প্রযুক্তি

দেড়-দুই লাখ টাকার সোলারে চলবে এসি, ফ্রিজ ও টিভি

আক্তারুজ্জামান মে ২৩, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা লোডশেডিং ও উচ্চ বিদ্যুৎ বিলের কারণে এখন অনেকেই ঝুঁকছেন সৌরবিদ্যুতের দিকে। বিশেষ করে ‘সোলার হাইব্রিড সিস্টেম’ এখন শহর থেকে গ্রাম—সব জায়গাতেই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে শুধু লাইট-ফ্যান নয়, এসি, ফ্রিজ, টিভি ও ওয়াশিং মেশিনের মতো ভারী বৈদ্যুতিক যন্ত্রও চালানো সম্ভব হচ্ছে।

 

রাজধানীর গুলিস্তান ও কাপ্তানবাজারের সোলার মার্কেট ঘুরে জানা গেছে, একটি মাঝারি পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় হাইব্রিড সোলার সেটআপ দেড় লাখ থেকে দুই লাখ টাকার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। এতে একটি এসি, ফ্রিজ, টিভি, কয়েকটি ফ্যান ও এলইডি লাইট চালানো সম্ভব।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, আধুনিক হাইব্রিড সিস্টেমে দিনের বেলা সরাসরি সোলার প্যানেল থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যায়। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে জমা হয়, যা রাতে বা লোডশেডিংয়ের সময় ব্যাকআপ দেয়। ফলে বিদ্যুৎ বিলও অনেক কমে আসে।

 

সোলার ব্যবসায়ীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সবচেয়ে বেশি চাহিদা ৩ থেকে ৫ কিলোওয়াটের সিস্টেমের। ভালো মানের ইনভার্টার, লিথিয়াম ব্যাটারি ও উন্নত প্যানেল ব্যবহার করলে এসব সিস্টেম ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকে।

 

গুলিস্তানের এক সোলার ব্যবসায়ী জানান, গত কয়েক মাসে ভয়াবহ লোডশেডিংয়ের কারণে সোলারের বিক্রি কয়েকগুণ বেড়েছে। প্রতি মাসে শত শত হাইব্রিড সিস্টেম বিক্রি হচ্ছে।

 

ক্রেতারাও বলছেন, একবার বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি লাভজনক। কারণ এতে বিদ্যুৎ বিল ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের ঝামেলাও থাকে না।

 

মিরপুরের বাসিন্দা প্রকৌশলী তানভীর আহমেদ বলেন, “গরমে এসি চালাতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিল অনেক বেড়ে যায়। তাই এখন সোলারই সবচেয়ে কার্যকর সমাধান মনে হচ্ছে।”

 

অন্যদিকে কুমিল্লার ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, গ্রামে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় তিনি দোকান ও বাসার জন্য বড় সোলার সেটআপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের ক্রমবর্ধমান চাহিদার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোই হতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

প্রযুক্তি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
মানুষের সাহায্য ছাড়াই প্রথমবার এআইয়ের সাইবার আক্রমণ

ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো মানুষের সাহায্য বা তদারকি ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই।   নিরাপত্তা গবেষকদের উন্মোচন করা এ ঘটনা প্রযুক্তি বিশ্বে বড় মাইলফলক হলেও সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন আতঙ্ক তৈরি করেছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।   এ ঘটনায় মানুষের সাহায্য ছাড়াই শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ এক সাইবার আক্রমণ চালিয়েছে একটি এআই এজেন্ট। এআই প্রযুক্তি সাইবার অপরাধীদের কাজকে আরও সহজ করে দিচ্ছে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এ সাইবার আক্রমণে এক র‍্যানসমওয়্যার আক্রমণ চালিয়েছে এআই।   র‍্যানসমওয়্যার সাইবার আক্রমণে ভুক্তভোগীরা সাধারণত নিজেদের ডেটা বা তথ্যের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার জন্য অপরাধীদের মুক্তিপণ দিতে বাধ্য হয়।   মার্কিন ক্লাউড নিরাপত্তা কোম্পানি ‘সিসডিগ’-এর একটি গবেষক দল বলেছে, এ এআই আক্রমণকারীটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জেডপাফার’, যা প্রথমে দুর্বল ও অরক্ষিত সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে সার্ভার থেকে প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ড এবং লগইন তথ্য খুঁজে বের করে।   সবশেষে মূল প্রোডাকশন ডেটাবেইসটি লক বা এনক্রিপ্ট করে ডেটাবেইসটি আনলকের বিনিময়ে বিটকয়েনের মাধ্যমে মুক্তিপণ দাবি করে জেডপাফার।   এ পুরো বিষয়টি নিয়ে এক ব্লগ পোস্টে সিসডিগ-এর থ্রেট রিসার্চ ডিরেক্টর মাইকেল ক্লার্ক লিখেছেন, “র‍্যানসমওয়্যার যখন থেকে একটি হুমকি হিসেবে তৈরি হয়েছে, তখন থেকেই এর পেছনে কোনো না কোনো মানুষ সরাসরি জড়িয়ে ছিল বা একজন মানুষ এর স্ক্রিপ্ট বা কোড লিখে দিয়েছিল।   “তবে সিসডিগ থ্রেট রিসার্চ টিম এমন ঘটনা লিপিভুক্ত করেছে, যা আমাদের মতে প্রথম ‘এজেন্টিক র‍্যানসমওয়্যার’-এর প্রমাণ। এ এমন এক চাঁদাবাজির ঘটনা, যা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম-এর মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে।   এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরির ওপেন-সোর্স টুল ‘ল্যাংফ্লো’-এ প্রবেশাধিকার পাওয়ার পরপরই এআই মডেলটি আলিবাবা, টেনসেন্ট ও হুয়াওয়ের মতো ‘চীনা ক্লাউড সেবাদাতাদের লক্ষ্য করে’ লগইন তথ্য ও পাসওয়ার্ড খুঁজতে শুরু করে।   এ স্বয়ংক্রিয় অভিযানটি বাস্তব সময়ে বা রিয়াল-টাইমে নিজস্ব কৌশল পরিবর্তন ও খাপ খাইয়ে নিতে পেরেছিল, যার কাজের গতি ছিল দক্ষ যে কোনো মানব অপারেটরের চেয়েও দ্রুত।   আক্রমণটি সম্পর্কে সিসডিগ-এর গবেষক মাইকেল ক্লার্ক বলেছেন, “সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই এলএলএম-এর আচরণ। এ অভিযানটি রিয়াল-টাইমে পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছিল এবং কোনো ধাপে ব্যর্থ হলে সংশোধিত প্যারামিটার ব্যবহার করে পুনরায় চেষ্টা করছিল।   “এক পর্যায়ে দেখা যায়, লগইন ব্যর্থ হওয়ার পর কেবল ৩১ সেকেন্ডের মধ্যে মডেলটি সমস্যার সমাধান করে সফলভাবে লগইন করে ফেলেছে।”   সিসডিগ-এর গবেষকেরা আরও উদ্বেগজনক বিষয় লক্ষ্য করেছেন, যেখানে ভুক্তভোগী ব্যক্তি বা কোম্পানি যদি মুক্তিপণ পরিশোধও করত তবুও তারা নিজেদের হারিয়ে যাওয়া ডেটা আর ফেরত পেতেন না।   কারণ এ এআই এজেন্টটি কোনো ব্যাকআপ না রেখেই মূল ডেটা বা তথ্য আগেই সম্পূর্ণ মুছে ফেলেছিল। গবেষণার এসব ফলাফল এখনও পিয়ার রিভিউড না হলেও এতে ক্রমাগত সাইবার ঝুঁকির স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে। এর থেকে প্রমাণ মেলে, মানুষের কোনো রকম তদারকি ছাড়াই জটিল সব সাইবার আক্রমণ চালাতে বিভিন্ন এআই সিস্টেম দিন দিন আরও সক্ষম হয়ে উঠছে।   গেল মাসে বিরল এক যৌথ সতর্কবার্তায় পাঁচ দেশের নিরাপত্তা জোট ‘ফাইভ আইস’ বলেছে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারগুলোর ওপর বড় ধরনের বিপর্যয় তৈরি করা থেকে এআই এখন কেবল ‘কয়েক মাস দূরে’ রয়েছে।   সেই সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়েছে, “সামনের দিকের বিভিন্ন এআই মডেল বর্তমান শিল্প খাতের প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাবে, যা সাইবার জগতের আক্রমণ ও প্রতিরক্ষা উভয় সক্ষমতাকেই মৌলিকভাবে বদলে দেবে। ফলে পরিস্থিতি ঠেকাতে পুরো কোম্পানি ও সার্বিকভাবে গোটা সমাজকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬

সন্তান হারিয়ে ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার যুক্ত

ওপেনএআই’র চ্যাটজিপিটিতে নতুন ফিচার যুক্ত

ছবি: সংগৃহীত

বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিদিন ২০০ টাকা ভাতা; আবেদন শেষ ১৫ জুন

