অর্থনীতি

কিছু ব্যাংকমালিকের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অর্থমন্ত্রীর

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বেসরকারি খাতেরও কথা বলা দরকার। তাদের দায়িত্ব আছে। বেসরকারি খাত নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকতে পারে না। কোন কোন জায়গায় সমস্যা হয়েছিল, কেন হয়েছিল, সেগুলো আপনাদের বলতে হবে।’


 
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পোস্ট-আপ্রাইজিং ইকোনমি অ্যান্ড জিওপলিটিকস অব বাজেট, রেমিনিসিং দি লেগাসি অব এম সাইফুর রহমান’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
অনুষ্ঠানে খেলাপি ঋণে জর্জরিত একটি ব্যাংকের মালিকপক্ষের উদাহরণ টেনে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকমালিকদের বিলাসী জীবনযাত্রা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমার কাছে ব্যাংকমালিকদের একটা দল এসেছিল। ২ হাজার কোটি টাকা না হলে ওনাদের ব্যাংক চলবে না। ওনাদের নাকি ৯৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) হয়ে গিয়েছিল। এখন উনি (একজন ব্যাংকমালিক) আমাকে বলছেন, স্যার, আমরা কিন্তু খেলাপি ৯৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৬ শতাংশে নিয়ে আসছি। একবার ভাবুন, কেমন মানসিকতা তাদের।’
 
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাংকের মালিকদের জীবনযাপন কেমন, তা আমরা সব জানি।’
 
ব্যাংক খাতের টাকা লুটপাটের পেছনে দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার বড় দায় আছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে আর্থিক প্রতিবেদনের মান খুব খারাপ জায়গায় আছে। আর্থিক প্রতিবেদন যথাযথ না হলে পুরো হিসাবের আসল চিত্র ঠিকমতো প্রকাশ পায় না। ব্যাংকগুলো থেকে অর্থায়নের টাকাপয়সা যে লুটপাট হয়েছে, এর জন্য কোনো না কোনোভাবে এই দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদনই দায়ী।
 
অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারের গঠনে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক লোক নিয়োগ দেওয়া হবে না, বরং পেশাদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক খাতের মূলধন–সংকট মেটাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা (আইএফসি) এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করে ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
 
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিগত দিনগুলোতে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বিশাল কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার লক্ষ্যে ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী বাজেটে এর বিশেষ প্রতিফলন থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো গোষ্ঠীকে বাইরে রেখে অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগানো যাবে না।’
 

 দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে কৌশলগত মজুত
 
নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, হঠাৎ কোনো কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত (সাপ্লাই শক) হলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে তার সরাসরি ধাক্কা বা অভিঘাত যেন দেশের ভোক্তাশ্রেণির ওপর না পড়ে সেটি নিশ্চিত করা।
 
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিপুল জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে কোনো স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই। এটি সম্ভবত পৃথিবীর বুকে একটি বিরল ঘটনা। এর ফলে দেশের বাজারব্যবস্থার ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল। মাত্র ১৫-২০ দিনের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেই দেশের বাজার তা সহ্য করতে পারে না।
 
নিত্যপণ্যের দাম কমবে কি না, অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এ প্রশ্ন করেন উপস্থিত একজন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব জিনিসে আমাদের আমদানিনির্ভরতা আছে, যেসব ব্যবসায় খুব সহজে সবার পক্ষে ঢোকা সম্ভব না। কারণ, এক জাহাজ ডাল, এক জাহাজ সয়াবিন বা তেল আনতে কয়েক শ কোটি টাকা লাগে।
 
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে প্রতিটি জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের জন্য মজুত ব্যবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছেন। সরকারের হাতে যেন পর্যাপ্ত মজুত থাকে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাধ্যমে বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা তৈরি হয়। এর ফলে আর কোনো কৃত্রিম সংকটের শিকার হতে হবে না।
 
অতীতে পর্যাপ্ত মজুত না থাকার খেসারত দিতে হয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে আমাদের অনেক বাড়তি দামে এলএনজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস), ডিজেল ও সার কিনতে হয়েছে। এই প্রতিটি জিনিসের যদি আমাদের পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা থাকত, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কাছে এভাবে আমাদের নতি স্বীকার করতে হতো না।’

