অন্যান্য

পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনবসতি কোথায়, কীভাবে চলে সেখানকার জীবন?

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীতে বর্তমানে ৮৩০ কোটি মানুষের বাস। এই বিশাল সংখ্যাক মানুষের মাত্র ৮ কোটির কিছু বেশি মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৮ হাজার ২০২ ফুট উঁচুতে বসবাস করেন। এই উচ্চতায় বসবাসকারী মানুষের বেশির ভাগেরই বাস দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকায়। বাকিরা বাস করেন সমতলে। পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গেলে অনেকেরই বুক ধড়ফড়, অল্পতে হাঁপিয়ে ওঠেন কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কারণ, সমতলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলের বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ থাকে বেশ কম। সাধারণ মানুষের যেখানে কয়েক দিন থাকতেই দম আটকে আসে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে মানুষ কীভাবে এত উঁচুতে বেঁচে আছেন? কেমন তাদের দৈনন্দিন জীবন?

 

পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থায়ী বসতিগুলোর তালিকা করলে প্রথম দিকে থাকবে চীনের চিংহাই প্রদেশের ওয়েনকুয়ান শহরের নাম। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৯৮০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে ভারতের করজোক গ্রাম। এই গ্রামের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ফুট।

 

তবে উচ্চতার দিক থেকে অন্য সব জায়গাকে ছাড়িয়ে গেছে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত একটি শহর। দুর্গম ও চরম আবহাওয়ার কারণে একে ডেভিলস প্যারাডাইস নামেও ডাকা হয়। তবে শহরটির আসল নাম লা রিনকোনাদা। এই শহরের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ৪০৪ ফুট থেকে ১৭ হাজার ৩৮৮ ফুট উচ্চতার মধ্যে বসবাস করেন। এত উঁচুতে পৃথিবীর আর কোথাও কোনো শহর নেই।

 

লা রিনকোনাদার জীবনযাত্রা

লা রিনকোনাদা শহরের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। এখানে ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য সুপেয় পানির কোনো লাইন নেই। নেই কোনো আধুনিক পয়োনিষ্কাশন বা ময়লা ফেলার ভালো ব্যবস্থা। পাহাড়ের নিচের অঞ্চল থেকে এখানে প্রতিদিন খাবার নিয়ে আসা হয়। এই দুর্গম পাহাড়ি শহরে ২০০০ সালের পর প্রথম বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছিল।

 

আসলে প্রায় ৬০ বছর আগে এই শহরটি গড়ে উঠেছিল সোনা তোলার একটি অস্থায়ী খনি অঞ্চল হিসেবে। বর্তমানে এখানকার বাসিন্দারা সোনার খোঁজেই এই চরম প্রতিকূল পরিবেশে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন। তবে সোনার খোঁজের এই মূল্য দিতে হচ্ছে জীবন দিয়ে। কারণ, এখানকার বাতাসে অক্সিজেনের চাপ সমতলের চেয়ে প্রায় অর্ধেক।

 

উচ্চতায় শরীর যেভাবে সাড়া দেয়

সমতলে বসবাসকারী কোনো মানুষ যদি হঠাৎ করে লা রিনকোনাদার মতো এত উঁচুতে যান, তবে তার শরীরে প্রথম পরিবর্তন আসবে শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় সেখানে যাওয়া মাত্র বুক ধড়ফড় করতে শুরু করবে এবং দ্রুত শ্বাস নিতে হবে। কারণ, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে তখন ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়।

 

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অবস্থিত কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক সিনথিয়া বিল জানান, আপনি যখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৭৬৩ ফুট উঁচুতে পৌঁছাবেন, তখন সমতলের তুলনায় প্রতিবারের নিঃশ্বাসে বাতাসে মাত্র ৬০ শতাংশ অক্সিজেনের অণু পাবেন। বাতাসে অক্সিজেনের এই বড় ঘাটতি মানবদেহের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করে।

 

এত উঁচুতে ওঠার পর শুরুতেই রক্তের লোহিত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন প্রোটিনের পরিমাণ দ্রুত কমতে শুরু করে। এই হিমোগ্লোবিনের কাজই হলো সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যাওয়া। উচ্চতা যত বাড়তে থাকে, শরীরের এই সংকট ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াগুলো তত তীব্র হতে থাকে।

 

বাতাসে অক্সিজেনের এই কম মাত্রার সঙ্গে শরীর যখন হুট করে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন অনেক মানুষের মধ্যেই ‘অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস’ বা উচ্চতাজনিত শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। হঠাৎ করে বেশি উঁচুতে উঠলে এই সমস্যার কারণে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ছেড়ে দেওয়া বা ক্লান্তি, বমি বমি ভাব এবং খাওয়ার রুচি চলে যাওয়ার মতো নানাবিধ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মূলত কম অক্সিজেনের কারণে ফুসফুস ও মস্তিষ্কে চাপ পড়ায় এমনটি ঘটে।

 

