জাতীয়

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে বিএনপি : নজরুল ইসলাম খান

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলছেন, আমরা সংস্কারের পক্ষে। আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত। 

তিনি বলেন, ‘আমরাই সবার আগে সংস্কারের দাবি করেছি। আমাদেরই প্রস্তাব অনুযায়ী সব সংস্কারের বিষয়ে আলোচনায় এসেছে এবং কমিটি হয়েছে। সেখানে আমরা অংশ নিয়েছি।

বহু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আর যেসব বিষয়ে একমত হতে পারিনি সেগুলোতে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছি। শুধু আমরা না, অনেক ব্যাপারে অনেকেই নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে। যেমন নারী আসনের ব্যাপারে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে, আমরা দেইনি। নারী আসন বৃদ্ধি আমরা চেয়েছি। এখন সেই সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই। আমরা সেই সংস্কারের পক্ষে। অতএব আমরা হ্যাঁ ভোট দেব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’

আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, আমরা বলেছি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত সেটা দেখা, যাতে সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।

দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিক অনেকে বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে থাকছেন। ইতিমধ্যে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আমাদের বেশ কিছু প্রার্থী আছেন যারা দুঃসময়ে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল তাদের। 

তারা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশের সংবিধান বলে যে নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা নেই। অতএব আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি সংবিধানে যে অধিকার নাগরিককে দেওয়া হয়েছে কোন কারণেই সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমরা সিইসির কাছে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছি, তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’

ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর মেহেরবানিতে জনগণের সমর্থনে যদি আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাই। তাহলে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নেব এবং বিএনপির ইতিহাসই তাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনেক নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। যেগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যেটা দেশের উন্নয়নে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া অনেক সংস্কারমূলক কাজ করেছেন । অনেক উন্নয়নমূলক কাজের শুরু করেছিলেন যেগুলো এখনো অব্যাহত আছে। আবার যদি সুযোগ পাই, আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব। 

পরিবারে মহিলাদের মধ্যে যিনি প্রধান থাকবেন তার নামে হবে সেই ফ্যামিলি কার্ড। কোন ছেলের নামে হবে না। কয়েকদিন পরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করব, সেখানে এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ 

পোস্টাল ভোটের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের ভাই বোনদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। সেই ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাজ করলে কাগজটা ভালো করে নজরেই পড়বে না। আমরা এ নিয়ে সিইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কথায় মনে হয়েছে যে, তারা বিষয়টি ঠিক ওইভাবে খেয়াল করেননি। আলফাবেটিক্যালি ঠিক আছে কিনা, এটাই তাদের কাছে বিবেচনার বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা তাদেরকে বলেছি যে আপনারা এখানে পাঁচটা লাইন করেছেন পাঁচটা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন। যার ফলে তিনটি রাজনৈতিক দল বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের নাম এবং প্রতীক প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি পাঁচটা না হয় ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো ১৪ টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এইভাবে সাজানো সুযোগ ছিল না। তাদেরকে অনুরোধ করেছি যে বিদেশে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে সময় থাকলে সেটাও সংশোধন করা। আর দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট যাবে এবং সেটা এখনো পাঠানো হয়নি। আমরা তাদেরকে পরিষ্কার বলেছি যে, এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়। এটা যেন সংশোধন করা হয়। আমরা এটাও বলেছি এই পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না। এটায় কিছু ত্রুটি হচ্ছে।’

তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে বিভিন্ন এলাকায়, প্রায় সারা দেশেই তারা ভোটার আইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে।

উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কেন তারা এটা করছে। আমরা বহু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু কখনো এই ঘটনা ঘটেনি। এটার কোন প্রয়োজনও নেই। এটা কোন বিশেষ উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। এটা নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তৈরি করে তাদেরকে দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার একটা ব্যাপার রয়েছে এবং তাদের বিকাশ নম্বর নেওয়ার অর্থ হলো যে কিছু অর্থকড়ি লেনদেনেরও সম্ভাবনা, আমরা দেখছি। এ ব্যাপারে ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। কারণ এটা নির্বাচন কমিশনের দেখার বিষয়। তারা বলেছেন, তারা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা এসব ব্যাপারে একটি চিঠি ইসিকে দিয়েছি। 

নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেছি। আমরা বিএনপি এই নির্বাচন যাতে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। সবাই যাতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আমরা লক্ষ্য করছি দেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তারা কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করছেন, তাদের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছে। এই কাজগুলো করছেন। কিন্তু এটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোন ব্যবস্থা গ্রহণের খবর আমাদের কাছে নেই। এসব ব্যাপারে আমাদের কাছে কিছু ডকুমেন্ট ছিল, আমরা সেগুলো তাদেরকে দিয়েছি। কারা কারা এসব কাজ করছে তার কিছু নমুনা আমরা তাদেরকে দিয়েছি। ইসি বলেছেন তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সিইসির সাথে বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসি সচিবালর্য়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া ও বিএনপির আইন সহায়তা উপ-কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

বৈঠকে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল-হয়রানি: নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ করছে সরকার

  জুন মাসের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় ওঠা অভিযোগ ও জনঅসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে বিতরণ সংস্থাগুলোকে দ্রুত অভিযোগ তদন্ত ও নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। পাশাপাশি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়িত্বে অবহেলা বা গ্রাহক হয়রানির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নজরদারিতে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রাপ্ত অধিকাংশ অভিযোগের নিষ্পত্তিও করা হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ এ তথ্য জানায়।   বিভাগের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, জুন থেকে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত নতুন বিদ্যুৎ ট্যারিফ কার্যকর হওয়ায় একই পরিমাণ অর্থে আগের তুলনায় কম ইউনিট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে প্রিপেইড মিটারের গ্রাহকদের আগের তুলনায় বেশি বার রিচার্জ করতে হচ্ছে। এ কারণেই অনেকের কাছে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।   বিদ্যুৎ বিভাগের দাবি, অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিল বেড়ে যাওয়ার পেছনে মিটারের কোনও ত্রুটি নেই। বরং নতুন ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি তীব্র গরম, কম বৃষ্টিপাত, ঈদুল আজহা, ফিফা বিশ্বকাপ, এসএসসি পরীক্ষা এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুতের চাহিদা ও ব্যবহার বৃদ্ধি পেয়েছে। ব্যবহার বেশি হওয়ায় অনেক গ্রাহক উচ্চতর ট্যারিফ স্ল্যাবে চলে যাওয়ায় বিলও বেড়েছে।   তবে কিছু ক্ষেত্রে বিল প্রস্তুতের সময় করণিক ভুলের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। এসব বিল পুনঃযাচাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে।   বিভাগটি আরও জানায়, নিম্ন আয়ের গ্রাহকদের কথা বিবেচনা করে লাইফলাইন ও প্রথম ধাপের আবাসিক গ্রাহকদের জন্য আগের ট্যারিফ বহাল রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রেখে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানো, সিস্টেম লস কমানো এবং স্মার্ট মিটারিং সম্প্রসারণে কাজ চলছে।   যেসব গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সন্দেহ বা অভিযোগ রয়েছে, তাদের সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার গ্রাহকসেবা কেন্দ্রে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। অভিযোগের ভিত্তিতে মিটার পরীক্ষা, বিল পুনঃযাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।   এদিকে মিটার ভাড়া নিয়ে জনমনে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সেটিও সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে। এ বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।   বিদ্যুৎ বিল সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্য যাচাই করে দায়িত্বশীল প্রতিবেদন প্রকাশের আহ্বান জানিয়ে সাংবাদিক ও কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে বিভাগটি। একই সঙ্গে গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে বিদ্যুৎ স্থাপনার ক্ষতি না করার আহ্বানও জানানো হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুলাই ০৬, ২০২৬