 

 সরবরাহ চেইনে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
 
বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তি সইয়ের দিন থেকে শুরু করে ঋণপত্র, শিপমেন্ট ও দেশে এনে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরো সরবরাহ চেইনকে (সাপ্লাই চেইন) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের আওতায় আনা হচ্ছে। এই ডিজিটাল মডেলের মাধ্যমে পণ্যের সার্বিক সরবরাহ ও গতিবিধি (মোবিলিটি) সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
 
এ ছাড়া দেশে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ার পেছনে উচ্চ পরিবহন ও আনুষঙ্গিক (লজিস্টিক) খরচকে একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মানদণ্ড হচ্ছে ১০ শতাংশ। এই খরচ কমিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু খাত চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে বড় ধরনের সংস্কার করা হবে।
 
কৃষি পণ্যের হাতবদল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দামের অস্বাভাবিক তারতম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যশোরে যে কৃষক সবজি উৎপাদন করছেন, তিনি হয়তো দাম পাচ্ছেন ১০ বা ১২ টাকা। কিন্তু সেই পণ্যই যখন ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসে পৌঁছায়, তখন তার দাম হয়ে যাচ্ছে ৫২ থেকে ৬৪ টাকা। মাঝখানের এই যে অস্বাভাবিক দামের তারতম্য এবং যেসব হাতবদলের কারণে এটি ঘটছে, সেই জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ব্যবধান কমিয়ে এনে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার দ্রুত কয়েকটি অনুসন্ধানী মিশন (ফাইন্ডিং মিশন) পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি।
 

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার খেসারত দিচ্ছে জ্বালানি খাত: জ্বালানিমন্ত্রী
 
গত ১৭ বছর ধরে দেশের ভূগর্ভ ও সমুদ্রে কোনো তেল-গ্যাস অনুসন্ধান না করার খেসারত এখন পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, গত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দিয়ে দেশকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মুখে ফেলেছে।
 
তবে সংকট কাটাতে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক দরপত্রের (অফশোর টেন্ডার) মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বড় উদ্যোগ শুরু হচ্ছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সমুদ্র জয়ের পরেও সেখান থেকে সম্পদ আহরণ করতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক। আগামী সপ্তাহের সোমবার আমরা অফশোর ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার (আন্তর্জাতিক দরপত্র) আহ্বান করতে যাচ্ছি। আশা করি, অতি দ্রুত আমরা গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে যেতে পারব।’
 
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, রিগ (খননযন্ত্র) কেনা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাপেক্সের যেহেতু গভীর সমুদ্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, তাই আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাদের কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে দেশের একটা অংশীদারত্ব বা স্টেক থাকে।
 

 বাড়ি বাড়ি গ্যাস দেওয়া ছিল ঐতিহাসিক ভুল
 
ষাট ও সত্তরের দশকে বাড়ি বাড়ি রান্নার গ্যাস দেওয়ার নীতিগত সমালোচনা করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, তখন পাকিস্তানের সুই গ্যাস আর বাংলাদেশের তিতাস গ্যাসের বৈষম্য দূর করার নামে পাইপ দিয়ে বাড়ি বাড়ি গ্যাস দেওয়া হয়েছিল। তখন এই ধারণা ছিল না যে এই গ্যাস এক দিন আমাদের শিল্পের প্রধান চালিকা শক্তি হবে। এর ফলে আমরা চিরকাল ভাবলাম আমরা গ্যাসের ওপর ভাসছি। এমনকি একটা দেশলাইয়ের কাঠি পর্যন্ত সাশ্রয় করিনি, চুলা জ্বালিয়ে কাপড় শুকিয়েছি। এখন চাইলেই হুট করে আবাসিক লাইনের ট্যারিফ বা গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে সরকার এখন যৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে।
 
