জাতীয়

দেশে ৩ হাজার স্পট থেকে দৈনিক শতকোটি টাকা চাঁদা আদায়

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬

রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় ৩ হাজার স্পট থেকে প্রতিদিন প্রায় শতকোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। এসব চাঁদাবাজির পেছনে সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা জড়িত। 


সারা দেশ থেকে যুগান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য ও বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, এই অর্থের বেশিরভাগই ভয়ভীতি দেখিয়ে ইচ্ছার বিরুদ্ধে আদায় করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহণ, সেতু, রেল ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম শনিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘চাঁদাবাজি নেই-আমি একথা কিন্তু বলিনি। আমি বলেছি-একটা হলো চাঁদা, আর একটা হলো চাঁদাবাজি। চাঁদা হলো-স্বেচ্ছায় এবং চাঁদাবাজি হলো জোরপূর্বক। আমি তো চাঁদাবাজিকে সমর্থন করিনি বা করছিও না।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি একটা ফৌজদারি অপরাধ। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে পুলিশ বা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমার মন্ত্রণালয়ের অধীনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সমবায় মন্ত্রণালয় এবং আমার মন্ত্রণালয়ে মিলে এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা যেতে পারে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, কোথাও চাঁদা নেওয়া হচ্ছে টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার নামে, কোথাও পার্কিংয়ের নামে। কোথাও আবার পৌর টোলের সঙ্গে জোরপূর্বক অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। এছাড়া সড়কে দায়িত্বপালন করা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য এবং থানা পুলিশের এক শ্রেণির অসাধু সদস্য এসব চক্রের সঙ্গে যুক্ত। নিরুপায় হয়ে পরিবহণ চালক ও মালিকরা বছরের পর বছর ধরে এসব চাঁদা পরিশোধ করে যাচ্ছেন। 

তারা জানান, পরিবহণে চাঁদাবাজির ফলে পরিবহণ ভাড়াও বাড়ে। সবজিসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রীর দাম হয়ে যায় আকাশছোঁয়া। দিনশেষে সব গিয়ে পড়ে জনগণের ঘাড়ে। সমঝোতা সিস্টেমের নামে চাঁদাবাজির খেসারত দিতে হয় আমজনতাকে। এর ফলে সমাজের মধ্যবিত্তের যাপিত জীবন আরও দুঃসহ হয়ে ওঠে। সরকার আসে, সরকার যায়; কিন্তু প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের এই চাঁদাবাজি আর বন্ধ হয় না। 

অভিযোগ রয়েছে, শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের সদস্যদের কল্যাণের নামে এভাবে চাঁদা আদায় করা হলেও বাস্তবে যা হচ্ছে তা স্রেফ চাঁদাবাজি। এসব চাঁদার ৯০ ভাগ চালক-কন্ডাকটরদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক নেওয়া হয়। চাহিদামাফিক চাঁদার টাকা না দিলে গাড়ি ভাঙচুর করা ছাড়াও মারধরও করা হয়। এছাড়া মাঠপর্যায়ে থেকে বিপুল পরিমাণ চাঁদার টাকা কত হাত ঘুরে কোথায় যায় এবং কারা এর ভাগ পায়-সে বিষয়ে কেউ মুখে খুলতে চান না। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এ সেক্টরের সাধারণ মালিক-শ্রমিকদের অনেকে যুগান্তরকে জানিয়েছেন, মূলত এসব চাঁদার টাকার ওপর ভর করে স্বাধীনতার পর এক শ্রেণির মালিক-শ্রমিক নেতারা জিরো থেকে হিরো বনে গেছেন। কেউ কেউ এমপি-মন্ত্রীও হতে পেরেছেন। সরকার বদল হলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এসব প্রভাবশালী নেতা নিজেদের মধ্যে এক ধরনের আপস করে চলেন। সারা দেশে এ সেক্টরের লাখ লাখ সাধারণ শ্রমিকদের পুঁজি করে রাজনীতির হাত শক্তিশালী করাসহ রাজনীতিকে জিম্মি করা হয়। 

