জাতীয়

ডিআইজি-অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ৩৩ পুলিশ কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক অবসরে

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ৩৩ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 

আজ রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

 

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ১৪ উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি), ১৮ অতিরিক্ত ডিআইজি ও এক এসপি পদমর্যাদার ৩৩ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ‘জনস্বার্থে’ অবসরে পাঠানো হয়েছে।

 

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

আইন অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মচারীর চাকরির সময় ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে অবসরে পাঠাতে পারে।

 

এই কর্মকর্তাদের মধ্যে ডিআইজি পদমর্যাদার ছিলেন—মোল্ল্যা নজরুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মিরাজ উদ্দিন আহমেদ, শাহ মিজান শাফিউর রহমান, এস এম মোস্তাক আহমেদ খান, জিহাদুল কবির, মঈনুল হক, ইলিয়াছ শরীফ, শ্যামল কুমার নাথ, জাকির হোসেন খান, শাহ আবিদ হোসেন, জামিল হাসান, মাহবুবুর রহমান ও মো. মনিরুজ্জামান।

 

অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তারা হলেন—বরকতউল্লাহ খান, টি এম মোজাহিদুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন খান, মোহা. মনিরুজ্জামান, মেহেদুল করিম, আলমগীর কবির, রশীদুল হাসান, সঞ্জয় কুমার কুন্ডু, নিজামুল হক মোল্লা, এস এম ইমরান হোসেন, সাইদুর রহমান খান, শামসুন্নাহার, মোল্লা জাহাঙ্গীর হোসেন, সাইফুল্লাহ আল মামুন, খান মুহাম্মদ রেজোয়ান, সাজিদ হোসেন, শেখ রফিকুল ইসলাম ও মাশরুকুর রহমান খালেদ।

 

এছাড়া পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আবদুল্লাহ আরেফকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।

 

এই কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত ছিলেন, আবার কেউ বিভিন্ন দপ্তরে সংযুক্ত বা বিশেষ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এই কর্মকর্তারা প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী অবসরকালীন সুবিধা পাবেন এবং এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

এর আগে, গত ৩ মে ১৬ ডিআইজিসহ ১৭ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় সরকার।

 

গত ২২ এপ্রিল আরও ১১ ডিআইজি ও ২ অতিরিক্ত ডিআইজিকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি : সংগৃহীত
পাউরুটিতে বিষাক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেট বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট

