জাতীয়

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৩, ২০২৬ 0

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলছেন, আমরা সংস্কারের পক্ষে। আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। 

তিনি বলেন, ‘আমরাই সবার আগে সংস্কারের দাবি করেছি। আমাদেরই প্রস্তাব অনুযায়ী সব সংস্কারের বিষয়ে আলোচনায় এসেছে এবং কমিটি হয়েছে। সেখানে আমরা অংশ নিয়েছি।

বহু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আর যেসব বিষয়ে একমত হতে পারিনি সেগুলোতে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছি। শুধু আমরা না, অনেক ব্যাপারে অনেকেই নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে। যেমন নারী আসনের ব্যাপারে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে, আমরা দেইনি। নারী আসন বৃদ্ধি আমরা চেয়েছি। এখন সেই সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই। আমরা সেই সংস্কারের পক্ষে। অতএব আমরা হ্যাঁ ভোট দেব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আমরা বলেছি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত সেটা দেখা, যাতে সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিক অনেকে বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে থাকছেন। ইতিমধ্যে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আমাদের বেশ কিছু প্রার্থী আছেন যারা দুঃসময়ে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল তাদের। 

তারা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশের সংবিধান বলে যে নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা নেই। অতএব আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি সংবিধানে যে অধিকার নাগরিককে দেওয়া হয়েছে কোন কারণেই সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমরা সিইসির কাছে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছি, তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর মেহেরবানিতে জনগণের সমর্থনে যদি আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাই। তাহলে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নেব এবং বিএনপির ইতিহাসই তাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনেক নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। যেগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যেটা দেশের উন্নয়নে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া অনেক সংস্কারমূলক কাজ করেছেন । অনেক উন্নয়নমূলক কাজের শুরু করেছিলেন যেগুলো এখনো অব্যাহত আছে। আবার যদি সুযোগ পাই, আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। 

পরিবারে মহিলাদের মধ্যে যিনি প্রধান থাকবেন তার নামে হবে সেই ফ্যামিলি কার্ড। কোন ছেলের নামে হবে না। কয়েকদিন পরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করব, সেখানে এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ 

পোস্টাল ভোটের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের ভাই বোনদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। সেই ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাজ করলে কাগজটা ভালো করে নজরেই পড়বে না। আমরা এ নিয়ে সিইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কথায় মনে হয়েছে যে, তারা বিষয়টি ঠিক ওইভাবে খেয়াল করেননি। আলফাবেটিক্যালি ঠিক আছে কিনা, এটাই তাদের কাছে বিবেচনার বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা তাদেরকে বলেছি যে আপনারা এখানে পাঁচটা লাইন করেছেন পাঁচটা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন। যার ফলে তিনটি রাজনৈতিক দল বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের নাম এবং প্রতীক প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি পাঁচটা না হয় ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো ১৪ টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এইভাবে সাজানো সুযোগ ছিল না। তাদেরকে অনুরোধ করেছি যে বিদেশে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে সময় থাকলে সেটাও সংশোধন করা। আর দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট যাবে এবং সেটা এখনো পাঠানো হয়নি। আমরা তাদেরকে পরিষ্কার বলেছি যে, এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়। এটা যেন সংশোধন করা হয়। আমরা এটাও বলেছি এই পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না। এটায় কিছু ত্রুটি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে বিভিন্ন এলাকায়, প্রায় সারা দেশেই তারা ভোটার আইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে।

উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কেন তারা এটা করছে। আমরা বহু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু কখনো এই ঘটনা ঘটেনি। এটার কোন প্রয়োজনও নেই। এটা কোন বিশেষ উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। এটা নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তৈরি করে তাদেরকে দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার একটা ব্যাপার রয়েছে এবং তাদের বিকাশ নম্বর নেওয়ার অর্থ হলো যে কিছু অর্থকড়ি লেনদেনেরও সম্ভাবনা, আমরা দেখছি। এ ব্যাপারে ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। কারণ এটা নির্বাচন কমিশনের দেখার বিষয়। তারা বলেছেন, তারা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা এসব ব্যাপারে একটি চিঠি ইসিকে দিয়েছি। 

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেছি। আমরা বিএনপি এই নির্বাচন যাতে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। সবাই যাতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আমরা লক্ষ্য করছি দেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তারা কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করছেন, তাদের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছে। এই কাজগুলো করছেন। কিন্তু এটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোন ব্যবস্থা গ্রহণের খবর আমাদের কাছে নেই। এসব ব্যাপারে আমাদের কাছে কিছু ডকুমেন্ট ছিল, আমরা সেগুলো তাদেরকে দিয়েছি। কারা কারা এসব কাজ করছে তার কিছু নমুনা আমরা তাদেরকে দিয়েছি। ইসি বলেছেন তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সিইসির সাথে বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসি সচিবালর্য়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া ও বিএনপির আইন সহায়তা উপ-কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৈঠকে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
স্বাধীনতার ৫৫ বছরেও অপূর্ণ বহু প্রত্যাশা: জামায়াত আমির