বিপরীতে সাধারণ পরিবহণ শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন-ভাতা দেওয়া হয় না। তাদের রাত-দিনের ঘামঝরা অমানুষিক পরিশ্রমকে পুঁজি করে বেশির ভাগ নেতা রাজকীয় জীবনযাপন করেন। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এসব প্রভাবশালীরা কঠোর আইন করতেও বাধা দেন। প্রতিটি রাজনৈতিক সরকার নানা কারণে এ চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে। এ কারণে এসব চাঁদাবাজির বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা কখনো নেওয়া হয় না। বিপরীতে সমঝোতার নামে চাঁদা নেওয়া হয় বলে এক ধরনের বৈধতা দিয়ে দেওয়া হয়। 

বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভা শেষে পরিবহণ খাতের চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সড়ক পরিবহণ ও সেতু, রেল ও নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সড়কে পরিবহণের চাঁদা যেটা বলা হয়, সেভাবে আমি চাঁদা দেখি না। মালিক সমিতি, শ্রমিক সমিতি আছে, তারা তাদের কল্যাণে এটা ব্যয় করে। এটা অলিখিত বিধির মতো।’ 

এদিকে মন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। 

যাত্রীকল্যাণ সমিতির সংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে সিটি বাসের সংখ্যা প্রায় ৮ হাজার। এসব বাস থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। এ হিসাবে সিটি বাস থেকে দৈনিক মোট চাঁদা আদায় হয় প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। আর দূরপাল্লার বাস চলাচল করে ৬০ হাজারের বেশি। এসব বাস থেকে গড়ে প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে চাঁদা নেওয়া হয়। অর্থাৎ এ খাত থেকে দৈনিক মোট চাঁদা আদায় করা হয় প্রায় ৩ কোটি টাকা।

এছাড়া রাজধানী ঢাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে ১৮ হাজার। এসব থেকে দৈনিক গড়ে চাঁদা তোলা হয় ১৫০ টাকা। এ হিসাবে ঢাকার সিএনজি অটোরিকশা থেকে দৈনিক মোট চাঁদা তোলা হয় ২৭ লাখ টাকা। চট্টগ্রামে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল করে ১৫ হাজার। সেসব রিকশা থেকে দৈনিক গড়ে চাঁদা আদায় করা হয় ৮০ টাকা করে। এ হিসাবে সেখান থেকে দৈনিক চাঁদা আদায় হয় ১২ লাখ টাকা। 

একইভাবে চাঁদা আদায় করা হয় রাজধানী ঢাকায় চলাচল করা প্রায় ১০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা থেকে। দৈনিক গড়ে ১৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। অর্থাৎ এ খাত থেকে দৈনিক ১৫ কোটি টাকা চাঁদা আদায় করা হয়। পাশাপাশি রাজধানীর বাইরে দেশজুড়ে চলাচল করে আরও প্রায় ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব অটোরিকশা থেকে গড়ে ৮০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। এ হিসাবে দৈনিক ৪০ কোটি টাকার চাঁদা আদায় করা হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চাঁদা আদায় করা হয় ট্রাক থেকে।

সারা দেশে দৈনিক চলাচলকারী ট্রাকের সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ। দৈনিক গড়ে ১ হাজার টাকা করে প্রায় ৪০ কোটি টাকা আদায় করা হয়। এছাড়া টেম্পো, লেগুনাসহ এই শ্রেণির যানবাহন রয়েছে ৮ হাজারের বেশি। এসব পরিবহণ থেকে দৈনিক গড়ে ৮০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। যা থেকে আসে প্রায় ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ সব খাত মিলিয়ে প্রতিদিন পরিবহণ সেক্টর থেকে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, ‘চাঁদা ও চাঁদাবাজি দুটোই রয়েছে সড়কে। যেহেতু সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে তিনি কাজ করেন-এজন্য এ বিষয়ে তার সংগঠন এবং ব্যক্তিগতভাবে তার নিজের যথেষ্ট স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে।’ তিনি জানান, সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠন নামে-বেনামে চাঁদা আদায় করছে। পাশাপাশি হাইওয়ে পুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ, থানা পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও এসব চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। এছাড়া রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও চাঁদা আদায় করে থাকেন।’

