দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বরিশাল সফরে যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আগামী ২৬ জানুয়ারি দুপুর ২টায় বরিশাল নগরীর বেলস পার্কে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন তিনি।
গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে দলের গুলশান কার্যালয় থেকে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমানকে তারেক রহমানের এই সফরের বিষয়টি জানানো হয়।
তারেক রহমানের বরিশাল সফরের খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। নেতাকে বরণ করে নিতে শুরু হয়েছে নানামুখী প্রস্তুতি। বেলস পার্কের জনসভাকে জনসমুদ্রে পরিণত করতে আগামী ১৮ জানুয়ারি একটি প্রস্তুতি সভার ডাক দিয়েছে বরিশাল বিভাগীয় বিএনপি। এতে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীসহ বিভাগের প্রতিটি জেলা ও উপজেলার নেতারা অংশ নেবেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরিশাল বিভাগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান বলেন, তারেক রহমানের বরিশাল সফরের সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয়ভাবে নেওয়া হয়েছে। বুধবার রাতে গুলশান কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মজিবর রহমান সরোয়ার ও আমি উপস্থিত হলে তারেক রহমান নিজেই বরিশাল সফরের আয়োজন করতে নির্দেশ দেন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২০ বছর পর নেতাকে বরিশালে বরণ করতে আমরা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করেছি। আগামী ১৮ জানুয়ারি বরিশাল ক্লাবে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে বরিশাল বিভাগের সংসদীয় ২১টি আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, জেলা, মহানগর ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। সভায় জনসভা সফল করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে বরিশাল মহানগর বিএনপির সাবেক সহসাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক তারিন জানান, প্রায় ২০ বছর পর বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান বরিশাল সফরে আসছেন। সর্বশেষ ২০০৬ সালের ১৪ মে তিনি বরিশালে এসেছিলেন। সে সময় তৃণমূল নেতাকর্মীদের নিয়ে একটি কর্মিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন তিনি। পাশাপাশি সদর উপজেলার সাহেবেরহাট এলাকায় শহীদ জিয়াউর রহমান ডিগ্রি কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং বাকেরগঞ্জ উপজেলায় একটি ব্রিজ উদ্বোধন করেন। তখন তিনি বিএনপির ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তারেক রহমানের এই আগমন বরিশালের রাজনীতিতে নতুন প্রত্যাশার বার্তা দেবে বলে মনে করেন তিনি।
অন্যদিকে নেতার আগমনের খবরে বরিশালজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে পোস্ট দিচ্ছেন তারা। বরিশাল মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার জানান, আগামী ২৬ জানুয়ারির নির্বাচনী জনসভাকে জনসমুদ্রে রূপ দিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
দেশে ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে এক সেমিনারে। “ফসল-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা রূপান্তরের কৌশলগত পথরেখা: সংরক্ষিত ধানের ক্ষতি কমাতে বাজার-উপযোগী স্মার্ট আল্ট্রাসনিক সমাধান এবং এসডিজি ২ ও ১২ অর্জন” শীর্ষক এই আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি), ফার্মগেট, ঢাকায়। রবিবার (১৯ এপ্রিল ২০২৬) অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ও উদ্ভাবন কেন্দ্র (বাউ-রিক)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, কৃষিতে স্মার্ট প্রযুক্তির ব্যবহার সময়ের দাবি এবং ফসল-পরবর্তী ক্ষতি কমানো খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অতিথি হিসেবে কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সালিম খান বলেন, ফসল-পরবর্তী ক্ষতি এখনো কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তির মতো উদ্ভাবন এ ক্ষতি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ার উদ্দিন প্রযুক্তির বিস্তারে ডিজিটাল উদ্ভাবনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ডিজিটাল বিশেষজ্ঞ ও টাস্ক টিম লিডার সুপার্না রায় মাঠপর্যায়ে সহজে গ্রহণযোগ্য, বাজার-উপযোগী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম গবেষক, নীতিনির্ধারক এবং বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের আহ্বান জানান। এসিআই মোটরস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস প্রযুক্তিটির বাণিজ্যিকীকরণে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আউয়াল। তিনি জানান, স্মার্ট আল্ট্রাসনিক প্রযুক্তি রাসায়নিক ব্যবহার ছাড়াই সংরক্ষিত ধানকে পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে সুরক্ষা দিতে সক্ষম, যা একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর। কর্মশালার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন আইসিটি বিভাগের ইডিজিই প্রকল্পের কম্পোনেন্ট লিড ফারুক আহমেদ জুয়েল। সভাপতির বক্তব্যে বাউ-রিকের আরএলসি কমিটির চেয়ারম্যান ও সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. কে. এম. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন জাতীয় অগ্রাধিকার এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি দ্রুত এ প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের নতুন ডিনের দায়িত্ব পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আলী রেজা ফারুক। তিনি মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের একোয়াকালচার বিভাগের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। রবিবার (১৯ এপ্রিল) অনুষদীয় সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার। তার মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় নতুন ডিনের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করা হয়। দায়িত্ব হস্তান্তর ও গ্রহণ অনুষ্ঠানে অনুষদের সাবেক ডিনবৃন্দ, বিভিন্ন বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত শিক্ষকবৃন্দ ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. আলী রেজা ফারুক বলেন, ‘ডিন হিসেবে অনুষদের সব শিক্ষকের সঙ্গে ইতোমধ্যে ছোট আলোচনা হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে আমরা সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করব। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইন্টার্নশিপ কার্যক্রমকে ভবিষ্যতে আরো বিস্তৃত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘ডিন হিসেবে আমি দেশীয় স্বীকৃতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করব। এর মাধ্যমে অনুষদের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে। দেশের মৎস্য খাত উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
হাম সংক্রমণে শিশুর মৃত্যু এবং জ্বালানি সংকট নিয়ে সরকার লুকোচুরি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সত্য লুকিয়ে সমাধান সম্ভব নয়। সংকট স্বীকার করলে, সবাই মিলে আলোচনা করে মোকাবিলা সহজ হবে। শনিবার রাজধানীর শ্যামলীতে শিশু হাসপাতাল এবং আসাদগেট পেট্রোল পাম্প পরিদর্শন শেষে এসব কথা বলেছেন তিনি। শিশু হাসপাতালের পরিবেশকে ‘ডিজাস্টার’ বলে আখ্যা দেন জামায়াত আমির। দেশের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে এমআরআই ও সিটি স্ক্যানের মতো জরুরি সেবা না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, দেশের একমাত্র বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালে শয্যা মাত্র ৭০০। অথচ এখানে সারাদেশের রোগী আসে। পরিচ্ছন্নতা সন্তোষজনক হলেও অবকাঠামোগত ও যন্ত্রপাতির সংকট ভয়াবহ। নবজাতকদের এনআইসিইউ ও পিআইসিইউ সুবিধা থাকলেও এমআরআই, সিটিস্ক্যান নেই। মুমূর্ষু শিশুদের এসব পরীক্ষার জন্য বাইরে পাঠাতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারের অনুদানে পরিচালিত হাসপাতালটিতে বরাদ্দ গত বছর ৩০ কোটি টাকা থেকে কমিয়ে ২৮ কোটি টাকা করা হয়। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বাজেট যখন বাড়ছে, তখন স্বাস্থ্য খাতের এই বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ কমানো হলো কেন? চিকিৎসকরা বিরোধীদলীয় নেতাকে জানান, ব্রঙ্কোস্কোপ যন্ত্র নেই। পরে তিনি সাংবাদিকদের জানান, একটি ব্রঙ্কোস্কোপ যন্ত্র হাসপাতালে দেওয়ার চেষ্টা করবেন। রাজনীতি মানে শুধু সরকারি বরাদ্দ দিয়ে কাজ করা নয়, বরং নিজের পকেটের টাকায় জনগণের কল্যাণে পাশে দাঁড়ানো। শফিকুর রহমান বলেন, হাম পরিস্থিতি যা দেখলাম তা উদ্বেগজনক। শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি। পুরো স্বাস্থ্য খাত বর্তমানে এক নাজেহাল অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতালগুলো সেবামূলক প্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাজারের সঙ্গে তুলনা করা যেতে পারে। সরকারের সমালোচনায় জামায়াত আমির বলেন, অনেক উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ। হামের মতো ব্যাধির চিকিৎসায় আইসিইউর অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি। সরকারের প্রস্তুতি দেখে মনে হয় তারা নির্বিকার। সংসদে সরকারি দলের কথা শুনলে মনে হয় দেশে কোনো সমস্যাই নেই। তারা বাস্তবতাকে আড়াল করছেন। হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে আসাদগেট পেট্রোল পাম্পে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালক ও পাম্প মালিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। পরে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি সংকটের দায় সরকারকে দিচ্ছি না। যুদ্ধের কারণে তৈরি হয়েছে। এখানে লুকোচুরির কী আছে? তারপরও লুকোচুরি করা হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১২ আসনের এমপি সাইফুল আলম খান মিলন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইনসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।