অর্থনীতি

রডের দাম বাড়ার পেছনে সিন্ডিকেট নেই: সিএসআরএম চেয়ারম্যান

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুন ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

নির্মাণ কাজের অন্যতম প্রধান উপাদান এমএস রডের দাম কয়েক বছরে অনেকটা বাড়লেও এর পেছনে ব্যবসায়ীদের কোনো ‘সিন্ডিকেট নেই’ বলে দাবি করেছেন স্টিল উৎপাদনকারী কোম্পানি চাকদা স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস (সিএসআরএম) প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহজাহান।

 

তার ভাষ্য, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, আমদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের বিপরীতে টাকার উচ্চ বিনিময় হার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বৃদ্ধি এ নির্মাণ সামগ্রীটির দাম বাড়ার নেপথ্যে কাজ করেছে।

 

এ পরিস্থিতিতে স্টিল উৎপানকারীদের ব্যবসা ‘খুব ভালো নেই’ বলে দাবি করেছেন এ খাতের ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ)’ উপদেষ্টা শাহজাহান।

 

উৎপাদনের তুলনায় চাহিদার স্বল্পতা, রপ্তানির সুযোগ না থাকা, দেশে ভারী শিল্পে দক্ষ জনবলের অভাবসহ স্টিল শিল্পের নানা সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের নিয়মিত আয়োজন ‘চিনওয়্যাগ উইথ দ্য চিফস’-এ কথা বলেছেন এ বনেদি ব্যবসায়ী।

 

রডের চাহিদা কম থাকায় সিন্ডিকেটের সুযোগ নেই

কয়েকজন ব্যবসায়ী জোটবেঁধে বা সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়িয়ে ফেলছে—জনসাধারণের এমন ধারণা ‘একদমই সঠিক’ নয় বলে মন্তব্য করেন সিএসআরএম এমডি শাহজাহান।

 

যুক্তি দেখিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদনের চেয়ে বাজারে চাহিদা কম থাকায় সিন্ডিকেট করে রডের দাম বাড়ানোর সুযোগই নেই।

 

“আমাদের প্রোডাকশন অনুযায়ী ডিমান্ড কম। আল্টিমেটলি কেউ চায় না তার প্রোডাক্টটা ধরে রাখতে। কারণ আমি যদি একটা প্রোডাক্ট ধরে রাখি, তাহলে আমার খরচ বেড়ে যায়। আমাকে ব্যাংকের টাকা দিয়েই তো প্রোডাক্টটাকে মজুদ রাখতে হচ্ছে। যার ফলে আমি চাই যে এটাকে ডিসবার্স করতে। সুতরাং এখানে সিন্ডিকেশনের তো প্রশ্নই আসে না।

 

শাহজাহান বলেন, “সিন্ডিকেশনটা কখন হবে? যখন সবাই চাইবে যে, না আমি এই জায়গায় থাকব, এখান থেকে আর বের হব না। কিন্তু আমাদেরতো ডিমান্ড ওই পর্যন্ত নাই।

 

যদি ডিমান্ড আমার বেশি থাকতো প্রোডাকশনের চাইতে, তখন সিন্ডিকেশনের প্রশ্ন আসতো। এখন কিন্তু আমরা সেই জায়গায় নাই। এবং এইটা হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নাই।

 

‘ভালো নেই’ স্টিল ব্যবসায়ীরা

আন্তর্জাতিক বাজারে কাচামালের দাম বৃদ্ধি, আমাদানি খরচ বেড়ে যাওয়া, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার, ডলারের বিপরীতে টাকার উচ্চ বিনিময়হার, জ্বালানি ও বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে রডের চাহিদা কম থাকা এ খাতের ব্যবসায়ীরা ‘ভালো অবস্থায়’ নেই বলে ভাষ্য স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা শাহজাহানের।

 

তিনি মনে করেন, ডলারের বিপরীতে টাকার বিনিময় হার এবং ব্যাংকের সুদ হার ‘হুট করে বেড়ে যাওয়ায়’ এ খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

 

শাহজাহানের কথায়, ওই সময় ডলারের দাম ছিল ৮৬ টাকা। আমরা ওই সময় কাঁচামাল আমদানিতে ইউপাস এলসি (সরবরাহকারী তাৎক্ষণিক টাকা পেলেও তা পরিশোধে আমদানিকারক সময় পেয়ে থাকে) করি। এ এলসির ক্ষেত্রে পণ্য আমদানির ছয় মাস পরে টাকা পরিশোধের সুযোগ থাকে।