তিনি আরও জানান, ‘সব পরিবহণে চাঁদাবাজি হয় এমনটা বলা যাবে না। কোনোটিতে হচ্ছে, কোনোটিতে হচ্ছে না। সবমিলিয়ে গড় হিসাব করে যাত্রীকল্যাণ সমিতি বিভিন্ন সময় চিত্র প্রকাশ করেছে। এসব বিষয় নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছেন বেশির ভাগ পরিবহণকে চাঁদাবাজির শিকার হতে হয়। এক জায়গায় নয়, নানা খাতে তাদের চাঁদা দিতে হয়। সব কথা সাহস করে বলতে পারেন না তারা।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘ডিজিটাল ভাড়া পরিশোধ সিস্টেম ও ডিজিটাল মামলা (ক্যামেরা দেখে মামলা) পদ্ধতি চালু করলে সড়কে পরিবহণের চাঁদাবাজি থাকবে না। বিগত সরকারগুলোকে তিনি এ বিষয়ে বারবার বললেও তারা বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখেনি। উলটো তাকে নানাভাবে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হয়রানি করেছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে মোজাম্মেল হক চৌধুরী জানান, পরিবহণ খাত থেকে সমঝোতার নামে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে, না চাঁদার নামে চাঁদাবাজি চলছে-সেটি সরকার তথা সড়ক মন্ত্রণালয়ের উচিত হবে তদন্ত করে দেখা। যারা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করে আনতে পারবে-তাদের দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এরপর কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করাসহ চাঁদাবাজির প্রমাণ পেলে সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থাও নিতে হবে। এছাড়া তিনি মনে করেন, বর্তমান সড়কমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম যেহেতু নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন, সেহেতু এ বিষয়ে এখন তার কোনো দায় নেই। তবে তিনি এ বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে নিকট ভবিষ্যতে তার ওপর চাঁদাবাজির দায় এসে বর্তাবে। 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু যুগান্তরকে বলেন, ২৪-এর ৫ আগস্টের পর থেকে শ্রমিক ফেডারেশনের নামে সরাসরি কোনো চাঁদা আদায় করা হয় না। তবে সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি এখনো চাঁদা তুলছে।’ তিনি বলেন, ‘শ্রমিক ফেডারেশন শ্রমিক সংগঠন পরিচালনা ও শ্রমিকদের কল্যাণের নামে আগে চাঁদা তুলত, এখন তা নেওয়া হচ্ছে না। তবে নানা নামে, নানা খাতে চাঁদা নেওয়া তো বন্ধ হয়নি। পুলিশসহ বিভিন্ন খাতে পরিবহণ মালিকদের চাঁদা দিয়ে যেতে হচ্ছে।’ তার মতে, ‘এটা সেদিনই বন্ধ হবে, যেদিন পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠবে।’ 

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম যুগান্তরকে বলেন, পরিবহণ মালিক সমিতি টার্মিনালকেন্দ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনার জন্য সমঝোতা চুক্তির ভিত্তিতে কিছু টাকা আদায় করে থাকে। যেটা পরিবহণ মালিকরা স্বেচ্ছায় দিয়ে যাচ্ছেন। ওই টাকা টার্মিনালকেন্দ্রিক পরিবহণ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িতদের বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য খরচ বহন করা হয়। এটাকে আমরা চাঁদা বলি না, এটা ব্যবস্থাপনা খরচ। সড়ক পরিবহণমন্ত্রীও এভাবে টাকা নেওয়াকে চাঁদা বলতে রাজি হননি। তিনি বলেন, সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতি তো আলোচনার ভিত্তিতে টাকা নিচ্ছে। পরিবহণ মালিকরা তা স্বেচ্ছায় পরিশোধ করছেন। যারা সমিতির নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদেরও পরিবহণ রয়েছে। তবে এর বাইরেও সড়কে পদে পদে পরিবহণগুলোকে চাঁদা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে পণ্যবাহী ট্রাকগুলোর কাছ থেকে পৌরকরের পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা জোরপূর্বকভাবে আদায় করা হচ্ছে। 

বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল আইজি (হাইওয়ে পুলিশ) মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা যুগান্তরকে বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছেন। এজন্য গত দেড় বছরে মহাসড়কে চাঁদাবাজি নেই বললেই চলে। তারপরও কোথাও কোনো ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে পুলিশ। তবে এখন মহাসড়ক নয়, টার্মিনালকেন্দ্রিক কিছু চাঁদাবাজি হচ্ছে বলে শোনা যায়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

ছবি : সংগৃহীত
হঠাৎ পরিদর্শনে ধরা, স্ট্যান্ড রিলিজ ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারী

কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও দেরিতে অফিসে আসার দায়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ও বিআইডব্লিউটিসির ১৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ ও বদলি করা হয়েছে।   নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান কর্তৃক বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আকস্মিক পরিদর্শনের পর এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শুক্রবার (২২ মে) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহর সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর বিআইডব্লিউটিএর বরিশাল কার্যালয়ের ড্রেজিং বিভাগ থেকে ৯ জন, নৌ সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ থেকে ২ জন, বন্দর ও পরিবহন বিভাগ থেকে ১ জন এবং হিসাব বিভাগ থেকে ১ জনসহ মোট ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে স্ট্যান্ড রিলিজ (তাৎক্ষণিক অবমুক্তি) করা হয়েছে। পাশাপাশি একই অভিযানে দায়িত্ব অবহেলার দায়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) আরও ৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্যত্র বদলি করা হয়। মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সম্প্রতি প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বরিশাল ও ঢাকায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার কার্যালয়ে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তিনি দেখেন, বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কোনো পূর্বানুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন এবং অনেকেই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে উপস্থিত হয়েছেন। সরকারি কর্মকর্তাদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। এরপরই শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিত থেকে শতভাগ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে সরকারি দপ্তরে কাজের শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও নাগরিক সেবার মান নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এই ধরনের আকস্মিক ও ঝটিকা পরিদর্শন অব্যাহত থাকবে বলে সাফ জানিয়ে দেন তিনি।  

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ১২ আইপিপির সঙ্গে সরকারের চুক্তি

লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টাকে প্রতিহত করেছে বিজিবি

ছবি : সংগৃহীত

এবারের ঈদযাত্রা হবে স্বস্তিদায়ক, বললেন সড়কমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রিসভায় যেসব প্রস্তাবে মিলল অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্ব মন্ত্রিসভার ৮ম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার অষ্টম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রিসভা বৈঠকে জাপান সরকার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘ট্রান্সফার অব ডিফেন্স ইকুইপমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলজি’ শীর্ষক চুক্তি অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করে। আইবিসিএতে যোগ দিচ্ছে বাংলাদেশ ‘ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য এস্টাবলিশমেন্ট অব দ্য ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ)’ স্বাক্ষরের প্রস্তাবও অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। ইন্টারন্যাশনাল বিগ ক্যাট অ্যালায়েন্স (আইবিসিএ) হলো একটি বৈশ্বিক জোট, যা ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে টাইগার, লায়ন, লেপার্ড, স্নো লেপার্ড, পিউমা, জাগুয়ার এবং চিতা এই সাতটি প্রধান বৃহৎ বিড়াল প্রজাতি সংরক্ষণের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে জাতিসংঘ সদস্যভুক্ত ২৪টি দেশ এ জোটের সদস্য।  আইবিসিএ’র মূল উদ্দেশ হলো সদস্যভুক্ত দেশসমূহের বিগ ক্যাটের আবাসস্থল সুরক্ষা, অবৈধ শিকার ও বাণিজ্য প্রতিরোধ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় নিশ্চিত করা। বাংলাদেশ রয়েল বেঙ্গল টাইগারের হোম কান্ট্রি হওয়ায় সুন্দরবনের ইকো-সিস্টেম ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ বিবেচনায় এ জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নিরাপদ অভিবাসনে জিসিএম-ন্যাপ অনুমোদন ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে খসড়া জিসিএম-ন্যাপ (২০২৬-২০৩০) অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ প্রস্তাব উত্থাপন করে। বিশ্বে নিরাপদ, নিয়মিত ও নিয়মতান্ত্রিক অভিবাসন নিশ্চিত করতে ২০১৮ সালে জাতিসংঘে ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেইফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)’ গৃহীত হয়। বাংলাদেশসহ ১৬৪টি রাষ্ট্র জিসিএমের পক্ষভুক্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন বিষয়ে বৈশ্বিক সহযোগিতার বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশ নেতৃত্ব দিয়ে আসছে এবং জিসিএম ধারণার প্রবক্তাও বাংলাদেশ। এ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) ২০২০ সালে বাংলাদেশকে জিসিএম চ্যাম্পিয়ন কান্ট্রি হিসেবে তালিকাভুক্ত করে। জিসিএমের অবজেকটিভ এবং অ্যাকশন প্ল্যান বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে আইওএমের সহযোগিতায় ২০২৬-৩০ মেয়াদের জন্য খসড়া ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান (জিসিএম-ন্যাপ) প্রণয়ন করা হয়, যা মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনুমোদন পেয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

