রাত পোহালেই শুরু হবে বহুল আলোচিত ও প্রত্যাশিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। তপশিল অনুযায়ী, এরই মধ্যে ধাপে ধাপে সম্পন্ন হয়েছে ভোটের মাঠের প্রচার ও প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতির কাজ। এবারের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দুইশর বেশি আসনে জয়ের প্রত্যাশা দলটির নীতিনির্ধারকদের।
নির্বাচনী বিভিন্ন সমীকরণ বিশ্লেষণ করে বিএনপির হাইকমান্ড মনে করছে—সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট হলে অন্তত দুইশর বেশি আসনে জয় পাবে দলটি। তাদের মতে, সারা দেশে আসনভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই এবং জনমত জরিপের ভিত্তিতে দেখা গেছে, অন্তত ২২০ থেকে ২৩৩টি আসনে বিএনপি এককভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।
গত সোমবার এমিনেন্স অ্যাসোসিয়েটস ফর সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট (ইএএসডি) তাদের জরিপে জানিয়েছে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট জিততে পারে ২০৮টি আসন, যা নির্বাচনে দলটির শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রায় ৪৬টি আসনে জয়ের সম্ভাবনা দেখাচ্ছে। রয়টার্সসহ দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম ও প্রতিষ্ঠানের জরিপেও বিএনপির বিপুল ব্যবধানে জয়ের সম্ভাবনার আভাস মিলেছে।
বিএনপি নেতারা মনে করছেন, সাধারণ ভোটার এবং নতুন প্রজন্মের বিপুল সমর্থন এবার তাদের ক্ষমতায় ফেরাবে। বিশেষ করে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরাসরি তদারকি ও কৌশলী নেতৃত্বে এই আত্মবিশ্বাস আরও তুঙ্গে। দীর্ঘ দেড় যুগ পর দেশে ফিরে তারেক রহমান তার ভিন্নধর্মী গণসংযোগ দিয়ে ভোটের মাঠে বড় ধরনের আলোড়ন তুলতে সক্ষম হয়েছেন। দেশজুড়ে যেন বইছে ‘তারেক বসন্ত’।
দলের দায়িত্বশীল নেতারা ভোটে জয় সম্পর্কে দৃঢ় প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেছেন, সরকার গঠন করলে তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, দুর্নীতিমুক্ত ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম হবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন দেশে গণতান্ত্রিক প্রশান্তি ফেরাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেখ হাসিনার ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের নেতিবাচক প্রভাবে বর্তমান জনমতের যথাযথ প্রতিফলন ঘটলে বিএনপির জয় সুনিশ্চিত। দলটি সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হবে। এজন্য সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সবচেয়ে বেশি জরুরি বলে তারা মনে করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘সার্বিকভাবে মনে হচ্ছে এবারের নির্বাচন ভালো হবে। কারণ এবারের নির্বাচনে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স ও কাউন্টার ব্যালেন্স সঠিকভাবে থাকায় তথাকথিত ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আশঙ্কা নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘অনেক দিন ধরে নির্বাচন না হওয়ায় সবার মধ্যে উদ্বেগ ছিল। তবে এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ ভালো। প্রথম দিকে কিছু ঘটনা ঘটলেও পরে সবাই সংযত হয়েছে।
ফলাফলের বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ফলাফল যা-ই হোক, আমরা সবসময় স্বাগত জানিয়েছি। ২০০৮ সালে যখন আমরা ৩০টি আসন পেয়েছিলাম, তখনও আমরা সংসদে গিয়েছিলাম। আমরা সব নির্বাচনকেই গুরুত্ব দিয়ে নিই। প্রতিটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলকে সিরিয়াসলি নিচ্ছি এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা আশাবাদী যে, এবার বিএনপি ল্যান্ডস্লাইড জয় পাবে।
বিএনপি এবারের নির্বাচনে এককভাবে এবং জোটগতভাবে উভয় দিক থেকেই লড়ছে। দলটির মূল শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে তাদের তৃণমূলের সুসংগঠিত বিশাল ভোটব্যাংক। এছাড়া বিএনপি তাদের ৫১ দফার নির্বাচনী ইশতেহারে তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থান এবং রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছে।
