বিএনপি স্থায়ী কমিটি সদস্য ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান বলছেন, আমরা সংস্কারের পক্ষে। আমরা গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেব, এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।
তিনি বলেন, ‘আমরাই সবার আগে সংস্কারের দাবি করেছি। আমাদেরই প্রস্তাব অনুযায়ী সব সংস্কারের বিষয়ে আলোচনায় এসেছে এবং কমিটি হয়েছে। সেখানে আমরা অংশ নিয়েছি।
বহু বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি। আর যেসব বিষয়ে একমত হতে পারিনি সেগুলোতে নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছি। শুধু আমরা না, অনেক ব্যাপারে অনেকেই নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে। যেমন নারী আসনের ব্যাপারে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো নোট অফ ডিসেন্ট দিয়েছে, আমরা দেইনি। নারী আসন বৃদ্ধি আমরা চেয়েছি। এখন সেই সংস্কারের বিপক্ষে আমরা নই। আমরা সেই সংস্কারের পক্ষে। অতএব আমরা হ্যাঁ ভোট দেব। এটাই আমাদের সিদ্ধান্ত।’
আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে গণভোট নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নজরুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমরা বলেছি নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। নির্বাচন কমিশনের উচিত দ্রুত সেটা দেখা, যাতে সে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়।
দ্বৈত নাগরিকত্ব প্রশ্নে প্রার্থীতা বাতিলের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘দ্বৈত নাগরিক অনেকে বাধ্য হয়ে দেশের বাইরে থাকছেন। ইতিমধ্যে দুইজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। আমাদের বেশ কিছু প্রার্থী আছেন যারা দুঃসময়ে দেশের বাইরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেখানে নাগরিকত্ব নিতে হয়েছিল তাদের।
তারা নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেছেন এবং দেশের সংবিধান বলে যে নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোন বাধা নেই। অতএব আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছি সংবিধানে যে অধিকার নাগরিককে দেওয়া হয়েছে কোন কারণেই সেই অধিকার থেকে তাকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। আমরা সিইসির কাছে বিষয়গুলো উত্থাপন করেছি, তারা এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
ফ্যামিলি কার্ড সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আল্লাহর মেহেরবানিতে জনগণের সমর্থনে যদি আমরা দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাই। তাহলে দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বেশ কিছু কর্মসূচি হাতে নেব এবং বিএনপির ইতিহাসই তাই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অনেক নতুন নতুন কর্মসূচি নিয়েছিলেন। যেগুলো এখনো কার্যকর রয়েছে। অনেক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যেটা দেশের উন্নয়নে এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে আছে। বেগম খালেদা জিয়া অনেক সংস্কারমূলক কাজ করেছেন । অনেক উন্নয়নমূলক কাজের শুরু করেছিলেন যেগুলো এখনো অব্যাহত আছে। আবার যদি সুযোগ পাই, আমরা ফ্যামিলি কার্ড দেব।
পরিবারে মহিলাদের মধ্যে যিনি প্রধান থাকবেন তার নামে হবে সেই ফ্যামিলি কার্ড। কোন ছেলের নামে হবে না। কয়েকদিন পরে নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করব, সেখানে এবিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’
পোস্টাল ভোটের বিষয়ে নজরুল ইসলাম খান বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমাদের ভাই বোনদের কাছে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে। সেই ব্যালট পেপারে উদ্দেশ্যমূলকভাবে দেশের কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নাম এবং প্রতীকটা প্রথম লাইনে দেওয়া হয়েছে। অথচ বিএনপির নাম এবং প্রতীক ঠিক মাঝখানে দেওয়া হয়েছে। যেটা ভাজ করলে কাগজটা ভালো করে নজরেই পড়বে না। আমরা এ নিয়ে সিইসির সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের কথায় মনে হয়েছে যে, তারা বিষয়টি ঠিক ওইভাবে খেয়াল করেননি। আলফাবেটিক্যালি ঠিক আছে কিনা, এটাই তাদের কাছে বিবেচনার বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা তাদেরকে বলেছি যে আপনারা এখানে পাঁচটা লাইন করেছেন পাঁচটা কলাম করেছেন এবং ১৪টা লাইন করেছেন। যার ফলে তিনটি রাজনৈতিক দল বিশেষ রাজনৈতিক দল তাদের নাম এবং প্রতীক প্রথম লাইনে এসে গেছে। এটা যদি পাঁচটা না হয় ছয়টা কলাম হতো বা চারটা কলাম হতো ১৪ টার জায়গায় যদি ১২টা বা ১৬টা লাইন হতো তাহলে কিন্তু এই ব্যাপারটা এইভাবে সাজানো সুযোগ ছিল না। তাদেরকে অনুরোধ করেছি যে বিদেশে যে ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে সময় থাকলে সেটাও সংশোধন করা। আর দেশের ভেতরে যে পোস্টাল ব্যালট যাবে এবং সেটা এখনো পাঠানো হয়নি। আমরা তাদেরকে পরিষ্কার বলেছি যে, এই কৌশল যেন দেশের ভেতরে পোস্টাল ব্যালটে কার্যকর করা না হয়। এটা যেন সংশোধন করা হয়। আমরা এটাও বলেছি এই পোস্টাল ব্যালট পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় যে পদ্ধতিতে বিতরণ করা হচ্ছে এবং এটা সঠিক হচ্ছে না। এটায় কিছু ত্রুটি হচ্ছে।’
তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে বিভিন্ন এলাকায়, প্রায় সারা দেশেই তারা ভোটার আইডি কার্ড, মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছে।
উদ্দেশ্য পরিষ্কার বোঝা যায় যে, কেন তারা এটা করছে। আমরা বহু নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি কিন্তু কখনো এই ঘটনা ঘটেনি। এটার কোন প্রয়োজনও নেই। এটা কোন বিশেষ উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে। এটা নির্বাচনে ভুয়া ভোটার তৈরি করে তাদেরকে দিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করার একটা ব্যাপার রয়েছে এবং তাদের বিকাশ নম্বর নেওয়ার অর্থ হলো যে কিছু অর্থকড়ি লেনদেনেরও সম্ভাবনা, আমরা দেখছি। এ ব্যাপারে ইসিকে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলেছি। কারণ এটা নির্বাচন কমিশনের দেখার বিষয়। তারা বলেছেন, তারা এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আমরা এসব ব্যাপারে একটি চিঠি ইসিকে দিয়েছি।
নজরুল ইসলাম খান আরো বলেন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের কথা বলেছি। আমরা বিএনপি এই নির্বাচন যাতে যথাসময়ে অনুষ্ঠিত হয়। সবাই যাতে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে। আমরা লক্ষ্য করছি দেশের বেশ কিছু রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ তারা কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা ক্রমাগত চালিয়ে যাচ্ছেন। বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করছেন, তাদের প্রতীকের পক্ষে ভোট চাচ্ছে। এই কাজগুলো করছেন। কিন্তু এটা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কোন ব্যবস্থা গ্রহণের খবর আমাদের কাছে নেই। এসব ব্যাপারে আমাদের কাছে কিছু ডকুমেন্ট ছিল, আমরা সেগুলো তাদেরকে দিয়েছি। কারা কারা এসব কাজ করছে তার কিছু নমুনা আমরা তাদেরকে দিয়েছি। ইসি বলেছেন তারা বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
সিইসির সাথে বৈঠকে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, ইসি সচিবালর্য়ে সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব ডক্টর মোহাম্মদ জকরিয়া ও বিএনপির আইন সহায়তা উপ-কমিটির প্রধান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।
বৈঠকে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ ও ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুর। তিনি বলেছেন বৈঠক ভালো হয়েছে। বুধবার (৪ মার্চ) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। পল কাপুরের কাছে বৈঠকে আলোচনার বিষয়, বিশেষ করে অস্ত্র কেনাকাটাবিষয়ক চুক্তি আকসা (একুইজিশন অ্যান্ড ক্রস-সার্ভিসিং অ্যাগ্রিমেন্ট) এবং অস্ত্রবিষয়ক গোপন তথ্য বিনিময় ও সুরক্ষার চুক্তি জিসোমিয়ার (জেনারেল সিকিউরিটি অব মিলিটারি ইনফরমেশন অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তবে তিনি তার জবাব দেননি। শুধু বৈঠক ভালো হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ত্যাগ করেন। সফরসূচি অনুযায়ী, পল কাপুর আজ অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গেও বৈঠক করবেন। সন্ধ্যায় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি সফর উপলক্ষে নৈশভোজে অংশ নেবেন পল কাপুর। এছাড়া সফরের শেষ দিন আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে পল কাপুর প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে তার মতবিনিময় করার কথা রয়েছে। সফরের শেষ কর্মসূচি হিসেবে সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত একটি ইফতার পার্টিতে অংশ নেবেন এই মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, গত অক্টোবরে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই পল কাপুরের প্রথম বাংলাদেশ সফর। মূলত ঢাকা-ওয়াশিংটন কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদারের আলোচনা করতে পল কাপুর গতকাল মঙ্গলবার রাতে ঢাকায় আসেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতার ভোগ নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। জনগণের আস্থা অর্জন করতে না পারলে কোনো রাজনৈতিক অর্জনই টেকসই হয় না। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি-র সদস্য সচিব মোস্তফা জামানের উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের কার কত ক্ষমতা আছে সেটা বড় কথা নয়, আমাদের দায়িত্ব হলো সেবকের। জনগণের উপর যে দায়িত্ব আমাদের রয়েছে, সেটাই আমাদের পালন করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আগামী পাঁচ বছর পর এই জনগণের কাছেই আবার দাঁড়াতে হবে। জনগণই একমাত্র ক্ষমতার উৎস। জনগণ যেন আমাদের আবার গ্রহণ করে, সেই লক্ষ্যেই কাজ করতে হবে। উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্রের চর্চা ও জনগণের প্রতি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে মাঠপর্যায়ে কাজ বাড়াতে হবে। জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে না পারলে রাজনীতি অর্থহীন হয়ে পড়ে। ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন মোস্তফা জামান। তিনি বলেন, এই স্থান শুধু একটি অনুষ্ঠানস্থল নয়, এটি একটি স্মৃতিবাহী জায়গা। ২০২৩ সালে স্বৈরাচারী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এখানে বর্তমান তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীর ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। সেই দুঃসময়ের কথা ভুলে যাওয়া যায় না। আজ একই স্থানে শান্তিপূর্ণভাবে ইফতার মাহফিল আয়োজন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সব সময় জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে রাজপথে ছিল এবং থাকবে। অতীতের নির্যাতন-নিপীড়ন আন্দোলনকে দমাতে পারেনি, বরং আরও বেগবান করেছে। অনুষ্ঠানে দলীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। ইফতারপূর্ব দোয়া মাহফিলে দেশ, জাতি ও গণতন্ত্রের স্থিতিশীলতার জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারের নিবন্ধনের আবেদনসমূহ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আজ ইসির জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (নিবন্ধন ও প্রবাসী) খান আবি শাহানুর খান সাক্ষরিত এ সংক্রান্ত চিঠি সকল উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার লক্ষ্যে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ নিরলস পরিশ্রম করেছেন। এ পরিশ্রমের ফলেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গ্রহণযোগ্য হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরলস পরিশ্রমের ফলে এটি সম্ভব হয়েছে। এজন্য সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’ চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিবন্ধন কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট হাইকমিশন/দূতাবাস/কনস্যুলেট/মিশন অফিসসমূহে চলমান রয়েছে। উক্ত অফিসসমূহে বায়োমেট্রিক প্রদানকৃত ভোটারের স্থানীয় তদন্ত কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সকল উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস কর্তৃক সম্পন্ন করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এ ব্যস্ত থাকার কারণে প্রবাসী ভোটারের অসংখ্য আবেদনসমূহের তদন্ত পেন্ডিং রয়েছে। এগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। এমতাবস্থায়, প্রবাসী বাংলাদেশি ভোটারের যে সকল আবেদনসমূহের স্থানীয় তদন্ত পেন্ডিং রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য নির্দেশিত হয়ে অনুরোধ করা হলো।’