আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দেওয়া এক বাণীতে এ আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
তিনি আরো বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।’
প্রধান উপদেষ্টা আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।’
তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমাদের বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে যে দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ নাগরিক এবারই প্রথম তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
একই সঙ্গে পূর্ণবয়স্ক অনেক নাগরিকও দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃত অর্থে ভোট প্রদানের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। তাই এ গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন প্রতিটি ভোটারের কাছে একটি আনন্দময়, শঙ্কামুক্ত, বিশ্বাসযোগ্য ও উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়, তা নিশ্চিত করা আমাদের সবার নৈতিক ও সাংবিধানিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্য অর্জনে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্পূর্ণ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি।
দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারি, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে। একই সঙ্গে আমি রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বান জানাই।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের এ ঐতিহাসিক অভিযাত্রায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একটি শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পথে আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে সহায়তা করবে।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের জন্য সারাদেশ থেকে ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দ্রুত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সচিবালয়ে সরকারের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এ তথ্য জানান। তিনি আরো বলেন, শিক্ষাখাতে চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৫২ দশমিক ৯২ শতাংশ বেশি বরাদ্দ আসছে বলে জানান তিনি। তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষাখাতে জিডিপির পাঁচ শতাংশ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে ২০ হাজার ৮৩৫ দশমিক ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’ তিনি জানান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস)’ প্রকল্পের আওতায় ছয় হাজার ৯২৮টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও তিন হাজার ৪১২টি মাদরাসাসহ মোট ১০ হাজার ৩৪০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার ৬৮০টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দেশের ১৫টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু করা হয়েছে এবং ১১টি বিশ্ববিদ্যালয়ে গ্লোবাল লাইব্রেরি কার্যক্রম চলছে, জানান তিনি। ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার পর কোনো শিক্ষার্থীকে পরবর্তী ক্লাসে ভর্তির জন্য নতুন করে ফি দিতে হবে না বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, লটারির পরিবর্তে আধুনিক ভর্তি পরীক্ষা বা বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের ভর্তি, শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব স্তরের শিক্ষাবৃত্তির অর্থের পরিমাণ দ্বিগুণ করা হয়েছে। বিদেশে উচ্চশিক্ষার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক সহায়তায় সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জামানতবিহীন ব্যাংক গ্যারান্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নয় হাজার ধর্মীয় শিক্ষক এবং শূন্য পদগুলোতে বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে পাঁচ লাখ শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় একটি সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। শূন্য পদে নিয়োগ প্রসঙ্গে সচিবালয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্য পদ পূরণের তথ্য এবং নিয়োগের সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাব নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে জ্বালানি সংকট সফলভাবে উত্তরণ এবং ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে।’ তিনি আরও জানান, জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে ইতোমধ্যে ফুয়েল কার্ড চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২১১টি যানবাহন ফুয়েল পাস সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে। সারাদেশে মোট ২২৩টি ফিলিং স্টেশন এ কার্যক্রমের আওতায় এসেছে।’ দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইষ্টার্ন রিফাইনারীর সক্ষমতা বাড়াতে এবং জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সরকার দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৯ সালে দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করা হবে। আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে আগামী মাসে।’ সমুদ্রাঞ্চালে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলেও জানান তিনি। বলেন, ‘৭ মে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে “অফশোর মডেল পিএসসি ২০২৬” অনুমোদিত হয়েছে। এ মাসের মধ্যেই অফশোর বিডিং রাউন্ড ঘোষণা করা হবে।’ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ (১০ হাজার মেগাওয়াট) নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান স্বপন। তিনি বলেন, ‘৭ এপ্রিল সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জমি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহার বিষয়ক গাইডলাইন, ২০২৬ চূড়ান্ত করা হয়েছে।’ ‘বেসরকারি খাতে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে মোট ৪৯৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার মোট ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পিপিআর-২০২৫ অনুসরণে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে দরপত্র আহবান করা হয়েছে।’ পাশাপাশি ১০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌর বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।
আগামী পাঁচ বছরে দেশের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঁচ লাখ শূন্য পদে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে একটি সময়ভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সরকারের তিন মাস পূর্তি উপলক্ষে সচিবালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এই তথ্য জানান। ব্রিফিংয়ে তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তিন মাসের সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। শূন্য পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শূন্য পদ পূরণের সর্বশেষ তথ্য এবং নিয়োগের সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে চিঠি দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক সংকটের প্রভাব নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে জ্বালানি সংকট সফলভাবে উত্তরণ করা সম্ভব হয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে সরকার। তিনি আরও জানান, জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে ইতোমধ্যে দেশে ‘ফুয়েল কার্ড’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে মোট ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২১১টি যানবাহন এই ফুয়েল পাস সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়েছে। এছাড়া দেশের মোট ২২৩টি ফিলিং স্টেশনকে এই আধুনিক কার্যক্রমের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। দেশের একমাত্র সরকারি তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) সক্ষমতা বাড়াতে এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করতে সরকার দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে। তথ্যমন্ত্রী জানান, আগামী মাসেই (জুন) এর জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং ২০২৯ সালের মধ্যে এই দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, দেশে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক (বৈদ্যুতিক) বাস আমদানিতে সর্বোচ্চ উৎসাহিত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ করে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো যাতে শুল্কমুক্ত (ডিউটি ফ্রি) সুবিধায় এই বাসগুলো আমদানি করতে পারে, সেই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি এর সুফল ব্যাখ্যা করে বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একটি বাস চালু হলে অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থীর অভিভাবককে আলাদা গাড়ি ব্যবহার করতে হবে না। এটি শহরের যানজট ও বায়ুদূষণ কমাতে বড় ভূমিকা রাখবে। গণপরিবহন বা পাবলিক ট্রান্সপোর্টের জন্য ঠিক কতো সিটের বাস শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা যাবে, তার একটি সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও নীতিমালা তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলেও মন্ত্রী তার ব্রিফিংয়ে উল্লেখ করেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের অসমতা দূর করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তিনি বলেন, দেশ ও সমাজের নানা স্তরের অসমতা দূর করতে অল পার্টি ককাস কাজ করতে পারে। এর মাধ্যমে উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক জনগণের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে। আজ মঙ্গলবার স্পিকারের সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ-এর আহ্বায়ক এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতকালে হাফিজ উদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন। সাক্ষাতকালে তাঁরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও পিছিয়ে পড়া অনগ্রসর এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে শান্তি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ খাদ্যের অধিকার নিশ্চিতে ককাসের ভূমিকা নিয়ে মতবিনিময় করেন। এসময় নাগরিক প্লাটফর্ম, বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধিদল স্পিকার পদে নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান এবং সম্প্রতি স্পিকারের সহধর্মিণী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। সাক্ষাতকালে প্রতিনিধিদলের সদস্য এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।