহীত
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে সমর্থন জানালেন পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনিকে অটল সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তার বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার পর তাকে এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।   মোজতবা খামেনিকে পাঠানো এক বার্তায় পুতিন বলেন, আমি তেহরানের প্রতি আমাদের অটল সমর্থন ও ইরানি বন্ধুদের সঙ্গে সংহতি পুনর্ব্যক্ত করতে চাই। রাশিয়া ইরানের জন্য সবসময়ই একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার ছিল ও ভবিষ্যতেও থাকবে। রুশ এই নেতা মোজতবা খামেনিকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, যে সময়ে ইরান সশস্ত্র আগ্রাসনের মুখোমুখি, সেই সময়ে এই উচ্চ পদে আপনার দায়িত্ব পালন নিঃসন্দেহে অনেক সাহস ও নিষ্ঠার দাবি রাখবে। উল্লেখ্য, ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি ইরানের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচিত হয়েছেন। রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান তার নিয়োগকে জাতীয় ঐক্য জোরদার করার দিকে একটি পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ৩৭ বছর ধরে এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। ২৮শে ফেব্রুয়ারী মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় তেহরানের তার কার্যালয়ে আঘাত হানে, এতে তিনি নিহত হন। মৃত্যুর সময় বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

মোঃ নাহিদ হোসেন মার্চ ০৯, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

ইরানে হামলা নিয়ে মুফতি তাকি উসমানির বিশেষ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ

ছবি : সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতে ৪ বাংলাদেশি মারা গেছেন : প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

0 Comments