দেশের পুঁজিবাজারে সাতটি ব্রোকারেজ হাউস ভুয়া ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ও বিভিন্ন কারসাজির মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ করেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব জালিয়াতি-কারসাজির তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে। তদন্তে দেখা গেছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত প্রযুক্তি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের অজান্তে শেয়ার বিক্রি, হিসাব গোপন এবং অর্থ সরিয়ে নেওয়ার মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।
ডিএসইর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে। এরপর রয়েছে তামহা সিকিউরিটিজে ১৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সালতা ক্যাপিটালে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে প্রায় ৮০ কোটি টাকা (নিরীক্ষা অনুযায়ী ১০৫ কোটি টাকা), বাংকো সিকিউরিটিজে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর সিকিউরিটিজে ১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্লু চিপ সিকিউরিটিজের (সাবেক খুরশিদ সিকিউরিটিজ) বিরুদ্ধেও গ্রাহকের সোয়া দুই কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অবশ্য ডিএসইর প্রতিবেদনে মোট আত্মসাতের পরিমাণ ৬৫০ কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি টাকা কোন ব্রোকার হাউসের সে তথ্য তাদের প্রতিবেদনে নেই।
তদন্তে জালিয়াতির দুটি প্রধান কৌশল উঠে এসেছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারের পরিবর্তে ভুয়া বা ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিএসই ও গ্রাহকদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেখানো হতো। দ্বিতীয়ত, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সিস্টেমে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের নম্বর যুক্ত করা হতো। ফলে শেয়ার কেনাবেচার এসএমএস বা নোটিফিকেশন গ্রাহকের পরিবর্তে সংশ্লিষ্টদের কাছে যেত এবং গ্রাহকের অজান্তেই শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো।
বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ব্রোকারেজ হাউসে অপরিবর্তনযোগ্য ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর নির্দেশ দেয়। তবে ডিএসইর অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২৮০টি ব্রোকারেজ হাউস নতুন সফটওয়্যার গ্রহণ করলেও ১১৮টিতে এখনো বিনিয়োগকারীর তথ্য এবং ১০২টিতে লেজার ও পোর্টফোলিও স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়া ২৪টি প্রতিষ্ঠান এখনো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে এবং ১৩৫টি ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকদের লেনদেন-সংক্রান্ত এসএমএস বা ই-মেইল পাঠায় না। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব দুর্বলতাই জালিয়াতির সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তদন্তে নাম আসা সাতটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে। ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা পড়ার পর মশিউর সিকিউরিটিজের লেনদেন ও ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট (ডিপি) কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
১৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০২১ সালের নভেম্বরে তামহা সিকিউরিটিজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ডিএসই। বিএসইসির তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হারুনুর রশীদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় দুই হাজার বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। পরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ও পরিবারের সদস্যদের ১০টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিস বন্ধ রয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে ডিএসইর আকস্মিক পরিদর্শনে সালতা ক্যাপিটালের কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ঘাটতি ধরা পড়ে। পরে বিএসইসির তদন্তে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ডিএসই জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে।
ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ কোটি টাকা (নিরীক্ষা অনুযায়ী ১০৫ কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদ উল্লাহ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
বাংকো সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশ ছাড়ার সময় চেয়ারম্যান আবদুল মুহিতকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বিচারাধীন।
১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর ২০১৯ সালে শাহ মোহাম্মদ সগীর সিকিউরিটিজের ট্রেডিং রাইটস এনটাইটেলমেন্ট (টিআরই) সনদ স্থগিত করে ডিএসই। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
ব্লু চিপ সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধেও গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি, চেক ডিজঅনার এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা চলছে। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ হলেও এখনো কার্যকর সমাধান পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। বিভিন্ন সময়ে টাকা ফেরতের দাবি জানানো হলেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ফেরত পাননি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ডিএসইর ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে তিনটি ব্রোকারেজ হাউসের কিছু গ্রাহককে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার কালবেলাকে বলেন, ‘অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে ডিএসই একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করছে, যা চালু হলে কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিদিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাবের সমন্বয় (রিকনসিলিয়েশন) করা যাবে। কোনো অমিল ধরা পড়লে সিস্টেম তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেবে, ফলে দ্রুত জবাবদিহি নিশ্চিত ও আকস্মিক পরিদর্শন চালানো সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, ‘ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে সরাসরি এনফোর্সমেন্ট ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ডিএসইর নেই। তাই তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়লে প্রতিবেদন বিএসইসিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেয় কমিশন।’
বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম কালবেলাকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আইনগত বিষয়ও পর্যালোচনাধীন রয়েছে।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আল-আমিন কালবেলাকে বলেন, ‘যেসব ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকায় সেই অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। একই সঙ্গে ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডে থাকা অর্থও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।’
তিনি বলেন, ‘আইনি ও আর্থিক জটিলতার নিষ্পত্তি না হলে এসব ব্রোকারেজ হাউস বিক্রিও সহজ হবে না। তাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন থাকতে হবে এবং সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে—এমন ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমেই বিনিয়োগ করা উচিত।’
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ঢাকার সদরঘাটে ইস্ট বেঙ্গল সুপার মার্কেটে চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে মহানগর দক্ষিণ শ্রমিক দলের আহ্বায়ক মো. সুমন ভূঁইয়ার অনুসারীদের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে মিতুল নামে একজন নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে সূত্রাপুর থানাধীন ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। নিহত মিতুল কোতোয়ালি থানার ৩৭ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য বলে জানা গেছে। তিনি ঝালকাঠির সাহাবাঙ্গল গ্রামের মো. রাসেল সরদারের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সাবেক যুবদল নেতা সোবহান ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ—দুজনই সুমন ভূঁইয়ার অনুসারী। তারা দুজনই কোতোয়ালি থানা যুবদলের পদপ্রত্যাশী। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। চাঁদাবাজির টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে সেই বিরোধ সংঘর্ষে রূপ নেয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষে কিরণ গ্রুপের একজন সদস্য নিহত হয়েছেন। তাকে কাপড় কাটা কাচি দিয়ে বুকে আঘাত করা হয়। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। এদিকে নিহতের স্বজনসহ প্রায় ৮০-১০০ জন মিটফোর্ড হাসপাতালে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন। ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. সুমন ভূঁইয়া বলেন, ‘এরা আমার সমর্থক নয়। তবে মাঝে মাঝে বিভিন্ন মিছিল-মিটিংয়ে থাকে। আমি শারীরিকভাবে অসুস্থ। বিস্তারিত জানতে পারিনি।’ রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা ও স্থানীয়রা এ কথা বললেও পুলিশ বলছে ভিন্ন কথা। একজন নিহতের তথ্য দিলেও সংঘর্ষে কারা জড়িত সেটা উল্লেখ করেনি পুলিশ। তাছাড়া নিহতেরও তেমন কোনো পরিচয় দেয়নি। সূত্রাপুর থানার অপারেশন ইনচার্জ মতিউর রহমান বলেন, ইস্ট বেঙ্গল মার্কেটের ১৩ তলায় শ্রমিকরা থাকে, তাদের মধ্যে পূর্ব থেকে কোনো ভেজাল ছিলো বলে আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি। পূর্ব শত্রুতার রেশ ধরেই এক ছেলেকে কাপড় কাটার কাচি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
রাজধানীর বাড্ডা থানার আফতাবনগর এলাকায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন মো. এস এম আরিফুল ইসলাম পাভেল (৩০)। ডিবি জানিয়েছে, তিনি একটি ডাকাত দলের সদস্য। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাত আনুমানিক ৮টা ৪৫ মিনিটে আফতাবনগরের এম-ব্লক, ৫ নম্বর সেক্টরের ইস্ট অ্যান্ড হাউজিং এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ডিবি সূত্র জানায়, ওই এলাকায় একদল সশস্ত্র ব্যক্তি ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে গুলশান ডিবির একটি দল অভিযান চালায়। ডিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাভেল নামে এক ব্যক্তি অস্ত্র বের করে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন বলে দাবি পুলিশের। অভিযানে অংশ নেওয়া গুলশান ডিবির পরিদর্শক আনোয়ার বলেন, “আত্মরক্ষা ও জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে ডিবি সদস্যরা পাল্টা এক রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে পাভেলের ডান পায়ের হাঁটুর নিচে গুলি লাগে। পরে তাকে আটক করা হয়।” পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, আহত পাভেলের বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার বাকেরগঞ্জ গ্রামে। তিনি আবু সাদেক সর্দার বাদলের ছেলে এবং বর্তমানে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের গোড়ান এলাকায় বসবাস করছিলেন। ঘটনার বিষয়ে বাড্ডা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পরিবেশবান্ধব বা শূন্য নিঃসরণ গাড়ির প্রযুক্তির প্রসারে প্রায় ১৩ কোটি পাউন্ড বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সরকারি অনুদানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের যৌথ বিনিয়োগে এই অর্থায়ন করা হবে। ঘোষিত অর্থের মধ্যে প্রায় ৬ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড সরকারি খাত থেকে দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫ কোটি পাউন্ড পাবেন গাড়ি প্রস্তুতকারক ও গবেষকেরা। নতুন জিরো-এমিশন প্রযুক্তি উদ্ভাবন এবং তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের কাজে এই অর্থ ব্যয় করা হবে। এ ছাড়া ১ কোটি ৭০ লাখ পাউন্ড ব্যয় করা হবে সংযুক্ত ও স্বয়ংক্রিয় চালনাসংক্রান্ত নয়টি বিশেষ প্রকল্পে। এসব প্রকল্পের আওতায় অত্যাধুনিক সেন্সর, ব্রেক-বাই-ওয়্যার সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত সিমুলেশন প্রযুক্তির উন্নয়ন করা হবে। যুক্তরাজ্যের শিল্পমন্ত্রী ব্লেয়ার ম্যাকডুগাল বলেন, আধুনিক মোটর শিল্পের সূচনা হয়েছিল ব্রিটেনে। দেশটির সরকার চায় পরবর্তী প্রজন্মের পরিবেশবান্ধব গাড়িও যেন যুক্তরাজ্যের মাটিতেই নকশা ও তৈরি করা হয়। গ্রিন ট্রানজিশন বা পরিবেশবান্ধব রূপান্তরের লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাজ্য কঠোর কৌশল নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের পর দেশটিতে কেবল পেট্রল বা ডিজেলচালিত নতুন গাড়ি বিক্রি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর ২০৩৫ সালের মধ্যে বাজারে আসা সব নতুন গাড়িকে শতভাগ শূন্য নিঃসরণ বা পরিবেশবান্ধব হতে হবে। সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান