অর্থনীতি

কিছু ব্যাংকমালিকের বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ অর্থমন্ত্রীর

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২৩, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও কথা বলার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ‘বেসরকারি খাতেরও কথা বলা দরকার। তাদের দায়িত্ব আছে। বেসরকারি খাত নিরাপদ দূরত্বে বসে থাকতে পারে না। কোন কোন জায়গায় সমস্যা হয়েছিল, কেন হয়েছিল, সেগুলো আপনাদের বলতে হবে।’


 
শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে ‘পোস্ট-আপ্রাইজিং ইকোনমি অ্যান্ড জিওপলিটিকস অব বাজেট, রেমিনিসিং দি লেগাসি অব এম সাইফুর রহমান’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। এম সাইফুর রহমান স্মৃতি পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
 
অনুষ্ঠানে খেলাপি ঋণে জর্জরিত একটি ব্যাংকের মালিকপক্ষের উদাহরণ টেনে অর্থমন্ত্রী ব্যাংকমালিকদের বিলাসী জীবনযাত্রা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয়, আমার কাছে ব্যাংকমালিকদের একটা দল এসেছিল। ২ হাজার কোটি টাকা না হলে ওনাদের ব্যাংক চলবে না। ওনাদের নাকি ৯৬ শতাংশ খেলাপি ঋণ (এনপিএল) হয়ে গিয়েছিল। এখন উনি (একজন ব্যাংকমালিক) আমাকে বলছেন, স্যার, আমরা কিন্তু খেলাপি ৯৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫৬ শতাংশে নিয়ে আসছি। একবার ভাবুন, কেমন মানসিকতা তাদের।’
 
এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাংকের মালিকদের জীবনযাপন কেমন, তা আমরা সব জানি।’
 
ব্যাংক খাতের টাকা লুটপাটের পেছনে দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদন ও নিরীক্ষার বড় দায় আছে বলে উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে আর্থিক প্রতিবেদনের মান খুব খারাপ জায়গায় আছে। আর্থিক প্রতিবেদন যথাযথ না হলে পুরো হিসাবের আসল চিত্র ঠিকমতো প্রকাশ পায় না। ব্যাংকগুলো থেকে অর্থায়নের টাকাপয়সা যে লুটপাট হয়েছে, এর জন্য কোনো না কোনোভাবে এই দুর্বল আর্থিক প্রতিবেদনই দায়ী।
 
অনুষ্ঠানে ব্যাংকিং ও পুঁজিবাজারের বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী দুই মাসের মধ্যে পুঁজিবাজারের গঠনে বড় পরিবর্তন দেখা যাবে। সেখানে কোনো রাজনৈতিক লোক নিয়োগ দেওয়া হবে না, বরং পেশাদার ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ব্যাংক খাতের মূলধন–সংকট মেটাতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন সংস্থা (আইএফসি) এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংকগুলোকে যুক্ত করে ব্যাংকিং খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
 
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, বিগত দিনগুলোতে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) খাতে ৬০ থেকে ৭০ হাজার কোটি টাকা খরচ হলেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের জন্য বিশাল কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করতে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহায়তার লক্ষ্যে ‘অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ’ স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী বাজেটে এর বিশেষ প্রতিফলন থাকবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
 
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কোনো গোষ্ঠীকে বাইরে রেখে অর্থনীতিকে সামনের দিকে এগানো যাবে না।’
 

 দাম বৃদ্ধি ঠেকাতে কৌশলগত মজুত
 
নিত্যপ্রয়োজনীয় বেশ কিছু পণ্যের ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হবে বলে অনুষ্ঠানে জানান বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর উদ্দেশ্য হচ্ছে, হঠাৎ কোনো কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত (সাপ্লাই শক) হলে কিংবা আন্তর্জাতিক বাজারে আকস্মিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটলে তার সরাসরি ধাক্কা বা অভিঘাত যেন দেশের ভোক্তাশ্রেণির ওপর না পড়ে সেটি নিশ্চিত করা।
 
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিপুল জনসংখ্যার দেশ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে কোনো স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ নেই। এটি সম্ভবত পৃথিবীর বুকে একটি বিরল ঘটনা। এর ফলে দেশের বাজারব্যবস্থার ধাক্কা সামলানোর ক্ষমতা অত্যন্ত দুর্বল। মাত্র ১৫-২০ দিনের সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হলেই দেশের বাজার তা সহ্য করতে পারে না।
 