পাউরুটি উৎপাদনের সময় এতে বিষাক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে রিট করেছে মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশন (এমএইচআরজিএফ)। একই সঙ্গে পাউরুটি বাজারজাতকরণের সময় প্যাকেটের গায়ে ‘পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার হয়নি’ এমন ঘোষণা বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।     রবিবার (২৬ জুলাই) জনস্বার্থেমুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস ও গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি করেন।     রিটে খাদ্যসচিব, বাংলাদেশে অটো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেড ম্যানুফেকচারিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, বিএসটিআই মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, প্রাণ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, নাবিস্কো বিস্কুট অ্যান্ড ব্রেফ ফ্যাক্টরির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ডেনিস ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, (ফ্রেশ) মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আকিজ ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং হক ফুডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে বিবাদী করা হয়েছে।     রিটে পাউরুটি উৎপাদনের পর বাজারজাতকরণ বা প্যাকেটজাতকরণের সময় পটাশিয়াম ব্রোমেট সংক্রান্ত ঘোষণা, উপকরণের নাম বাধ্যতামূলত ঘোষণা নিশ্চিত করা এবং পাউরুটিতে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।     রিট দায়ের পর রিট আবেদনকারী মুভমেন্ট ফর হিউম্যান রাইটস ও গুড গভর্নেন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কবীর আলমগীর বলেন, সম্প্রতি ‘পাউরুটিতে মিলছে ক্যান্সারের উপাদান’ শিরোনামে গণমাধ্যমে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়।   ওই সংবাদের তথ্য যুক্ত করে রিটটি দায়ের করা হয়েছে।   তিনি আরো বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডসহ বিশ্বের ৪০টি দেশে পটাশিয়াম ব্রোমেট নিষিদ্ধ। বাংলাদেশের নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ২০২২ সালে খাদ্যপণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। তারপরও পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।     আমরা চাই না অনিরাপদ খাদ্যের কারণে মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ুক। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রকে এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এসব কারণে রিটটি করেছি।   রিটে আবেদন বলা হয়, ভেজাল খাদ্যের কারণে বাংলাদেশের ৪৫ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছরই ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।   প্রতিবছর ক্যান্সারে প্রাণ হারাচ্ছে ১ লাখ ১৭ হাজার মানুষ। নতুন করে আক্রান্ত হচ্ছে এক লাখ ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষ। বর্তমানে ক্যান্সারে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা তিন লাখ ৪৬ হাজারের মতো। দেশে ১৬ শতাংশ মানুষ কিডনি জটিলতায় ভুগছে। এখন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের জেলা-উপজেলায় কোন ধরনের আইন-কানুন না মেনে  অপরিকল্পিতভাবে বেকারিতে পাউরুটি তৈরি করে স্বাস্থ্যঝঁকি বাড়ানো হচ্ছে। রিটকারীর আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার পেছনে সহায়-সম্বল, ভিটামাটি বিক্রি করছেন। আমরা এই অবস্থার অবসান চাই। আমরা চাই না খাদ্যের মাধ্যমে মরণঘাতি ক্যান্সারের উপাদান আমাদের শরীরে প্রবেশ করুক। এসব কারণে পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেটের ব্যবহার বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে  জনস্বার্থে রিটটি করা হয়েছে।   চলতি সপ্তাহের যেকোনো দিন বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী সঞ্চয় মণ্ডল।     ২০২১ সালের ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় পাউরুটিতে অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারের প্রমাণ মেলে। পটাশিয়াম ব্রোমের বিরুদ্ধে ওই বছর প্রচার কার্যক্রম চালায় নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ।     ওই বছর ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকা ১৯টি পাউরুটির নমুনা পরীক্ষা করে ১৬টির ক্ষেত্রে বা ৮৪ শতাংশে মাত্রাতিরিক্ত পটাশিয়াম ব্রোমেট পাওয়া যায়। পাউরুটিগুলোতে পটাশিয়াম ব্রোমেটের মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩১ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) থেকে ১২ দশমিক ৯১ পিপিএম। অর্থাৎ ব্যবহৃত আটার ১০ লাখ ভাগের ৩ দশমিক ৩১ থেকে ১২ দশমিক ৯১ ভাগ পটাশিয়াম ব্রোমেট।      পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফলের ভিত্তিতে রুটি, পাউরুটি ও বেকারি পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেট ব্যবহার বন্ধের নির্দেশ দিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। পাউরুটি ও বেকারি খাদ্যে সংযোজক দ্রব্য হিসেবে পটাশিয়াম ব্রোমেট (KBrO3) ও পটাশিয়াম আয়োডেট (KIO3) ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়।     বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ ওই সময় নিষেধাজ্ঞায় জানায়, মানবদেহে পটাশিয়াম ব্রোমেট থাইরয়েড গ্রন্থির রোগ সৃষ্টি করে। এমনকি ক্লাস টুবি কারসিনোজেন, যা ক্যান্সারের কারণ। এটি একটি জেনোটক্সিক কারসিনোজেন, যা জিনগত রোগ ও মিউটেশন ঘটাতে পারে। ডায়রিয়া, বমিভাব ও পেটের পীড়াসহ অন্যান্য উপসর্গও দেখা দিতে পারে। এ জন্য বেকারি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের উৎপাদিত খাবারে এসব ব্যবহার অনতিবিলম্বে বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।    বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে নেওয়া কিছু নমুনায় পটাশিয়াম ব্রোমেটের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট ও ডাটাবেজ তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া তিনটি নমুনা পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপিওনেট পাওয়া গেছে। যা থাকার কথা ০.৭ শতাংশ, সেখানে মিলেছে ১ দশমিক ৫৭ শতাংশ। যা মানবদেহ ও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।    পটাশিয়াম ব্রোমেট এবং পটাশিয়াম আয়োডেট এই দুই উপদান মেশানো রুটি, পাউরুটি এবং বেকারি পণ্য মোড়কহীন কিংবা মোড়কে মজুদ, পরিবহন ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।     পাউরুটি তৈরির জন্য ২০১৬ সালে একটি মান নির্ধারণ করে দেয় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। তখন পাউরুটি ইমপ্রুভার হিসেবে অ্যামোনিয়াম পারসালফেট, পটাশিয়াম ব্রোমেট, পটাশিয়াম আয়োডেট, ক্যালসিয়াম কার্বনেট, অ্যাসিড ক্যালসিয়াম ফসফেট ও ক্যালসিয়াম ফসফেট ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সময় এক কেজি পাউরুটিতে ৫ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহারের অনুমতি ছিল। তবে বেশ কয়েক বছর ধরে বিশ্বের উন্নত দেশগুলো পাউরুটিতে এই রাসায়নিকটির ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এর ফলে ২০১৮ সালে পাউরুটিতে পটাশিয়াম ব্রোমেট ও পটাশিয়াম আয়োডেটের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে বিএসটিআই।     বহুল ব্যবহৃত পাউরুটিতে শুরু থেকেই ইস্ট ব্যবহার করে এটি ফুলানো হতো। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় এর ব্যবহার কমে যায়। এরপর বাংলাদেশ, ভারতসহ কিছু দেশে রুটি ফুলাতে খাবার সোডা ব্যবহৃত হতে থাকে। তবে নব্বইয়ের দশক থেকে অনেক দেশে আটার খামিরকে দীর্ঘ সময় রেখে দেওয়ার জন্য বেকারির মালিকেরা পটাশিয়াম ব্রোমেট ব্যবহার উৎসাহিত করেন। এটি দামেও সস্তা এবং পাউরুটিকে আকর্ষণীয়ভাবে ফোলানো ও নানা আকৃতি দেওয়ায় ওই বিষাক্ত উপাদানটি বেশ কার্যকর।

