অর্থনীতি

কিছু ব্যাংকমালিকের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অর্থমন্ত্রীর

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বেসরকারি খাতেরও কথা বলা দরকার। তাদের দায়িত্ব আছে। বেসরকারি খাত নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকতে পারে না। কোন কোন জায়গায় সমস্যা হয়েছিল, কেন হয়েছিল, সেগুলো আপনাদের বলতে হবে।’


 
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পোস্ট-আপ্রাইজিং ইকোনমি অ্যান্ড জিওপলিটিকস অব বাজেট, রেমিনিসিং দি লেগাসি অব এম সাইফুর রহমান’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
অনুষ্ঠানে খেলাপি ঋণে জর্জরিত একটি ব্যাংকের মালিকপক্ষের উদাহরণ টেনে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকমালিকদের বিলাসী জীবনযাত্রা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমার কাছে ব্যাংকমালিকদের একটা দল এসেছিল। ২ হাজার কোটি টাকা না হলে ওনাদের ব্যাংক চলবে না। ওনাদের নাকি ৯৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) হয়ে গিয়েছিল। এখন উনি (একজন ব্যাংকমালিক) আমাকে বলছেন, স্যার, আমরা কিন্তু খেলাপি ৯৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৬ শতাংশে নিয়ে আসছি। একবার ভাবুন, কেমন মানসিকতা তাদের।’
 
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাংকের মালিকদের জীবনযাপন কেমন, তা আমরা সব জানি।’
 
ব্যাংক খাতের টাকা লুটপাটের পেছনে দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার বড় দায় আছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে আর্থিক প্রতিবেদনের মান খুব খারাপ জায়গায় আছে। আর্থিক প্রতিবেদন যথাযথ না হলে পুরো হিসাবের আসল চিত্র ঠিকমতো প্রকাশ পায় না। ব্যাংকগুলো থেকে অর্থায়নের টাকাপয়সা যে লুটপাট হয়েছে, এর জন্য কোনো না কোনোভাবে এই দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদনই দায়ী।
 
অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারের গঠনে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক লোক নিয়োগ দেওয়া হবে না, বরং পেশাদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক খাতের মূলধন–সংকট মেটাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা (আইএফসি) এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করে ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
 
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিগত দিনগুলোতে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বিশাল কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার লক্ষ্যে ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী বাজেটে এর বিশেষ প্রতিফলন থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো গোষ্ঠীকে বাইরে রেখে অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগানো যাবে না।’
 

 দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে কৌশলগত মজুত
 
নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, হঠাৎ কোনো কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত (সাপ্লাই শক) হলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে তার সরাসরি ধাক্কা বা অভিঘাত যেন দেশের ভোক্তাশ্রেণির ওপর না পড়ে সেটি নিশ্চিত করা।
 
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিপুল জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে কোনো স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই। এটি সম্ভবত পৃথিবীর বুকে একটি বিরল ঘটনা। এর ফলে দেশের বাজারব্যবস্থার ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল। মাত্র ১৫-২০ দিনের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেই দেশের বাজার তা সহ্য করতে পারে না।
 
নিত্যপণ্যের দাম কমবে কি না, অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এ প্রশ্ন করেন উপস্থিত একজন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব জিনিসে আমাদের আমদানিনির্ভরতা আছে, যেসব ব্যবসায় খুব সহজে সবার পক্ষে ঢোকা সম্ভব না। কারণ, এক জাহাজ ডাল, এক জাহাজ সয়াবিন বা তেল আনতে কয়েক শ কোটি টাকা লাগে।
 
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে প্রতিটি জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের জন্য মজুত ব্যবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছেন। সরকারের হাতে যেন পর্যাপ্ত মজুত থাকে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাধ্যমে বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা তৈরি হয়। এর ফলে আর কোনো কৃত্রিম সংকটের শিকার হতে হবে না।
 
অতীতে পর্যাপ্ত মজুত না থাকার খেসারত দিতে হয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে আমাদের অনেক বাড়তি দামে এলএনজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস), ডিজেল ও সার কিনতে হয়েছে। এই প্রতিটি জিনিসের যদি আমাদের পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা থাকত, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কাছে এভাবে আমাদের নতি স্বীকার করতে হতো না।’