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়াকে আত্মঘাতী উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বিশ্বব্যাংকের চাপের মুখেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৬৫ শতাংশ সরকারের হাতে থাকবে। কারণ, জেনারেশন এমন একটি জায়গা, যা বেসরকারি খাতের হাতে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিলে তারা যেকোনো সময় সরকারকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে। কিন্তু গত ১৭ বছরে ঠিক তার উল্টোটা করা হয়েছে।’
 
ক্ষোভ প্রকাশ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কুইক রেন্টাল ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর হাতে চাবিকাঠি। আমার পাওয়ার স্টেশন চলে না, অথচ চুক্তি অনুযায়ী তাদের বসিয়ে বসিয়ে টাকা (ক্যাপাসিটি চার্জ) দিতে হচ্ছে। কী এক জটলা তৈরি করে দিয়ে গেছে! প্রতিদিন সকালে উঠেই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো টাকা চায়, টাকা না দিলে বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিন আমাকে অর্থমন্ত্রীর কাছে টাকার জন্য দৌড়াতে হয়।’
 
তিনি জানান, শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া চালাতেই প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে।


 
 সৌরবিদ্যুতে নতুন নীতিমালা জুনের মধ্যে
 
জ্বালানির টেকসই বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সোলার, উইন্ড (বায়ু বিদ্যুৎ) এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়েস্ট টু পাওয়ার) উৎপাদনের কাজ করছি। জুনের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব সোলার পলিসি (সৌরবিদ্যুৎ নীতি) দেওয়া হবে। বর্তমানে আমাদের কর কাঠামো খুব খারাপ। বিশেষ করে সোলারের ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত কর থাকায় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ পাচ্ছেন না। আমরা অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলে এই ট্যাক্স কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য—চলতি মেয়াদের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়া।’


 
অনুষ্ঠানে দুটি পৃথক অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এপেক্স ফুটওয়্যার-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর চেয়ারম্যান শরীফ জহির, এনআরবি ব্যাংক-এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিমা ফেরদৌস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মামুন রশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ার কারসাজির অভিযোগ তদন্তে বিএসইসির কমিটি

