দেশের সব বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আওতাধীন শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অনুদানের জন্য আবেদন আহ্বান করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে এ আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন চলবে ১৭ মার্চ পর্যন্ত।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিচালন বাজেটের আওতায় বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এর আওতাধীন শিক্ষক-কর্মচারী এবং সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের অনুদান প্রদানের জন্য অনুসরণীয় নীতিমালার (সংশোধিত-২০২৫) আলোকে কয়েকটি শর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীর কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা যাচ্ছে।
দেশের সব স্বীকৃতিপ্রাপ্ত বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত) মেরামত ও সংস্কার, আসবাব সংগ্রহ, পাঠাগার স্থাপন, খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করার লক্ষ্যে অনুদানপ্রাপ্তির জন্য আবেদন করা যাবে।শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের ক্ষেত্রে অনগ্রসর এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অথচ লেখাপড়ার মান ভালো—এ ধরনের প্রতিষ্ঠান অগ্রাধিকার পাবে।
বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (এমপিওভুক্ত ও নন-এমপিওভুক্ত) শিক্ষক-কর্মচারীরা তাদের দুরারোগ্য ব্যাধি ও দৈবদুর্ঘটনার জন্য অনুদানের আবেদন করতে পারবেন।
সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রছাত্রী দুরারোগ্য ব্যাধি, দৈবদুর্ঘটনা এবং শিক্ষা গ্রহণে ব্যয়ের জন্য আবেদন করতে পারবে। এ অনুদান প্রদানের ক্ষেত্রে দুস্থ, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায়, রোগগ্রস্ত, গরিব, মেধাবী, অনগ্রসর সম্প্রদায় ও অনগ্রসর এলাকার ছাত্রছাত্রীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে অনুদানপ্রাপ্তির জন্য নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক আবেদন করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষক-কর্মচারী এবং ছাত্রছাত্রী ক্যাটাগরিতে অনুদানপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের মাধ্যমে এবং স্নাতক/সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান/রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
আবেদন করার জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান/রেজিস্ট্রার কর্তৃক মাইগভ প্ল্যাটফর্মে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে প্রদত্ত মুঠোফোন নম্বরটি ব্যানবেইসের সর্বশেষ বার্ষিক শিক্ষা জরিপ-২০২৫-এর তথ্যানুযায়ী প্রদান করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে প্রতিষ্ঠানপ্রধান/রেজিস্ট্রারের প্রোফাইল থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের EIIN নম্বর দিয়ে প্রোফাইল ভেরিফাই/যাচাই করতে হবে। প্রোফাইল সম্পন্ন করার পর মাইগভের হোম পেজে ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান/শিক্ষক-কর্মচারী/শিক্ষার্থীদের আর্থিক অনুদান’ অংশে ক্লিক করলে সেবার তালিকা পাওয়া যাবে। সেবার তালিকা থেকে সেবা বাছাই করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক প্রতিষ্ঠানপ্রধান/রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে আগামী ১৭ মার্চ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। প্রাপ্ত আবেদনগুলো জেলা পর্যায়ে গঠিত কমিটি যাচাই-বাছাই করে ১৮ মার্চ থেকে ১৭ এপ্রিল (বিকাল ৫ ঘটিকা/অফিস চলাকালীন সময়) এর মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বরাবর প্রেরণ করবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আবেদনের ক্ষেত্রে অনুদানের প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটি/গভর্নিং বডি/এডহক কমিটির সভাপতি কর্তৃক প্রদত্ত এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা/থানা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কর্তৃক প্রতিপাদিত প্রত্যয়নপত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে।
শিক্ষক-কর্মচারী ক্যাটাগরিতে আবেদনের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর প্রদানসহ জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র, চিকিৎসা-সংক্রান্ত যাবতীয় ডাক্তারি সনদ এবং দৈবদুর্ঘটনার সপক্ষে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়ন ও চিকিৎসা-সংক্রান্ত সনদ অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে।
আবেদনের সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক (সাধারণ) পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র এবং স্নাতক/সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে বিভাগীয় প্রধান কর্তৃক প্রদত্ত প্রত্যয়নপত্র ও জন্মনিবন্ধন সনদ/জাতীয় পরিচয়পত্র অবশ্যই সংযুক্ত করতে হবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে অনলাইনের মাধ্যমে প্রদান করা হবে। সুতরাং অনলাইন আবেদনকালে ব্যাংক হিসাবের তথ্য যথাযথভাবে পূরণ করে ওই হিসাবের প্রমাণক হিসেবে এমআইসিআর চেক বইয়ের একটি চেক পাতার পিডিএফ কপি সংযুক্ত করতে হবে।(ব্যাংক হিসাব অনলাইন না হলে এবং এমআইসিআর চেক বইয়ের একটি চেক পাতা আবেদনের সময় সংযুক্ত করা না হলে আবেদন বাতিল বলে গণ্য হবে)।
শিক্ষক-কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীদের ক্ষেত্রে বরাদ্দকৃত অর্থ মোবাইল ব্যাংকিং (আবেদন ফরমে উল্লেখিত) এর মাধ্যমে প্রদান করা হবে। সুতরাং অনলাইনে আবেদনকালে
রেজিস্ট্রেশনকৃত (KYC আপডেটসহ) ব্যক্তিগত মুঠোফোন নম্বর প্রদান করতে হবে। এজেন্ট নম্বর বা মার্চেন্ট নম্বর গ্রহণযোগ্য নয়।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক-কর্মচারী একবার এ সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। ইতোপূর্বে এ খাতের আওতায় সুবিধাপ্রাপ্ত হলে আবার আবেদন করার জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন না।
ছাত্র/ছাত্রী ক্যাটাগরিতে একজন শিক্ষার্থী তার শিক্ষাজীবনে তিন বছর পরপর আবেদন করতে পারবে।
প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা/উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কর্তৃক প্রদত্ত ‘প্রতিবন্ধী সনদ’ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক কর্তৃক প্রদত্ত সনদ সংযুক্ত করতে হবে।
অসম্পূর্ণ আবেদন বা আবেদনের হার্ড কপি গ্রহণযোগ্য নয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, খাল খনন ও মৃতপ্রায় খাল পুনরুজ্জীবন কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি না করে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন। সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ইয়াকুবপুর ইউনিয়নের মিরেরপোল এলাকায় দাদনার খাল খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের অনেক খাল বর্তমানে দখলে রয়েছে। এসব খালের সীমানা দ্রুত নির্ধারণের জন্য প্রশাসনকে বলা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণ হয়ে গেলে দখল সংক্রান্ত কোনো সমস্যা থাকবে না। তিনি আরও বলেন, জরুরি ভিত্তিতে কয়েকটি খাল ও নদীর সীমানা নির্ধারণে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে। সীমানা নির্ধারণের পর যদি কোথাও দখলের বিষয় থাকে, তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি আশা করছেন, স্থানীয় মুরব্বিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অনেক সমস্যা সহজেই সমাধান করা সম্ভব। মন্ত্রী বলেন, খাল খনন বা মৃত খাল পুনরুজ্জীবনের কাজে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে দায়িত্ব নিয়ে কথা বলা হয়েছে। স্থানীয় নেতাকর্মীদের সহযোগিতায় সবাই মিলে এই কাজ সম্পন্ন করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, দূষণ হ্রাস, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য খাল খনন ও পুনঃখননের বিকল্প নেই। দেশের কৃষি উৎপাদন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নের সঙ্গে এসব খাল সরাসরি জড়িত। মন্ত্রী বলেন, এটি সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার একটি অংশ। খনন করা খালগুলো যদি নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়, তাহলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে যাবে। সরকারের পাঁচটি দপ্তর বর্তমানে খাল খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ সময় ফেনীর জেলা প্রশাসক মনিরা হক, পুলিশ সুপার মো. শফিকুল ইসলাম, বিএডিসির উপ-প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ নুরনবী, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিক উল্ল্যাহ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী হাবিবুল্লাহ মানিক, দাগনভূঞা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম এবং উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকবর হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল, জলধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি উদ্বোধন ও বাস্তবায়ন উপলক্ষ্যে সুনামগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার হরিরামপুর খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধন পূর্ব আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সুনামগঞ্জ-৩ (শায়েস্তা গঞ্জ-জগন্নাথপুর) আসনের সংসদ সদস্য এম কয়ছর আহমদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদস-বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের (ছাতক-দোয়ারাবাজার) সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। উদ্বোধনী সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা জেরিন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট শেরনুর আলী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমদাদুল হক, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও খেলাফত মজলিস নেতা হাফেজ ফেদাউর রহমান।
প্রবাসী কল্যাণ এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নূর এমপি বলেছেন, জেলেরা যাতে নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে পারে, সে জন্য ইজারা প্রথা বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘জাল যার, জল তার- মাছ ধরতে আর ইজারা দিতে হবে না।’ আজ সোমবার জেলার গলাচিপা পৌরসভার শান্তিবাগ এলাকায় গলাচিপা খাল এবং এর শাখা খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। নুরুল হক নূর বলেন, অনেক সময় জেলেদের মাছ ধরতে গিয়ে জলাভূমি ইজারা নিতে হয়। এখন থেকে এমন ব্যবস্থা করা হবে, যাতে জাল থাকা ব্যক্তিরাই মাছ ধরতে পারেন এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ইজারা না থাকে। তিনি আরও বলেন, সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা বিতরণে কোনো ধরনের দলীয় বিবেচনা করা যাবে না। ঈদ উপলক্ষে ভিজিএফের চাল, বয়স্ক ভাতাসহ বিভিন্ন সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। নূর বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চরাঞ্চলের জমি উন্মুক্ত করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যাদের বৈধ দলিল রয়েছে, তারা যেন নিজেদের জমি ভোগ করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি এক বছরের জন্য লিজ দেওয়া জমিগুলো প্রকৃত ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টনের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরী। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।