 

 সরবরাহ চেইনে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
 
বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তি সইয়ের দিন থেকে শুরু করে ঋণপত্র, শিপমেন্ট ও দেশে এনে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরো সরবরাহ চেইনকে (সাপ্লাই চেইন) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের আওতায় আনা হচ্ছে। এই ডিজিটাল মডেলের মাধ্যমে পণ্যের সার্বিক সরবরাহ ও গতিবিধি (মোবিলিটি) সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
 
এ ছাড়া দেশে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ার পেছনে উচ্চ পরিবহন ও আনুষঙ্গিক (লজিস্টিক) খরচকে একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মানদণ্ড হচ্ছে ১০ শতাংশ। এই খরচ কমিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু খাত চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে বড় ধরনের সংস্কার করা হবে।
 
কৃষি পণ্যের হাতবদল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দামের অস্বাভাবিক তারতম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যশোরে যে কৃষক সবজি উৎপাদন করছেন, তিনি হয়তো দাম পাচ্ছেন ১০ বা ১২ টাকা। কিন্তু সেই পণ্যই যখন ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসে পৌঁছায়, তখন তার দাম হয়ে যাচ্ছে ৫২ থেকে ৬৪ টাকা। মাঝখানের এই যে অস্বাভাবিক দামের তারতম্য এবং যেসব হাতবদলের কারণে এটি ঘটছে, সেই জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ব্যবধান কমিয়ে এনে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার দ্রুত কয়েকটি অনুসন্ধানী মিশন (ফাইন্ডিং মিশন) পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি।
 

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার খেসারত দিচ্ছে জ্বালানি খাত: জ্বালানিমন্ত্রী
 
গত ১৭ বছর ধরে দেশের ভূগর্ভ ও সমুদ্রে কোনো তেল-গ্যাস অনুসন্ধান না করার খেসারত এখন পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, গত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দিয়ে দেশকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মুখে ফেলেছে।
 
তবে সংকট কাটাতে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক দরপত্রের (অফশোর টেন্ডার) মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বড় উদ্যোগ শুরু হচ্ছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সমুদ্র জয়ের পরেও সেখান থেকে সম্পদ আহরণ করতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক। আগামী সপ্তাহের সোমবার আমরা অফশোর ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার (আন্তর্জাতিক দরপত্র) আহ্বান করতে যাচ্ছি। আশা করি, অতি দ্রুত আমরা গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে যেতে পারব।’
 
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, রিগ (খননযন্ত্র) কেনা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাপেক্সের যেহেতু গভীর সমুদ্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, তাই আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাদের কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে দেশের একটা অংশীদারত্ব বা স্টেক থাকে।
 

 বাড়ি বাড়ি গ্যাস দেওয়া ছিল ঐতিহাসিক ভুল
 
ষাট ও সত্তরের দশকে বাড়ি বাড়ি রান্নার গ্যাস দেওয়ার নীতিগত সমালোচনা করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, তখন পাকিস্তানের সুই গ্যাস আর বাংলাদেশের তিতাস গ্যাসের বৈষম্য দূর করার নামে পাইপ দিয়ে বাড়ি বাড়ি গ্যাস দেওয়া হয়েছিল। তখন এই ধারণা ছিল না যে এই গ্যাস এক দিন আমাদের শিল্পের প্রধান চালিকা শক্তি হবে। এর ফলে আমরা চিরকাল ভাবলাম আমরা গ্যাসের ওপর ভাসছি। এমনকি একটা দেশলাইয়ের কাঠি পর্যন্ত সাশ্রয় করিনি, চুলা জ্বালিয়ে কাপড় শুকিয়েছি। এখন চাইলেই হুট করে আবাসিক লাইনের ট্যারিফ বা গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে সরকার এখন যৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে।
 