পুঁজিবাজারে সম্ভাব্য ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ারের দর কারসাজির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। খুলনা পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (কেপিসিএল), ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার লেনদেন তদন্তের আওতায় এসেছে।   গত ৭ অক্টোবর জারি করা সংশোধিত নির্দেশনায় বিএসইসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট লেনদেনে ইউনাইটেড গ্রুপের চিফ অ্যাডভাইজার হাসান মাহমুদ রাজা এবং ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডের (ইউইসিএল) চেয়ারম্যান মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা যাচাই করা হবে।   বিএসইসির পরিচালক মোহাম্মদ শামসুর রহমানকে আহ্বায়ক করে গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন যুগ্ম পরিচালক জিয়াউর রহমান ও সহকারী পরিচালক আলী আহসান। কমিটিকে সংশোধিত আদেশ জারির দিন থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।   কমিশনের মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্টের পরিদর্শন ও তদন্ত শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এতে পুঁজিবাজারের স্বচ্ছতা, শৃঙ্খলা এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় অভিযোগগুলো বিস্তারিত অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করা হয়।   জানা গেছে, এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহর দাখিল করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, অন্য ব্যক্তির নামে খোলা বেনামি বিও ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে প্রকৃত মালিকানা আড়াল করা হয়েছে। এসব হিসাবের মাধ্যমে বেআইনি ইনসাইডার ট্রেডিং ও শেয়ারের দর প্রভাবিত করার ঘটনা ঘটেছে কি না, তা অনুসন্ধান করবে কমিশন।   তদন্তের অংশ হিসেবে ইউনাইটেড পাওয়ার, সংশ্লিষ্ট সহযোগী প্রতিষ্ঠান, মালিকানা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রাসঙ্গিক ব্যাংক হিসাব, বিও ও ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সহযোগী ও নিকটাত্মীয়দের হিসাবও প্রয়োজন অনুযায়ী যাচাইয়ের আওতায় আসতে পারে।   এসব হিসাবের প্রকৃত মালিক, নিয়ন্ত্রণকারী ব্যক্তি এবং লেনদেন থেকে সুবিধা পাওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেবে তদন্ত কমিটি।   এ ছাড়া শেয়ার কেনার অর্থের উৎস, ব্যাংকিং লেনদেনের গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কোনো সন্দেহজনক অর্থ স্থানান্তর হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করা হবে। শেয়ার লেনদেন থেকে পাওয়া নগদ লভ্যাংশ ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধার চূড়ান্ত প্রাপক কারা, সেটিও অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে।   কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী, সন্দেহভাজন বিও অ্যাকাউন্টে থাকা শেয়ারের প্রকৃত মালিকানা এবং এসব হিসাব পরিচালনার ক্ষমতা কার হাতে ছিল, তা যাচাই করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জটিল আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীর পরিচয় গোপন করেছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।   তদন্তে কেপিসিএল ও ইউনাইটেড পাওয়ারসহ সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দর কৃত্রিমভাবে বাড়ানো, প্রতারণামূলক লেনদেন বা সংঘবদ্ধ বাজার কারসাজির কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা গুরুত্ব পাবে।   একই সঙ্গে অপ্রকাশিত মূল্যসংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) ব্যবহার করে শেয়ার কেনাবেচা করা হয়েছে কি না, সংশ্লিষ্ট তথ্য কার কাছে ছিল এবং কীভাবে তা বিনিময় হয়েছে, সেসব বিষয়ও পর্যালোচনা করবে কমিটি।   তদন্তের আওতায় হাসান মাহমুদ রাজা ও মঈনউদ্দিন হাসান রশিদের পাশাপাশি অভিযোগকারী এম এম হাবিবুল্লাহ ও নুরুজ্জামান জিন্নাহসহ সংশ্লিষ্ট অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আইনবহির্ভূত সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   শুধু ব্যক্তি বা কোম্পানি নয়, সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউস, মার্চেন্ট ব্যাংক, বাণিজ্যিক ব্যাংক, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং অন্যান্য আর্থিক মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও তদন্তে পর্যালোচনা করা হবে।   বিশেষ করে হিসাব খোলা, শেয়ার কেনাবেচার নির্দেশ বাস্তবায়ন, লভ্যাংশ প্রদান ও অর্থ স্থানান্তরের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম, অবহেলা কিংবা সহযোগিতার প্রমাণ পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত দল।   সিকিউরিটিজ আইন, ইনসাইডার ট্রেডিং নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা এবং প্রকৃত সুবিধাভোগীর মালিকানা গোপনসংক্রান্ত বিধিবিধান লঙ্ঘিত হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করাই তদন্তের অন্যতম উদ্দেশ্য।   বিএসইসির নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, নির্ধারিত তদন্তের বিষয়গুলোর বাইরে সংশ্লিষ্ট অনিয়মের নতুন কোনো তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া গেলে সেগুলোও তদন্তের আওতায় আনা যাবে।   পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রমাণের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে পারে।

আক্তারুজ্জামান অক্টোবর ১১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রবাসী আয় সংগ্রহে শীর্ষ ১০ ব্যাংক, প্রথম প্রান্তিকে কারা এগিয়ে?

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

ব্যাংক খাত পুনরুদ্ধারে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন: গভর্নর

বিদ্যুৎ বিভাগের ৪১টি উন্নয়ন প্রকল্পে ১০ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার সহায়তা