সম্প্রতি তারেক রহমানের ক্যারিশম্যাটিক প্রচারণায় বিএনপির হাইকমান্ড বেশ আশাবাদী। দলের চেয়ারম্যান ও নীতিনির্ধারকরা সারা দেশে আসনভিত্তিক প্রার্থী যাচাই-বাছাই ও জনমত জরিপ সম্পন্ন করেছেন। এসব জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ২২০ থেকে ২৩৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা জয়ের দৌড়ে প্রতিপক্ষের চেয়ে এগিয়ে আছেন। দেশের সব বিভাগেই বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে বিশ্বাস বিএনপির শীর্ষ নেতাদের। দেশের উত্তরাঞ্চল ও খুলনার কিছু আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট শক্তিশালী হলেও ঢাকার, চট্টগ্রামের, বরিশাল, সিলেট ও ময়মনসিংহের সিংহভাগ আসনে বিএনপির অবস্থান অত্যন্ত শক্তিশালী।
বিএনপির গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান বলেন, ‘বিপুল ব্যবধানে জয়ের ব্যাপারে অত্যন্ত আশাবাদী। কারণ আমাদের দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে প্রত্যাবর্তনের পর দিন-রাত নির্বাচনী প্রচারণা ও গণসংযোগ করেছেন। তার নেতৃত্বের প্রতি দেশের মানুষ আস্থাশীল ও আশাবাদী।
দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য মিজানুর রহমান ভূঁইয়া মিল্টন বলেন, ‘সাধারণ মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য মুখিয়ে আছে। বিএনপি সারা দেশে ২৮৮টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তৃণমূলের যে জোয়ার দেখছি, তাতে দুই-তৃতীয়াংশ আসন পাওয়া আমাদের জন্য কঠিন কিছু নয়। তবে মূল লক্ষ্য হলো অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করা। গ্রাম থেকে শহর, সর্বত্রই ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সুষ্ঠু ভোট হলে বিএনপি দুই শতাধিক আসন নিয়ে সরকার গঠন করবে, এটি স্পষ্ট।
মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসেন। ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী তপশিল ঘোষণার পর সারা দেশে ব্যাপক নির্বাচনী গণসংযোগ করেন। এবারের নির্বাচনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আগামীর কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তুলবেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো এখনও শক্তিশালী। নতুন ভোটার এবং তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ পরিবর্তনের আশায় বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, ‘বিএনপি এবং তাদের জোটের শরিকরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই সরকার গঠন করবে। কারণ বিএনপি সবকিছুতে পরীক্ষিত রাজনৈতিক দল, যারা ফ্যাসিবাদী শাসনের সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারপরও দেশের বাইরে থেকে তারেক রহমান দলকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছেন।
সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. সাহাবুল হক বলেন, ‘বিএনপির রাজনৈতিক আত্মবিশ্বাস, নির্বাচনী গণসংযোগ এবং দেশের মানুষের সমর্থন দেশের ইতিহাসে তাদের ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা নির্দেশ করছে। তবে ভোটের চূড়ান্ত ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজন।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
সারাদেশের অধস্তন আদালতে প্র্যাকটিসের জন্য আইনজীবী তালিকাভুক্তির প্রথম ধাপ এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক) পরীক্ষায় পাস করেছেন ৯ হাজার ২০১ জন পরীক্ষার্থী। শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের ওয়েবসাইটে এ সংক্রান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়। জানা গেছে, এবার এমসিকিউ পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান। তিনি রাজধানীর বিএএফ শাহীন কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষা দেন এবং প্রথম ধাপের এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। বার কাউন্সিল সূত্রে জানা যায়, এবার এমসিকিউ পরীক্ষায় আবেদন করেছিলেন মোট ৩৭ হাজার ৮০ জন পরীক্ষার্থী। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আইনজীবী তালিকাভুক্তি পরীক্ষা তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হয়—এমসিকিউ (নৈর্ব্যক্তিক), লিখিত ও মৌখিক। এই তিন ধাপে উত্তীর্ণ হওয়ার পরই একজন প্রার্থী অধস্তন আদালতে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের সুযোগ পান। তবে লিখিত পরীক্ষায় একবার উত্তীর্ণ হলে পরবর্তী তিনবার সরাসরি মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকে। পরীক্ষা সংক্রান্ত নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ও দিকনির্দেশনা দিয়ে থাকে বার কাউন্সিলের এনরোলমেন্ট কমিটি।