চরম পরিবেশে শারীরিক অভিযোজন

লা রিনকোনাদার মতো চরম উচ্চতায় যাঁরা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাঁদের শরীর এই কম অক্সিজেনের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে, যাঁরা একদম ছোটবেলায় বা বয়ঃসন্ধির আগে থেকেই এমন উঁচুতে বাস করেন, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ফুসফুসের আকার বা ধারণক্ষমতা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বড় হয়ে যায়।

 

আন্দিজ পর্বতমালায় বসবাসকারী মানুষদের রক্তে সাধারণ মানুষের তুলনায় হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। এই বাড়তি হিমোগ্লোবিন তাঁদের রক্তকে সমতলের মানুষের চেয়ে বেশ ঘন করে তোলে, যা কম অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশেও শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে।

তবে এই বাড়তি সুবিধার একটি বড় নেতিবাচক দিকও রয়েছে। রক্ত অতিরিক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার কারণে এখানকার বাসিন্দারা ‘ক্রনিক মাউন্টেন সিকনেস’ নামক একধরনের দীর্ঘমেয়াদি পাহাড়ি রোগে আক্রান্ত হন।

 

যাঁরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট বা এর চেয়ে বেশি উঁচুতে বছরের পর বছর বসবাস করেন, তাঁদের শরীরে অতিরিক্ত লোহিত কণিকা তৈরির কারণেই এই রোগটি দেখা দেয়। এর ফলে সারাক্ষণ তীব্র ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা-বেদনার মতো সমস্যা হতে থাকে। ধারণা করা হয়, খনি শহর লা রিনকোনাদার প্রতি চারজন বাসিন্দার মধ্যে একজন এই রোগে ভুগছেন।

 

আন্দিজ পর্বতমালার বাসিন্দাদের মতো তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষেরাও তীব্র উচ্চতায় বাস করেন, কিন্তু এক অদ্ভুত কারণে তাঁরা সুরক্ষিত থাকেন। উঁচুতে থাকলেও তিব্বতিদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব একটা বাড়ে না, যার ফলে তাঁদের ক্রনিক মাউন্টেন সিকনেস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না। অতিরিক্ত লোহিত কণিকা তৈরির বদলে তিব্বতিদের শরীর রক্তনালির ভেতর রক্তের প্রবাহ বা গতি বাড়িয়ে দিয়ে এই কম অক্সিজেনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে।

 

বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, তিব্বতিদের এই বিশেষ শারীরিক ক্ষমতার পেছনে রয়েছে ‘ইপিএএস১’ (EPAS1) নামের একটি জিনের মিউটেশন। এই জিনটি মূলত তাঁদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বাড়তে দেয় না। ফলে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।

 

 

 

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
বিএনপির নারী এমপিকে দায়িত্ব দেওয়ার কারণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনি এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব কেন সংরক্ষিত আসনের সরকারদলীয় নারী এমপিদের দেওয়া হয়েছে, জাতীয় সংসদ তার ব্যাখ্যা দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।   প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সরকারের যে ‘নিয়ম’ আছে, সে ‘নিয়ম’ অনুযায়ীই এগোচ্ছেন তারা। বুধবার বিকালে সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমের এক সস্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ বিষয়ে ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকে বিরোধী দলের সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেম, যিনি ব্যারিস্টার আরমান নামে পরিচিত, তিনি প্রশ্ন করে বলেন, “বহুল প্রচারিত পত্রিকায় আমরা জানতে পেরেছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সরকার দলীয় মহিলা এমপিদের বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের এলাকায় উন্নয়ন তদারকি করার দায়িত্ব দিয়েছেন। আরও বলা হয়েছে, এসব উন্নয়নে ডিও লেটার ইস্যু করতে পারবেন সরকার দলীয় মহিলা এমপিগণ। “এ তথ্য থেকে আমাদের মধ্যে এই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হচ্ছে যে এ কাজ কি তাদেরকে এ জন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধী দলীয় এমপি আছি আমাদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হক থাকবে না, এটা নিশ্চিত করার জন্যই কি এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কিনা, দয়া করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের সামনে পরিষ্কার করবেন।” জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের দল থেকে এবং আপনাদের দল থেকে যে সকল নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে য়েকদিন আগে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোন আসন নেই। আপনার বা আমার যে কোন নির্দিষ্ট আসন আছে সেরকম নির্দিষ্ট কোন আসন তাদের নেই। খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা আমাদের রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক যে কাঠামো তার ভিত্তিতে আমরা তাদেরকে দলীয় অবস্থান থেকে আমরা কিছু জায়গা তাদের জন্য নির্দিষ্ট করেছি, তারা কোথায় কাজ করবেন।” “আপনার নির্বাচন এলাকায় একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কিভাবে ভূমিকা রাখতে চান? যেহেতু এই সংসদ এই নারী নেতৃবৃন্দকে বা নারী সংসদ সদস্যদেরকে নির্বাচিত করেছেন। খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও একই রকমভাবে হক আছে, একই রকমভাবে হক আছে তার এলাকার বা তার এলাকার মানুষের জন্য।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “খুব স্বাভাবিকভাবেই আমরা যেটি নিয়ম আছে সরকারের, সেই নিয়ম অনুযায়ী আমরা এগোচ্ছি। আপনার এলাকার যদি কোনো উন্নয়নের কোনো বিষয়ে আমার সহযোগিতা করার কিছু থাকে, জানাবেন।” ৩৫০ আসনের জাতীয় সংসদে ৫০টি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। ত্রয়োদশ সংসদে বিএনপি ৩৬, জামায়াতে ইসলামী ও তাদের জোট ১৩ এবং স্বতন্ত্র থেকে একজন নারী নির্বাচিত হয়েছে।  