ছবি: সংগৃহীত
ভারতের কাছে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফর ঘিরে অনিশ্চয়তার মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কের বরফ গলানোর বৈঠকে ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানিতে স্থলবন্দরভিত্তিক বিধিনিষেধ ও অশুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে জোর দিয়েছে ঢাকা।   পাশাপাশি বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পিইটি ফিল্মের ওপর থেকে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও দেশটিতে বিদ্যমান শুল্কসুবিধা অব্যাহত রাখার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলা হয়েছে।   ভারতের নয়া দিল্লিতে বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজিটি) ১৬তম বৈঠকের শুক্রবার দ্বিতীয় দিন শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।   এতে বলা হয়, ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া দুই দিনের এ সভার আলোচনার বিষয় ছিল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা।   বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারতের পক্ষ থেকেও আমদানি-রপ্তানিতে বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূর করা ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নয়নের বিভিন্ন প্রস্তাব আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।   বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ সংরক্ষণে ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধিনিষেধ পর্যালোচনা ও প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনার জন্য তুলে ধরা হয়েছে।   ভারতীয় বাজারে পণ্যের প্রবেশাধিকার সহজ করতে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসনের পাশাপাশি অন্যান্য বাণিজ্য প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিয়েও আলোচনা চলছে।   এলডিসি উত্তরণের পর ভারতের বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানিপণ্যের শুল্কসুবিধা কীভাবে অব্যাহত রাখা যায়, সেটিও আলোচনার একটি 'গুরুত্বপূর্ণ বিষয়' ছিল বলে তুলে ধরা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।   সাফটা চুক্তির আওতায় বর্তমানে পাওয়া সুবিধা উত্তরণের পরও বহাল রাখার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলেছে বাংলাদেশ।   একই সঙ্গে পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।   বাজারে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণও বাংলাদেশের অগ্রাধিকারে ছিল।   ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে রাখা হয়েছিল।   দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার বিষয়ও তুলে ধরেছে বাংলাদেশ।   বৈঠকে স্থলবন্দর দিয়ে বাণিজ্য নির্বিঘ্ন করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।   বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম ও শেডের পাশাপাশি পণ্য পরীক্ষা এবং কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছে।   সীমান্তবর্তী স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া গতিশীল করাও আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে।   অন্যদিকে ভারতের আলোচ্যসূচিতে ছিল তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে বিদ্যমান বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের বিষয়।   দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা নিরসন, আঞ্চলিক যোগাযোগের উন্নয়ন এবং বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থা সম্প্রসারণের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।   আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের উন্নয়ন ও সীমান্ত হাটসংক্রান্ত বিষয়ও আলোচনায় স্থান পেয়েছে।   ভৌগোলিক নৈকট্য ও আঞ্চলিক যোগাযোগের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে দুই দেশের। তবে এ সুযোগের সুফল পেতে বাজারে প্রবেশের বাধা দূর করার পাশাপাশি সীমান্তে পণ্য পরিবহন ও খালাসের সীমাবদ্ধতা নিরসন প্রয়োজন।   যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচনার মাধ্যমে এসব বিষয়ে অগ্রগতি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পথ সুগম হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এ বৈঠকে অংশ নেয়।   জেডব্লিউজিটি সাধারণত বছরে একবার বসে। সর্বশেষ ১৫তম বৈঠক হয় ২০২৩ সালের ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর; ঢাকায়।   এর আগে ১৪তম বৈঠক হয় ২০২২ সালের ২ ও ৩ মার্চ; নয়া দিল্লিতে।   ২০২৪ সালের অগাস্টে গণআন্দোলনের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটলে দুই দেশের সম্পর্কে শীতলতা আসে এবং এ নিয়মিত বৈঠক আর হয়নি।   এর মধ্যেই ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদ, বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানি বন্ধ করে। তবে সমুদ্রপথে আমদানির সুযোগ খোলা রাখা হয়।   এর কয়েক সপ্তাহ পর ভারত স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিক ও পিভিসিসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। একই বছরের জুনে পাট ও কিছু বস্ত্রজাত পণ্যেও নিষেধাজ্ঞা আসে।   আগের বৈঠকগুলোতে স্থলবন্দর ও ইন্টিগ্রেটেড চেকপোস্টের অবকাঠামো উন্নয়ন, বন্দরসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার, সীমান্ত হাট চালু, রেলপথে পণ্য পরিবহন, আঞ্চলিক সংযোগ এবং পণ্যের মান সমন্বয় ও পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।   বাংলাদেশ-ভারত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (সিইপিএ) প্রস্তুতি ও যৌথ সমীক্ষা, বাংলাদেশে নিত্যপণ্য সরবরাহ এবং পেট্রাপোল-বেনাপোল চেকপোস্ট ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিষয়টিও আলোচ্যসূচিতে ছিল।

