অন্যান্য

তারেক রহমান হবেন জনতার প্রধানমন্ত্রী: জুবায়ের বাবু

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
নির্মাতা, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক জুবায়ের বাবু।
নির্মাতা, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক জুবায়ের বাবু।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের পর দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অগ্রিম অভিনন্দন জানিয়েছেন নির্মাতা, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক জুবায়ের বাবু।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে তারেক রহমান যে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা, ধৈর্য ও কৌশলগত সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তার ভাষায়, এই বিজয় কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়; এটি দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই, সাংগঠনিক পুনর্গঠন, জনসম্পৃক্ততা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অদম্য প্রত্যয়ের ফল।

জুবায়ের বাবু বলেন, গত দেড় দশকে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ছিল নানা সংকট, বিভাজন ও দমন-পীড়নে চিহ্নিত। বিরোধী রাজনীতির ওপর কঠোর নজরদারি, নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার, গুম ও নির্যাতনের অভিযোগ—এসবের মধ্যেও বিএনপি সাংগঠনিকভাবে টিকে থেকেছে এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক অটুট রেখেছে।

তিনি বলেন, যে দল ও নেতৃত্ব দীর্ঘ সময় চাপের মুখে থেকেও ভেঙে পড়েনি, বরং নিজেদের পুনর্গঠিত করেছে—তাদের প্রতি জনগণের আস্থা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগতভাবে দীর্ঘদিন প্রবাসে অবস্থান করলেও তারেক রহমান দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা, অর্থনৈতিক সংকট, যুবসমাজের প্রত্যাশা ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্বেগ সম্পর্কে নিয়মিত দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। প্রযুক্তিনির্ভর যোগাযোগ, নীতিগত বক্তব্য এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি দলের ভেতরে ও বাইরে এক ধরনের নেতৃত্বের উপস্থিতি বজায় রেখেছেন। তিনি বলেন, দূরত্ব কখনোই তারেক রহমানের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে দুর্বল করতে পারেনি; বরং সময়ের সঙ্গে তিনি নিজেকে আরও প্রস্তুত করেছেন। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের রায় স্পষ্ট—তারা পরিবর্তন চেয়েছে এবং সেই পরিবর্তনের নেতৃত্বে তারেক রহমানকে নির্বাচিত করেছে। ভোটাররা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কারের অঙ্গীকারের ওপর আস্থা রেখেছে।

জুবায়ের উল্লেখ করেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনের আপোষহীন নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক দর্শন ও রাষ্ট্রচিন্তার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমান নিজেকে প্রস্তুত করেছেন। তার মতে, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের যে দর্শন বিএনপির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে উচ্চারিত হয়ে আসছে, তার আধুনিক রূপায়ণ ঘটানোর সুযোগ এখন তারেক রহমানের সামনে এসেছে।

এক-এগারো পরবর্তী সময় এবং পরবর্তী শাসনামলে তারেক রহমানকে জোরপূর্বক নির্বাসনে রাখা হয়েছিল—এমন অভিযোগ তুলে জুবায়ের বাবু বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে কোণঠাসা করার চেষ্টা হয়েছিল, কিন্তু জনগণের হৃদয় থেকে তাঁকে বিচ্ছিন্ন করা যায়নি। তিনি মনে করেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী রায় প্রমাণ করেছে—জনগণ তাদের সিদ্ধান্ত নিজেরাই নেয় এবং দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক বাস্তবতার মূল্যায়ন করেই ভোট দেয়।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে উদ্যোগী হবে, বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা প্রদর্শন করবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে তিনি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, যুবসমাজের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

জুবায়ের বাবু বলেন, ‘ক্ষমতা নয়, জনতা—সবার আগে বাংলাদেশ’—এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে তারেক রহমান দেশ পরিচালনায় একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করবেন—এটাই আজ জনগণের প্রত্যাশা। তিনি বিশ্বাস করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রায়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে, যেখানে গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
ই-অরেঞ্জের সোনিয়াসহ ৬ জনের বিচার শুরু

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় আলোচিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-অরেঞ্জ ডট শপের স্বত্বাধিকারী সোনিয়া মেহজাবিনসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামশেদ আলম তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। তবে আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী গাজী হাসান মাহমুদ বলেন, আদালতে মামলাটি দায়ের করলে আসামিদের বিরুদ্ধে সমন জারি হয় ৷ পরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সম্পত্তি ক্রোক ও পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি হয়। তবে আসামি আমানুল্লাহ আত্মসমর্পণ করে জামিন নিলেও অভিযোগ গঠনের দিন আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। পরে তাদের অনুপস্থিতিতে আদালত অভিযোগ করেন। অন্য আসামিরা হলেন, সোনিয়ার স্বামী ই-অরেঞ্জ ডটশপের প্রধান উপদেষ্টা ও পরিচালক মাসুকুর রহমান সুমন, পৃষ্ঠপোষক শেখ সোহেল রানা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আমানুল্লাহ চৌধুরী এবং পরিচালক জায়েদুল ফিরোজ ও নাজনিন নাহার বিথী। ২০২৪ সালের ২১ নভেম্বর রাজধানীর পুরানো পল্টনের গাজী ফিরোজ কায়ছার বাদী হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ই-অরেঞ্জ শপের কর্মকর্তারা স্বল্প মূল্যে বিভিন্ন পণ্য বিক্রয়ে অনলাইনে বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে প্রলোভিত করেন। ওই প্রলোভনের শিকার হয়ে বাদী ২০২১ সালের ২৩ মে থেকে ৩ জুন পর্যন্ত ৩টি মোটরসাইকেল ও একটি ল্যাপটপ করার জন্য মোট ৫ লাখ ৮৫ হাজার ৭০০ টাকা আসামিদের প্রতিষ্ঠানে পরিশোধ করেন। ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য সরবরাহের শর্ত থাকলেও তারা আর পূর্ণ সরবরাহ করেননি। বারবার তাগাদা দেওয়া সত্ত্বেও আসামিরা পণ্য সরবরাহ না করায় ২০১৪ সালের ১৪ নভেম্বর ই-অরেঞ্জের অফিসে গেলে টাকা না দিয়ে বাদীকে প্রাণনাশের হুমকি দেন।