নিত্যপণ্যের দাম কমবে কি না, অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রীর কাছে এ প্রশ্ন করেন উপস্থিত একজন। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যেসব জিনিসে আমাদের আমদানিনির্ভরতা আছে, যেসব ব্যবসায় খুব সহজে সবার পক্ষে ঢোকা সম্ভব না। কারণ, এক জাহাজ ডাল, এক জাহাজ সয়াবিন বা তেল আনতে কয়েক শ কোটি টাকা লাগে।
 
এই সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে প্রতিটি জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় আমদানি পণ্যের জন্য মজুত ব্যবস্থা তৈরি করতে যাচ্ছেন। সরকারের হাতে যেন পর্যাপ্ত মজুত থাকে এবং ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মাধ্যমে বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ করার সক্ষমতা তৈরি হয়। এর ফলে আর কোনো কৃত্রিম সংকটের শিকার হতে হবে না।
 
অতীতে পর্যাপ্ত মজুত না থাকার খেসারত দিতে হয়েছে উল্লেখ করে খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক জটিলতার কারণে আমাদের অনেক বাড়তি দামে এলএনজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস), ডিজেল ও সার কিনতে হয়েছে। এই প্রতিটি জিনিসের যদি আমাদের পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা থাকত, তাহলে আন্তর্জাতিক বাজারের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কাছে এভাবে আমাদের নতি স্বীকার করতে হতো না।’

 

 সরবরাহ চেইনে আসছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
 
বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহারের ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তি সইয়ের দিন থেকে শুরু করে ঋণপত্র, শিপমেন্ট ও দেশে এনে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছানোর পুরো সরবরাহ চেইনকে (সাপ্লাই চেইন) একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের আওতায় আনা হচ্ছে। এই ডিজিটাল মডেলের মাধ্যমে পণ্যের সার্বিক সরবরাহ ও গতিবিধি (মোবিলিটি) সম্পূর্ণ পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
 
এ ছাড়া দেশে জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ার পেছনে উচ্চ পরিবহন ও আনুষঙ্গিক (লজিস্টিক) খরচকে একটি বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাংলাদেশে লজিস্টিক খরচ জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক মানদণ্ড হচ্ছে ১০ শতাংশ। এই খরচ কমিয়ে আনার জন্য বেশ কিছু খাত চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সেখানে বড় ধরনের সংস্কার করা হবে।
 
কৃষি পণ্যের হাতবদল ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে দামের অস্বাভাবিক তারতম্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, যশোরে যে কৃষক সবজি উৎপাদন করছেন, তিনি হয়তো দাম পাচ্ছেন ১০ বা ১২ টাকা। কিন্তু সেই পণ্যই যখন ঢাকার কারওয়ান বাজারে এসে পৌঁছায়, তখন তার দাম হয়ে যাচ্ছে ৫২ থেকে ৬৪ টাকা। মাঝখানের এই যে অস্বাভাবিক দামের তারতম্য এবং যেসব হাতবদলের কারণে এটি ঘটছে, সেই জায়গাগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এই ব্যবধান কমিয়ে এনে উৎপাদক ও ভোক্তা উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় সরকার দ্রুত কয়েকটি অনুসন্ধানী মিশন (ফাইন্ডিং মিশন) পরিচালনা করবে বলে জানান তিনি।
 

১৭ বছরের অব্যবস্থাপনার খেসারত দিচ্ছে জ্বালানি খাত: জ্বালানিমন্ত্রী
 
গত ১৭ বছর ধরে দেশের ভূগর্ভ ও সমুদ্রে কোনো তেল-গ্যাস অনুসন্ধান না করার খেসারত এখন পুরো জাতিকে দিতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, গত সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানায় ছেড়ে দিয়ে দেশকে ব্ল্যাকমেইলিংয়ের মুখে ফেলেছে।
 
তবে সংকট কাটাতে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক দরপত্রের (অফশোর টেন্ডার) মাধ্যমে গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বড় উদ্যোগ শুরু হচ্ছে বলে জানান জ্বালানিমন্ত্রী। ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘সমুদ্র জয়ের পরেও সেখান থেকে সম্পদ আহরণ করতে না পারা দুর্ভাগ্যজনক। আগামী সপ্তাহের সোমবার আমরা অফশোর ইন্টারন্যাশনাল টেন্ডার (আন্তর্জাতিক দরপত্র) আহ্বান করতে যাচ্ছি। আশা করি, অতি দ্রুত আমরা গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানে যেতে পারব।’
 
