বিশ্ব

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব বাড়ছে

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

গাজা সিটির পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। একই সময়ে দখলকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধির ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়েছে জাতিসংঘ।

ফিলিস্তিনি সূত্রগুলো জানায়, গাজার উত্তরাঞ্চলেও গোলাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৪৮ ঘণ্টায় হাসপাতালে একজনের মৃত্যু এবং ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ১১ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৬১২ জন নিহত ও ১,৬৪০ জন আহত হয়েছেন। আর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর সংঘাত শুরুর পর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭২,০৭০ জনে এবং আহত ১,৭১,৭৩৮ জন।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বাহিনী জেরুজালেমের উত্তর-পূর্বে আনাতা শহরে অভিযানে কয়েকটি যানবাহন জব্দ করেছে। রামাল্লা জেলার আল-মুগাইয়্যির এলাকায় অভিযানের সময় বাড়িঘরের দিকে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। আল-খলিলের দক্ষিণে মাসাফের ইয়াত্তায় দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সময়ে রামাল্লার পূর্বে রুম্মোন ও দেইর দিবওয়ান শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের বসতবাড়ি ও কৃষি স্থাপনায় আগুন ধরিয়ে দেয়।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের হামলা ও চলাচলে বিধিনিষেধের কারণে প্রায় ৮৮০টি ফিলিস্তিনি পরিবার অর্থাৎ ৪,৭০০-র বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি ও তার ছেলে মুজতবা খামেনি। ছবি: সংগৃহীত
খামেনি ও তার ছেলেকে হত্যার নীলনকশা ট্রাম্পের!

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে একাধিক বিকল্প রয়েছে। তেহরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত না মানে তাহলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার ছেলে মোজতবা খামেনির হত্যাপর পরিকল্পনাও রয়েছে।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এক্সিওজের বরাতে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তেহরান মার্কিন শর্ত না মানলেইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে বিবেচিত পুত্র মোজতবা খামেনি এবং শীর্ষ ধর্মীয় নেতৃত্বকে টার্গেট করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।তবে একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন এমন একটি চুক্তিতেও রাজি হতে পারে যেখানে ইরান সীমিত মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যাবে। তবে এতে শর্ত আরোপ করা হবে। যেখানে বলা হবে, পারমাণবিক বোমা তৈরির ‘কোনো সম্ভাব্য পথ’ যেন খোলা না থাকে। ট্রাম্পের বিকল্প কী? মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের আসন্ন প্রস্তাবের মানদণ্ড খুবই কঠোর হবে। কারণ তা শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের সংশয়বাদীদের নয়, মধ্যপ্রাচ্যের অংশীদারদেরও সন্তুষ্ট করতে হবে। এ মানদণ্ডে স্পষ্ট করতে হবে যে তেহরান সম্পূর্ণভাবে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ ত্যাগ করছে। এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, ইরান যদি হামলা ঠেকাতে চায়, তাহলে এমন প্রস্তাব দিতে হবে যা আমরা ফিরিয়ে দিতে পারি না। আরেক উপদেষ্টা দাবি করেন, পেন্টাগন সব ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এর একটি বিকল্পে ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, খামেনি ও তার পুত্রকে টার্গেট করার পরিকল্পনা কয়েক সপ্তাহ আগে ট্রাম্পের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছিল। সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি দ্রুত বাড়ছে। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের পর এই অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সমাবেশগুলোর একটি বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে। ইসরায়েলে সরকারও পরিস্থিতিকে অচলাবস্থার দিকে যাচ্ছে বলে মনে করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমে সপ্তাহান্তে হামলার প্রস্তুতির খবর এলেও ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। এক উপদেষ্টা বলেন, তিনি যেকোনো মুহূর্তে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ দুই দফা আলোচনা মূল ইস্যুতে অচলাবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার প্রশ্নে এখনও কোনো সমাধান আসেনি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, উভয় পক্ষ কিছু ‘নির্দেশক নীতিতে’ একমত হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব প্রস্তুত হবে। এটি তেহরানের রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়া হবে। আরাঘচি বলেন, জেনেভার আলোচনায় ওয়াশিংটন ‘শূন্য সমৃদ্ধকরণ’ দাবি করেনি এবং ইরানও সাময়িকভাবে সমৃদ্ধকরণ স্থগিতের প্রস্তাব দেয়নি। আলোচনার লক্ষ্য হলো ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সমৃদ্ধকরণসহ চিরস্থায়ীভাবে শান্তিপূর্ণ রাখা।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না ইরান : মার্কিন দূতাবাস

পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করতে পারবে না ইরান : মার্কিন দূতাবাস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি। ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিধাবিভক্ত ট্রাম্পের উপদেষ্টারা

ছবি : সংগৃহীত

গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর তাণ্ডব বাড়ছে

শুল্ক তালিকা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
ট্রাম্পের শুল্ক ক্ষমতায় লাগাম, শক্তিধর ৫ দেশের প্রতিক্রিয়া

মার্কিন সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের আগের বাণিজ্য পদক্ষেপ বাতিল করার পরপরই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। এ সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে বলে তিনি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে জানান। তার এ সিদ্ধান্তে বিভিন্ন দেশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।   শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ট্রাম্প জরুরি বাণিজ্য ক্ষমতা ব্যবহার করে যে শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা সাংবিধানিক সীমা অতিক্রম করেছে। এরপরই ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশে ১০ শতাংশ বিশ্বব্যাপী শুল্ক আরোপ করেন। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশ আইনি ও অর্থনৈতিক প্রভাব মূল্যায়ন শুরু করেছে। চলমান চুক্তি, শুল্ক হ্রাস এবং পূর্বের শুল্কের বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র দক্ষিণ কোরিয়া জানিয়েছে, তারা বাণিজ্য চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন করবে এবং জাতীয় স্বার্থ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে। গত নভেম্বরে দুই দেশের মধ্যে হওয়া এক চুক্তিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছিল। এর বিনিময়ে দক্ষিণ কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ ও নগদ সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল দেশটি। সিউলে আল জাজিরার প্রতিবেদক জানান, রাসায়নিক, ওষুধ ও সেমিকন্ডাক্টর খাতের বড় কোম্পানিগুলোর জন্য আদালতের রায় ইতিবাচক হতে পারে। তবে গাড়ি রপ্তানি এখনও ২৫ শতাংশ এবং ইস্পাত রপ্তানি ৫০ শতাংশ শুল্কের আওতায় রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতিতে রপ্তানির অবদান প্রায় ৮৫ শতাংশ। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার। ফলে সরকার সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। ভারত ভারত ট্রাম্পের আগের সিদ্ধান্তে উচ্চ শুল্কের মুখে পড়ে। প্রথমে ২৫ শতাংশ, পরে রুশ তেল আমদানির কারণে আরও ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। এর ফলে দুই ধাপে দেশটিতে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়। সম্প্রতি দুই দেশ একটি কাঠামোগত বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। ট্রাম্প দাবি করেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রুশ তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছেন এবং ভারতের প্রধান রপ্তানি পণ্যে শুল্ক ১৮ শতাংশে নামানো হবে। ভারতের বিশ্লেষকদের একাংশ বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আগে অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করা তড়িঘড়ি হয়েছে। কারণ আদালতের সিদ্ধান্ত পূর্ববর্তী শুল্কের আইনি ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ফলে নয়াদিল্লি পরবর্তী আলোচনায় সতর্ক কৌশল নিতে পারে। চীন চীন আদালতের রায়ে তুলনামূলক সংযত প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলেছে, বাণিজ্য যুদ্ধ কারও উপকারে আসে না। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের বহুমাত্রিক শুল্কের ফলে চীনের ওপর গড় কার্যকর শুল্ক প্রায় ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছিল। তবে আদালতের রায়ের ফলে তা এখন কমে প্রায় ২১ শতাংশে নামতে পারে। এতে কোভিড-পরবর্তী ধাক্কা, সম্পত্তি খাতের সংকট ও রপ্তানি হ্রাসে চাপে থাকা অর্থনীতিতে কিছুটা স্বস্তি মিলতে পারে। এপ্রিলের শুরুতে ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে এ রায় সম্পর্ক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। কানাডা কানাডা সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানালেও সতর্কতা অবলম্বন করছে। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক লেব্লাংক বলেন, এখনও অনেক কাজ বাকি রয়েছে। কারণ ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির ওপর ধারা ২৩২ অনুযায়ী শুল্ক বহাল রয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডুয়োগ ফোর্ড বলেন, ইতিবাচক বার্তা মিললেও ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। মেক্সিকো মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউডিয়া শেনবাউম জানিয়েছেন, আদালতের রায়ের পরিধি ও প্রভাব তারা সতর্কভাবে পর্যালোচনা করবে। মেক্সিকো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। কানাডা ও মেক্সিকোর সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির আওতায় অধিকাংশ পণ্য পারস্পরিক শুল্ক থেকে সুরক্ষিত। তবে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও গাড়ির যন্ত্রাংশে শুল্ক এখনও বহাল রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
মার্কিন সেনা ও তাদের বহনকারী বিমান। ছবি: সংগৃহীত