 

স্থানীয় ব্যাংক ঋণের সুদ হার ১৩ শতাংশ হলেও ইউপাস এলসিতে ব্যাংকিং কস্ট কম পড়ে; তো সবাই (ব্যবসায়ীরা) মিলে ইউপাস এলসি করা। কিন্তু এ এলসিগুলোর যখন পেমেন্টের সময় হলো তখন ডলারের দাম দাঁড়াল ১২৩ টাকায়। একটু প্রফিট করতে গিয়ে বড় ধরনের লস করলাম। তো এই লসটা কিন্তু একটা বড় ধরনের ধাক্কা সব ইন্ডাস্ট্রিকেই দিয়েছে।

 

সিএসআরএম এমডি বলেন, “ডলারের দাম বাড়ায় আমাদের বিনিয়োগ বেড়ে গেছে, কস্ট অব ফান্ডও বেড়ে গেছে। প্রফিট কিন্তু আমরা করতে পারছি না ওইরকম। এটা আমাদের জন্য বড় একটা ঝুঁকির বিষয়।

 

ডলারের আগের দামে আমরা ৮৬ টাকায় যে পরিমাণ কাঁচামাল কিনতে পারতাম, এখন ১২৩ টাকাতেও তা পাচ্ছি না। এই ক্ষেত্রে অনেক ব্যাংকের যে সাপোর্ট আরও দরকার ছিল, সেইগুলোতেও কিছু প্রবলেম আছে। তো সবকিছু মিলায়ে উই আর নট ইন গুড শেইপ।

 

শাহজাহান বলেন, “সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এখন ব্যাংক ইন্টারেস্ট এবং ডিমান্ডকে ক্রিয়েট করা। এখন ডিমান্ডটা অনেক কম আছে।

 

ডিমান্ডটাকে যদি ক্রিয়েট না করা যায় বা ওভারঅল গভর্মেন্টের যে ওয়ার্কগুলো আছে, সেগুলো যদি সচল না করা যায়; এটা একটা বড় ধরনের ঝুঁকি আমাদের জন্য হবে।

 

‘দেশে চাহিদা কম, রপ্তানির সুযোগও নেই’

রড উৎপাদনের তুলনায় দেশের বাজারে চাহিদা কম যেমন, তেমনই উচ্চ উৎপাদন ব্যয়ের কারণে রপ্তানির সুযোগও তৈরি হচ্ছে না বলে ভাষ্য সিএসআরএম এমডি শাহজাহানের।

 

তিনি বলছিলেন, রড রপ্তানি আমাদের জন্য একটু সমস্যাই। কারণ আমরা তো র ম্যাটেরিয়ালসটাকে ইমপোর্ট করে নিয়ে আসি। এবং আমাদের বিদ্যুতের দাম বেশি, গ্যাসের দাম বেশি হচ্ছে; ঠিকভাবে আমরা এই বিদ্যুৎ-গ্যাসের সাপ্লাই পাচ্ছি না, যার ফলে আমাদের কস্ট বেড়ে যাচ্ছে।

 

ব্যাংকিং চার্জ আমাদের বেশি। সবকিছু মিলিয়ে সবদিকে আমাদের কস্টিংয়ের সূচকটা বেশি। তো আমরা যে দেশের বাইরে বিক্রি করতে চাচ্ছি, তারা আসলে কম্পিটিটিভ প্রাইস হলেই নেবে। রপ্তানির জন্য সেই জায়গাটা আমাদের তৈরি হয়নি।

 

শাহজাহান বলেন, উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ার কারণে এই মুহূর্তে সেই সম্ভাবনাটা কম। হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে হতে পারে; সরকার যদি স্টিল ব্যবসায়ীদের কিছু ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করে, তাহলে হয়তো রড রপ্তানি সম্ভব হবে।

 

দক্ষ জনবলের অভাব

দক্ষ জনবলের অভাব স্টিল শিল্পখাতকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে বলে মনে করেন ব্যবসায়ী শাহজাহান।

 

তিনি বলেন, ভারী শিল্পের দক্ষ জনবল তৈরি হচ্ছে কম। আসলে আমরা আমাদের রিকোয়ারমেন্ট অনুযায়ী পাচ্ছি না। অনেক সময় দেখা যায় কী... যারা বুয়েট থেকে পাশ করে বা অন্যান্য প্রকৌশল থেকে পাশ করে, সবাই না এরা তো ইঞ্জিনিয়ার তাই না? এরা সবাই ডেস্কওয়ার্ক করতে চায়। ফিল্ডওয়ার্ক করতে চায় না।