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়াকে আত্মঘাতী উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বিশ্বব্যাংকের চাপের মুখেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৬৫ শতাংশ সরকারের হাতে থাকবে। কারণ, জেনারেশন এমন একটি জায়গা, যা বেসরকারি খাতের হাতে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিলে তারা যেকোনো সময় সরকারকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে। কিন্তু গত ১৭ বছরে ঠিক তার উল্টোটা করা হয়েছে।’
 
ক্ষোভ প্রকাশ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কুইক রেন্টাল ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর হাতে চাবিকাঠি। আমার পাওয়ার স্টেশন চলে না, অথচ চুক্তি অনুযায়ী তাদের বসিয়ে বসিয়ে টাকা (ক্যাপাসিটি চার্জ) দিতে হচ্ছে। কী এক জটলা তৈরি করে দিয়ে গেছে! প্রতিদিন সকালে উঠেই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো টাকা চায়, টাকা না দিলে বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিন আমাকে অর্থমন্ত্রীর কাছে টাকার জন্য দৌড়াতে হয়।’
 
তিনি জানান, শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া চালাতেই প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে।


 
 সৌরবিদ্যুতে নতুন নীতিমালা জুনের মধ্যে
 
জ্বালানির টেকসই বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সোলার, উইন্ড (বায়ু বিদ্যুৎ) এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়েস্ট টু পাওয়ার) উৎপাদনের কাজ করছি। জুনের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব সোলার পলিসি (সৌরবিদ্যুৎ নীতি) দেওয়া হবে। বর্তমানে আমাদের কর কাঠামো খুব খারাপ। বিশেষ করে সোলারের ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত কর থাকায় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ পাচ্ছেন না। আমরা অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলে এই ট্যাক্স কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য—চলতি মেয়াদের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়া।’


 
অনুষ্ঠানে দুটি পৃথক অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এপেক্স ফুটওয়্যার-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর চেয়ারম্যান শরীফ জহির, এনআরবি ব্যাংক-এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিমা ফেরদৌস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মামুন রশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
প্রতীকী ছবি
আগস্টে বাংলাদেশ সফরে বিশ্বব্যাংকের দুই প্রতিনিধিদল

বাংলাদেশে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সুশাসন, সরকারি ক্রয় ও জবাবদিহি পর্যালোচনার পাশাপাশি একটি বড় সামাজিক-অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রকল্পের ফলাফল মূল্যায়নে আগামী আগস্টে ঢাকায় আসছে বিশ্বব্যাংকের দুটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।   বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, ৯ থেকে ১৩ আগস্ট গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের একটি প্রতিনিধিদল এবং ৯ থেকে ১৬ আগস্ট রেজিলিয়েন্স, এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড লাইভলিহুড ইমপ্রুভমেন্ট (রেলি) প্রকল্পের লার্নিং অ্যান্ড রেজাল্টস নোট মিশন বাংলাদেশ সফর করবে।   বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানের অপারেশনস ম্যানেজার গেইল এইচ মার্টিন পৃথক দুটি চিঠিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকীকে এ বিষয়ে অবহিত করেছেন।   গভর্ন্যান্স গ্লোবাল প্র্যাকটিসের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন প্র্যাকটিস ম্যানেজার হিশাম আহমেদ ওয়ালি এবং সিনিয়র অপারেশনস অফিসার আলেকসান্দার কোচেভস্কি। সফরকালে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিট (পিআইইউ) এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।   এসব বৈঠকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পগুলোর আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, ফিডিউশিয়ারি ও নন-ফিডিউশিয়ারি বিষয়, জবাবদিহি এবং চলমান সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার উপায় নিয়ে আলোচনা হবে।   অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের মূল্যায়ন মিশনের নেতৃত্ব দেবেন টাস্ক টিম লিডার ও সিনিয়র এগ্রিকালচার স্পেশালিস্ট সামিনা ইয়াসমিন। তার সঙ্গে কৃষি, অর্থনীতি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, সরকারি ক্রয়, পরিবেশ, সামাজিক উন্নয়ন, প্রকল্প মূল্যায়ন এবং রেজিলিয়েন্স সূচক বিশ্লেষণের বিশেষজ্ঞরা থাকবেন। এছাড়া জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) একজন বিশেষজ্ঞও মিশনে অংশ নেবেন।   বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, এই মিশনের লক্ষ্য হলো রেলি প্রকল্পের ফলাফল, উন্নয়নগত প্রভাব, আর্থিক ও অর্থনৈতিক দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা, সফলতা এবং উত্তম চর্চা নথিভুক্ত করা। এজন্য প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে।   প্রতিনিধিদলটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি), বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবে।   অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগস্টে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই দুটি মিশনের মাধ্যমে বিশ্বব্যাংক একদিকে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সুশাসন, আর্থিক শৃঙ্খলা ও জবাবদিহি পর্যালোচনা করবে, অন্যদিকে রেলি প্রকল্পের বাস্তব ফলাফল ও উন্নয়নগত প্রভাব মূল্যায়ন করবে। তাদের মতে, এসব মূল্যায়নের সুপারিশ ভবিষ্যতে প্রকল্প বাস্তবায়নের মানোন্নয়ন এবং বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচিগুলো আরও কার্যকর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।   সৌজন্যে: দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড

মোঃ ইমরান হোসেন জুলাই ৩০, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

বিদেশি ব্যাংকগুলোর ঋণ কমলেও ৯২৩ কোটি টাকা মুনাফা বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত

১২৬ কোটি টাকা ব্যয়ে বগুড়ায় তৈরি হচ্ছে ১৫টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র

ছবি: সংগৃহীত

কমেছে স্বর্ণের দাম

ছবি: সংগৃহীত
নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চান ব্যবসায়ীরা

বৃষ্টি-বন্যার অজুহাতে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন জ্বলছে। এর মধ্যে নতুন করে ভোজ্যতেলের দাম বাড়াতে চাচ্ছে আমদানিকারক ও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণ দেখিয়ে এরই মধ্যে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে তারা। তবে এ ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত সপ্তাহে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের এক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই তা শেষ হয়। বিষয়টি এখনো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আবারও আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।   ৭ জুলাই তারিখ উল্লেখ করা বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের ওই চিঠিতে প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের খুচরা মূল্য ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৯ টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। আর পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম বাড়িয়ে ১ হাজার ১৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম ১৮৮ টাকা এবং খোলা পাম তেলের দাম ১৮৩ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।   উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৯ এপ্রিলেও ভোজ্যতেলের দাম এক দফা বাড়ায় পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ওই দফায় বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ৪ টাকা বাড়ানো হয়েছিল। এতে বোতলের সয়াবিন তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৯ টাকা। যা আরও বাড়াতে চাইছেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ডলার বিনিময় হার এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলে অতিরিক্ত ১৮ থেকে ২০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বর্তমান দামে বিক্রি করায় দীর্ঘদিন ধরে লোকসান গুনতে হচ্ছে, যা অব্যাহত থাকলে তেল আমদানি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হবে।   ব্যবসায়ীদের এমন অজুহাত মানতে নারাজ বাজার বিশেষজ্ঞরাও। তাদের মতে, ভোজ্যতেল এমন একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যার দাম বাড়লে মানুষের ওপর খরচের চাপ বেড়ে যায়। শুধু তাই নয়,   হোটেল-রেস্তোরাঁয় খাবারের দামসহ বিভিন্ন পর্যায়ে তার প্রভাব পড়ে। তা ছাড়া দাম বাড়ানোর সময় তাদের যে তোড়জোর দেখা যায়, দাম কমানোর বেলায় তেমনটা দেখা যায় না বলেও অভিযোগ তাদের।   ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের প্রতিক্রিয়ায় ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, ‘দাম বাড়ানোর সময় আর্জাতিক বাজারের দোহাই দেওয়া হলেও আন্তর্জাতিক বাজারে ওই পণ্যের দাম কমলে আমাদের ব্যবসায়ীদের তার খবর থাকে না। একদিকে বন্যার অজুহাতে সবজিসহ চালের বাজারে ব্যবসায়ীরা আগুন দিয়েছে, এই ফাঁকে তারা আবার সয়াবিন তেল নিয়ে মেতে উঠেছে। তেলের গুটিকয় আমদানিকারক ব্যবসায়ী কারসাজি করে দাম বাড়িয়ে জনগণের পকেট কাটতে চাইছে।’   তিনি আরও বলেন, ‘নতুন করে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানো হলে সাধারণ মানুষের ওপর তা “মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা” হবে। কারণ এমনিতেই নিত্যপণ্য নিয়ে ভোক্তাদের হিমশিম অবস্থা সেখানে এটি বাড়তি যন্ত্রণা জোগাবে। ব্যবসায়ীদের “ফ্রিস্টাইলেঃ দাম বাড়ানোর সংস্কৃতি থেকে বের করার জন্য সরকারকে এখনই উদ্যোগী হতে হবে।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ২৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিশ্ববাজারে তেলের দরপতন অব্যাহত, তিন দিনে বড় পতন

