জাতীয়

দাগনভূঞায় সমীর দাস নিহতের ব্যাপারে ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচার শনাক্ত : বাংলাফ্যাক্ট

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

দাগনভূঞায় সমীর দাস নিহতের ঘটনার সঙ্গে সাম্প্রদায়িক কোনো সম্পর্ক নেই। অথচ ভারতীয় মিডিয়ায় একে সাম্প্রদায়িক হিসেবে অপপ্রচার করা হচ্ছে বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) ফ্যাক্ট চেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

বাংলাফ্যাক্ট জানায়, দাগনভূঞায় সমীর দাসের লাশ উদ্ধার হয়। এ ঘটনার পর নিহতের পরিবার বলছে, এখানে সাম্প্রদায়িক সম্পর্ক নেই। অথচ, ভারতীয় মিডিয়ায় এটাকে সাম্প্রদায়িক বলে প্রচার করা হচ্ছে।

ফ্যাক্টচেক টিম জানায়, ফেনীর দাগনভূঞার দক্ষিণ করিমপুর মুহুরী বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় গত রোববার দিবাগত রাতে সমীর কুমার দাস (২৮) নামে অটোরিকশা চালক এক যুবকের রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় সাম্প্রদায়িক রঙ চড়িয়ে একাধিক ভারতীয় গণমাধ্যম প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কিন্তু, এই ঘটনার সঙ্গে কোনো ধরনের সাম্প্রদায়িক বিষয় জড়িত নেই বলে বাংলাফ্যাক্ট জানতে পেরেছে।

বাংলাফ্যাক্ট অনুসন্ধান টিম জানায়, দাগনভূঞা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ ফয়জুল আজীম বাংলাফ্যাক্টকে জানান, ‘আমরা নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছি ও তাদের থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি। তবে, এখানে কোনো সাম্প্রদায়িক বিষয় নেই।’ সমীর দাসের পরিবারের সদস্যরাও এটা নিশ্চিত করেছেন।

ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, গত বছর থেকে ভারতীয় গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং দেশের কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল ও সংগঠনকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হচ্ছে।

‘বাংলা ফ্যাক্ট’ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ-পিআইবি’র ফ্যাক্টচেক, মিডিয়া রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস টিম; যারা নিয়মিত ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম ও সংবাদ নিয়ে গবেষণা করে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া শত শত ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে বাংলাদেশের ফ্যাক্ট চেকিং প্রতিষ্ঠান বাংলাফ্যাক্ট। 

বাংলাদেশে চলমান গুজব এবং ভুয়া খবর, অপতথ্য প্রতিরোধ এবং জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ায় দায়িত্ব পালন করছে বাংলাফ্যাক্ট।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
শপথের আগেই শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণের আগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।   শুক্রবার (২১ আগস্ট) জুমার নামাজের পর রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যানে অবস্থিত সমাধিস্থলে গিয়ে তিনি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাবেন। পরে প্রয়াত দুই নেতার রুহের মাগফিরাত কামনায় সূরা ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। সূত্র আরও জানায়, সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তিনি সরাসরি বঙ্গভবনের উদ্দেশে রওনা হবেন। সেখানে সন্ধ্যা ৭টায় আনুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।   বঙ্গভবনে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ঐতিহাসিক দরবার হলকে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে এর আগেও বহু রাষ্ট্রপতির শপথ ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানসূচি অনুযায়ী, সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার মধ্যে অতিথিদের আসন গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দরবার হলে প্রবেশ করবেন। এরপর সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হলে প্রবেশ করবেন এবং সন্ধ্যা ৭টায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শুরু হবে।   উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রের শীর্ষ ব্যক্তিরা শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় এক হাজার অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, জাতীয় সংসদের স্পিকার, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতিরা। এ ছাড়া তিন বাহিনীর প্রধান, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, জাতীয় পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন গণমাধ্যমের সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার এবং বিদেশি কূটনীতিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।   ২৫৫ ভোটে বিজয়ী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদ সদস্যদের ভোটে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনের মাধ্যমে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত হন।

মোঃ নাহিদ হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

আজ রাষ্ট্রপতির শপথ, যেসব সড়কে এড়িয়ে চলতে হবে

ছবি: সংগৃহীত

মির্জা ফখরুলের ভূমিকা রাজনৈতিক ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

তাড়াহুড়ো নয়, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম ভারত সফর হতে হবে দ্বিপক্ষীয়: উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দুই প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও কর্নেল অলি আহমদ। ছবি: সংগৃহীত
নতুন রাষ্ট্রপতিকে কে শপথ পড়াবেন? জানাল আইন মন্ত্রণালয়