 

সিএসআরএম এমডি বলেন, “আপনি একজন ইঞ্জিনিয়ার তো, ডেস্ক ওয়ার্কের তো আপনার বেশি কিছু থাকবে না; আপনার ফিল্ডওয়ার্কেই বেশি কিছু থাকে। আমাদের দেশে এই জিনিসটা... মানে এই ছেলেদের মধ্যে যারা পড়াশোনা করে বের হয়, সবাই চায়—‘আমি একটা ভালো অফিসে বসব, যেখানে এসি থাকবে, একটা ডেস্ক থাকবে, আমি ডেস্কে বসে বসে কাজ করব’। ফলে এই সেক্টরটাতে ডেভেলপমেন্টটা কম হচ্ছে।

 

আর যারা বুয়েট থেকে পাস-টাস করে, এরা কিন্তু বাইরে চলে যায়। দেশে থাকতে চায় না আল্টিমেটলি। তবে দেশে থেকেও স্টিলখাতে কাজ করে অনেক দূরে যাওয়ার সুযোগ তাদেরও আছে।

 

‘দিতে হবে সেরাটা, ঠিক রাখতে হবে কথা-কাজ’

কথা-কাজে মিল রেখে সেরা দামে সেরা পণ্য সরবরাহই স্টিল ব্যবসায় সিএসআরএমকে সাফল্য এনে দিয়েছে বলে মনে করেন কোম্পানির এমডি শাহজাহান।

 

তিনি বলেন, “আমরা শুধু বেস্ট অব কোয়ালিটিতে থাকতে চাই না। আমরা বেস্টটা— সব জায়গায় থাকতে চাই। এইজন্য আমরা কমিটেড ফর বেটার স্টিল। আমাদের থিংকিং বেস্ট, বেস্ট ফর দ্য প্রাইস, বেস্ট ফর দ্য সাপ্লাই ইন টাইম, বেস্ট ফর দ্য কমিটমেন্ট।

 

“আপনি বেস্ট প্রোডাক্ট করলেন, আপনার প্রাইসটা এমন জায়গায় যে কাস্টমার অ্যাফোর্ড করতে পারল না। আই থিংক দিস ইজ নট বেস্ট। আপনি কাউকে কমিট করলেন যে, ‘আমি আপনাকে এত টন রড দেব, একটা প্রাইসে’। প্রাইসটা মার্কেটে প্রায় ফ্লেক্সিবল হয়। প্রাইস বেড়ে গেল, আপনি রডটা দিলেন না। দিস ইজ নট বেস্ট। বাট উই আর ডুইং অল। আমরা যদি কাউকে কমিটমেন্ট দেই, ইনশাল্লাহ আমরা সেই কমিটমেন্ট ফুলফিল করি।

 

এমনও হয়েছে সাডেনলি প্রাইস বেড়ে গিয়েছে দশ হাজার টাকা পার টনে। অনেক সময় র ম্যাটেরিয়ালসের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। কিন্তু আমরা আমাদের কমিটমেন্ট রক্ষা করেছি; যা আমাদের স্টিল খাতে সেরা করে তুলেছে।

 

শাহজাহান বলেন, সঠিক সময়ে গ্রাহকের দ্বারে পণ্য পৌঁছে দিতে সিএসআরএম পরিবহন সেবাও দিয়ে থাকে। কথা-কাজে মিল রেখে সেরা পণ্য সরবরাহে করে স্টিল ব্যবসায় সুদীর্ঘ পথচলা সিএসআরএমের রডকে যমুনা সেতু থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে, আগারগাঁওয়ের সরকারি অফিস থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ফ্লাইওভারে পৌঁছে দিয়েছে।

 

শৈশব কাটানো নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার চাকদা এলাকার নাম অনুসারে চাকদা স্টিল অ্যান্ড রি-রোলিং মিলস প্রাইভেট লিমিটেড বা সিএসআরএমের নামকরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন শহাজাহান।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
বন্ডবাজারে অস্থিরতা ও নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদায় ঊর্ধ্বমুখী স্বর্ণের বাজার