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।   মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে যথাযোগ্য মর্যাদায় আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালনের আহ্বান জানানো হয়।    জামায়াত আমির বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ দেশে গণতন্ত্র, আইনের শাসন, ন্যায়বিচার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তদানীন্তন শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিকামী জনতা। মহান মুক্তিযুদ্ধের মূল প্রত্যাশা ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার। ক্ষুধা-দারিদ্র্য, বেকারত্ব ও দুঃশাসনমুক্ত একটি দেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সর্বস্তরের জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন। লাখো মানুষের রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীনতা লাভ করে। তবে স্বাধীনতার ৫৫ বছরে প্রাপ্তি হিসাব করলে দেখা যায়, দেশের মানুষের বহু প্রত্যাশা এখনও পূরণ হয়নি।   ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার জুলাই গণআন্দোলনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তি লাভ করেছে মানুষ। দেশে ফ্যাসিবাদমুক্ত পরিবেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। দেশবাসীর প্রত্যাশা এমন পরিস্থিতিতে কেউ আর নতুন করে ফ্যাসিবাদী হয়ে ওঠার দুঃসাহস দেখাবে না। দেশের মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে চলাফেরা করতে পারবে, কথা বলতে পারবে। মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ ও বৈষম্য থাকবে না। নাগরিকরা জানমাল ও ইজ্জত-আব্রুর নিরাপত্তা ভোগ করবে। দেশ ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলবাজিমুক্ত হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।    তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে এবং গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ নাগরিক ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ম্যান্ডেট দিয়েছে। কিন্তু উদ্বেগের বিষয় হলো, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অনীহা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে কোনো টালবাহানা জনগণ মেনে নেবে না। অবিলম্বে সরকারকে জুলাই জাতীয় সনদ দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।    বিবৃতিতে একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে শহীদদের স্মরণ করেন জামায়াত আমির। একইসঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়।

আক্তারুজ্জামান মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটিতে জ্বালানি সংকট: রাজধানীর পাম্পগুলোতে অকটেন উধাও

ছবি: সংগৃহীত

ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

এপ্রিল মাসের শেষ নাগাদ ঢাকা শহরে যানজট সমস্যার অনেকটা নিরসন হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
ঈদের ছুটিতে কক্সবাজারে পর্যটকের ঢল, চাঙা পর্যটন খাত

পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটিকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে নেমেছে পর্যটকের ঢল। সাগর তীরজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের মন্দাভাব কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্য। পর্যটকদের নিরাপদ সমুদ্রস্নান ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈকতসহ বিভিন্ন বিনোদনকেন্দ্রে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হোটেল মালিকদের তথ্যমতে, গত তিন দিনে প্রায় ৪ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে ভ্রমণে এসেছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় দেখা যায়, ছুটি শেষ হলেও পর্যটকের উপস্থিতি এখনো উল্লেখযোগ্য। লাবণী পয়েন্ট থেকে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত পুরো এলাকাজুড়ে পর্যটকদের প্রাণচাঞ্চল্য চোখে পড়েছে। কেউ বিস্তৃত বালিয়াড়িতে হাঁটছেন, কেউ বিচবাইক, ঘোড়া ও জেটস্কিতে চড়ে আনন্দ উপভোগ করছেন। আবার কেউ সাগরের হিমেল হাওয়া উপভোগ করছেন বা স্মৃতিময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত। তবে, অধিকাংশ পর্যটকের মূল আকর্ষণ সাগরের লোনাজলে গা ভাসিয়ে অবসাদ দূর করা। ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা ইফতিখার ও কানিজ দম্পতির সন্তান রুসাইফা ও ওয়াসিফা প্রথমবার ঘোড়ায় চড়ার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানায়, শুরুতে ভয় পেলেও পরে তারা বেশ আনন্দ পেয়েছে। মুন্সীগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক আল আমিন বলেন, ‘কক্সবাজারে এসে ঈদ উদযাপন সত্যিই আনন্দের। বন্ধুদের সঙ্গে জেটস্কি চালানো ও সাগরে গোসল— সবমিলিয়ে দারুণ সময় কাটছে।’ কক্সবাজার আবাসিক হোটেল-মোটেল-গেস্ট হাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, ঈদের দিন থেকে তিন দিনে অন্তত ৪ লাখ পর্যটক কক্সবাজারে এসেছেন। মঙ্গলবার থেকে কিছুটা কমতে শুরু করলেও শুক্রবার পর্যন্ত পর্যটকের উপস্থিতি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী রমজান মাসে প্রায় দেড় মাস পর্যটকশূন্য ছিল সৈকত। এতে ব্যবসায়ীদের মধ্যে হতাশা ছিল। তবে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকের আগমনে আবারো ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। ফটোগ্রাফার, বিচবাইক চালক, ঘোড়াওয়ালা এবং বার্মিজ পণ্যের দোকানিদের ব্যস্ততা এখন তুঙ্গে। ঘোড়াওয়ালা মোহাম্মদ ইসলাম জানান, দুই ঘণ্টায় প্রায় ২ হাজার টাকা আয় করেছেন। বিচবাইক চালক মো. রাসেল বলেন, রমজানে আয় না থাকলেও এখন পর্যটকের কারণে আয় বেড়েছে। জেটস্কি ব্যবসায়ী মো. সাদ্দাম জানান, পর্যটক বাড়ায় তাদের ব্যবসাও জমে উঠেছে। এদিকে সাগরে ঢেউয়ের মাত্রা বাড়ায় সমুদ্রস্নানে ঝুঁকি বেড়েছে। তাই লাইফগার্ড কর্মীরা পর্যটকদের নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন। সী সেফ লাইফ গার্ড সংস্থার ব্যবস্থাপক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, বর্তমানে সৈকতে লক্ষাধিক পর্যটক অবস্থান করছেন এবং আগামী দিনে এ সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তবে, মাত্র ২৭ জন কর্মী দিয়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।  তিনি আরও বলেন, শীত মৌসুম শেষে বর্ষার পূর্বাভাসে সাগর কিছুটা উত্তাল হয়ে উঠছে, ফলে দায়িত্ব পালন করতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হচ্ছে। ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কলাতলী, লাবণী ও সুগন্ধা সৈকতে স্থায়ী টিম দায়িত্ব পালন করছে এবং সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এছাড়া, মোবাইল টিম পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা টহল দিচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ ও আনন্দ উপভোগ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সহযোগিতা জোরদারে বৈঠক, বিমানখাত উন্নয়নে আগ্রহ যুক্তরাজ্যের

