অর্থনীতি

ঈদে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত টাকা রাখার নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ২২, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত
ছবি : সংগৃহীত

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে ব্যাংকের অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিএম) বুথ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট (পিএসডি)-২ এর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঈদের সময় গ্রাহকদের সুবিধার্থে এটিএম বুথে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ রাখতে হবে। পাশাপাশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস), কিউআর কোড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে এবং মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া এটিএম বুথে সার্বক্ষণিক সেবা চালু রাখা, কারিগরি ত্রুটি দ্রুত সমাধান এবং পর্যাপ্ত টাকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুথে নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক অবস্থান নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের কর্মকর্তাদের নিয়মিত বুথ পরিদর্শনের কথাও বলা হয়েছে।
পিওএস ও কিউআর কোড সেবাও সার্বক্ষণিক সচল রাখতে হবে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে মার্চেন্ট ও গ্রাহকদের সচেতন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের ক্ষেত্রে কার্ডভিত্তিক ‘কার্ড নট প্রেজেন্ট’ লেনদেনে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে। একই সঙ্গে এমএফএস সেবায় সব ব্যাংক ও তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে নিরবচ্ছিন্ন লেনদেন ও এজেন্ট পর্যায়ে পর্যাপ্ত নগদ অর্থ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
ঈদের ছুটিকালে নিরাপত্তা জোরদার, গ্রাহক হয়রানি প্রতিরোধ, সার্বক্ষণিক হেল্পলাইন চালু রাখা এবং যে কোনো অঙ্কের লেনদেনের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে এসএমএস এলার্টের মাধ্যমে গ্রাহককে জানানোর নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার ও পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
কাঁচামাল ও শক্তি সংকটে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ছে

কাঁচামালের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি এবং তীব্র বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে সব ধরনের বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। সংগঠনটি জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা এবং লোকসান সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।     বেকারি ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা ও চিনির মতো প্রধান চারটি কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। গত এক মাসের ব্যবধানে খোলা ও প্যাকেজে মোড়ানো চিনির দাম কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা এবং আটা-ময়দার দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।       এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্যাস ও বিদ্যুতের তীব্র সংকট। গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে অনেক বেকারি কারখানা এখন দিনের দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকছে। ফলে কারখানা সচল রাখা, নিয়মিত কর্মীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা এবং সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ সামলানো ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।       এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির ফলে প্রতিটি পণ্যের উৎপাদন ব্যয় বহুগুণ বেড়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আগের দামে পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই বাধ্য হয়েই আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বর্ধিত দামে বেকারি পণ্য সরবরাহের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সহযোগিতা না পাওয়া গেলে এই খাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পথে বসে যাবেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে অর্থ উত্তোলন অব্যাহত: তৃতীয় দিনে ৩৮১ কোটি

সংগৃহীত ছবি

হরমুজে ইরান-মার্কিন উত্তাপ: অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন জব্দের দাবি আইআরজিসির