এ ছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্স-কে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে, রিগ (খননযন্ত্র) কেনা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, বাপেক্সের যেহেতু গভীর সমুদ্রে কাজ করার অভিজ্ঞতা নেই, তাই আন্তর্জাতিক কোম্পানির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে তাদের কাজ করতে বলা হয়েছে, যাতে দেশের একটা অংশীদারত্ব বা স্টেক থাকে।
 

 বাড়ি বাড়ি গ্যাস দেওয়া ছিল ঐতিহাসিক ভুল
 
ষাট ও সত্তরের দশকে বাড়ি বাড়ি রান্নার গ্যাস দেওয়ার নীতিগত সমালোচনা করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, তখন পাকিস্তানের সুই গ্যাস আর বাংলাদেশের তিতাস গ্যাসের বৈষম্য দূর করার নামে পাইপ দিয়ে বাড়ি বাড়ি গ্যাস দেওয়া হয়েছিল। তখন এই ধারণা ছিল না যে এই গ্যাস এক দিন আমাদের শিল্পের প্রধান চালিকা শক্তি হবে। এর ফলে আমরা চিরকাল ভাবলাম আমরা গ্যাসের ওপর ভাসছি। এমনকি একটা দেশলাইয়ের কাঠি পর্যন্ত সাশ্রয় করিনি, চুলা জ্বালিয়ে কাপড় শুকিয়েছি। এখন চাইলেই হুট করে আবাসিক লাইনের ট্যারিফ বা গ্যাসের চাপ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে সরকার এখন যৌক্তিকভাবে গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে।
 
বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়াকে আত্মঘাতী উল্লেখ করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার আমলে বিশ্বব্যাংকের চাপের মুখেও আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ৬৫ শতাংশ সরকারের হাতে থাকবে। কারণ, জেনারেশন এমন একটি জায়গা, যা বেসরকারি খাতের হাতে সম্পূর্ণ ছেড়ে দিলে তারা যেকোনো সময় সরকারকে ব্ল্যাকমেল করতে পারে। কিন্তু গত ১৭ বছরে ঠিক তার উল্টোটা করা হয়েছে।’
 
ক্ষোভ প্রকাশ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এখন কুইক রেন্টাল ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর হাতে চাবিকাঠি। আমার পাওয়ার স্টেশন চলে না, অথচ চুক্তি অনুযায়ী তাদের বসিয়ে বসিয়ে টাকা (ক্যাপাসিটি চার্জ) দিতে হচ্ছে। কী এক জটলা তৈরি করে দিয়ে গেছে! প্রতিদিন সকালে উঠেই বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো টাকা চায়, টাকা না দিলে বিদ্যুৎ বন্ধের হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিদিন আমাকে অর্থমন্ত্রীর কাছে টাকার জন্য দৌড়াতে হয়।’
 
তিনি জানান, শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া চালাতেই প্রায় ৫৬ হাজার কোটি টাকার ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে।


 
 সৌরবিদ্যুতে নতুন নীতিমালা জুনের মধ্যে
 
জ্বালানির টেকসই বিকল্প হিসেবে নবায়নযোগ্য শক্তির ওপর জোর দেওয়ার কথা জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সোলার, উইন্ড (বায়ু বিদ্যুৎ) এবং বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ (ওয়েস্ট টু পাওয়ার) উৎপাদনের কাজ করছি। জুনের মধ্যে একটি বিনিয়োগবান্ধব সোলার পলিসি (সৌরবিদ্যুৎ নীতি) দেওয়া হবে। বর্তমানে আমাদের কর কাঠামো খুব খারাপ। বিশেষ করে সোলারের ব্যাটারির ওপর অতিরিক্ত কর থাকায় বিনিয়োগকারীরা উৎসাহ পাচ্ছেন না। আমরা অর্থমন্ত্রীর সাথে কথা বলে এই ট্যাক্স কমিয়ে আনার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য—চলতি মেয়াদের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাওয়া।’


 
অনুষ্ঠানে দুটি পৃথক অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ফওজুল কবির খান, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান, এপেক্স ফুটওয়্যার-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)-এর চেয়ারম্যান শরীফ জহির, এনআরবি ব্যাংক-এর প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান ইকবাল আহমেদ, বারভিডা সভাপতি আব্দুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত নাসিমা ফেরদৌস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও ফাইন্যান্সিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান মামুন রশীদ মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
বাংলা কিউআরে শুরু হলো ব্যক্তি থেকে ব্যক্তির মধ্যে লেনদেন

বাংলাদেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় যুক্ত হলো নতুন অধ্যায়। রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে বাংলা কিউআর ভিত্তিক ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পিটুপি লেনদেন সেবা।   এর ফলে এখন থেকে একজন গ্রাহক অন্য কোনো ব্যক্তির কিউআর কোড স্ক্যান করেই অত্যন্ত সহজে, দ্রুত ও নিরাপদে টাকা লেনদেন করতে পারবেন।   রোববার (১ নভেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালক ও সহকারী মুখপাত্র শাহরিয়ার সিদ্দিকী স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।   নতুন এই সেবার ফলে টাকা পাঠানোর সময় প্রাপকের মোবাইল নম্বর কিংবা ব্যাংক বা এমএফএস হিসাব নম্বর আলাদাভাবে টাইপ করার ঝক্কি থাকবে না। কেবল প্রাপকের কিউআর কোড স্ক্যান করে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করার মাধ্যমেই তাৎক্ষণিকভাবে লেনদেন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।   এতে দৈনন্দিন আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া আরও সহজ, নির্ভুল ও সুবিধাজনক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।   উল্লেখ্য, শুরুর দিকে বাংলা কিউআর কেবল মার্চেন্ট পেমেন্ট বা ব্যবসায়িক লেনদেনের (যেমন: দোকান বা শোরুমে কেনাকাটার বিল পরিশোধ) জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল।   দীর্ঘদিন এটি কেবল মার্চেন্ট কিউআর কোড হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে এসেছে এবং পরবর্তীতে ১ জুলাই থেকে তা সব ব্যাংক ও এমএফএসের জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়।   দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর রোববার থেকে এতে যুক্ত হলো কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি বা পিটুপি লেনদেন সেবা, যার মাধ্যমে এখন সাধারণ গ্রাহকরাও নিজেদের মধ্যে কিউআর কোড স্ক্যান করে সরাসরি টাকা লেনদেন করতে পারছেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন নভেম্বর ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতের সংস্কারে বাংলাদেশকে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক

ফাইল ছবি

বাংলাদেশ-তুরস্কের বাণিজ্য ২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্য

এআই খাতে বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ফের বড় দরপতন

১৩ বছর পর মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে: জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক

দীর্ঘ ১৩ বছরেরও বেশি সময় পর জাপানে মূল্যস্ফীতি নির্ধারিত ২ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শুক্রবার ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) এ ঘোষণা দেয়।    তবে মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছায় আপাতত সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে বিরত রয়েছে ব্যাংকটি।   খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।   দীর্ঘদিন ধরে চলা মূল্যপতনের প্রবণতা বা মুদ্রাসংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে চাঙা করতে কয়েক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছে জাপানের বিভিন্ন সরকার। মূল্যপতন বলতে দীর্ঘ সময় ধরে পণ্য ও সেবার দাম কমে যাওয়াকে বোঝায়, যা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর।   এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার লক্ষ্যে ২০১৩ সালে ২ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে ব্যাপকভাবে মুদ্রানীতি শিথিল করার উদ্যোগ নেয় ব্যাংক অব জাপান।   ২০২০-এর দশকের শুরুর দিকে কয়েক দফায় মূল ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও শুক্রবার প্রথমবারের মতো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘমেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রবণতা এখন নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভিত্তিগত ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) মূল্যস্ফীতি এখন ২ শতাংশ মূল্যস্থিতিশীলতার লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে মোটামুটি সামঞ্জস্যপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এ হার কাছাকাছি থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।’   তবে মূল্যস্ফীতি স্থায়ীভাবে লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশাবাদী হলেও প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মূল্যপতনের যুগের অবসান ঘোষণা করতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।   গত সপ্তাহে দেশটির অর্থনীতিমন্ত্রী মিনোরু কিউচি বলেন, ‘আমরা এখনো সেই পর্যায়ে পৌঁছাইনি।’   ধারণা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেয়ে অর্থনৈতিক প্রণোদনাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে তাকাইচির সরকার।    এতে সুদের হার কম রাখার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সরকারের চাপ রয়েছে—এমন ধারণা তৈরি হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।   এদিকে ব্যাংক অব জাপান এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আট-এক ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে তারা মূল সুদের হার ১ দশমিক ২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে। এর আগে একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ এবং ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   তবে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে থাকায় আগামী ডিসেম্বর মাসে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।   ২০২২ সালের বসন্তকাল থেকে জাপানে ধারাবাহিকভাবে ভোক্তামূল্য বাড়ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ১০ বছর ধরে চলা অত্যন্ত শিথিল মুদ্রানীতি থেকে সরে এসে ২০২৪ সালের মার্চে সুদের হার বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করে ব্যাংক অব জাপান।   সরকারের গত সপ্তাহে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে জাপানের মূল মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আগস্টে এ হার ছিল ১ দশমিক ৭ শতাংশ।   শুক্রবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক সতর্ক করে বলেছে, তাজা খাদ্যপণ্য বাদ দিয়ে হিসাব করা ভোক্তা মূল্যসূচকের বার্ষিক বৃদ্ধির হার ২ শতাংশের উল্লেখযোগ্য ওপরে উঠতে পারে।   কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এর পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে তেলের দাম বৃদ্ধি অন্যতম। এতে বিশেষ করে জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে পারে। পাশাপাশি বিশ্ববাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-সংক্রান্ত চাহিদা বৃদ্ধির কারণে সেমিকন্ডাক্টরের দামও বাড়ছে।   এ ছাড়া জাপানি মুদ্রা ইয়েনের অবমূল্যায়নও মূল্যস্ফীতি বাড়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।   অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ মার্সেল থিলিয়ান্ট বলেন, ‘সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই বেশি। আমাদের ধারণা, আগামী বছরের মাঝামাঝি সময়ে নীতিনির্ধারণী সুদের হার ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।’   তিনি আরও বলেন, ‘এর পরও সুদের হার বাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে বলেই মনে হচ্ছে।’

