ঢাকায় পা রেখেও মঞ্চে উঠতে পারল না পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘কাভিশ’। শহরে কনসার্টের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নেমে এলো অচেনা অস্বস্তি। শেষ মুহূর্তে আটকে যায় ভেন্যুর অনুমতি। আয়োজক প্রাইম ওয়েভ কমিউনিকেশনস জানায়, বাধ্য হয়েই অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে হয়েছে, তবে পুরোপুরি বাতিল হয়নি।
জানা যায়, ‘ওয়েভ ফেস্ট: ফিল দ্য উইন্টার’ শিরোনামে কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে। এতে কাভিশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যান্ড শিরোনামহীন, মেঘদলসহ আরও কয়েকজন শিল্পী পারফর্ম করার কথা ছিল। ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত ছিল ঢাকার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের কোর্টসাইড।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) কাভিশ ঢাকায় পৌঁছে। ব্যান্ড সদস্যদের বিমানবন্দরের ছবি প্রকাশ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কাবিশ গত রাতে ঢাকায় পৌঁছেছে।
এরপর কনসার্ট স্থগিত নিয়ে ব্যান্ডদলটির পক্ষ থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। আয়োজক পক্ষ জানায়, আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল—যে কোনো মূল্যে এই অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করা। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও অস্থিরতা বিবেচনা করে, সব প্রস্তুতি, ভেন্যু, কাগজপত্র, শিল্পীর পারিশ্রমিক ও অনুমতির জটিলতা অতিক্রম করার পরও আমাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ওয়েভফেস্ট সিজন ০১ সাময়িকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা উচিত। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য হৃদয় থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
আয়োজক পক্ষ আরও জানায়, অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে; কিন্তু বাতিল করা হয়নি। আপনারা কেউ হতাশ হবেন না। আমরা আন্তরিকভাবে এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। এ ছাড়া আপনাদের জন্য কাভিশ নিজে একটি ভিডিও বার্তাও পাঠিয়েছেন। আমরা আবারও ক্ষমা চাচ্ছি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ব জানুয়ারিতেও ঢাকায় এসে ‘ঢাকা ড্রিমস’ কনসার্টে গান পরিবেশন করেছিল কাভিশ। ‘বাচপান’ ও ‘তেরে পেয়ার মে’ গানগুলো দিয়ে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পর্দায় প্রেম, আবেগ আর অনবদ্য রসায়নে দর্শকদের হৃদয় জয় করা কেয়া পায়েল–খায়রুল বাসার জুটিকে ঘিরে এবার আলোচনা ছাড়িয়ে গেছে নাটকের গণ্ডি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেয়া পায়েলের একটি রহস্যময় পোস্ট নতুন করে কৌতূহল তৈরি করেছে ভক্তদের মাঝে। নাটকের গল্প কি তবে বাস্তব জীবনের সঙ্গেই মিলছে, নাকি সবটাই কেবল জল্পনা? সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে খায়রুল বাসারের সঙ্গে একটি ছবি শেয়ার করেন কেয়া পায়েল। ছবিতে দুজনকেই দেখা যায় হাসিখুশি ও স্বচ্ছন্দ মুহূর্তে। তবে ছবির চেয়েও বেশি নজর কেড়েছে ক্যাপশনটি। সেখানে পায়েল লিখেছেন, ‘যদি সত্যি জানতে চাও, তোমাকে চাই।’ প্রিয় অভিনেত্রীর এমন কথায় ভক্তদের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এটি কি শুধুই কোনো নাটকের সংলাপ, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে ভিন্ন কোনো বার্তা—তা নিয়েই চলছে আলোচনা। বর্তমানে এই জনপ্রিয় জুটি মুহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ধারাবাহিক নাটক ‘এটা আমাদেরই গল্প’-এ একসঙ্গে অভিনয় করছেন। পারিবারিক আবেগ, সম্পর্কের টানাপোড়েন ও ভালোবাসার গল্পে নির্মিত এই নাটকটি জনপ্রিয় পাকিস্তানি সিরিজ ‘কাভি মে কাভি তুম’-এর ছায়া অবলম্বনে তৈরি। নাটকটির গল্প ও কেয়া পায়েল–খায়রুল বাসারের অনস্ক্রিন রসায়ন ইতোমধ্যেই দর্শক মহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে। আর এর মধ্যেই এমন রহস্যময় পোস্ট নতুন করে আলোচনার আগুনে ঘি ঢেলেছে বলেই মনে করছেন ভক্তরা।
