বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলছেন, আমরা সংস্কারের পক্ষে। আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, ‘আমরাই সবার আগে সংস্কারের দাবি করেছি। আমাদেরই প্রস্তাব অনুযায়ী সব সংস্কারের বিষয়ে আলোচনায় এসেছে এবং কমিটি হয়েছে। সেখানে আমরা অংশ নিয়েছি।
বহু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আর যেসব বিষয়ে একমত হতে পারিনি সেগুলোতে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছি। শুধু আমরা না, অনেক ব্যাপারে অনেকেই নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে। যেমন নারী আসনের ব্যাপারে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে, আমরা দেইনি। নারী আসন বৃদ্ধি আমরা চেয়েছি। এখন সেই সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই। আমরা সেই সংস্কারের পক্ষে। অতএব আমরা হ্যাঁ ভোট দেব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত সেটা দেখা, যাতে সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিক অনেকে বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে থাকছেন। ইতিমধ্যে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আমাদের বেশ কিছু প্রার্থী আছেন যারা দুঃসময়ে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল তাদের।
তারা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশের সংবিধান বলে যে নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা নেই। অতএব আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি সংবিধানে যে অধিকার নাগরিককে দেওয়া হয়েছে কোন কারণেই সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমরা সিইসির কাছে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছি, তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর মেহেরবানিতে জনগণের সমর্থনে যদি আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাই। তাহলে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নেব এবং বিএনপির ইতিহাসই তাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনেক নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। যেগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যেটা দেশের উন্নয়নে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া অনেক সংস্কারমূলক কাজ করেছেন । অনেক উন্নয়নমূলক কাজের শুরু করেছিলেন যেগুলো এখনো অব্যাহত আছে। আবার যদি সুযোগ পাই, আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব।
পরিবারে মহিলাদের মধ্যে যিনি প্রধান থাকবেন তার নামে হবে সেই ফ্যামিলি কার্ড। কোন ছেলের নামে হবে না। কয়েকদিন পরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করব, সেখানে এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
পোস্টাল ভোটের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের ভাই বোনদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। সেই ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাজ করলে কাগজটা ভালো করে নজরেই পড়বে না। আমরা এ নিয়ে সিইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কথায় মনে হয়েছে যে, তারা বিষয়টি ঠিক ওইভাবে খেয়াল করেননি। আলফাবেটিক্যালি ঠিক আছে কিনা, এটাই তাদের কাছে বিবেচনার বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা তাদেরকে বলেছি যে আপনারা এখানে পাঁচটা লাইন করেছেন পাঁচটা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন। যার ফলে তিনটি রাজনৈতিক দল বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের নাম এবং প্রতীক প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি পাঁচটা না হয় ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো ১৪ টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এইভাবে সাজানো সুযোগ ছিল না। তাদেরকে অনুরোধ করেছি যে বিদেশে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে সময় থাকলে সেটাও সংশোধন করা। আর দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট যাবে এবং সেটা এখনো পাঠানো হয়নি। আমরা তাদেরকে পরিষ্কার বলেছি যে, এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়। এটা যেন সংশোধন করা হয়। আমরা এটাও বলেছি এই পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না। এটায় কিছু ত্রুটি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে বিভিন্ন এলাকায়, প্রায় সারা দেশেই তারা ভোটার আইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে।
উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কেন তারা এটা করছে। আমরা বহু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু কখনো এই ঘটনা ঘটেনি। এটার কোন প্রয়োজনও নেই। এটা কোন বিশেষ উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। এটা নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তৈরি করে তাদেরকে দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার একটা ব্যাপার রয়েছে এবং তাদের বিকাশ নম্বর নেওয়ার অর্থ হলো যে কিছু অর্থকড়ি লেনদেনেরও সম্ভাবনা, আমরা দেখছি। এ ব্যাপারে ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। কারণ এটা নির্বাচন কমিশনের দেখার বিষয়। তারা বলেছেন, তারা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা এসব ব্যাপারে একটি চিঠি ইসিকে দিয়েছি।
নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেছি। আমরা বিএনপি এই নির্বাচন যাতে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। সবাই যাতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আমরা লক্ষ্য করছি দেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তারা কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করছেন, তাদের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছে। এই কাজগুলো করছেন। কিন্তু এটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোন ব্যবস্থা গ্রহণের খবর আমাদের কাছে নেই। এসব ব্যাপারে আমাদের কাছে কিছু ডকুমেন্ট ছিল, আমরা সেগুলো তাদেরকে দিয়েছি। কারা কারা এসব কাজ করছে তার কিছু নমুনা আমরা তাদেরকে দিয়েছি। ইসি বলেছেন তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
সিইসির সাথে বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসি সচিবালর্য়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া ও বিএনপির আইন সহায়তা উপ-কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বৈঠকে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের ঘটনায় এর কারণ খুঁজে বের করতে কাজ করছে বাংলাদেশ দূতাবাস। বিষয়টি নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে দূতাবাস। সোমবার (২৭ জুলাই) এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, ছুটি বা অন্য কোনো কারণে আমিরাতের বাইরে থাকা অনেক বাংলাদেশির ভিসা হঠাৎ করে কোনো কারণ উল্লেখ ছাড়াই বাতিল হয়ে যাচ্ছে। এতে রেসিডেন্সি থাকা প্রবাসীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এটি কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি, নাকি বিশেষ কোনো কারণে ঘটছে—তা জানার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের চেষ্টা চলছে। বার্তায় আরও বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় বিষয়টি সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং নিয়মিত খোঁজখবর রাখছে। সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে তা প্রবাসীদের জানানো হবে। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের লোগো, সরকারি প্রতীক, জাতীয় পতাকা এবং দূতাবাসের ই-মেইল ব্যবহার করে কিছু অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও অসম্পূর্ণ তথ্য ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক করেছে দূতাবাস। দূতাবাস প্রবাসীদের এসব গুজব থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশ ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন-কানুন মেনে চলতে হবে এবং শুধুমাত্র সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে হবে।
বাংলাদেশ পুলিশের ৯৩ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) একযোগে দেশের বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ জুলাই) পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ পদায়ন আদেশ জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নবনিযুক্ত এসব শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি), র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব), কক্সবাজার জেলা পুলিশ, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি), চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি), রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি), খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি), সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি), বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি) এবং শিল্পাঞ্চল পুলিশসহ বিভিন্ন ইউনিটে পদায়ন করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপাররা তাদের বাস্তব প্রশিক্ষণ (Practical Training) সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন করার পর নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান করবেন।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবেলায় সহনশীলতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। আজ সোমবার ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে বাংলাদেশে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) আবাসিক প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো এইচ উশিয়ামা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, সামাজিক সুরক্ষা এবং মানবিক সহায়তায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে ডব্লিউএফপির ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে সীমিত সম্পদের মধ্যেও বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) জন্য ডব্লিউএফপির অব্যাহত সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা নির্বিঘ্ন রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি বাংলাদেশের স্কুল মিলস কর্মসূচিতে ডব্লিউএফপির অবদানও প্রশংসা করেন এবং জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব কৃষি সম্প্রসারণ এবং সরকার পরিচালিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথা তুলে ধরে এসব উদ্যোগে, বিশেষ করে ডব্লিউএফপির কার্যপরিধির আওতায় থাকা ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সরকারি উদ্যোগে সহযোগিতা কামনা করেন। এছাড়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সহযোগিতা আরো জোরদারের আহ্বান জানান। জবাবে কোকো এইচ উশিয়ামা বলেন, ক্ষুধার মূল কারণগুলো মোকাবিলা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টির ওপর ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের সুরক্ষায় ডব্লিউএফপি কাজ করে যাচ্ছে। তিনি খুলনা বিভাগ ও হবিগঞ্জে চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, জলবায়ু সহনশীলতা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং ভূমিকম্প প্রস্তুতি বিষয়ে ডব্লিউএফপির বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও ডব্লিউএফপির অংশীদারি আরো জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে একটি নিরাপদ, জলবায়ু-সহনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।