পৃথিবীতে বর্তমানে ৮৩০ কোটি মানুষের বাস। এই বিশাল সংখ্যাক মানুষের মাত্র ৮ কোটির কিছু বেশি মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৮ হাজার ২০২ ফুট উঁচুতে বসবাস করেন। এই উচ্চতায় বসবাসকারী মানুষের বেশির ভাগেরই বাস দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকায়। বাকিরা বাস করেন সমতলে। পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গেলে অনেকেরই বুক ধড়ফড়, অল্পতে হাঁপিয়ে ওঠেন কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কারণ, সমতলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলের বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ থাকে বেশ কম। সাধারণ মানুষের যেখানে কয়েক দিন থাকতেই দম আটকে আসে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে মানুষ কীভাবে এত উঁচুতে বেঁচে আছেন? কেমন তাদের দৈনন্দিন জীবন? পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থায়ী বসতিগুলোর তালিকা করলে প্রথম দিকে থাকবে চীনের চিংহাই প্রদেশের ওয়েনকুয়ান শহরের নাম। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৯৮০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে ভারতের করজোক গ্রাম। এই গ্রামের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ফুট। তবে উচ্চতার দিক থেকে অন্য সব জায়গাকে ছাড়িয়ে গেছে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত একটি শহর। দুর্গম ও চরম আবহাওয়ার কারণে একে ডেভিলস প্যারাডাইস নামেও ডাকা হয়। তবে শহরটির আসল নাম লা রিনকোনাদা। এই শহরের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ৪০৪ ফুট থেকে ১৭ হাজার ৩৮৮ ফুট উচ্চতার মধ্যে বসবাস করেন। এত উঁচুতে পৃথিবীর আর কোথাও কোনো শহর নেই। লা রিনকোনাদার জীবনযাত্রা লা রিনকোনাদা শহরের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। এখানে ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য সুপেয় পানির কোনো লাইন নেই। নেই কোনো আধুনিক পয়োনিষ্কাশন বা ময়লা ফেলার ভালো ব্যবস্থা। পাহাড়ের নিচের অঞ্চল থেকে এখানে প্রতিদিন খাবার নিয়ে আসা হয়। এই দুর্গম পাহাড়ি শহরে ২০০০ সালের পর প্রথম বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। আসলে প্রায় ৬০ বছর আগে এই শহরটি গড়ে উঠেছিল সোনা তোলার একটি অস্থায়ী খনি অঞ্চল হিসেবে। বর্তমানে এখানকার বাসিন্দারা সোনার খোঁজেই এই চরম প্রতিকূল পরিবেশে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন। তবে সোনার খোঁজের এই মূল্য দিতে হচ্ছে জীবন দিয়ে। কারণ, এখানকার বাতাসে অক্সিজেনের চাপ সমতলের চেয়ে প্রায় অর্ধেক। উচ্চতায় শরীর যেভাবে সাড়া দেয় সমতলে বসবাসকারী কোনো মানুষ যদি হঠাৎ করে লা রিনকোনাদার মতো এত উঁচুতে যান, তবে তার শরীরে প্রথম পরিবর্তন আসবে শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় সেখানে যাওয়া মাত্র বুক ধড়ফড় করতে শুরু করবে এবং দ্রুত শ্বাস নিতে হবে। কারণ, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে তখন ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অবস্থিত কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক সিনথিয়া বিল জানান, আপনি যখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৭৬৩ ফুট উঁচুতে পৌঁছাবেন, তখন সমতলের তুলনায় প্রতিবারের নিঃশ্বাসে বাতাসে মাত্র ৬০ শতাংশ অক্সিজেনের অণু পাবেন। বাতাসে অক্সিজেনের এই বড় ঘাটতি মানবদেহের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করে। এত উঁচুতে ওঠার পর শুরুতেই রক্তের লোহিত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন প্রোটিনের পরিমাণ দ্রুত কমতে শুরু করে। এই হিমোগ্লোবিনের কাজই হলো সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যাওয়া। উচ্চতা যত বাড়তে থাকে, শরীরের এই সংকট ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াগুলো তত তীব্র হতে থাকে। বাতাসে অক্সিজেনের এই কম মাত্রার সঙ্গে শরীর যখন হুট করে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন অনেক মানুষের মধ্যেই ‘অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস’ বা উচ্চতাজনিত শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। হঠাৎ করে বেশি উঁচুতে উঠলে এই সমস্যার কারণে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ছেড়ে দেওয়া বা ক্লান্তি, বমি বমি ভাব এবং খাওয়ার রুচি চলে যাওয়ার মতো নানাবিধ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মূলত কম অক্সিজেনের কারণে ফুসফুস ও মস্তিষ্কে চাপ পড়ায় এমনটি ঘটে। চরম পরিবেশে শারীরিক অভিযোজন লা রিনকোনাদার মতো চরম উচ্চতায় যাঁরা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাঁদের শরীর এই কম অক্সিজেনের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে, যাঁরা একদম ছোটবেলায় বা বয়ঃসন্ধির আগে থেকেই এমন উঁচুতে বাস করেন, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ফুসফুসের আকার বা ধারণক্ষমতা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বড় হয়ে যায়। আন্দিজ পর্বতমালায় বসবাসকারী মানুষদের রক্তে সাধারণ মানুষের তুলনায় হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। এই বাড়তি হিমোগ্লোবিন তাঁদের রক্তকে সমতলের মানুষের চেয়ে বেশ ঘন করে তোলে, যা কম অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশেও শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। তবে এই বাড়তি সুবিধার একটি বড় নেতিবাচক দিকও রয়েছে। রক্ত অতিরিক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার কারণে এখানকার বাসিন্দারা ‘ক্রনিক মাউন্টেন সিকনেস’ নামক একধরনের দীর্ঘমেয়াদি পাহাড়ি রোগে আক্রান্ত হন। যাঁরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট বা এর চেয়ে বেশি উঁচুতে বছরের পর বছর বসবাস করেন, তাঁদের শরীরে অতিরিক্ত লোহিত কণিকা তৈরির কারণেই এই রোগটি দেখা দেয়। এর ফলে সারাক্ষণ তীব্র ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা-বেদনার মতো সমস্যা হতে থাকে। ধারণা করা হয়, খনি শহর লা রিনকোনাদার প্রতি চারজন বাসিন্দার মধ্যে একজন এই রোগে ভুগছেন। আন্দিজ পর্বতমালার বাসিন্দাদের মতো তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষেরাও তীব্র উচ্চতায় বাস করেন, কিন্তু এক অদ্ভুত কারণে তাঁরা সুরক্ষিত থাকেন। উঁচুতে থাকলেও তিব্বতিদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব একটা বাড়ে না, যার ফলে তাঁদের ক্রনিক মাউন্টেন সিকনেস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না। অতিরিক্ত লোহিত কণিকা তৈরির বদলে তিব্বতিদের শরীর রক্তনালির ভেতর রক্তের প্রবাহ বা গতি বাড়িয়ে দিয়ে এই কম অক্সিজেনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, তিব্বতিদের এই বিশেষ শারীরিক ক্ষমতার পেছনে রয়েছে ‘ইপিএএস১’ (EPAS1) নামের একটি জিনের মিউটেশন। এই জিনটি মূলত তাঁদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বাড়তে দেয় না। ফলে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
সংসদে ভালো পারফর্ম করতে জামায়াতের এমপিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (১০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে এ পরামর্শ দেন তিনি। রাশেদ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, শুনেছিলাম গত অধিবেশন জামায়াতের এমপিদের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য এবারের অধিবেশনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা ইসলামি ব্যাংকের ওপর ব্যাপক প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসদে যায়, কিন্তু প্রশ্ন এতো কঠিন হবে কে জানতো? প্রশিক্ষণ নিয়ে বলতে গেলে তো কোর্সের বাইরে বলা যায় না। রাশেদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কোর্সের বাইরে গিয়ে বলা শুরু করলেন, এতে জামায়াতের এমপিরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন আর ভাবতে থাকলেন ধুর রাতদিনের প্রশিক্ষণই তো বৃথা। জামায়াতে এমপিদের উচিত সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়া। এতে সংসদে কিছুটা হলেও ভাল পারফর্ম করতে পারবেন। অন্যথায় এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাছে জামায়াতে ৬৮ জন এমপি যেভাবে ধরা খাচ্ছেন, সত্যিই আমারও লজ্জা লাগছে। বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা আগে জানতাম, জামায়াতের লোক শিক্ষিত বেশি, তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ বেশি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে জামায়াতের গুরু দুর্বল। মানে জামায়াতে মনোযোগী ছাত্র থাকলেও, দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব। সেই জায়গায় জামায়াতের এমপিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রাজনৈতিক ক্লাশ করতে পারেন। পোস্টের শেষে তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নাই, শিখতে কোনো লজ্জা নাই। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ভালো করুক, আমরা এটাই চাই। আমরা সংসদীয় শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে দেখতে চাই, দুর্বল মনে হলেই মানুষ আওয়ামী শূন্যতা ফিল করা শুরু করবে।