মারিয়া রহমান মে ২২, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের তালিকায় আরও ৫৩ পুলিশ কর্মকর্তা, পাঠানো হতে পারে বাধ্যতামূলক অবসরে

ছবি : সংগৃহীত

মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানে কোটি টাকার জমি উদ্ধার করল সরকার

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল (ফাইল ছবি)

তৃতীয় টার্মিনালের রাজস্বের ৭৩ শতাংশ পাবে জাপান

ফাইল ছবি।
ঈদুল আজহায় বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত, প্রথমটা কয়টায়

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আজহার পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এখানে প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৭টায়। এসব জামাতে ইমামতি ও মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালনকারী আলেম ও সংশ্লিষ্টদের তালিকা চূড়ান্ত করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন (ইফা)। বৃহস্পতিবার ইফার পক্ষ থেকে দায়িত্বপ্রাপ্তদের তালিকা গণমাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। এর আগে ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের পরিচালক ড. মোহাম্মদ হারুনূর রশীদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। প্রথম জামাত সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মুফতি মো. মিযানুর রহমান। এখানে মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারি ইসহাক। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমাম হিসেবে থাকবেন ফাউন্ডেশনের জাকাত ফান্ড বিভাগের পরিচালক (রুটিন দায়িত্ব) ড. মাওলানা ওয়ালীয়ূর রহমান খান। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মসজিদের চিফ খাদেম মো. নাসির উল্লাহ। তৃতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ফাউন্ডেশনের মুফতি মো. আব্দুল্লাহ। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. রুহুল আমিন। চতুর্থ জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইফার দ্বীনি দাওয়াত ও সংস্কৃতি বিভাগের উপ-পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মাওলানা মোহাম্মদ নূর উদ্দীন। মুকাব্বিরের দায়িত্ব পালন করবেন মো. আব্দুল হাদী। পঞ্চম বা সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে। এতে ইমামতি করবেন ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির ধর্মীয় প্রশিক্ষক জুবাইর আহাম্মদ আল-আযহারী। মুকাব্বির হিসেবে থাকবেন মো. আমির হোসেন। নির্ধারিত কোনো জামাতে ইমাম অনুপস্থিত থাকলে বিকল্প ইমাম হিসেবে ফাউন্ডেশনের সহকারী লাইব্রেরিয়ান মো. শহিদুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিকল্প মুকাব্বির হিসেবে মো. শামসুল হক দায়িত্ব পালন করবেন।  সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের আগে মসজিদে উপস্থিত হয়ে পবিত্র ঈদুল আযহার জামাতে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

মারিয়া রহমান মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

হাসিনার অনুগত সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি ঘিরে আলোচনা

বুড়িগঙ্গা নদীতে নির্মিত বসিলা ব্রিজ। ছবি: সংগ্রহীত

এক সপ্তাহে নদী থেকে উদ্ধার ১৭ মরদেহ, আতঙ্ক এলাকাজুড়ে

মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি : সংগৃহীত

জাপানের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি অনুমোদন

0 Comments