জাতীয়

বিলুপ্তির ঝুঁকিতে গাইবান্ধার ওঁরাও, সাঁওতাল, পাহানদের ভাষা

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬

চর্চা ও সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে সমতলের আদিবাসীদের মাতৃভাষা। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় নিজস্ব বর্ণমালার বই না থাকায় অনেকেই তাদের মাতৃভাষার চর্চা থেকে সরে যাচ্ছেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিশুরা লেখাপড়া করছে বাংলা ভাষায়। কারণ, তাদের ভাষায় নেই কোনো বই। এমনকি কেউ কেউ জানেন না তাদের আদি ভাষাও। বাংলা এবং ইংরেজির আধিপত্যের মধ্যে এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাতৃভাষা সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া না হলে অনেক ভাষা বিলুপ্ত হবে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের ওঁরাও, সাঁওতাল, মশুহর, পাহান, মাহালি, ঋষিসহ বেশ কয়েকটি নৃ-গোষ্ঠীর ৫ হাজারেরও বেশি মানুষের বসবাস। তবে দিন দিন চর্চার অভাবে হারিয়ে যেতে বসেছে তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি। বর্তমানে মুখে মুখে টিকে আছে ওঁরাও, সাঁওতাল, মশুহর, পাহান, মাহালি, ঋষিসহ ৬টি সম্প্রদায়ের ভাষা। অধিকাংশ সম্প্রদায়ের ভাষার নেই কোনো বই, নেই নিজস্ব ভাষার বর্ণমালাও। তাই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর এসব ভাষা আজ বিলীনের পথে। এই সম্প্রদায়ের মানুষজন চান তাদের মাতৃভাষা টিকিয়ে রাখতে। 

তবে ভাষা ও সংস্কৃতিচর্চায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না থাকলেও স্থানীয়ভাবে কেউ কেউ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। যেমন, ওঁরাও সম্প্রদায়ের ভাষা শেখাচ্ছেন কয়েকজন তরুণী। অবশ্য তাদের কাছেও নেই তাদের নিজস্ব ভাষার বর্ণমালা ও বই। ইংরেজিতে রূপান্তর করা বই থেকে শিশুদের চর্চা করাচ্ছেন তাদের নিজস্ব ভাষা।

সুচিত্রা মুরমু নামে এক তরুণীর ভাষ্য, আদিবাসীদের নিজস্ব ভাষা আজ বিপন্নের পথে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এগুলো টিকে থাকবে না। 

তিনি বলেন, আমি নিজ উদ্যোগে স্থানীয় আদিবাসী শিশুদের মাতৃভাষা শেখাচ্ছি। আমি চাই, তারা নিজের মায়ের ভাষার চর্চা করুক।

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বার্নাবাস টুডু বলেন, আদিবাসীদের ভাষাগুলো আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। আমরা বিভিন্নভাবে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি। কিন্তু আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি। 

সুফল হেমব্রম বলেন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ভাষা সংরক্ষণে সমতল আদিবাসীদের জন্য পৃথক কমিশন গঠন করতে হবে। তা না হলে অচিরেই এই ভাষাগুলো আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দা ইয়াসমিন সুলতানা বলেন, আমরা চেষ্টা করছি, এই অঞ্চলে আদিবাসী মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট বা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র স্থাপন করার। এটি হলে তাদের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সংগৃহীত ছবি
সাংবাদিকদের মারধরের ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের দুঃখ প্রকাশ

ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনার পর রাতেই এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আদ-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই দুঃখপ্রকাশ করে।   বিজ্ঞপ্তিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ হাসপাতাল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় সরকার একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের অব্যাহত পরিদর্শন এবং বিপুলসংখ্যক সাংবাদিকের উপস্থিতির কারণে হাসপাতালের সেবাদানকারী কর্মীরা কয়েকদিন ধরে মানসিক চাপের মধ্যে দায়িত্ব পালন করছেন। এতে হাসপাতালে ভর্তি রোগী ও বিভিন্ন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিদেরও অসুবিধার মুখে পড়তে হচ্ছে। শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। মন্ত্রীর হাসপাতাল ত্যাগের পর বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করলে চিকিৎসাধীন রোগীদের স্বার্থে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের প্রবেশ থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে।   আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথনের একপর্যায়ে একজন সাংবাদিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ‘ঝাড়ুদার’ বলে সম্বোধন করেন। এতে কর্মীরা অপমানিত বোধ করেন এবং উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের হাসপাতাল ত্যাগের অনুরোধ জানান। সে সময় উপস্থিত হাসপাতালের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং কর্মীদের নিবৃত্ত করতে উদ্যোগও নেন বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। আদ্-দ্বীন হাসপাতাল জানায়, তারা সব সময় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে কাজ করে আসছে। তারপরও ৩০ মে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, হাসপাতাল কর্মীদের অনিচ্ছাকৃত আচরণে গণমাধ্যমকর্মীদের মনে কোনো কষ্টের সৃষ্টি হয়ে থাকলে তারা বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।   উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে হাসপাতালের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে থাকা ছয় নবজাতক মারা যায়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শনিবার হাসপাতাল পরিদর্শনে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। পরিদর্শনে শেষে হাসপাতালের কলেজ ভবনের আটতলায় একটি বেকারি কারখানা পাওয়ার কথা জানান তিনি। বেকারি কারখানা থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে নবজাতকদের ক্ষতি করছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান মন্ত্রী। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর হাসপাতাল পরিদর্শন ও বেকারির সন্ধান পাওয়ার খবর পেয়ে সন্ধ্যার দিকে হাসপাতালটিতে যান সংবাদকর্মীরা। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিদর্শন শেষে চলে যাওয়ার পরপরই হাসপাতালটির সবগুলো প্রবেশপথ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। গণমাধ্যমকর্মীরা ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে হাসপাতালটির নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন। একপর্যায়ে দুইপক্ষ বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লে পুলিশ ও র‍্যাব সদস্যরা পরিস্থিতি সামাল দিতে যান। তাদের উপস্থিতিতেই গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চড়াও হন হাসপাতালটির নিরাপত্তা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। সাংবাদিকদের ধাওয়া দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের করে দেওয়া ও কয়েকজনকে মারধর করা হয়।

