যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী ও ধনকুবের জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যু নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। এপস্টেইন নথিপত্রে দেখা গেছে যে মৃত্যুর এক দিন আগেই তার মৃত্যুসংক্রান্ত বিবৃতির খসড়া তৈরি করা হয়েছিল।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌনকাজে নারী পাচারের দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী জেফরি এপস্টেইনকে কারাকক্ষে মৃত অবস্থায় পাওয়ার এক দিন আগেই ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট তার মৃত্যুসংক্রান্ত একটি বিবৃতির তারিখ দেওয়া ছিল।
মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিপত্র অনুযায়ী, মার্কিন অ্যাটর্নির বিবৃতিটি জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর এক দিন আগেই ২০১৯ সালের ৯ আগস্ট খসড়া করা হয়েছিল। মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত এপস্টেইনসংক্রান্ত নথির নতুন একটি সেটে সেই খসড়াটি পাওয়া গেছে।
প্রকাশিত নথিপত্রগুলোর মধ্যে অন্তত ২৩টি নথি সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউইয়র্ক-এর মার্কিন অ্যাটর্নি কার্যালয়ের বিবৃতি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর একটি সংস্করণে ৯ আগস্ট, ২০১৯ তারিখ দেওয়া রয়েছে। অথচ পরের দিন ১০ আগস্ট সকালে ম্যানহাটানের মেট্রোপলিটন কারেকশনাল সেন্টারের কক্ষে এপস্টেইনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
ম্যানহাটানের তৎকালীন মার্কিন অ্যাটর্নি জিওফ্রে এস বারম্যানের নামে বিবৃতির খসড়া করা হয়েছিল। এর শিরোনাম ছিল, বিবাদী জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুতে ম্যানহাটানের মার্কিন অ্যাটর্নির বিবৃতি।
বিবৃতিতে বারম্যান বলেন, ম্যানহাটান কারেকশনাল সেন্টার নিশ্চিত করেছে, এপস্টেইনকে তার কারাকক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং পরে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে লেখা ছিল, আজ সকালে ম্যানহাটান কারেকশনাল সেন্টার নিশ্চিত করেছে, অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরীদের যৌন পাচারের অভিযোগে বিচার চলা আসামি এপস্টেইন কে তার কারাকক্ষে অচেতন অবস্থায় পাওয়া গেছে। কিছুক্ষণ পরেই তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ঘটনাটি উদ্বেগজনক। এটি ভুক্তভোগীদের আদালতে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। তবে এতে ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগের তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
এসব ফাইলে একই ধরনের খসড়া বিবৃতির একাধিক সংস্করণ রয়েছে, যেগুলোর তথ্য গোপন করার প্রক্রিয়ায় অমিল পাওয়া গেছে। কিছু কপিতে নাম বা ফোন নম্বর দৃশ্যমান থাকলেও অন্যগুলোতে পরিচয় শনাক্তকারী তথ্যগুলো ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
খবরে বলা হয়, জেফরি এপস্টেইনকে তার কারাকক্ষে কমলা রঙের কিছু একটা দিয়ে ফাঁস দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। কর্তৃপক্ষের মতে, কমলা রঙের চাদর বা শার্ট দিয়ে তিনি ওই ফাঁস তৈরি করেছিলেন।
এপস্টেইনের মৃত্যুকে আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মহত্যা হিসেবে ঘোষণা করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে এ নিয়ে বিতর্ক ও চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। নতুন প্রকাশিত নথি নিয়ে সিবিএস নিউজের এক পর্যালোচনায় এপস্টেইনের মৃত্যুর আগের রাতে কারাগারের নজরদারি ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা ৯ আগস্ট রাত ১০টা ৩৯ মিনিটের দিকে এপস্টেইনের কারাকক্ষের দিকে একটি কমলা রঙের অবয়বকে নড়াচড়া করতে দেখেন।
প্রকাশিত একটি নথিতে সেই অবয়বটিকে সম্ভবত একজন কয়েদি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে বিচার বিভাগের এক পর্যালোচনায় তাকে কমলা রঙের লিনেন বহনকারী সংশোধনাগারের একজন কর্মকর্তা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
তবে নিরপেক্ষ বিশ্লেষকেরা সিবিএসকে বলেছেন, নড়াচড়াটি একজন কয়েদির মতোই ছিল। কারাগারের কর্মীরা জানিয়েছেন, ওই সময়ে কোনো কয়েদিকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক ঘটনা।
প্রকাশিত নথিতে এপস্টেইনকে অচেতন অবস্থায় পাওয়ার পরের কিছু অপ্রকাশিত ছবিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা এফবিআইয়ের একটি অবমুক্ত প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। কিছু ছবিতে দেখা যায়, এপস্টেইনকে উদ্ধারের পর ১০ আগস্ট ভোর ৬টা ৪৯ মিনিটের চিকিৎসাকর্মীরা একটি স্ট্রেচারে তাকে বাঁচিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন। অন্য ছবিগুলো হাসপাতালে তোলা হয়েছে, যেখানে এপস্টেইনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বেশ কিছু ছবিতে তার নামের ভুল বানান জেফারি লেখা হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম শনিবার (১১ জুলাই) মারা গেছেন বলে জানিয়েছে তার পরিবার। গ্রাহামের ভেরিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে পরিবার জানায়, এই অত্যন্ত কঠিন সময়ে সিনেটর গ্রাহামের পরিবারের জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করছি এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার অনুরোধ জানাচ্ছি। একই বিবৃতিতে বলা হয়, ‘স্বল্প সময়ের একটি আকস্মিক অসুস্থতার’ কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। একই বার্তা তার ফেসবুক