মারিয়া রহমান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

দেশের বাজারের ২৬টি টুথপেস্টে বিষাক্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক, গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি : সংগৃহীত

১৮ মন্ত্রীর পুলিশ এসকর্ট প্রত্যাহার, দায়িত্বমুক্ত ৯০ পুলিশ সদস্য

ছবি : সংগৃহীত

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: খুব শিগগিরই স্পিকারের সাক্ষাৎ চায় ইসি

ছবি: সংগৃহীত
ব্যাংক কর্মীদের শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ ২ মাসে নিষ্পত্তির নির্দেশ

ব্যাংক কর্মীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ উঠলে তা চাকরিবিধি অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে। এ বিষয়ে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।   রোববার (২৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করা হয়।   সার্কুলারে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের সংশ্লিষ্ট নিয়ম সংশোধন করে অভিযোগ নিষ্পত্তির সময়সীমা দুই মাস নির্ধারণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শ্রম বিধিমালা, ২০১৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।   বাংলাদেশ ব্যাংকের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাংক কর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও শৃঙ্খলাজনিত অভিযোগ দীর্ঘদিন ঝুলে থাকার প্রবণতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতে পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহিতা বাড়বে।   ব্যাংক-কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ৪৫ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সার্কুলারটি অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে ২০০৫ সালের মূল সার্কুলারের অন্যান্য বিধান অপরিবর্তিত থাকবে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

এসডিজি বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দরকার আরও ৪২১ বিলিয়ন ডলার

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহীতে নিরাপত্তায় যুক্ত হচ্ছে ১৫৫ অত্যাধুনিক সিসি ক্যামেরা

ছবি: সংগৃহীত

১৫ বছরের কমবয়সী ও দূরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তিরা হজে যেতে পারবে না

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা, সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে স্পষ্ট নয় তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ )-এর ডিরেক্টরেট অব অপারেশন্সের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জেরাল্ড পি. হ্যামিল্টন বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন। তবে তার বাংলাদেশ সফরের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন দূতাবাস বা বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।   অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হ্যামিল্টনের ঢাকায় আসার তথ্য প্রকাশ করেন। সেখানে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের সংরক্ষণসংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি পাঁচতারকা হোটেলে অবস্থান নিয়েছেন সাবেক এই গোয়েন্দা কর্মকর্তা। হোটেল সূত্রের বরাত দিয়ে আরও জানানো হয়েছে, আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত তার ঢাকায় থাকার কথা রয়েছে।   জেরাল্ড পি. হ্যামিল্টন প্রায় ৩৫ বছর মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ শাখায় দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি। এছাড়া CIA সদর দপ্তরে বিভাগীয় প্রধান ও দপ্তর পরিচালকের দায়িত্বও পালন করেছেন।   অবসরের আগে গোয়েন্দা কার্যক্রমে অবদানের জন্য তিনি ‘ডিস্টিঙ্গুইশড ক্যারিয়ার ইন্টেলিজেন্স মেডেল’সহ একাধিক সম্মাননা লাভ করেন।   তবে হ্যামিল্টনের বর্তমান ঢাকা সফরকে ঘিরে কোনো সরকারি বৈঠক বা কর্মসূচির তথ্য এখনো প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তার সফরটি নিরাপত্তা সহযোগিতা, ব্যক্তিগত বিষয় নাকি অন্য কোনো কারণে—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।   এদিকে আগামী ২৯ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোর-এর ঢাকা সফরের কথা রয়েছে। পরদিন ৩০ জুলাই তিনি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবির পরিদর্শন করবেন বলে জানা গেছে।

আক্তারুজ্জামান জুলাই ২৬, ২০২৬

‘বাংলাদেশকে জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার’

চা শিল্পের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

হজ্জ ক্যাম্পে প্রবাসীদের জন্য ১০০ শয্যার আবাসন ব্যবস্থার ঘোষণা প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রীর

0 Comments