দুই দেশ থেকে শত শত সেনা সরিয়ে নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইরানের একটি এলাকা। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের পাল্টা প্রস্তাব প্রস্তুতি, সামরিক হামলা বিবেচনায় ট্রাম্প

অস্ট্রিয়ায় তুষারঝড়ে ৫ জনের মৃত্যু, সড়ক ও বিদ্যুৎ বিপর্যস্ত

ছবি : সংগৃহীত
ব্রাজিল-ভারত বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ চুক্তির সম্ভাবনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট  লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা আজ শনিবার নয়াদিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল খনিজ উপাদানে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র। ব্রাজিলে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই উপাদানের মজুদ রয়েছে, যা বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌর প্যানেল এবং স্মার্টফোন থেকে শুরু করে জেট ইঞ্জিন এবং গাইডেড মিসাইল পর্যন্ত সবকিছুতে ব্যবহৃত হয়। শীর্ষ রপ্তানিকারক চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে ভারত, নতুন সরবরাহকারীদের সন্ধানের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং পুনর্ব্যবহার সম্প্রসারণ করছে। এক ডজনেরও বেশি মন্ত্রী এবং ব্যবসায়ী নেতাদের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন লুলা।  তিনি গত বুধবার একটি বৈশ্বিক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজ শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনায় দুই নেতা গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পর্কিত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করবেন।  এছাড়া, উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য সংযোগ বৃদ্ধি ও সহযোগিতা জোরদার করার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটি ইতোমধ্যেই ব্রাজিলের রপ্তানির জন্য দশম বৃহত্তম বাজার, যেখানে ২০২৫ সালে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। দুই দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বিরল মৃত্তিকা বা খনিজ উৎপাদনে চীনের প্রায় একচেটিয়া অধিকার থাকায়, কিছু দেশ বিকল্প উৎস খুঁজছে। নয়াদিল্লিতে অবস্থিত কাউন্সিল অন এনার্জি, এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড ওয়াটার থিঙ্ক ট্যাঙ্কের বিশেষজ্ঞ ঋষভ জৈন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের ক্ষেত্রে ব্রাজিলের সঙ্গে ভারতের এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাম্প্রতিক সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্যোগগুলোর সঙ্গে পুরোপুরি পরিপূরক। জৈন এএফপিকে বলেন, ‘এই অংশীদারিত্বগুলো ভারতকে উন্নত প্রযুক্তি, অর্থায়ন ও উচ্চমানের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা প্রদান করে, তবুও বৈচিত্র্যময়, স্থল সম্পদের ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য এবং বিশ্ব বাণিজ্যের উদীয়মান নিয়ম গঠনের জন্য বৈশ্বিক দক্ষিণ জোটগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে রমজানে স্কুল খোলা কতদিন?

ছবি : সংগৃহীত

থাইল্যান্ডের সাফারি পার্কে ভাইরাসে ৭২ বাঘের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

আরবে গড় তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বাড়তে পারে

0 Comments