মার্কিন ডলারের দর ও ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কমায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর অপেক্ষায় রয়েছেন। এতে সুদের হার নিয়ে ফেডের পরবর্তী অবস্থানের বিষয়ে নতুন ইঙ্গিত পাওয়ার আশা করছেন তারা। খবর রয়টার্স।      মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় রাত ৮টা ৯ মিনিটে স্পট গোল্ডের দাম ০ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৫৫ দশমিক ৩৪ ডলারে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ডিসেম্বর সরবরাহের গোল্ড ফিউচারও ০ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।     আমেরিকান গোল্ড এক্সচেঞ্জের বাজার বিশ্লেষক জিম ওয়াইকফ বলেন, ফ্রান্সের বন্ডবাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বাজার নিয়ে বাড়তে থাকা উদ্বেগের কারণে স্বর্ণয় নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা দেখা যাচ্ছে।     সোমবার দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের ইয়েল্ড কিছুটা কমেছে। একই সময়ে এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে ডলারের দরও কমেছে। এতে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়েছে।     ইউরোজোনের বিভিন্ন দেশে সরকারি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি ও বাজেট ঘাটতি বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ফ্রান্সের পরিস্থিতির কারণে দেশটির সরকারি বন্ডের ইয়েল্ড বেড়েছে।     এখন বিনিয়োগকারীদের নজর বুধবার প্রকাশ হতে যাওয়া ফেডারেল ওপেন মার্কেট কমিটির সেপ্টেম্বরের বৈঠকের কার্যবিবরণীর দিকে। চলতি বছরে আরও সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা সম্পর্কে এতে ধারণা পাওয়া যেতে পারে।     সেপ্টেম্বরে প্রত্যাশার তুলনায় দুর্বল কর্মসংস্থান বৃদ্ধির তথ্য প্রকাশের পর চলতি মাসে ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে বাজারের প্রত্যাশা কমেছে।       সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ২২ শতাংশ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা। তবে ডিসেম্বরে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা ৮৪ শতাংশ ধরে নিয়ে বাজারে লেনদেন হচ্ছে।     সাধারণত উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ তখন বিনিয়োগকারীরা সুদ পাওয়া সম্পদের দিকে বেশি ঝুঁকতে পারেন।     এদিকে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকা এবং জি-৭ জোটের জরুরি মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। এতে তেলের দাম কমেছে।     তবে স্বল্পমেয়াদে কিছুটা চাপ থাকলেও স্বর্ণের বাজারে এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড বা ইটিএফের মাধ্যমে বিনিয়োগ এবং ব্যক্তিগত বিনিয়োগকারীদের চাহিদা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে টিডি সিকিউরিটিজ। প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষকেরা এক নোটে বলেছেন, ২০২৭ সালে স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৫ হাজার ডলারের ওপরে উঠবে বলে তারা মনে করছেন।       এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে রুপার দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৬১ দশমিক ০১ ডলারে রয়েছে। প্লাটিনামের দাম ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৬৮৭ দশমিক ৭০ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে ১ হাজার ১৬০ দশমিক ৩৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৬, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

চলতি মাসের প্রথম ৫ দিনেই ৫১ কোটি ডলার রেমিট্যান্স

এনজিও, বেসরকারি খাত ও সরকারের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্ব জরুরি : অর্থমন্ত্রী

