অর্থনীতি

ডিএসইতে লেনদেন ও সূচক নিম্নমুখী

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) আজ লেনদেন ও সূচক উভয় ক্ষেত্রেই নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। দিন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩২ দশমিক ৩০ পয়েন্ট কমে ৫,২৩৪ দশমিক ৩৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

ডিএসই সূত্র জানায়, আজ ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ দশমিক ৮৬ পয়েন্ট কমে ২,০০১ দশমিক ৮৫ পয়েন্টে নেমে আসে। তবে ডিএসই শরীয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১ দশমিক ৭৬ পয়েন্ট বেড়ে ১,০৭২ দশমিক ১৩ পয়েন্টে অবস্থান করে।

আজ ডিএসইতে ৩৯২টি কোম্পানির মোট ২১ কোটি ৪ লাখ ১০ হাজার ৪৮৫টি শেয়ার ও মিউচ্যুয়াল ফান্ড ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মোট লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫,৮৭ কোটি ৪১ লাখ ৭২ হাজার ১৯৫ টাকা। লেনদেনকৃত কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১২৩টির, কমেছে ২২২টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৪৭টি কোম্পানির শেয়ার।

লেনদেনের পরিমাণের ভিত্তিতে শীর্ষ ১০ কোম্পানি হলো- এশিয়াটিক ল্যাব, ইসলামী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, সিমটেক্স, বিএসসি, ওয়ালটন হাইটেক, প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং কে অ্যান্ড কিউ।

দর বৃদ্ধির শীর্ষে থাকা ১০টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের মধ্যে রয়েছে- ইবিএল প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইএফআইসি প্রথম মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইসিবি এমপ্লয়িজ মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ (স্কিম-১), প্রাইম প্রথম আইসিবিএ মিউচ্যুয়াল ফান্ড, এসইএমএল আইবিবিএল মিউচ্যুয়াল ফান্ড, আইএফআইএল ইসলামী মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১, ওয়ালটন হাইটেক, আলহাজ্ব টেক্সটাইল, আইসিবি সোনালী মিউচ্যুয়াল ফান্ড-১ এবং এফবিএফ ইনকাম ফান্ড।

অন্যদিকে দর কমার শীর্ষে থাকা কোম্পানিগুলো হলো- রিজেন্ট টেক্সটাইল, টেকনো ড্রাগস, আরামিট সিমেন্ট, টুংহাই ইন্ডাস্ট্রিজ, রহিম টেক্সটাইল, নর্দান ইন্স্যুরেন্স, এবি ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিকস, মোজাফফর স্পিনিং এবং ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
মার্কিন তদন্তে রপ্তানি ঝুঁকি তৈরি হবে?

পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম বন্ধে ৬০টি দেশের ‘যথেষ্ঠ পদক্ষেপ’ নেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র তদন্তে নামায় এককভাবে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রপ্তানির গন্তব্যের দেশটিতে কোনো ঝুঁকি তৈরি হবে কি না সেই ভাবনা সামনে এসেছে।   আপাত দৃষ্টিতে এটিকে শুধু নীতি ও পদক্ষেপ যাচাইয়ের একটি প্রক্রিয়া হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে এ তদন্তের ফল নেতিবাচক হলে তা ভবিষ্যতে রপ্তানি খাতে চাপ তৈরিতে কতটা প্রভাব ফেলবে সেই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে তাদের মধ্যে। নিজেদের ক্রেতা ও শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় তখন যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার শঙ্কা থাকছে। এরপরও এ তদন্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতের নেতারা। দেশের প্রধান রপ্তানি খাতটি সব ধরনের ‘কমপ্লায়েন্স’ মেনে চলায় তারা একক দেশ হিসেবে বৃহত্তম রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্রের এ তদন্তকে ‘ভয়ের কারণ’ দেখছেন না। একইরকম ভাষ্য মিলেছে সরকারের তরফেও। রপ্তানি বাজারে এর কোনো ‘প্রভাব থাকবে না’ বলে মনে করছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান। যে আইনের অধীনে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর- ইউএসটিআর তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে সেই আইন বলছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে কোনো দেশের নীতি বা বাণিজ্য আচরণ তাদের ব্যবসার জন্য ‘অযৌক্তিক’ বা ‘বৈষম্যমূলক’ তাহলে ‘প্রতিক্রিয়ামূলক বাণিজ্য ব্যবস্থার’ মত পদক্ষেপ নিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে- শুল্ক আরোপ বা আমদানি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া; ওই দেশের সঙ্গে কোনো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় রপ্তানিতে ছাড় দেওয়া হলে তা তুলে দেওয়া বা প্রত্যাহার করা; অথবা দেশটির সরকারের সঙ্গে ‘বাধ্যতামূলক’ চুক্তি করে ‘বিতর্কিত’ কার্যক্রম বন্ধ করা বা যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষতিপূরণ প্রদান করা। অন্য দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকেও এমন তদন্তের মধ্যে রাখার সিদ্ধান্তকে ‘মোস্ট স্ট্রেঞ্জ’ হিসেবে দেখছেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জায়েদী সাত্তার। তিনি বলেন, ‘জোরপূর্বক শ্রম’ হিসেবে যে সংজ্ঞায়ন করা হয়েছে তা বাংলাদেশের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না। তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় বাজার হওয়ায় বাংলাদেশসহ সব দেশের জন্যই এ তদন্তকে ‘ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের’ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করে বাংলাদেশকে কৌশলগত দেনদরবারের দিকে এগোনোর পরামর্শ দিয়েছেন বিশ্ব ব্যাংকের সাবেক এই পরামর্শক। কেন এমন পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসটিআর বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইন, নীতি ও বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর–তা খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এ তদন্ত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ৩০১(বি) ধারার আওতায়, যেটির মাধ্যমে অন্য দেশের বাণিজ্য নীতি মার্কিন বাণিজ্যের জন্য অযৌক্তিক বা বৈষম্যমূলক মনে হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়ামূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, জোরপূর্বক শ্রমের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ঐকমত্য থাকার পরও দেশগুলোর সরকার তাদের বাজারে জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সেগুলো কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করব, বিদেশি সরকারগুলো জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিয়েছে কি না এবং এসব অনৈতিক চর্চা মার্কিন শ্রমিক ও ব্যবসার ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে। ইউএসটিআর বলছে, তদন্ত শুরু হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক পরামর্শের উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে তালিকাভুক্ত দেশের সরকারগুলোর কাছে আলোচনার অনুরোধ পাঠানো হয়েছে। এ তদন্তের শুনানি ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে বলে তুলে ধরেছে ইউএসটিআর। শুনানিতে যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মতামত দিতে চায় বা অংশ নিতে চায় বা সাক্ষ্যের সারসংক্ষেপ জমা দিতে চায়, তাদের ১৫ এপ্রিলের মধ্যে লিখিত মতামত ও আবেদন জমা দেওয়ার কথা বলেছে মার্কিন সংস্থটি। তদন্ত মানেই কি নিষেধাজ্ঞা? তদন্ত শুরু হওয়া মানেই তাৎক্ষণিক শুল্ক বা আমদানি নিষেধাজ্ঞা নয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সম্প্রসারণে একের পর এক যেসব সিদ্ধান্ত নিয়ে চলছে তাতে শঙ্কাও কম নয়। সাধারণত এমন তদন্ত প্রক্রিয়ায় প্রথমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নীতি ও আইন মূল্যায়ন করা হয় এবং পরে প্রয়োজন হলে বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। মূলত মার্কিন বাণিজ্য স্বার্থ রক্ষা ও তার সম্প্রসারণের একটা ব্যবস্থা হিসেবে এটি গ্রহণ করা হয়। ৩০১ ধারা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন মনে করলে সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ, আমদানি সীমাবদ্ধতা আরোপ বা বাণিজ্য চুক্তির সুবিধা স্থগিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে আবার সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেও বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন প্রথমবার এসে ২০১৭ সালে এ ধারার ব্যবহার শুরু করে। ওয়ার্ল্ড ট্রেড অরগানাইজেশন (ডব্লিউটিও) ১৯৯৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর অনেক বছর যুক্তরাষ্ট্র এ ধারা মূলত সংস্থাটিতে মামলা করার ভিত্তি তৈরির জন্য ব্যবহার করত। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন সেবার এ আইনের ব্যবহার বাড়ায়। প্রথমেই ২০১৭ সালে চীনের প্রযুক্তি হস্তান্তর ও মেধাস্বত্ব নীতির তদন্ত চালু করে এবং পরের বছর দেশটির প্রায় ৩৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্যের ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে ২৫ শুল্ক আরোপ করে। এ সিদ্ধান্তকে ‘চ্যালেঞ্জ’ করে চীন ডব্লিউটিও এর দ্বারস্থ হয় এবং বলে- এটি সংস্থাটির বিধিবিধানের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’। পরে সংস্থাটি চীনের পক্ষে রুল জারি করলেও যুক্তরাষ্ট্র সেটি আমলে না নিয়ে শুল্ক আরোপ চালিয়ে যায়। এরপর ২০২০ সালে বিমান শিল্পে ভর্তুকি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক বসানো হয়, যা পরে ২০২১ সালে স্থগিত করা হয়। বাইডেন প্রশাসন ক্ষমতায় এসেও পরে এ ধারা অব্যাহত রাখে। নতুন করে নিকারাগুয়ার শ্রম ও মানবাধিকার নীতি, চীনের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নীতি এবং চীনের জাহাজ নির্মাণ ও শিপিং খাত নিয়ে নতুন করে তদন্ত শুরু করে। ট্রাম্প প্রশাসন দ্বিতীয় দফায় এসে ব্রাজিলের ডিজিটাল বাণিজ্য ও ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট সেবা, ইথানল মার্কেট এক্সেস এবং চীনের বিরুদ্ধে আরও একটি তদন্ত শুরু করে। সবশেষ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ছাড়া অন্য যেসব দেশের ওপর তদন্ত হবে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে-ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, আর্জেন্টিনা, অস্ট্রেলিয়া, বাহামা, বাহরাইন, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, কানাডা, চিলি, চীন, কলম্বিয়া, কোস্টারিকা, ডমিনিকান প্রজাতন্ত্র, ইকুয়েডর, মিসর, এল