মারিয়া রহমান মে ৩১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ‘দাগ হ্যামারশোল্ড মেডেল’ পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশী বীর

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম)

ইসি’র গলার কাঁটা এখন ইভিএম

সংগৃহীত ছবি

জঙ্গল সলিমপুরে উচ্ছেদ নয়, হবে নতুন কারাগার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তামাকমুক্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

তামাক ও নিকোটিনের মরণঘাতী প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ দেশের আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রবিবার (৩১ মে) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এবারের দিবসের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন, তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোরসহ ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় বাংলাদেশ ২০০৩ সালে এফসিটিসিতে স্বাক্ষর, ২০০৪ সালে অনুসমর্থন এবং ২০০৫ সালে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন প্রণয়ন করে। পরবর্তীতে এই আইনকে আরো শক্তিশালী করতে প্রয়োজনীয় সংশোধনও আনা হয়েছে। তিনি বলেন, তামাকে বিদ্যমান নিকোটিন মারাত্মক আসক্তি সৃষ্টি করে। বিড়ি, সিগারেট, ই-সিগারেট, জর্দা, গুলসহ যে কোনো তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের ব্যবহার হৃদরোগ, স্ট্রোক, বিভিন্ন ধরনের ক্যান্সার এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি রোগসহ অসংক্রামক রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি আরো বলেন, তামাকের প্রলোভন থেকে শিশু-কিশোরদের সুরক্ষার লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের সকল প্রকার বিজ্ঞাপন, প্রচারণা ও প্রমোশন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অ্যাপস, ওটিটি প্ল্যাটর্ফম, নাটক-সিনেমাসহ সব মাধ্যমেই তামাকের প্রচারণা নিষিদ্ধ। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আড়ালে তামাক কম্পানির প্রচার-প্রচারণাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে তামাক ও নিকোটিন পণ্য বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপান এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আইনের বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে শাস্তি ও জরিমানার পরিমাণও বৃদ্ধি করা হয়েছে। তারেক রহমান বলেন, নতুন বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তামাকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবি। জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ ও সরকারের সমন্বিত উদ্যোগে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যর বরাত দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশ অসংক্রামক রোগে ঘটে, যার একটি প্রধান ঝুঁকির কারণ তামাক ও নিকোটিনের ব্যবহার। টোব্যাকো এটলাস ২০২৫ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৯৯ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণার বরাত দিয়ে তিনি বলেন, তামাক ব্যবহারের ফলে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ দেশের অর্থনীতিতে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৭ হাজার কোটি টাকারও বেশি।

মারিয়া রহমান মে ৩১, ২০২৬
ফাইল ফটো

সব গ্রেডে ৫০% বৃদ্ধি নাকি ১১ গ্রেড থেকে দ্বিগুণ? যা থাকছে নবম পে-স্কেলে

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে সোমবার খুলছে অফিস-আদালত

ছবি : সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফিরছে নগরবাসী

ছবি : সংগৃহীত
ঢাকা সিটির আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির দায়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের দুই কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের চাকরি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি আরও ছয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনে বের হয়ে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সার্বিক চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন। এ সময় বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য অপসারণের অবস্থা সন্তোষজনক না হওয়ায় তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।   এ সময় তিনি বর্জ্য অপসারণের চিত্র সন্তোষজনক মনে না হওয়ায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।   প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান, রাজধানীর উন্নয়ন প্রকল্প ও কোরবানির পশুর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনের সময় হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, ফার্মগেট ও কারওয়ান বাজার এলাকায় সড়কে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকতে দেখা যায়। এর প্রেক্ষিতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।   তিনি জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   জানা যায়, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য অপসারণের চিত্র ঘুরে দেখার সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আবদুস সালাম, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বিশেষ সম্পাদক মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন ও প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ অ্যাডভোকেট মেহেদুল ইসলাম গাড়িতে ছিলেন।   মীর শাহে আলম জানান, প্রধানমন্ত্রী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে বলেছেন। ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের স্থান পরিষ্কার ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থতার কারণে এ কর্মকর্তাদের প্রত্যাহার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।   বর্তমানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদে আছেন মোহাম্মদ মামুনুল হাসান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী; ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার ও প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমান।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ৩১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বমঞ্চে প্রশংসায় ভাসছেন প্রধানমন্ত্রী

শহর পরিচ্ছন্ন রাখা সবার দায়িত্ব, বললেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

আমরা একটা রাজনৈতিক সামাজিক সম্প্রীতির পরিবেশ চাই - প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

0 Comments