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ৩০, ২০২৬

এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশ আরও তিন বছর সময় পেল

ছবি: সংগৃহীত

২৮ দিনে প্রবাসী আয় ৩২ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনে নতুন সমন্বিত নির্দেশনা জারি বাংলাদেশ ব্যাংকের

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা ও স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব

বাংলাদেশ ব্যাংকের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ বিভাগের যুগ্ম পরিচালক মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রী উম্মে হাসান ডলির ব্যাংক হিসাবের তথ্য চেয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। তাঁদের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি শেয়ার, সঞ্চয়পত্রসহ অন্যান্য আর্থিক হিসাবের লেনদেনের তথ্যও চাওয়া হয়েছে।   বুধবার (২৮ অক্টোবর) দেশের সব ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল আর্থিক সেবাদাতা (এমএফএস) প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে এসব তথ্য চেয়েছে বিএফআইইউ।     বিএফআইইউর চিঠিতে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর হিসাব খোলার ফরম, লেনদেনের বিবরণীসহ সংশ্লিষ্ট সব তথ্য চিঠি পাওয়ার দুই কর্মদিবসের মধ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইনের আওতায় এসব তথ্য চাওয়া হয়েছে।     বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উচ্চপর্যায়ে অপেশাদার আচরণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঘটনার তদন্ত চলছে।   সূত্র জানায়, প্রথম ঘটনাটি গত ২৬ ফেব্রুয়ারির। ওই দিন নতুন গভর্নর নিয়োগের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের দায়িত্বে থাকা ডেপুটি গভর্নর কবির আহম্মদ ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলামকে কয়েকটি আদেশে জোরপূর্বক সই করানোর অভিযোগ ওঠে মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকে তদন্ত চলছে।   মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় অভিযোগটি তদবির-সংক্রান্ত। আওয়ামী লীগ নেতা ও প্রিমিয়ার ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চিকিৎসক এইচ বি এম ইকবালের বিরুদ্ধে বিএফআইইউ যাতে কোনও ব্যবস্থা না নেয়, সে বিষয়ে একজন নির্বাহী পরিচালকের কাছে তদবির করার অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতার রেফারেন্স দিয়েছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।   এ ঘটনায় বিএফআইইউর পক্ষ থেকে মোশাররফ হোসেনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগে লিখিত অভিযোগ করা হয়।   তবে মোশাররফ হোসেন ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলবের বিষয়ে বিএফআইইউর চিঠিতে কী কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা জানা যায়নি। তাঁদের বিরুদ্ধে উল্লিখিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফলও প্রকাশিত হয়নি।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি অক্টোবর ২৯, ২০২৬
প্রতীকী ছবি

সরকারি ব্যয় মেটাতে ব্যাংকঋণ বাড়াচ্ছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত

ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ও সুশাসনে জোর ডেপুটি গভর্নরের

ছবি: সংগৃহীত

অক্টোবরের ২৭ দিনে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ

0 Comments