ছবি: সংগৃহীত
৫৬ বছরের অমীমাংসিত গাণিতিক সমস্যার সমাধান করল গুগলের এআই

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি এখন শুধু লেখা তৈরি বা ছবি আঁকায় সীমাবদ্ধ নেই, জটিল গাণিতিক সমস্যার সমাধানেও সক্ষমতা দেখাতে শুরু করেছে। সম্প্রতি ওপেনএআই দাবি করেছিল, তাদের একটি এআই মডেল কিংবদন্তি গণিতবিদ পল এরদোসের ১৯৪৬ সালে উত্থাপিত বিখ্যাত ‘প্ল্যানার ইউনিট ডিস্ট্যান্স প্রবলেম’–এর সমাধান করেছে। সেই আলোচনার মধ্যেই আরও বড় দাবি নিয়ে সামনে এসেছে গুগল ডিপমাইন্ড। গুগলের গবেষকদের দাবি, ডিপমাইন্ডের ‘আলফাপ্রুফ নেক্সাস’ নামের একটি এআই ব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে পল এরদোসের ৯টি উন্মুক্ত গণিত সমস্যার সমাধান করেছে। এর মধ্যে কয়েকটি সমস্যা ৫৬ বছর ধরেও অমীমাংসিত ছিল। গবেষকদের মতে, প্রতিটি সমস্যার সমাধানে ব্যয় হয়েছে মাত্র কয়েক শ ডলার। গবেষকেরা আরও জানিয়েছেন, আলফাপ্রুফ নেক্সাস ‘ওপেন এনসাইক্লোপিডিয়া অব ইন্টিজার সিকোয়েন্সেসের’ (ওইআইএস) ৪৪টি উন্মুক্ত অনুমানও প্রমাণ করেছে। পাশাপাশি বীজগাণিতিক জ্যামিতির ১৫ বছর পুরোনো একটি প্রশ্নের সমাধান ও অপটিমাইজেশন তত্ত্বে নতুন একটি অ্যালগরিদমিক প্যারামিটারও খুঁজে পেয়েছে, যা আগে মানুষের জানা ছিল না। গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, পুরো কাজটি এআই নিজেই সম্পন্ন করেছে। অর্থাৎ এটি নিজে গাণিতিক প্রমাণ তৈরি করেছে এবং কম্পিউটারনির্ভর যাচাইয়ের ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করেছে। ফলে মানুষের সহায়তা ছাড়াই প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে ওপেনএআই যখন তাদের এআই দিয়ে এরদোসের প্ল্যানার ইউনিট ডিস্ট্যান্স প্রবলেম সমস্যা সমাধানের দাবি করেছিল, তখন প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, সমস্যা সমাধানের প্রমাণ মানুষের সহায়তায় যাচাই করা হয়েছে। গুগল সরাসরি ওপেনএআইয়ের নাম উল্লেখ না করলেও প্রতিষ্ঠানটির এআই মডেলের একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে ‘হ্যালুসিনেশন’ কথা তুলে ধরেছে । অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানটির এআই এমন তথ্য বা যুক্তি তৈরি করতে পারে, যা প্রথম দেখায় বিশ্বাসযোগ্য মনে হলেও বাস্তবে তাতে গুরুতর ভুল থাকতে পারে। গবেষকদের মতে, অনেক সময় এআই এমন গাণিতিক প্রমাণ তৈরি করে, যা প্রযুক্তিগতভাবে গ্রহণযোগ্য মনে হয়, কিন্তু তাতে যৌক্তিক ত্রুটি থেকে যায়। কিছু ক্ষেত্রে এআই নিজেই নতুন ‘লেমা’ বা গাণিতিক বিশ্লেষণ তৈরি করে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে। আবার কখনো সমস্যার সবচেয়ে জটিল অংশটি সমাধান না করেই সেটিকে ‘সহায়ক লেমা’ হিসেবে দেখায়। এতে পুরো প্রমাণটি সম্পূর্ণ বলে মনে হলেও মূল সমস্যাটিই অমীমাংসিত থেকে যায়। গবেষকদের মতে, এ ধরনের ভুল সাধারণ পর্যালোচনায় সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। কারণ, যুক্তিগুলো মানুষের কাছেও যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। এই সমস্যা এড়াতে গুগলের ডিপমাইন্ড লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজভিত্তিক মডেলের বিশ্লেষণ ক্ষমতার সঙ্গে ‘লিন’ নামের একটি আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের ব্যবস্থা যুক্ত করেছে। এ পদ্ধতিতে এআই বিভিন্ন ধরনের গাণিতিক প্রমাণ তৈরির চেষ্টা করে, আর ‘লিন’ কঠোর গাণিতিক নিয়ম অনুসরণ করে প্রতিটি যৌক্তিক ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই করে। ফলে ভিত্তিহীন দাবি, কৃত্রিম লেমা কিংবা অসম্পূর্ণ যুক্তি সঙ্গে সঙ্গেই বাতিল হয়ে যায়। এতে পুরো প্রমাণ যাচাই করতে মানুষের আলাদা করে সময় ব্যয় করতে হয় না। গুগলের গবেষকদের মতে, এআইভিত্তিক বিশ্লেষণ ক্ষমতা ও আনুষ্ঠানিক যাচাইয়ের এই সমন্বয় ভবিষ্যতে গণিত গবেষণার ধরন বদলে দিতে পারে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি জুন ০৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মঙ্গল গ্রহে পাথরের অদ্ভুত স্তূপ কোথা থেকে এল, কারা রাখল