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটের মাধ্যমে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হতে যাচ্ছে আজ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। তবে ভোটের আগেই নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন কে, এ নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন।   এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পাঠানো চিঠির জবাবে আইন মন্ত্রণালয় তাদের মতামত জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মত অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্পিকারের দায়িত্ব পালনকারী ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালই নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর সাংবিধানিকভাবে যথাযথ কর্তৃপক্ষ।   আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতে বলা হয়েছে, বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদ অনুসারে স্পিকারের যাবতীয় দায়িত্ব ডেপুটি স্পিকার পালন করছেন। ফলে স্পিকারের সব দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়ানোর দায়িত্বও ডেপুটি স্পিকারের ওপর বর্তায়।   রাষ্ট্রপতির শপথ পরিচালনা সংক্রান্ত সাংবিধানিক বিধান ও প্রক্রিয়া নিয়ে সুনির্দিষ্ট মতামত জানতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে আইন মন্ত্রণালয়ে ফাইল পাঠানো হয়েছিল। যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রণালয় তাদের মতামত দেয়।   এদিকে আজকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের ভোটের লড়াই হবে।   সংসদে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া প্রায় নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে একাধিক প্রার্থী থাকায় সংবিধানের বিধান অনুযায়ী ভোট গ্রহণ করতেই হচ্ছে।   ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মোট ৩৪৯ জন সদস্য আজকের নির্বাচনে ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ সংসদ সদস্য রয়েছেন। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য রয়েছে।   ভোটের পর আগামী শুক্রবার (২১ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনের দরবার হলে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। চিফ হুইপ এ তথ্য জানিয়েছেন। শপথ অনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতিসহ রাষ্ট্র ও সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠান আয়োজনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।   এর আগে ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে সর্বশেষ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তিনি পেয়েছিলেন ১৭২ ভোট, আর তার প্রতিদ্বন্দ্বী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

মোঃ ইমরান হোসেন আগস্ট ২১, ২০২৬
মাজার জিয়ারত করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শেষে মা-বাবার কবর জিয়ারতে প্রধানমন্ত্রী

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: সংগৃহীত

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল, প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ, আলোচনা বিভিন্ন বিষয়ে

ছবি: সংগৃহীত
খুলনায় ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার, ২৪ ঘণ্টায় ১৭৩ রোগী ভর্তি

খুলনায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। চলতি আগস্টে বিভাগজুড়ে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগে নতুন করে ১৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে মারা গেছেন দুজন। গত এক সপ্তাহে খুলনা জেলায় অন্তত সাতজনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে।   স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ আগস্ট খুলনা জেলায় দুজনের মৃত্যু হয়। এরপর ১৭ আগস্ট থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে একজন করে আরও তিনজন মারা যান। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একজন করে মারা গেছেন।   হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর চাপ। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রোগীদের জায়গা দিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।   স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের ২০ আগস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১৭৩ রোগীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৩ জন খুলনা জেলার। এর মধ্যে খুলনা জেলা সদরে ৫১ জন এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪২ জন ভর্তি হয়েছেন।   এ ছাড়া বাগেরহাটে ৩৮, যশোরে ১৯, সাতক্ষীরায় ৭, মাগুরায় ৬, কুষ্টিয়ায় ৩, মেহেরপুরে ৩, নড়াইলে ২ এবং ঝিনাইদহ ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে রোগী ভর্তি হয়েছেন।   সরকারি হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে মোট ৩ হাজার ৯৯৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এ সময় সরকারি হিসাবে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা গেছেন ১৩ জন। বাগেরহাটে একজন এবং খুলনায় দুজনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।   এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৪৩৫ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০৬ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গুরুতর অবস্থায় ৩৯ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।   গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১টার দিকে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শামীমা ইয়াসমিন পলি (৪০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়। তিনি খুলনার বড় মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তার ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। একই সময়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও আরও একজন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়।   এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনে বিশেষ কার্যক্রম চালাচ্ছে। বৃহস্পতিবার নগরীতে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে বাড়ির আঙিনা অপরিচ্ছন্ন রাখার অভিযোগে নয়জনকে মোট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।   কেসিসি সূত্র জানায়, নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মশার প্রজননস্থল ও লার্ভা পাওয়া গেলে বাড়ি বা স্থাপনার মালিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বাসাবাড়ির আঙিনা পরিষ্কার রাখা এবং টায়ার, কৌটা, ডাবের খোল, ফুলের টবসহ বিভিন্ন স্থানে পানি জমে না থাকার বিষয়ে নগরবাসীকে সতর্ক করা হয়েছে।   কেসিসির প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সিটি করপোরেশন ব্যাপক কার্যক্রম চালাচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং বিভিন্ন হাসপাতালে মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে। আক্রান্তের হার বিবেচনায় নগরীর ওয়ার্ডগুলোকে রেড, কমলা ও হলুদ জোনে ভাগ করে মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।   তিনি জানান, প্রতিটি ওয়ার্ডে ফগার মেশিন ও হ্যান্ড স্প্রের মাধ্যমে মশক নিধন করা হচ্ছে। পাশাপাশি উন্মুক্ত স্থান ও বড় নালায় হুইল ব্যারো ফগার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ২০, ২০২৬

বিএসআইসির প্রথম ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী হলেন ওয়াইজ রহিম

মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি

নতুন রাষ্ট্রপতিকে অধ্যাপক ইউনূসের শুভেচ্ছা

0 Comments