প্রাণীর চিকিৎসায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ চলবে না: প্রতিমন্ত্রী

জামায়াতকে সাধুবাদ, শেখ হাসিনার দেশে ফিরতে বাধা নেই: রুমিন ফারহানা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে ৮ মৃত্যু: এখনও ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
প্রধানমন্ত্রীকে সৌদি সফরের আমন্ত্রণ জানালেন মোহাম্মদ বিন সালমান

সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান আল সৌদ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।   সোমবার সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া যুবরাজের আমন্ত্রণপত্র প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন।   পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর সৌদি আরব সফরের সময়সূচি দুই দেশের সরকারের পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে।   হুমায়ুন কবির আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও সৌদি যুবরাজকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এটি একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। সৌদি আরবের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক রয়েছে। আমরা এই সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিচালক নাসির উদ্দিনকে প্রত্যাহার

ছবি: সংগৃহীত

‘করিডোর প্রস্তাবটি আমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে আশীর্বাদ’

ছবি: সংগৃহীত

ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

ছবি: সংগৃহীত
পদ্মার ভয়াল ভাঙনে বিপর্যস্ত ফরিদপুর, বিলীন ফসলি জমি-হুমকিতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলমান এ ভাঙনে ইতোমধ্যে অন্তত আট একর কৃষিজমি হারিয়ে গেছে। একই সঙ্গে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক এবং একটি মসজিদও ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।   সরেজমিনে দেখা যায়, ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গীর উত্তর-পশ্চিমে কবির মোল্লার বাড়ি থেকে দক্ষিণে মৃধাডাঙ্গী এলাকার আলেপ খাঁর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নদীভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেক পরিবার তাদের বসতঘর সরিয়ে নিচ্ছে। কৃষকরাও ক্ষতি এড়াতে অপরিপক্ব ফসল কেটে ফেলতে বাধ্য হচ্ছেন।   স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কৃষক শাহাবুদ্দিন শেখ ইতোমধ্যে নিজের পাকা বাড়ি ভেঙে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া কবির মোল্লা, ইউসুফ শেখ, আলী মণ্ডল ও রাকিব মোল্লার মোট প্রায় আট একর জমি পদ্মার গর্ভে চলে গেছে। এসব জমিতে পাট, তিল ও ইরি ধানের চাষ হয়েছিল।   ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে অল্প দূরত্বে অবস্থিত চর টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর টেপুরা কমিউনিটি ক্লিনিক এবং ইউসুফ মাতুব্বরের ডাঙ্গী জামে মসজিদ এখন ঝুঁকির মুখে রয়েছে।   স্থানীয় ইউপি সদস্য ইয়াকুব মৃধা বলেন, দ্রুত ভাঙন প্রতিরোধে ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। এলাকাবাসী আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।   চর টেপুরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুকান্ত ঘোষ জানান, ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি অতীতেও তিনবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। বর্তমানে ১৯৩ শিক্ষার্থী ও পাঁচজন শিক্ষক নিয়ে পরিচালিত বিদ্যালয়টি আবারও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে।   এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, পদ্মা নদীতে নাব্যতা রক্ষায় চলমান ড্রেজিং কার্যক্রমের কারণেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসির নির্বাহী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ রাখা হবে।   ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, তিনি ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন এবং বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে অনুরোধ করা হয়েছে।   ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন বলেন, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই ওই এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। দীর্ঘমেয়াদে নদীতীর সংরক্ষণে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় ব্লক স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী প্রতিরোধমূলক কাজ শুরু করা হবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থা আরও কার্যকর করতে পুনর্গঠিত হলো উচ্চপর্যায়ের কমিটি

ছবি : সংগৃহীত

সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শে ৪ বিচারকের পদোন্নতি ও ৩৪ জনের বদলি

ছবি : সংগৃহীত

নিবন্ধনের দাবিতে ডেন্টাল ডিপ্লোমাধারীদের তিন দফা কর্মসূচি

0 Comments