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নতুন পথে হাঁটতে চায় বাংলাদেশ ব্যাংক

ছবি : সংগৃহীত

নতুন পে-স্কেল নিয়ে কঠিন চাপে সরকার

ফাইল ফটো
সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনকে নিয়ে আলাদা তদন্ত নয়: বাংলাদেশ ব্যাংক

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আলাদা কোনো অনুসন্ধান চালাবে না। তবে তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো তদন্ত না হলেও পুরনো কোনো ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।  বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান এ কথা বলেছেন। রোববার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মো. সাহাবুদ্দিন সাংবিধানিকভাবে দেশের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই তাঁকে লক্ষ্য করে ব্যক্তিগতভাবে আলাদা কোনো অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার পরিকল্পনা নেই। আরিফ হোসেন খান বলেন, দেশের ব্যাংকিং খাতে সুশাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানভিত্তিক তদন্ত চলছে। এসব তদন্তে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গত শুক্রবার রাষ্ট্রপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। এর একদিন পর আজ রোববার বঙ্গভবন ছেড়ে রাজধানীর গুলশানের বাসায় উঠেন তিনি। এদিকে এনসিপিসহ একাধিক বিরোধী রাজনৈতিক দল সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছে। তবে এ বিষয়ে আপাতত সরকার আমলে নেওয়ার মতো কোনো উপাদান দেখেনি বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এখন যারা তার (সাবেক রাষ্ট্রপতি) বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটা অধিকার আছে। আমরা গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে কী প্রত্যাশা করি? রাজনৈতিকভাবে মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, প্রতিবাদ করার স্বাধীনতা থাকবে। সেটা আছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিরোধীদলের পক্ষ থেকে এনসিপি এবং অন্যান্যরা তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করছে। সেটা করতে পারে। কিন্তু আমরা আমলে নেওয়ার মতো কোনো বক্তব্য ওখানে নেই।’ আজ রোববার দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে রাষ্ট্রপতিকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। যার ফলে তার বিরুদ্ধে আদালতে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যায় না। এছাড়া পদ ছেড়ে দেওয়ার পরও একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়ার বিধান রয়েছে। সেই হিসেবে, সদ্য পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকেও ‘সুরক্ষা ও নিরাপত্তা’ দেওয়া হবে।  তিনি বলেন, ‘তিনি (মো. সাহাবুদ্দিন) সাংবিধানিকভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বিধি-বিধান অনুযায়ী করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি। এখন সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে, তিনি প্রিভিলেজড এবং ইমিউনিটি আছে তার, ফৌজদারি অপরাধ ইত্যাদির বিষয়ে কোনো আদালতে মামলা করা যায় না।’ ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে জাতীয় সংসদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়ে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিন বছর তিন মাস দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। 

মারিয়া রহমান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেয়ারবাজারে আস্থা ফেরাতে বিএসইসিকে বিনিয়োগকারীদের ১১ দাবি

ছবি: সংগৃহীত

বিকাশ, নগদ ও রকেটের সার্ভিস চার্জ নিয়ে হাইকোর্টের রুল

ছবি: সংগৃহীত

এলএনজি টার্মিনাল সচল হতে লাগবে আরও চার–পাঁচ দিন

0 Comments