মো: দেলোয়ার হোসাইন অক্টোবর ০৯, ২০২৬
দেশে স্বর্ণের দাম বেড়েছে। সংগৃহীত ছবি

দেশের বাজারে আবারও বাড়ল স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত

আবাসন খাত থমকালেই সংকটে পড়বে যেসব শিল্প

ছবি: সংগৃহীত

দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সহজ করতে বাংলাদেশ-ভারতের আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত
শিল্পের অবস্থান ও ঘনত্ব জানতে মানচিত্র তৈরি করছে বিবিএস

দেশের কোথায় কোন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, কোন এলাকায় কোন খাতের শিল্পের ঘনত্ব বেশি কিংবা কোথায় কম—এসব তথ্য এবার মানচিত্রে দেখা যাবে। শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের অবস্থানভিত্তিক তথ্য নিয়ে এমন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)।     বৃহস্পতিবার মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৪ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত ‘স্ট্যাটিস্টিক্যাল বিজনেস রেজিস্টার’ কার্যক্রমের মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনে এ তথ্য জানান প্রকল্পের যুগ্ম সচিব (সংযুক্ত) ও অতিরিক্ত দায়িত্বে প্রকল্প পরিচালক ড. দীপংকর রায়।       তিনি বলেন, দেশের ব্যবসা ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর তথ্য নিয়ে একটি কেন্দ্রীয় ও নিয়মিত হালনাগাদযোগ্য ব্যবসা নিবন্ধন তৈরি করা হচ্ছে। শুরুতে বড় ও মাঝারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, কুটির ও অনানুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানও এর আওতায় আসবে।       এই নিবন্ধনে প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক অবস্থানও চিহ্নিত করা হবে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট শিল্প খাত নির্বাচন করলে কোন জেলা বা অঞ্চলে ওই খাতের প্রতিষ্ঠান বেশি, কোথায় কম—তা মানচিত্রে দেখা যাবে। নদীকেন্দ্রিক শিল্পের ক্ষেত্রে কারখানাগুলো নদীর কাছাকাছি রয়েছে কি না, সেটিও বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।     ড. দীপংকর রায় বলেন, এসব তথ্য শিল্প ও অবকাঠামো পরিকল্পনায় কাজে লাগবে। কোনো এলাকায় শিল্পের ঘনত্ব বেশি হলে সড়ক, পরিবহণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের চাহিদা নির্ধারণে সহায়তা করবে। একইভাবে শিল্পের আঞ্চলিক বৈষম্যও চিহ্নিত করা যাবে।     ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর অধীনে কতগুলো প্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং সেগুলো কোন কোন খাতে কাজ করছে, সেই তথ্যও নিবন্ধনে রাখা হবে। ফলে শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবসার পরিধি সম্পর্কে নিবন্ধিত তথ্য পাওয়া যাবে।     বিবিএস ইতোমধ্যে বিভিন্ন উৎসের তথ্য একীভূত করার কাজ এগিয়ে নিয়েছে। তথ্য দেখানোর জন্য একটি ড্যাশবোর্ড তৈরি করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের নভেম্বরের মধ্যে এর কার্যকর সংস্করণ চালুর আশা করছে বিবিএস।     বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারিতে দেশে অর্থনৈতিক এককের সংখ্যা ১ কোটি ১৭ লাখ। ২০১৩ সালে ছিল প্রায় ৭৮ লাখ। এক দশকে সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে প্রায় ৬৫ শতাংশ অর্থনৈতিক একক এখনো নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে।     নিবন্ধনে প্রতিষ্ঠানের চালু, সাময়িক বন্ধ বা পুরোপুরি বন্ধ থাকার তথ্যের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্স, করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর, মূল্য সংযোজন কর নিবন্ধনসহ বিভিন্ন তথ্য যুক্ত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য ইউনিক পরিচিতি নম্বর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিবন্ধন ব্যবস্থা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মারিয়া রহমান অক্টোবর ০৮, ২০২৬

চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৪ লাখ ৩২ হাজার কর্মী পাঠিয়েছে বাংলাদেশ

রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ১১ জন নতুন ডিএমডি নিয়োগ

বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নরের সঙ্গে ন্যাশনাল ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত এমডির বৈঠক

0 Comments