প্রায় এক দশক আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের সূত্রেই সামিহা রহমান শামার সঙ্গে পরিচয় হয় অভিনেতা পার্থ শেখের। সময়ের ব্যবধানে মাঝখানে যোগাযোগ বন্ধ থাকলেও পরে আবার সম্পর্কের সূত্রপাত হয় নতুন করে। সেখান থেকেই বন্ধুত্ব, আর বন্ধুত্ব গড়ায় প্রেমে। তবে প্রেমের শুরুটা সহজ ছিল না। পার্থের প্রেমের প্রস্তাবে প্রথমে রাজি হননি শামা। তিনবার প্রস্তাব দেওয়ার পর অবশেষে ২০২২ সালের ৩০ জানুয়ারি অভিনেতার প্রস্তাবে সম্মতি দেন তিনি। এরপর প্রায় দুই বছর চুটিয়ে প্রেম করেন এই যুগল। দুই পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের কথা শেয়ার করে নেওয়ার পর, সবার সম্মতিতে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনেকটাই গোপনে পার্থ ও শামার বাগদান সম্পন্ন হয়। সেই বাগদানের প্রায় ১১ মাস পর গতকাল বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করেন তারা। রাজধানীর নিকুঞ্জের একটি কনভেনশন সেন্টারে ঘরোয়া আয়োজনে এই শুভকাজ সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে শোবিজ অঙ্গনের ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কালের কণ্ঠকে পার্থ শেখ বলেন, “শামার সঙ্গে আমার পরিচয় প্রায় দশ বছর আগে, ২০১৬ সাল থেকে। তখন ফেসবুকে টুকটাক কথা হতো। পরে অনেকদিন যোগাযোগ ছিল না। আবার যখন কথা শুরু হয়, তখন আমি আমার ভালো লাগার কথা জানাই। প্রেমের প্রস্তাব দিই, কিন্তু সে প্রথমে রাজি হয়নি। আমি হাল ছাড়িনি। তিনবার প্রপোজ করার পর সে রাজি হয়।” তিনি আরো বলেন, “এরপর খুব সুন্দরভাবে আমাদের সম্পর্ক এগিয়েছে। দুই পরিবারকে জানানোর পর তাদের উপস্থিতিতেই গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আমাদের বাগদান হয়। এরপর ছোট্ট আয়োজনে গতকাল আমাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। সবার কাছে নতুন জীবনের জন্য দোয়া চাই।” পার্থ জানান, আপাতত ঘরোয়া আয়োজনে কাছের মানুষদের নিয়েই অনুষ্ঠান করা হয়েছে। আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে বড় পরিসরে একটি আয়োজন করার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। উল্লেখ্য, নির্মাণ দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও গত দুই বছরে মডেলিং ও অভিনয়ের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন পার্থ শেখ। নাটকে নিয়মিত অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি ওয়েব সিরিজেও কাজ করেছেন। অন্যদিকে সামিহা রহমান নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে নিযুক্ত রয়েছেন।
২০১১ সালে ‘এক জীবনে এত প্রেম পাব কোথায়’ শিরোনামের একটি গান দিয়ে রাতারাতি জনপ্রিয়তা পাওয়া মডেল শায়না আমিনের কথা মনে আছে নিশ্চয়ই! খুব স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে হাতেগোনা কয়েকটি কাজ করেছিলেন; এরপর হঠাৎ করেই শোবিজাঙ্গন থেকে হারিয়ে যান; দীর্ঘদিন পর্দায় না থাকলেও ভক্তদের হৃদয় থেকে হারিয়ে যাননি শায়না। ‘এক জীবন’ এর দৃশ্যে শায়না আমিন এখনও সামাজিক মাধ্যমে শায়না নতুন কিছু মুহূর্ত শেয়ার করলেই তা আলোচনায় চলে আসে। সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের বরফঢাকা পাহাড়ে তার নান্দনিক ‘শীত বিলাস’ নতুন করে নজর কাড়ল ভক্তদের; সঙ্গে প্রকাশ পেল তার এক গ্ল্যামারাস উপস্থিতি। বৃহস্পতিবার ফেসবুকে উইন্টার স্পেশাল কিছু ছবি প্রকাশ করেন শায়না। তাতে দেখা যায়, নীল আকাশের নিচে শুভ্র বরফে ঢাকা পাহাড়ের পাদদেশে উজ্জ্বল হলুদ রঙের উলের পোশাক পরে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। খোলা চুলে তার মিষ্টি হাসি আর প্রাণবন্ত ভঙ্গি যেন চারপাশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেও তখন হার মানায়। ক্যাপশনেও তুলে ধরলেন তা! লিখেছেন, ‘শীতে পাহাড়ের সৌন্দর্যে হারিয়ে গেছি।’ আর তার এই স্নিগ্ধ রূপ দেখে মুগ্ধ হয়েছে তার হাজারো ভক্তরা, তা বলার বাকি রাখে না। মিডিয়া থেকে এক দশকের বেশি সময় ধরে দূরে থাকলেও শায়নার গ্ল্যামারে এতটুকুও ভাটা পড়েনি। এক ভক্ত লিখেছেন, ‘তোমায় দেখলে আজও ওই গানটিই মাথায় আসে- এক জীবনে এত প্রেম পাবো কোথায়’। আরেকজনের মতে, তিনি যেন বিশ্বের সেরা সুন্দরী। দেশের সমসাময়িক অনেক তারকা যখন বিভিন্ন কারণে সমালোচিত হন, সেখানে শায়না আমিন এক ব্যতিক্রমী নাম। ভক্তদের প্রতি তার ভালোবাসা এবং বিতর্কমুক্ত জীবন তাকে ‘জিরো হেটার্স’ তারকার তকমা এনে দিয়েছে। মন্তব্যঘরে দেখা যায়, তাকে বিনোদন জগতে ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন ভক্তরা। দীর্ঘদিন ধরে স্বামী ও সন্তান নিয়ে প্রবাসে সুখের দিন কাটাচ্ছেন শায়না আমিন। বছর খানেক আগে দেশে ফিরলেও অভিনয়ে ফেরার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছিলেন। বর্তমানে প্রবাসেই নিজের মতো করে নান্দনিক মুহূর্তগুলো অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন শায়না।