ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহাযজ্ঞ শুরু হতে যাচ্ছে আগামী ১১ জুন। এবারই প্রথমবারের মতো ৪৮টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ, যা টুর্নামেন্টটিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরে পরিণত করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা যৌথভাবে আয়োজন করছে এই বিশ্বকাপ, যা চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত।
নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী ১২টি গ্রুপে বিভক্ত থাকবে ৪৮টি দল। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুই দল এবং সেরা আটটি তৃতীয় স্থান অধিকারী দল নকআউট পর্বে জায়গা করে নেবে। ফলে মোট ম্যাচের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০৪টিতে।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ১১ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে। উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক মেক্সিকোর প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা। আর ১৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল।
এবারের বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তিন দেশের ১৬টি শহরে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ১১টি, মেক্সিকোতে ৩টি এবং কানাডায় ২টি শহরে ম্যাচ আয়োজন করা হবে। প্রথমবারের মতো তিনটি দেশ যৌথভাবে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করছে।
শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বর্তমান ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, শক্তিশালী ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। এছাড়া নরওয়ে, জাপান, মরক্কো ও কলম্বিয়ার মতো দলগুলোও চমক দেখাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপে চারটি দেশের অভিষেক ঘটছে। ক্যারিবীয় দ্বীপদেশ কুরাসাও, আফ্রিকার কেপ ভার্দে এবং এশিয়ার উজবেকিস্তান ও জর্ডান প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলবে।
রেকর্ডসংখ্যক দল, নতুন ফরম্যাট, তিন দেশের আয়োজন এবং বিশ্ব ফুটবলের সেরা তারকাদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ইতোমধ্যেই তুঙ্গে পৌঁছেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
প্রায় পাঁচ বছর আগে পাকিস্তান তাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সবচেয়ে বড় জয় পেয়েছিল। ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়েছিল তারা গ্রুপের ম্যাচে। তারপর! পাকিস্তানের অধঃপতনের শুরু। সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফের বিশ্বাস, দলের বর্তমান সমস্যার অন্যতম কারণ সেই ঐতিহাসিক জয়। ইউসুফের ব্যাখ্যা, ওই জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবতে শুরু করেছিল তারা বড় কিছু অর্জন করে ফেলেছে এবং নেতৃত্বের লড়াই ড্রেসিংরুমের মধ্যে সমস্যা তৈরি করেছিল। বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ান কোনো উইকেট না হারিয়ে ১৫২ রানের জুটি গড়ে দলকে জেতান। সেই জয়ই আসলে পাকিস্তানের জন্য সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে মনে করেন ইউসুফ। সামা টিভি-কে সাবেক পাকিস্তানি ব্যাটার বলেন, ‘২০২১ সালে ভারতের বিপক্ষে আমাদের জেতা সেই ম্যাচ অনেক ক্ষতি করেছে আমাদের। কারণ ওই জয়ের পর খেলোয়াড়রা ভাবছিল তারা বড় কিছু অর্জন করেছে। তারা বুঝতে পারেনি, পরবর্তীতে তাদের কী করতে হতো?’ তিনি বলে গেলেন, ‘যখন আপনি ভালো পারফরম্যান্স করছেন, তখন আপনার বিনয়ী থাকা উচিত। যদি আপনি উদ্ধত আচরণ করেন এবং অসম্মানজন হতে থাকেন, তাহলে সমস্যা আসবেই। পাকিস্তান ক্রিকেটেও সমস্যাগুলো এসেছে।’ অধিনায়কত্বও সমস্যা তৈরি করছে মনে করেন ইউসুফ, ‘দলে থাকা সবাই পাকিস্তান দলে অধিনায়ক হওয়ার চেষ্টা করছে। এর পরিণতি এখনও পাকিস্তান ক্রিকেটকে ভোগাচ্ছে। ক্রিকেটে বিপর্যয় চলছে। পিসিবি পাশে দাঁড়াচ্ছে। অনেক কোচ আসছে, যাচ্ছে। পাকিস্তান দলকে সাহায্যের জন্য অনেক কিছু পাল্টে যাচ্ছে। কিন্তু কোনো খেলোয়াড় দাঁড়াচ্ছেন না এবং দায়িত্ব নিচ্ছে না।’
৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচে তখন চালকের আসনে বাংলাদেশ। জয়ের জন্য শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল আরো ৭১ রান, হাতে ছিল মাত্র ৫ উইকেট। মারুফা আক্তার ও সুলতানা খাতুনের দুর্দান্ত বোলিংয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ছিল বাংলাদেশের হাতে। কিন্তু এরপরই বদলে যায় দৃশ্যপট। হাশিতা সামারাবিক্রমার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে এশিয়া কাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। এখন বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ পরিষ্কার। শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে হারাতেই হবে, সেটা করলেও শেষ চারে খেলতে হবে ভারতের বিপক্ষে। দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কাকে ১১৫ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল বাংলাদেশ। রান তাড়ায় শুরুটা ছিল দারুণ। ইনিংসের প্রথম ওভারেই মারুফার আঘাত। ফুলার লেংথ বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে স্লিপে ফাহিমা খাতুনকে ক্যাচ দেন চামারি আতাপাত্তু। নিজের দ্বিতীয় ওভারে ইমিশা দুলানিকেও ফেরান মারুফা। স্লোয়ার ডেলিভারিতে বোল্ড হন এই ওপেনার, ১৬ বলে করেন ১২ রান। পাওয়ার প্লের ভেতরেই তৃতীয় আঘাত সুলতানা খাতুনের। সুইপ করতে গিয়ে বলের লাইন মিস করে বোল্ড হন সানজানা কাভিন্দি। এরপর রিতু মনির বলে ভিশমী গুনারত্নে ক্যাচ দিলে শ্রীলঙ্কার অবস্থা আরও নাজুক। ফাহিমার সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন কাভিশা দিলহারি। স্কোর তখন ৪৪ রানে ৫ উইকেট। ম্যাচ তখন বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু সেখান থেকেই গল্পটা বদলে যায়। নিলাকশি ডি সিলভা ও হাশিতা সামারাবিক্রমা মিলে প্রতিরোধ গড়েন। তাদের ৩৮ রানের জুটি ভাঙেন মারুফা, ১৮ রান করা নিলাকশিকে বোল্ড করে। তবু থামেননি হাশিতা। