ঢাকায় পা রেখেও মঞ্চে উঠতে পারল না পাকিস্তানের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘কাভিশ’। শহরে কনসার্টের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই নেমে এলো অচেনা অস্বস্তি। শেষ মুহূর্তে আটকে যায় ভেন্যুর অনুমতি। আয়োজক প্রাইম ওয়েভ কমিউনিকেশনস জানায়, বাধ্য হয়েই অনুষ্ঠানটি স্থগিত করতে হয়েছে, তবে পুরোপুরি বাতিল হয়নি।
জানা যায়, ‘ওয়েভ ফেস্ট: ফিল দ্য উইন্টার’ শিরোনামে কনসার্টটি হওয়ার কথা ছিল শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে। এতে কাভিশের পাশাপাশি বাংলাদেশের ব্যান্ড শিরোনামহীন, মেঘদলসহ আরও কয়েকজন শিল্পী পারফর্ম করার কথা ছিল। ভেন্যু হিসেবে নির্ধারিত ছিল ঢাকার মাদানী অ্যাভিনিউয়ের কোর্টসাইড।
এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) কাভিশ ঢাকায় পৌঁছে। ব্যান্ড সদস্যদের বিমানবন্দরের ছবি প্রকাশ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান সামাজিক মাধ্যমে জানায়, কাবিশ গত রাতে ঢাকায় পৌঁছেছে।
এরপর কনসার্ট স্থগিত নিয়ে ব্যান্ডদলটির পক্ষ থেকে একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে আয়োজক প্রতিষ্ঠান। আয়োজক পক্ষ জানায়, আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল—যে কোনো মূল্যে এই অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করা। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও অস্থিরতা বিবেচনা করে, সব প্রস্তুতি, ভেন্যু, কাগজপত্র, শিল্পীর পারিশ্রমিক ও অনুমতির জটিলতা অতিক্রম করার পরও আমাদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে যে, দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ওয়েভফেস্ট সিজন ০১ সাময়িকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা উচিত। আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অনুষ্ঠান সম্পন্ন করার জন্য হৃদয় থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি; কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
আয়োজক পক্ষ আরও জানায়, অনুষ্ঠানটি স্থগিত করা হয়েছে; কিন্তু বাতিল করা হয়নি। আপনারা কেউ হতাশ হবেন না। আমরা আন্তরিকভাবে এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। এ ছাড়া আপনাদের জন্য কাভিশ নিজে একটি ভিডিও বার্তাও পাঠিয়েছেন। আমরা আবারও ক্ষমা চাচ্ছি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ব জানুয়ারিতেও ঢাকায় এসে ‘ঢাকা ড্রিমস’ কনসার্টে গান পরিবেশন করেছিল কাভিশ। ‘বাচপান’ ও ‘তেরে পেয়ার মে’ গানগুলো দিয়ে দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে জনপ্রিয় এই ব্যান্ডটি ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
ফুটবলপ্রেমীদের কাছে আর্জেন্টিনা বরাবরই এক আবেগের নাম। শুধু সাধারণ সমর্থকরাই নন, শোবিজ অঙ্গনের তারকারাও এই উন্মাদনায় নিজেদের সম্পৃক্ত রাখেন। সম্প্রতি জনপ্রিয় মডেল ও অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের একটি ছোট্ট ফেসবুক পোস্ট ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সেখানে তিনি আর্জেন্টিনা দলের প্রতি নিজের ভালোবাসা ও মুগ্ধতার কথা প্রকাশ করেছেন। গত রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা জেতার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে কেয়া পায়েল লেখেন, ‘Argentina তুমি একটা বিউটি’। সংক্ষিপ্ত এই বার্তাটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা ছড়িয়ে পড়ে। পোস্টটিতে অসংখ্য লাইক ও মন্তব্য জমা পড়ছে। কেয়া পায়েলের ভক্তদের পাশাপাশি আর্জেন্টিনার সমর্থকরাও মন্তব্যের মাধ্যমে দলটির প্রতি নিজেদের ভালোবাসা প্রকাশ করছেন। অনেকেই অভিনেত্রীকে আর্জেন্টিনার নীল-সাদা জার্সির একজন সমর্থক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। বর্তমানে কেয়া পায়েল দেশের ছোট পর্দার পরিচিত ও ব্যস্ত অভিনেত্রীদের একজন। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ আয়োজনে নির্মিত নাটকে তাকে নিয়মিত দেখা যায়। অভিনয়ের ব্যস্ততার মধ্যেও ফুটবলের প্রতি তার এই ভালোবাসা ভক্তদের মাঝে নতুন করে সাড়া ফেলেছে।