প্রোফাইলেও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র সরকার বা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য আসেনি। এদিকে, জেরুজালেম পোস্টের এক প্রতিবেদনে এনবিসি নিউজের বরাতে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে গ্রাহামের বাসভবনে ‘কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট’-এর ঘটনায় জরুরি সেবা কর্মীরা সাড়া দেন। কে ছিলেন লিন্ডসে গ্রাহাম ১৯৫৫ সালে দক্ষিণ ক্যারোলাইনার সেন্ট্রালে জন্মগ্রহণ করেন লিন্ডসে গ্রাহাম। তিনি ছিলেন পরিবারের প্রথম সদস্য, যিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর রিজার্ভে যোগ দেন এবং ইরাক ও আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৫ সালের জুনে ৩৩ বছরের সামরিক জীবনের অবসান ঘটিয়ে কর্নেল পদমর্যাদায় অবসর নেন। ২০০২ সালে তিনি প্রথম যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হন। এরপর ২০০৮, ২০১৪ ও ২০২০ সালেও পুনর্নির্বাচিত হন। সিনেটে যাওয়ার আগে ১৯৯৪ সালে দক্ষিণ ক্যারোলাইনা থেকে প্রথম রিপাবলিকান হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে তিনি রিপাবলিকান দলের প্রেসিডেন্ট প্রার্থিতার জন্যও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সে সময় তিনি ট্রাম্পের কড়া সমালোচক ছিলেন। তবে ২০১৭ সালে একসঙ্গে গলফ খেলার পর দুজনের সম্পর্কের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। পরে ওয়াশিংটনে ট্রাম্পের অন্যতম ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মিত্রে পরিণত হন গ্রাহাম। টেলিভিশনে নিয়মিত ট্রাম্পের পক্ষে অবস্থান নেন এবং সিনেটে প্রশাসনের রক্ষণশীল বিচারপতি মনোনয়ন এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে ইরান ইস্যুতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থান বজায় রাখেন। এছাড়া, রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের তেল কেনার বিরুদ্ধে আইনগত উদ্যোগের অন্যতম প্রধান সমর্থক ছিলেন গ্রাহাম। ডেমোক্র্যাট সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথালের সঙ্গে তিনি স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট-এর সহ-উদ্যোক্তা ছিলেন। এ সময় তিনি ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত দ্বিতীয় দফার শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছিলেন। পাশাপাশি রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা অব্যাহত রাখলে অংশীদার দেশগুলোর অর্থনীতি ‘ধ্বংস করে দেওয়া হবে’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তার উত্তরসূরি ও বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি বলেন, প্রতিশোধ ইরানি জাতির দাবি এবং তা অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে। প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, তার ‘নিষ্পাপ রক্ত’ এবং সাম্প্রতিক দুই যুদ্ধে নিহত সব ব্যক্তির মৃত্যুর জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি করা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অভিযুক্তদের পরিচয় ইরানের কাছে রয়েছে এবং তারা শাস্তি এড়াতে পারবে না। তাদের উদ্দেশে কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তাও দেন মোজতবা খামেনি। তিনি আরও বলেন, এই প্রতিশোধ কোনো ব্যক্তি বা সরকারি কর্মকর্তার জীবনের ওপর নির্ভরশীল নয়। তার ভাষায়, আমরা থাকি বা না থাকি, এই প্রতিজ্ঞা খুব শিগগিরই পূরণ করা হবে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান যদি তাকে হত্যা করে বা হত্যার চেষ্টা চালায়, তবে দেশটিকে কঠোর সামরিক জবাবের মুখে পড়তে হবে। এর আগে ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ট্রাম্প প্রশাসনকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ইরানের কথিত হত্যাচক্রান্ত নিয়ে সতর্ক করেছিল। তবে মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের নতুন কোনো সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে উপস্থিত হননি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তার বাবা, মা ও স্ত্রী নিহত হন এবং তিনিও আহত হন। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে থেকে লিখিত বিবৃতির মাধ্যমে সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। সূত্র: ফার্স নিউজ
ইরানের সাথে পারমাণবিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে বলে মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন। তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানে পৌঁছানো হয়তো আর সম্ভব নয়—এমনটিই ধারণা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের (ডব্লিউএসজে) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ক্রমাগত অন্তর্বর্তী সামুদ্রিক চুক্তি লঙ্ঘন করে চলেছে। তাদের এই ব্যর্থতার কারণে একটি বৃহত্তর চুক্তি সম্পাদনের আর কোনো আশা দেখছে না যুক্তরাষ্ট্র। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, ‘আমি জানি না আমাদের মধ্যে কোনো চুক্তি হতে যাচ্ছে কি-না।’ কর্মকর্তারা আরো সতর্ক করে দিয়েছেন, একটি পারমাণবিক চুক্তি হতে হলে ইরানকে অবশ্যই মাটির নিচে থাকা তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। ইরান যদি তা করতে ব্যর্থ হয়, তবে কোনো চুক্তি হবে না। এর পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরানের সেই পারমাণবিক উপকরণের পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করার জন্য ওয়াশিংটনের কাছে কম খরচের সামরিক বিকল্পও প্রস্তুত রয়েছে।