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৪৮ রানে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। শ্রীলঙ্কা জেতে ৪ উইকেটে। মারুফা ৩ উইকেট নিয়েও জেতাতে পারেননি দলকে। এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশ করে ৮ উইকেটে ১১৪ রান। ৪.৫ ওভারে ৩১ রানের জুটিতে শুরুটা খারাপ করেননি বাংলাদেশের দুই ওপেনার দিলারা আক্তার (২৬) ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস (১৪)। কিন্তু সেখান থেকে ৯.৫ ওভারে ৫২ রান পর্যন্ত যেতেই দুই ওপেনারের পথ ধরে ড্রেসিংরুমে ফিরে যান অধিনায়ক নিগারও (৪)। চতুর্থ উইকেটে স্বর্ণা আক্তারকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর কাজটা মূলত করেছেন তিনে নামা সোবহানা মুস্তারী (৩৪)। ১৭তম ওভারে এক রানের ব্যবধানে দুজনই আউট হয়ে গেলে কিছুটা থমকে যায় বাংলাদেশের ইনিংস। ১৯তম ওভার পর্যন্ত যোগ হয় আর মাত্র ৯ রান, যার মধ্যে নো বল থেকেই আসে ৩। তবে সুগান্দিকা কুমারির করা শেষ ওভারে ফাহিমা খাতুনের পরপর দুই বাউন্ডারিতে রান কিছুটা বাড়িয়ে নেয় বাংলাদেশ। ইনিংসের শেষ দুই বলে অবশ্য আউট হয়ে যান ফাহিমা ও মারুফা আক্তার।
রাজনৈতিক বৈরিতায় ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এখন হয় কালেভদ্রে। একটা সময় যে ম্যাচ নিয়ে দেখা যেত টানটান উত্তেজনা, ভক্ত-সমর্থকদের উৎসাহ-উদ্দীপনা, সেখানে পড়েছে রাজনীতির কালো থাবা। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা (আইসিসি) এখন এশিয়ার এই দুই দলকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা করছে বলে ভারত-পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সেখানে থাকতে পারে বাংলাদেশও। ২০১৩ সালের পর ভারত-পাকিস্তান কখনোই দ্বিপক্ষীয় সিরিজে মুখোমুখি হয়নি। দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এরপর মুখোমুখি হয়েছে হয় এশিয়া কাপে অথবা আইসিসির ইভেন্ট যেমন ওয়ানডে বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে। এবার জানা গেল দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে আইসিসি আরও বেশি বেশি ম্যাচ আয়োজন করতে চাচ্ছে। পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, ভবিষ্যতে ভারত-পাকিস্তানের জন্য বেশি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে আইসিসির। কারণ, দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর ম্যাচ নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ বেশি থাকে। ভারতের সংবাদমাধ্যম ‘সংবাদ প্রতিদিন’ আজ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, দুই দেশ (ভারত-পাকিস্তান) এখন দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলছে না। কোনো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তিন বা চার দেশের সিরিজ আয়োজন করা যেতে পারে। সেই সিরিজে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কাকেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। ভারত-পাকিস্তানকে নিয়ে প্রস্তাবিত বহুজাতিক টুর্নামেন্ট আলোর মুখ দেখবে কি না, সেজন্য সেপ্টেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহ গুরুত্বপূর্ণ। ২২ ও ২৩ সেপ্টেম্বর দুবাইয়ে আইসিসির সদস্য দেশগুলোর বৈঠক হতে যাচ্ছে। সেই বৈঠকে ১২ পূর্ণ সদস্যের দেশ এবং ৮ সহযোগী সদস্য দেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সেখানেই বহুদেশীয় টুর্নামেন্ট, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা করা হতে পারে সংবাদ প্রতিদিনের এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে। ভারত-পাকিস্তানের জন্য নিরপেক্ষ ভেন্যু হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের কথাও ভাবা হয়েছে। পাকিস্তান এ ধরনের সিরিজ খেলতে বেশ আগ্রহী। তবে ভারতের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়। এ ছাড়া এই সেপ্টেম্বরেই বাংলাদেশ সফরে ভারতের তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ছিল। কিন্তু সেটা হচ্ছে না। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) এক সূত্রের বরাতে এএনআই জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শুরুতে হতে পারে বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিসিসিআই-পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে। ২০২৪-২০২৭ চক্রে এই দুই দেশ যেসব টুর্নামেন্টের আয়োজক, সেগুলো হতে হবে হাইব্রিড মডেলে। অর্থাৎ, এক দল অপর দেশে খেলতে যাবে না। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৫ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি, ২০২৫ নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ হয়েছে হাইব্রিড মডেলে। যেখানে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আয়োজক ছিল পাকিস্তান এবং নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল ভারত। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূল আয়োজক ভারত হলেও ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হয়েছিল যৌথ আয়োজক শ্রীলঙ্কার শহর কলম্বোতে।