ছবি: সংগৃহীত

দেশ গঠনে অবদান রাখলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল্যায়ন করবে সরকার : কৃষিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

বেসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
শিশুদের প্রতি জিয়াউর রহমানের ছিল অকৃত্রিম ভালোবাসা ও দরদ : সংস্কৃতি মন্ত্রী

 সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তার কর্মজীবনে যেসব অসাধারণ কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করেছেন, তাঁর মধ্যে শিশুদের প্রতি যে অকৃত্রিম ভালোবাসা এবং দরদ, এটা আমরা সবসময় লক্ষ্য করেছি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানকে অনেকে বলেন ক্ষণজন্মা। যারা ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকেন, যারা একটি জাতির ভাবনা চিন্তা এবং জাতির ইতিহাসকে পাল্টে ফেলতে পারেন, জিয়াউর রহমান ঠিক তেমনি একজন ছিলেন। তাঁর জীবনের অংশগুলোকে যদি আপনি গভীরভাবে চিন্তা করে দেখেন তাহলে বুঝতে পারবেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রামস্থ জিয়া স্মৃতি জাদুঘর আয়োজিত মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শিশু কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুফিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, জিয়াউর রহমানের অসামান্য কাজের মধ্যে আরেকটি ছিল বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। আমরা শুধু বাঙালি না, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, বাঙালি, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, কুকি, সব সম্প্রদায় মিলে একটি জনগোষ্ঠী। এটাই হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে একটি রাষ্ট্রের কল্পনা করা হলো। এই কল্পনায় হচ্ছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ছিল আমরা সবার সাথে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু প্রভুত্ব চাই না। তিনি সার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন। দেশকে স্বনির্ভর করার জন্য খাল ও নদী খনন, ইরি ধানের চাষাবাদ, মহিলাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীদের শিক্ষিত করে তোলা, বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ আরো অনেক উদ্যোগ তিনি নিয়েছিলেন দেশের অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটানোর জন্য। এসব সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে হবে, আগামী প্রজন্মকে জানাতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, জিয়া স্মৃতি জাদুঘরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এটিকে ধ্বংস করা এবং ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চালানো হয়েছে। গত ১৬ বছরে এ জাদুঘর রক্ষায় আমরা আন্দোলন, মানববন্ধন, সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছি। তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের ভাস্কর্য পর্যন্ত কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছিল এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশেও বাধা দেওয়া হয়েছে, যাতে মানুষ তাঁর সম্পর্কে জানতে না পারে। এমনকি একসময় এটি সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছিল। আমরা তখন এটিকে হেরিটেজ হিসেবে ঘোষণার দাবিতে বারবার সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি এবং সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে প্রতিবাদ জানিয়েছি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বরং জাদুঘরটিকে ধীরে ধীরে জীর্ণ অবস্থায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক তানজিম ইবনে ওয়াহাব প্রমুখ।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ২৪, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে প্রথম কর্মদিবসে টানা ১১ ঘণ্টা অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

শুভেচ্ছা সফরে রাশিয়ান নৌবাহিনী জাহাজ চট্টগ্রামে

ছবি: সংগৃহীত

কৃষিজাত পণ্যকে শিল্পায়নের হাতিয়ারে পরিণত করতে হবে : দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী

0 Comments