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনবসতি কোথায়, কীভাবে চলে সেখানকার জীবন?

ছবি: সংগৃহীত

লাইসেন্স বাতিলের পর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে পুলিশ মোতায়েন

সংসদ সদস্য আমির হামজা। ছবি: সংগৃহীত

সংস্কৃতিমন্ত্রীর কাছে লালন মাজার নিয়ে প্রশ্ন আমির হামজার

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাক্ষাৎ। ছবি : সংগৃহীত
বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনারের বৈঠক

জাতীয় সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এমপির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। হাইকমিশনারের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনের হেড অব পলিটিক্যাল টিমোথি ডাকেট এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি (পলিটিক্যাল) মিস কেট ওয়ার্ড। পরে জামায়াতের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অত্যন্ত আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় বাজেট, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। এছাড়া বাংলাদেশে সংসদীয় গণতন্ত্র শক্তিশালী করা, বাংলাদেশের উন্নয়নে যুক্তরাজ্যের ভূমিকা, জামায়াতের ছায়া সরকার ও ছায়া বাজেট এবং অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে আরও গতিশীল হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বৈঠকে বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমান এমপি এবং পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা টিমের সদস্য আলী আহমাদ মাবরুর উপস্থিত ছিলেন।

মোঃ ইমরান হোসেন জুন ১১, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অপ্রত্যাশিত বক্তব্যে হতভম্ব জামায়াত এমপিরা’

ছবি : সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ১৫ বাংলাদেশি

আম খাওয়ার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয় কেন

ছবি : সংগৃহীত
ব্যভিচারের মামলায় খালাস পেলেন ক্রিকেটার নাসির ও তামিমা

ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মির আলোচিত বিয়ে-সংক্রান্ত মামলায় খালাস পেয়েছেন। আজ বুধবার (১০ জুন) বেলা ১২ টায় ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে এ রায় দেওয়া হয়। তামিমা সুলতানার সাবেক স্বামী রাকিব হোসেনের করা মামলায় অভিযোগ ছিল, তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। তবে শুরু থেকেই নাসির ও তামিমা অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করে আসছিলেন যে, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মামলার এজাহারের তথ্য মতে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা সুলতানা তাম্মিকে বিয়ে করেন রাকিব হোসেন নামের এক ব্যক্তি। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যাসন্তানও রয়েছে। তবে ওই বৈবাহিক সম্পর্ক আইনগতভাবে শেষ হওয়ার আগেই তামিমা ক্রিকেটার নাসির হোসেনকে বিয়ে করেন। ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে নাসির ও তামিমার বিয়ের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আলোচনায় আসে। এরপরই একই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন তামিমার প্রাক্তন স্বামী রাকিব হোসেন। তবে নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা শুরু থেকেই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তাদের দাবি, আগের বৈবাহিক সম্পর্ক আইন অনুযায়ী শেষ হওয়ার পরই তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে নাসির হোসেন, তামিমা সুলতানা তাম্মি ও তামিমার মা সুমি আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। পরে ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। তবে তামিমার মা সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আসামিপক্ষের রিভিশন আবেদন ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি খারিজ হয়ে গেলে একই বছরের ২০ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। মামলায় মোট ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হওয়ার পর চলতি বছরের মার্চে আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। পরে তামিমা নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন। গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত ১০ জুন রায়ের দিন ধার্য করেন। শুনানিতে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের মাধ্যমে মামলার অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এখন আসামিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী দণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে নাসির হোসেনের পক্ষে অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু এবং তামিমা সুলতানার পক্ষে অ্যাডভোকেট মোসলেহ উদ্দিন জসীম অভিযোগ অস্বীকার করে খালাস প্রার্থনা করেন। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় নাসির হোসেন ও তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দেন।

মারিয়া রহমান জুন ১০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

সংসদ থেকে উবার, সিএনজি ও ব্যাটারিচালিত রিকশায় ফেরার অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন এমপি মিতু

ছবি: সংগৃহীত

বাজেট অধিবেশন ৯ জুলাই পর্যন্ত, ৪০ ঘণ্টার আলোচনার প্ল্যান

ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির প্রতিশ্রুত ‘জাতীয় সরকার’ কোথায়? প্রশ্ন শরিকদের

0 Comments