সংগৃহীত ছবি

বিইআরসি’র নতুন মূল্য নির্ধারণ: সেপ্টেম্বরে লিটার প্রতি বাড়ল ৬ টাকা

ছবি : সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির যে মূল্য চলছে, তার চেয়ে বেশি দামে স্পট মার্কেট থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস কিনতে হচ্ছে বাংলাদেশকে। সম্প্রতি তিনটি এলএনজি কার্গো কিনতে পেট্রোবাংলার ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক মূল্যসূচকের তুলনায় এসব কার্গোর জন্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা বেশি দিতে হয়েছে।   গত সপ্তাহে ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বর সরবরাহের জন্য একটি এলএনজি কার্গোর দর প্রতি ইউনিট ২৭ দশমিক ৫৪ ডলার প্রস্তাব করে আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর। একই সময়ে জাপান কোরিয়া মার্কার বা জেকেএম মূল্য ছিল ২৪ দশমিক ০৯ ডলার। অন্য একটি কার্গোর জন্য বিপি সিঙ্গাপুরের দর ছিল প্রতি ইউনিট ২৮ দশমিক ০৩ ডলার। ওই সময়ে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আবার ৫ ও ৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য বিটল ইশয়া লিমিটেডের প্রস্তাবিত দর ছিল ২৬ দশমিক ৬৬৮৮ ডলার, যেখানে জেকেএম মূল্য ছিল প্রায় ২৫ ডলার। আন্তর্জাতিক সূচকের তুলনায় কেন বেশি দাম আরপিজিসিএলের তথ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সময়ে স্পট মার্কেটে প্ল্যাটস ও জেকেএম সূচকের মূল্য ছিল ২২ দশমিক ৮২ থেকে ২৪ দশমিক ৬১ ডলারের মধ্যে। ফলে বাংলাদেশকে প্রতিটি কার্গোর জন্য আন্তর্জাতিক সূচকভিত্তিক মূল্যের তুলনায় বেশি অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। এ নিয়ে জ্বালানি বিভাগকে দেওয়া ব্যাখ্যায় আরপিজিসিএল ও পেট্রোবাংলা কয়েকটি কারণ তুলে ধরেছে। তাদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক এলএনজি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে স্পট মার্কেটের দামেও। গ্যাসের মান নিয়েও রয়েছে সীমাবদ্ধতা পেট্রোবাংলার নির্ধারিত গ্যাসের মান ও হিটিং ভ্যালুর শর্তও এলএনজি কেনার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এই নির্দিষ্ট মানদণ্ডের কারণে অনেক আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী টেন্ডারে অংশ নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। সরবরাহকারীর সংখ্যা কমে গেলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিযোগিতাও কমে যায়। আর প্রতিযোগিতা কম থাকলে দর বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়। স্বল্প সময়ে সরবরাহের টেন্ডারেও বাড়ছে দাম পেট্রোবাংলার ব্যাখ্যায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। স্পট মার্কেট থেকে অল্প সময়ের মধ্যে এলএনজি সরবরাহ নিশ্চিত করতে টেন্ডার আহ্বান করা হলে অনেক সরবরাহকারী এতে অংশ নিতে পারেন না। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু কোম্পানি এলএনজি সরবরাহে আগ্রহী থাকলেও স্বল্প সময়ের মধ্যে কার্গো প্রস্তুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। জ্বালানি ব্যয়ে বাড়তি চাপ আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় বেশি দামে এলএনজি কেনার ফলে দেশের জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা এবং সরবরাহকারীদের সীমিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। পেট্রোবাংলা ও আরপিজিসিএলের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি, এলএনজির নির্দিষ্ট মানের প্রয়োজনীয়তা এবং দ্রুত সরবরাহের শর্ত মিলিয়ে বর্তমান সময়ে স্পট মার্কেট থেকে গ্যাস কেনার ব্যয় বেড়েছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

টানা ২ দফায় কত কমল স্বর্ণের দাম

সুগন্ধি চাল রফতানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমালো সরকার

গ্যাস সংকট বাড়ায় বন্ধ হচ্ছে তৈরি পোশাক কারখানা

ছবি: সংগৃহীত
ডলারের দর কমতেই বাড়ল স্বর্ণের দাম, আউন্সে ৪৪২৯ ডলার

মার্কিন ডলারের দরপতনের মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৫ দশমিক ১০ ডলারে রয়েছে।   এদিন মার্কিন ডলার সূচকও ০.৪ শতাংশ কমেছে। ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।   পেপারস্টোন গ্রুপের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এতটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই যে বাজারে স্বর্ণের দামের দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রবণতা তৈরি করতে পারে।   এর আগে টানা দুই সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছিল। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর দেশটির সুদের হার নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল।   তবে মার্কিন ডলারের দরপতনের মধ্যে বিশ্ববাজারে আবারও বেড়েছে স্বর্ণের দাম। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্পট মার্কেটে মূল্যবান ধাতুটির দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।   রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪২৯ দশমিক ৮৯ ডলারে। অন্যদিকে, ডিসেম্বর ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দর প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৪৭৫ দশমিক ১০ ডলারে রয়েছে।   এদিন মার্কিন ডলার সূচকও ০.৪ শতাংশ কমেছে। ডলারের দর কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রা ব্যবহারকারীদের কাছে ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলক কম ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদায় ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।   পেপারস্টোন গ্রুপের গবেষণা বিভাগের প্রধান ক্রিস ওয়েস্টন বলেন, স্বর্ণের বাজারে বর্তমানে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে টানাপোড়েন রয়েছে। তবে কোনো পক্ষই এতটা শক্তিশালী অবস্থানে নেই যে বাজারে স্বর্ণের দামের দীর্ঘস্থায়ী কোনো প্রবণতা তৈরি করতে পারে।   এর আগে টানা দুই সেশনে স্বর্ণের দাম কমেছিল। আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মসংস্থান প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত বাড়ার তথ্য প্রকাশের পর দেশটির সুদের হার নিয়ে বাজারে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ১ শতাংশে অপরিবর্তিত ছিল।   তবে ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। বিপরীতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে: স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এদিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৩৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী সুদের হারসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদ না দেওয়া সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়। বিপরীতে সুদের হার কমার প্রত্যাশা বাড়লে স্বর্ণে বিনিয়োগের আগ্রহ বাড়তে পারে।   অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে: স্বর্ণের পাশাপাশি মঙ্গলবার অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এদিন স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স রুপার দাম ১ শতাংশ বেড়ে ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে উঠেছে। প্লাটিনামের দাম ০.৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১ হাজার ৮৩৪ ডলারে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৪০২ দশমিক ৮৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

আক্তারুজ্জামান সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড মেয়াদি থেকে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত হবে কোম্পানি আইন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

ঋণের জামানত মূল্যায়নে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

0 Comments