প্রথমবার জুটি বেঁধে অভিনয় করছেন ঢালিউড অভিনেতা আরিফিন শুভ ও অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। জাহিদ প্রীতম পরিচালিত চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ দেখা যাবে তাদের। মিনিস্ট্রি অব লাভ (এমওএল) ব্যানারে নির্মিত এটি সপ্তম চলচ্চিত্র, যার সহপ্রযোজনায় রয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ছবিয়াল। নির্মাতার ভাষ্য, সমকালীন জীবনের জটিলতা, পারিবারিক সম্পর্কের চিরন্তন বন্ধন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব—এই ৩টি বিষয়কে এক সুতোয় গেঁথে তুলে ধরা হয়েছে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ। নতুন এই কাজ নিয়ে উচ্ছ্বসিত আরিফিন শুভ। তিনি বলেন, ‘উনিশ ২০-এর পর আবার চরকির সঙ্গে কাজ করছি। এ ধরনের চরিত্রে আগে কাজ করিনি। দর্শক সাধারণত আমাকে যেভাবে দেখে অভ্যস্ত, এখানে সেভাবে দেখবে না। এটি প্রচলিত শক্তিশালী নায়ক চরিত্র নয়। আমি অভিনয় করছি মফস্বলের অত্যন্ত দায়িত্বশীল এক যুবকের চরিত্রে, যার পুরো পৃথিবীজুড়ে রয়েছে তার পরিবার, ছোট ভাইবোন ও প্রিয় মানুষেরা।’ অন্যদিকে কেয়া পায়েলের কাছেও কাজটি বিশেষ। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো কারণে কাজটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত সহশিল্পী হিসেবে আছেন আরিফিন শুভ ভাই। দ্বিতীয়ত, এটি চরকির সঙ্গে আমার প্রথম কাজ। আর তৃতীয়ত, পরিচালক জাহিদ প্রীতম। আমার চরিত্রটা প্রেমে পড়ার মতো। অভিনয়েরও অনেকগুলো লেয়ার রয়েছে। দর্শক আমাকে বিভিন্নভাবে দেখেছেন, এবারও নতুনভাবে দেখবেন বলে বিশ্বাস করি।’ পরিচালক জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘প্রতিদিনের সামাজিক দূরত্ব, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহারে মানুষের মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন এবং চিরায়ত পারিবারিক মূল্যবোধের সংঘাত—এসবই বাস্তবসম্মতভাবে উঠে আসবে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এ। এতে যেমন রয়েছে হিউমার ও রোমান্স, তেমনি রয়েছে আবেগঘন পারিবারিক মুহূর্ত, যা প্রতিটি বাঙালি পরিবারকে স্পর্শ করবে।’
রাজনীতিবিদ ও টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অভিনেত্রী শিল্পা শিন্ডের নাম বারবার বিতর্কে উঠে আসছে। কিছু দিন আগেই খবর ছড়িয়ে পড়ে— তিনি একসময়ে যৌন হেনস্তার মিথ্যা অভিযোগ এনেছিলেন। নিজেই জানান সে কথা। তারপর থেকে সমালোচিত ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ অভিনেত্রী। বর্তমানে শিল্পা শিন্ডে রয়েছেন নেটফ্লিক্সের রিয়্যালিটি শো ‘লকআপ সিজন ২’-তে। সেখানেও নানা বিতর্কে জড়িয়েছেন অভিনেত্রী। এদিকে ‘বিগ বস ১১’-এর সময় থেকে শিল্পা শিন্ডের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে তর্কবিতর্ক জড়িয়ে পড়েন অভিনেত্রী হিনা খান। আবার শিল্পা শিন্ডেকে কটাক্ষ করলেন অভিনেত্রী। একসময় তার ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়া নিয়েও মশকরা করেছিলেন শিল্পা। সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হিনা ও তার স্বামী রকি জয়সওয়াল। সেখানে এ তারকা দম্পতি শিল্পার কড়া সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ— হিনা যখন স্তন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন, তখনো শিল্পা তাকে নিয়ে মজা করেছিলেন। যৌন হেনস্তার ভুয়া অভিযোগ নিয়ে শিল্পা শিন্ডের উদ্দেশে হিনা খান বলেন, যদি ওই মানুষটি আত্মহত্যা করতেন তাহলে কী হতো? যৌন হেনস্তার অভিযোগ খুবই গুরুতর বিষয়। এ ভুয়া অভিযোগের জন্যই মানুষ সত্যিকারের ভুক্তভোগীদেরও বিশ্বাস করতে চাইবে না। স্ত্রীর মন্তব্য সমর্থন করে রকি জয়সওয়ালও বলেন, এবার সত্যিকারের ভুক্তভোগীদের কী হবে? কেউ যদি নিজে ভুক্তভোগী না হয়েও আইনের অপব্যবহার করে, তাহলে তো যে কারও বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা যায়। অনেক সময়েই পারিশ্রমিক পেতে দেরি হয়। তাই বলে কি আমরা সবার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার মামলা করব? যৌন হেনস্তার অভিযোগ যে মিথ্যা ছিল, তা নিজেই প্রকাশ্যে এনেছেন শিল্পা শিন্ডে। তাই সে প্রসঙ্গে হিনা বলেন, ৮-১০ বছর পর প্রকাশ্যে এসে এসব বলার কোনো মানে হয় না। আমার মনে হয়, শিল্পা ভেবেছিলেন— সবাই তাকে বাহবা দেবে সত্যিটা বলার জন্য। কিন্তু উল্টোটা হয়েছে। তার ভাবা উচিত ছিল— অনেকেই ভবিষ্যতে এ আইনের অপব্যবহার করতে পারে। অনেক দিন ধরে হিনা ও শিল্পার মধ্যে বিতর্ক। সেই প্রসঙ্গে হিনা বলেন, শিল্পা বলেছেন— আমি নাকি নিজের প্রচারের জন্য ওর নাম নিয়েছি। কিন্তু গত ১০ বছরে আমি কখনো তাকে নিয়ে কিছু বলিনি। অথচ শিল্পা আমার অসুস্থতাকে টেনে এনেছেন। এ প্রসঙ্গে কিছুটা সুর চড়িয়ে হিনার স্বামী রকি বলেন, শিল্পা শিন্ডের মতো মানুষ সম্মান পাওয়ার যোগ্য নন। তিনি নিজের ইচ্ছামতো ধারাবাহিক (ভাবিজি ঘর পর হ্যায়) ছেড়েছিলেন। নিজের নারী পরিচয় ও যৌন হেনস্তার অভিযোগকে ব্যবহার করেছিলেন তিনি। তারপরও তিনি হিনার ব্যক্তিগত জীবনের সমস্যা নিয়ে মন্তব্য করার সাহস দেখিয়েছেন। তিনি কে যে এমন কথা বলবেন?