ছবি: সংগৃহীত

ফোন নম্বর ছাড়াই হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার নতুন সুবিধা

ছবি: সংগৃহীত

দেড়-দুই লাখ টাকার সোলারে চলবে এসি, ফ্রিজ ও টিভি

ছবি : সংগৃহীত
ভয়াবহ গরমের উৎস হতে পারে ডেটা সেন্টার, দাবি গবেষণায়

শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যের বক্স এল্ডার কাউন্টিতে প্রস্তাবিত "স্ট্রাটোস প্রজেক্ট"-এর একটি এআই ডেটা সেন্টার প্রতিদিন ২৩টি পারমাণবিক বোমা বিস্ফোরণের সমান তাপ নির্গত করবে। সংবাদমাধ্যম দ্য সল্ট লেক ট্রিবিউন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।     অলাভজনক পরিবেশবাদী সংবাদমাধ্যম গ্রিস্ট-এর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বিশাল এআই ডেটা সেন্টারটি একাই ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহার করবে, যা পুরো উটাহ রাজ্যের মোট ব্যবহারের দ্বিগুণেরও বেশি। নিজস্ব গ্যাস জেনারেটরের মাধ্যমে স্থানীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের বাইরে ২৪ ঘণ্টা চলতে থাকা এই প্রজেক্টটি আয়তনে ২,০০০ ওয়ালমার্ট স্টোরের সমান হলেও, এর শক্তির ব্যবহার হবে ৪০,০০০ ওয়ালমার্ট সুপারসেন্টারের সমান।   উটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞানের অধ্যাপক রবার্ট ডেভিসের হিসাব অনুযায়ী, ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যবহারে উৎপন্ন তাপের পাশাপাশি কেন্দ্রটি আরও ৭ থেকে ৮ গিগাওয়াট সমমানের অতিরিক্ত বর্জ্য তাপ উৎপন্ন করবে, ফলে এর মোট “থার্মাল লোড” বা তাপের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ গিগাওয়াটে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তাপ গ্রাহক পর্যায়ে অল্প অল্প করে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে তেমন সমস্যার কারণ হয় না। কিন্তু হ্যানসেল উপত্যকার ভৌগোলিক গঠনের কারণে প্রতিদিন ২৩টি অ্যাটম বোমার সমান এই বিপুল পরিমাণ তাপ একই স্থানে আটকা পড়বে। উপত্যকার এই আবদ্ধ পরিবেশের মধ্যে ঘনীভূত তাপ স্থানীয় প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের ওপর এক অবিশ্বাস্য ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলবে। এই তাপমাত্রার প্রভাবে এলাকাটিতে দিনের বেলায় ৫ ডিগ্রি এবং রাতে ১২ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা স্থানীয় পরিবেশকে সাহারা মরুভূমির মতো রুক্ষ করে তুলবে। বাস্তুবিদ্যা বিশেষজ্ঞ বেন অ্যাবট জানান, এর ফলে গ্রেট সল্ট লেক শুকিয়ে মারাত্মক ধুলোর বিপর্যয় দেখা দেবে।  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৩, ২০২৬

খোরদাদ-৩: ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষার উন্নত ঢাল

ছবি: সংগৃহীত

আজ বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সংঘ দিবস

ছবি: সংগৃহীত

ওপেনএআইয়ের নতুন মূল্য নীতিতে বদলে যেতে পারে প্রযুক্তি বাজার

0 Comments