সালভাদর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), গুয়াতেমালা, গায়ানা, হন্ডুরাস, হংকং (চীন), ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, জর্ডান, কাজাখস্তান, কুয়েত, লিবিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, নিউজিল্যান্ড, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, নরওয়ে, ওমান, পাকিস্তান, পেরু, ফিলিপাইন, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, সুইজারল্যান্ড, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), যুক্তরাজ্য, উরুগুয়ে ও ভেনেজুয়েলা। এর আগে গত বুধবার উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা ও অতিরিক্ত উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ১৬টি দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে দেশটি। ‘শঙ্কার কারণ নেই’ বাংলাদেশের রপ্তানি খাতের শিল্পে পণ্য উৎপাদনে দীর্ঘদিন থেকেই জোরপূর্বক শ্রম না থাকার দাবি করে নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এ নিয়ে ‘শঙ্কার কোনো কারণ’ দেখছেন না। তবে ট্রাম্প প্রশাসন তার দেশের বাণিজ্য বাড়াতে একের পর এক যেসব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে এবং শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দেশটির স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্য চুক্তি সেরে নিচ্ছে- তাতে কিছুটা হলেও ভয় দেখছেন তিনি। এজন্য রপ্তানিকারকদের সঙ্গে বসে বর্তমান সরকারকে দ্রুত কৌশল ঠিক করার তাগিদ দিয়েছেন এই ব্যবসায়ী নেতা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বসার পর ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল শতাধিক দেশের ওপর চড়া হারে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বাংলাদেশের ওপর বাড়তি ৩৭ শতাংশ শুল্কের ঘোষণা আসে। পরে দর কষাকষি করে এ হার ২০ শতাংশ নামে, যা ১ অগাস্ট কার্যকর হয়। আগে থেকেই বাংলাদেশি পণ্যে ছিল ১৫ শতাংশ শুল্ক; সব মিলিয়ে শুল্ক দাঁড়ায় ৩৫ শতাংশ। বাড়তি এ শুল্ক কমাতে অন্তর্বর্তী সরকার টানা নয় মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে। সমঝোতায় পৌঁছাতে মার্কিন পণ্যের আমদানি বাড়ায় বাংলাদেশ। বোয়িং, গম, সয়াবিন, তেলসহ বিভিন্ন মার্কিন পণ্যের আমদানি বাড়াতে দেয় প্রতিশ্রুতি। এ নিয়ে দেন দরবারের মধ্যে সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের ঘোষণা দেওয়া হয়। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানিতে আরোপিত পারস্পরিক সম্পূরক শুল্ক ১ শতাংশ পয়েন্ট কমে হয় ১৯ শতাংশ। তাতে করে মোট শুল্কহার আগের কমে হয় ৩৪ শতাংশ। নতুন এ চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ছাড় দেবে; কিন্তু বিনিময়ে তাদের পণ্য আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের বাজারে তাদের আরও বড় ছাড় দেওয়ার অঙ্গীকার করতে হয় অন্তর্বর্তী সরকারকে। কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে করা এ চুক্তি নিয়ে পরে সমালোচনা আসে বিভিন্ন মহল থেকে। বাংলাদেশ অন্য দেশ থেকে কী আমদানি করবে বা করবে না সেক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ দেখার বাধ্যবাধকতার মতো বিষয়গুলোও ঠাঁই পাওয়ার সমালোচনা করেন তারা। বিকেএমইএর সভাপতি হাতেম ওই দিকটায় ইঙ্গিত করে বলেন, “সরকারকে আহ্বান করব যে বিষয়টা নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সাথে বসে আলোচনা করে এটার কৌশল ঠিক করা দরকার। কোন পয়েন্টে কীভাবে কথা বলতে হবে, কী করতে হবে–এগুলো নিয়ে মনে হয় একটু প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে হবে আমাদের। ২৮ এপ্রিল বোধহয় ডেট দিছে। তো তাহলে এর আগে একটা প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে এখনই ‘কোনো শঙ্কার কারণ নেই’ মন্তব্য করে এই ব্যবসায়ী নেতা বলেন, “আমাদেরকে কেন ফেলল (তদন্তে), সেটাও আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। তবে আমরা এটাকে স্বাগত জানাই। খুব ট্রান্সপারেন্ট ওয়েতেই আমরা বিজনেস করি। সুতরাং তারা আসুক, তদন্ত করতে চায় করুক, এতে কোনো আপত্তি নেই। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে পণ্য আমদানি করে সেখানে শিশু শ্রম বা জোরপূর্বক শ্রমের বিষয় আছে কি না কিংবা এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে কি না এমন প্রশ্নে হাতেম বলেন, “না, আমরা কী আমদানি করি? আমরা র' মেটেরিয়ালস (কাঁচামাল) আমদানি করি চীন থেকে। এখন চীনে শিশু শ্রম আছে? আমেরিকার বেশির ভাগ রপ্তানিই তো যায় চীন থেকে। তারা কি চীনের রপ্তানি বন্ধ করে দিছে? সুতরাং এটা নিয়ে খুব একটা চিন্তিত না। ‘সম্পর্কে কৌশলী হতে হবে’ যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তে বাংলাদেশের নাম আসায় বিস্ময় প্রকাশ করে তাদের ‘ইনটেনশন’ আমলে নেওয়ার কথা বলেছেন বাণিজ্য বিশ্লেষক জায়েদী সাত্তার। বলেন, এটা তো আমি যতটুকু পড়ে দেখলাম, এটা তো মোস্ট ‘স্ট্রেঞ্জ’। মানে তারা ফোর্সড লেবার যেভাবে বর্ণনা করেছে, এটা আমাদের এখানে তো অ্যাপ্লাই-ই করে না। তার মতে, ট্রাম্প প্রশাসন একের পর এক বাণিজ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। এক্ষেত্রে ডব্লিউটিওর বিধিবিধান মানছে না। আবার দেশটির বাজারে পণ্য রপ্তানির প্রবেশাধিকারও প্রয়োজন, কেননা সেখানে চাহিদা বেশি, মূল্যও পাওয়া যায় বেশি। এসব কারণ তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ‘স্ট্র্যাটেজিক এবং ট্যাক্টফুল রিলেশনশিপ মেনটেইন’ করার পরামর্শ তার। দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার পাশাপাশি এমন তদন্ত থেকে মুক্ত থাকতে আইএলও কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক যেসব শ্রম বিধি-বিধান আছে সেগুলো অনুসরণ করার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তিনি বলেন, “কারণ আমরা রপ্তানি করছি কিন্তু উন্নত দেশে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন একদিকে আছে, ইউরোপ আছে, অন্যদিকে নর্থ আমেরিকা আছে। সুতরাং আমাদেরকে আজকে না হোক কালকে আমাদেরকে ওদের শ্রম আইন এবং ওদের যে এমপ্লয়মেন্টের যে এনভায়রনমেন্ট থাকে, ওটার কাছাকাছি যেতে হবে। সব একেবারে নিখুঁত না হলেও অন্তত বোঝাতে হবে যে আমরা আন্তর্জাতিক শ্রম আইন-বিধি অনুসরণে আগ্রহী। তিনি আরও বলেন, “মনে হচ্ছে যে শুধু বাংলাদেশের উপরে না। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা সবাই আছে এই ৬০ দেশের মধ্যে। এবং বিস্ময়করভাবে আছে নিউ জিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাজ্যও। সুতরাং মনে হচ্ছে এটা ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্কের বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকেও আশ্বস্ত করা হয়েছে যে এ তদন্তে বড় কোনো ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের মনে হয় না। এটাতো প্রায় ৬০টা দেশের মধ্যে হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ব্রিটেনও আছে। আমাদের শিশু শ্রম অনানুষ্ঠানিক খাতে আছে। যেমন দোকানদারি—এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে না। তৈরি পোশাক খাতে আগে ছিল, এখন নেই। এটি মূলত শ্রম বিষয়ক একটি ইস্যু। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি খাতগুলোতে অতিরিক্ত সক্ষমতা নেই এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাজারকে ক্ষতিগ্রস্ত করার মতো কোনো পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি। বাংলাদেশ যেসব দেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও জোরপূর্বক শ্রমের বিষয় প্রযোজ্য নয় বলেই মনে করেন তিনি। প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে একটি টিম গঠন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হবে। তবে আগের মতো বড় ধরনের দেনদরবারের প্রয়োজন হবে না বলেই মনে করছেন তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৮, ২০২৬ 0
ছবি : সংগৃহীত

বুধ-বৃহস্পতিবার ব্যাংক খোলা থাকবে যেসব এলাকায়

ছবি : সংগৃহীত

সরবরাহে গতি আনতে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়ছে আরও দুই জ্বালানিবাহী জাহাজ

ছবি: সংগৃহীত

জমজমাট নতুন নোটের অবৈধ বাজার

ছবি: সংগৃহীত
রপ্তানি বাণিজ্য সহজ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

রপ্তানি বাণিজ্যের নিয়মকানুন আরও শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে সর্বোচ্চ এক লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ মূল্যের শিপমেন্টের ক্ষেত্রে রপ্তানিকারকরা সরাসরি আমদানিকারকের কাছে শিপিং ডকুমেন্ট পাঠাতে পারবেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আজ এফইপিডি-১ সার্কুলার নং-০৬-এর মাধ্যমে এ নির্দেশনা দিয়েছে জারি করেছে। এতে ২০২৫ সালের ৩১ জুলাই তারিখের এফই সার্কুলার নং-৩১-এর অনুচ্ছেদ ১৪-এর প্রতি অনুমোদিত ডিলারদের (এডি) দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে, যেখানে রপ্তানি সংক্রান্ত শিপিং ডকুমেন্ট প্রেরণের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও গতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, অনুমোদিত ডিলাররা এখন থেকে রপ্তানিকারকদের বিদেশি আমদানিকারক বা অন্য কোনো মনোনীত পক্ষের নামে পরিবহন সংক্রান্ত ডকুমেন্ট ইস্যু করার অনুমতি দিতে পারবেন।  এই সুবিধা সর্বোচ্চ এক লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ মূল্যের চালানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে আমদানিকারক বা মনোনিত পক্ষের কাছে এসব ডকুমেন্ট সরাসরি পাঠানোর জন্য সংশ্লিষ্ট ক্যারিয়ার কোম্পানিকে এফই সার্কুলার নং-৩১/২০২৫-এর পরিশিষ্ট-৩ অনুযায়ী একটি সনদ প্রদান করতে হবে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এ সুবিধা পেতে রপ্তানিকারককে গত তিন অর্থবছরে মোট অন্তত ১০ লাখ মার্কিন ডলার বা সমপরিমাণ রপ্তানি আয় নিশ্চিত করতে হভে। এছাড়া সুবিধা গ্রহণের সময় সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারকের কোনো বকেয়া রপ্তানি আয় থাকা যাবে না। অনুমোদিত ডিলারদের এ ধরনের চালান ব্যবস্থার ক্ষেত্রে বৈধ রপ্তানি আদেশ সংগ্রহ করতে হবে। একই সঙ্গে এফই সার্কুলার নং-৩১/২০২৫-এর অনুচ্ছেদ ১৩(১) অনুযায়ী বিদেশি আমদানিকারক বা কনসাইনি সম্পর্কে যথাযথ যাচাই-বাছাই করতে হবে। সার্কুলারে রপ্তানি আয় সুরক্ষিত রাখতে কয়েকটি সুরক্ষা ব্যবস্থা উল্লেখ করা হয়েছে। এ সুবিধা নিতে রপ্তানিকারকদের লিখিত সম্মতি দিতে হবে এবং অনুমোদিত ডিলারদের রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আসার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সন্তুষ্ট হতে হবে। অনুমোদিত ডিলারদের নিশ্চিত করতে হবে যে এসব ব্যবস্থায় কোনোভাবেই রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আসার প্রক্রিয়া ব্যাহত না হয়। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি আয় দেশে ফেরত আনার জন্য কার্যকর তদারকি বজায় রাখতে হবে। এই নির্দেশনা ৩১ জুলাই ২০২৫ সালের এফই সার্কুলার নং-৩১-এর কাঠামোর ভিত্তিতে রপ্তানি বাণিজ্যকে আরও সহজ করার একটি উদ্যোগ। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত ডিলারদের নির্দেশ দিয়েছে যাতে ২০২৫ সালের সার্কুলারে বর্ণিত সব বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের এফইপিডি-১ বিভাগের পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবু বকর সিদ্দিক এ নির্দেশনা জারি করেন এবং এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, রপ্তানি লেনদেন সংক্রান্ত অন্যান্য সব নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি মার্চ ১৬, ২০২৬ 0
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। ফাইল ছবি

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সাথে থাইল্যান্ডের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি থেকে জরুরি ভিত্তিতে ডিজেল-গ্যাসোলিন কিনছে সরকার

ছবি : সংগৃহীত

অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সময়সীমা ২৯ মার্চ পর্যন্ত বাড়ালো এনবিআর

ছবি: সংগৃহীত
দেশের বাজারে আবারও কমল স্বর্ণের দাম

দেশের বাজারে ফের স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। এবার ভরিতে ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি।   শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।   বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।   নতুন দর অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণ বিক্রি হচ্ছে ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি ২ লাখ ৫০ হাজার ২৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেট স্বর্ণ ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি বেচাকেনা হচ্ছে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকায়।   বিস্তারিত আসছে...

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ১৪, ২০২৬ 0
সংগৃহীত ছবি

মার্চের ১১ দিনেই রেমিট্যান্স এলো ১৯২ কোটি ডলার

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ পর্যালোচনা করছে ভারত

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব অফ-সাইট সুপারভিশন থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

ঈদের ছুটিতেও চালু থাকবে পোশাক শিল্প এলাকার ব্যাংক শাখা

0 Comments