‘দিন যাচ্ছে আর দাম বাড়ছে, হিসাব মেলানোই কষ্ট’: রাজধানীতে সবজির বাজারে হাহাকার

মিরসরাইয়ে ১৯.৬৫ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্ট

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ৬ দশমিক ৫ একর জমিতে শিল্প কারখানা স্থাপনে ১৯ দশমিক ৬৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড। এ বিনিয়োগের মাধ্যমে ২৫০ জনের বেশি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।   এ লক্ষ্যে আজ সোমবার র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেড ও ইনভেস্ট বাংলাদেশের মধ্যে একটি ভূমি ইজারা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ইনভেস্ট বাংলাদেশের সদস্য (বিনিয়োগ উন্নয়ন) নাহিয়ান রহমান রোচি এবং র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইমরান জামান খান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।   চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নাহিয়ান রহমান রোচি বলেন, তিনটি বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থাকে একীভূত করার পর এটিই ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রথম ভূমি ইজারা চুক্তি। র‌্যানকন লুব্রিকেন্টসের মতো শীর্ষ বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের এই প্রতিশ্রুতি নবগঠিত সংস্থার প্রতি গভীর আস্থার প্রতিফলন, যা অন্যান্য বিনিয়োগকারীদেরও উৎসাহিত করবে।   চুক্তি অনুযায়ী, জমি হস্তান্তরের তারিখ থেকে ইজারার মেয়াদ হবে ৫০ বছর, যা নির্ধারিত শর্তে নবায়নযোগ্য। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে র‌্যানকনকে জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হবে।   জমি হস্তান্তরের ১২০ দিনের মধ্যে কারখানা নির্মাণের কাজ শুরু করবে র‌্যানকন লুব্রিকেন্টস। আগামী ৩৬ মাসের মধ্যে শিল্প ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদনে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।   চুক্তির আওতায় ইউটিলিটি সংযোগ প্রদানসহ সরকার ঘোষিত শুল্ক, মূল্যসংযোজন কর (ভ্যাট) ও অন্যান্য কর সুবিধাপ্রাপ্তিতে ইনভেস্ট বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে।   অন্যদিকে, সময়মতো সব ধরনের অনুমোদন নেওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ, শ্রম ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বিধিবিধান মেনে চলার বাধ্যবাধকতা রয়েছে র‌্যানকন লুব্রিকেন্টসের। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব বর্জ্য ও পয়ঃনিষ্কাশন শোধনাগার স্থাপনের পাশাপাশি অর্থনৈতিক অঞ্চলের ‘কমন এফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ (সিইটিপি) ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ নিশ্চিত করবে।   চুক্তিতে প্রকল্পের কার্যসম্পাদন ও নিয়মকানুন মেনে চলার বিষয়টি নিবিড় পর্যবেক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া যেকোনো লঙ্ঘন সংশোধনে নির্দিষ্ট সময় প্রদান এবং ‘আরবিট্রেশন আইন, ২০০১’-এর আওতায় সালিসের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রাখা হয়েছে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ০৫, ২০২৬

বাংলাদেশ-জাপান বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবে নতুন জেবিসিসিআই বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

খাদ্য নিরাপত্তায় বাংলাদেশকে ৩০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

১৯ ব্যাংকের কার্ড ও এটিএম সেবা ৬ দিন সাময়িক বন্ধ

সংগৃহীত ছবি
সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে আসছে ১৪ ডাচ কোম্পানি

বাংলাদেশের সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানে ১৪টি ডাচ কম্পানি আসবে বলে উল্লেখ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত জোরিস ভ্যান বোমেল। তিনি বলেছেন, ‘আগামী সপ্তাহে ১৪টি ডাচ কম্পানির একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে।     তারা বিশেষ করে সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করবে।’     সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন ২০২৬ ’-এর তৃতীয় দিনের একটি অধিবেশনে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।       পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও বঙ্গোপসাগরের টেকসই ব্যবহারে আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানি ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা—টেকসই উন্নয়নের জন্য এসব বিষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা, কারিগরি দক্ষতা, দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং সরকার ও জনগণের মধ্যে সহযোগিতা প্রয়োজন।   নেদারল্যান্ডস পানি ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু অভিযোজন ও টেকসই কৃষিতে বাংলাদেশের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ে সহযোগিতা করতে পারে। আন্তসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় একাধিক দেশের স্বার্থ জড়িত। তাই নদী অববাহিকাভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জরুরি। আন্তর্জাতিক পানি আইন ও কূটনীতি বিষয়ে বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বাড়াতেও নেদারল্যান্ডস কাজ করছে বলে জানান তিনি।     বঙ্গোপসাগরকে আঞ্চলিক বাণিজ্য, সামুদ্রিক যোগাযোগ, মৎস্য, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন ডাচ রাষ্ট্রদূত। তবে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, সামুদ্রিক দূষণ ও পরিবেশের ওপর চাপ বঙ্গোপসাগরের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।       টেকসই উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান নাগরিক, ব্যবসা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বাড়ায়। জলবায়ু পরিবর্তন, খাদ্যনিরাপত্তা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বহুপক্ষীয় সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জনতা ব্যাংকের ইউএই ঋণ নিয়ে নতুন প্রশ্ন, ৩০৪ কোটি টাকার হিসাব ঘিরে ভিন্ন বক্তব্য

ছবি: সংগৃহীত

সুতা আমদানিতে জটিলতা, বিপাকে পোশাক কারখানার মালিকেরা

ছবি: সংগৃহীত

এলপিজির দাম নিয়ে বিইআরসির কঠোর নির্দেশ

0 Comments