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

সহিংসতা বন্ধ না হলে আরেকটি অভ্যুত্থানের সাক্ষী হবে বাংলাদেশ : গোলাম পরওয়ার

নির্মাতা, সাংবাদিক ও সম্প্রচারক জুবায়ের বাবু।

তারেক রহমান হবেন জনতার প্রধানমন্ত্রী: জুবায়ের বাবু

ছবি : সংগৃহীত

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে হাসিনার উপস্থিতি কোনো প্রভাব ফেলবে না: মির্জা ফখরুল

ছবি : সংগৃহীত
বড়লেখায় জামায়াতের সমাবেশ

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে বিজয় আনতে পারেনি জামায়াতে ইসলামী। তবুও পরাজয়ের পর যেন এক অন্যরকম উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ছে দলটির প্রার্থী, নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে। এ আসনে অতীতের ইতিহাসে কখনো দলীয় প্রার্থী দেয়নি দলটি। প্রথমবারের মতো প্রার্থী দিয়ে বিশাল ভোট পাওয়ায় উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা।   সেই উজ্জীবনা ধরে রাখতে নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশ করেন এ আসনের দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলাম।   শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বড়লেখা পৌর শহরের জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।   এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। এ সময় তিনি বলেন, এ অঞ্চলের মানুষ নির্বাচনে যে ভালোবাসা ও আস্থা দেখিয়েছেন, সেটিই আমাদের বড় শক্তি। এই ভালোবাসা ধরে রাখতে হলে এখনই সংগঠিতভাবে মাঠে কাজের ধারাবাহিকতা রাখতে হবে। মানুষের এই ভালোবাসা ও সমর্থন আগামী দিনের প্রেরণা। ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে জয় হবেই।   তিনি আরও বলেন, মানুষের এই সমর্থন প্রমাণ করে যে জামায়াত আর প্রান্তিক কোনো শক্তি নয়। বরং জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করেছে। ভোটের সমীকরণে এই অপ্রত্যাশিত উত্থান প্রমাণ করেছে। তৃণমূলের দীর্ঘ পরিশ্রম ও সাংগঠনিক উপস্থিতিতে আমরা সফল। জয় না পেলেও সমর্থনের বিস্তার, পরাজয়ের কাগুজে হিসাবের আড়ালে লুকিয়ে আছে মানুষের আস্থার বৃদ্ধি। এই ফলাফল কেবল হার জিতের অঙ্ক নয়, একটি পথচলার মাইলফলক।   মাওলানা আমিনুল ইসলাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ঘরে বসে থাকার সময় নেই। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যেতে হবে। মানুষের খোঁজখবর নিতে হবে। তাদের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

রোজা রেখে ইনজেকশন-ইনসুলিন নেওয়া যাবে কি?

ছবি : সংগৃহীত

সন্ধ্যায় এনসিপির ৬ সদস্যের দল যাচ্ছে যমুনায়

ছবি : সংগৃহীত

রমজানে হাইস্কুল বন্ধের হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত করলেন আপিল বিভাগ

ছবি : সংগৃহীত
ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেন বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদ

বিরোধী দল বিএনপি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সোমবার গুলশান কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের এ কথা জানান।   তিনি বলেন, "জাতীয় নির্বাচন এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ম্যান্ডেট নির্বাচন কমিশনের। সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর জন্য স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারই শপথ পড়াতে পারবেন।" সে হিসেবে, আগামীকাল সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।   সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে তিনি বলেন, বিদ্যমান সংবিধানে সিইসির সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ পড়ানোর কোনো এখতিয়ার নেই। তবে যদি এটি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, তবে তা সম্ভব।   এছাড়া, বিএনপির আরেক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের প্রতিটি বিভাগেই চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসাসহ সব ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

জলবায়ু সংকট ভবন নির্মাণ থেকে বছরে মাথাপিছু ১-৩ টন কার্বন নির্গত হচ্ছে

বেরোবি শিবিরের সভাপতি ও সেক্রেটারি। ছবি : সংগৃহীত

বেরোবিতে শিবিরের নতুন কমিটি ঘোষণা

সংগৃহীত ছবি

সরকারের আকার ছোট হচ্ছে, বিএনপির মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন কারা?

0 Comments