অনেক নাটকীয়তার পর গত বুধবার আইসিসি বাংলাদেশকে জানিয়ে দিয়েছিল, ভারতে গিয়েই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে হবে। তবে এরপরও বাংলাদেশ নিজেদের অবস্থান বদলায়নি। ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপে খেলবে না বলেই জানিয়েছে বিসিবি।
তবে এবার একই কথা আবারও আইসিসিকে একটি মেইল দিয়ে জানিয়েছে বিসিবি। সেখানে যোগ হয়েছে নতুন এক দাবি। ভেন্যু পরিবর্তনের দাবিটি যেন আইসিসির স্বাধীন ডিসপিউট রেজোল্যুশন কমিটির কাছে পাঠানো হয়, সে অনুরোধ আইসিসিকে করেছে বিসিবি। কোনো বিষয় নিয়ে বিতর্ক উঠলে আইসিসির স্বাধীন আইনজীবীদের নিয়ে গঠিত কমিটি সেটির সুরাহা করে।
তার আগে গতকাল ক্রিকেটারদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তা শেষেই তিনি সাংবাদিকদের জানান, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনো রকম সুযোগ নেই।
বুধবার বাংলাদেশকে নির্দেশনা দিয়ে দেওয়ার পর থেকে আইসিসি অবশ্য মুখে কুলুপ এঁটে বসেছে। এরপর থেকে আর কোনো কিছুই জানায়নি ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
২০২৬ বিশ্বকাপের বি গ্রুপে বাংলাদেশের সবকটি ম্যাচ ভারতে। প্রথম ৩ ম্যাচ কলকাতায় আর শেষ ম্যাচটি হওয়ার কথা মুম্বাইতে। বাংলাদেশের আপত্তির পরও সেই সূচি বদলায়নি।
এদিকে বাংলাদেশও তাদের অবস্থান থেকে নড়েনি এক পা-ও। যার ফলে আসছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও খেলা হচ্ছে না বাংলাদেশের।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
লিগ শিরোপা নিশ্চিত হওয়ার পরের ম্যাচেই কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়েছিল বায়ার্ন মিউনিখ। মাইন্সের মাঠে প্রথমার্ধেই তিন গোল হজম করে বড় ব্যবধানে পিছিয়ে পড়লেও দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ প্রত্যাবর্তন করে ৪-৩ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় টানা দ্বিতীয়বারের বুন্দেসলিগা চ্যাম্পিয়নরা। শনিবারের ম্যাচে শুরু থেকেই চাপে ছিল বায়ার্ন। ১৫তম মিনিটে ডমিনিক, ২৯তম মিনিটে নেবেল এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে শেরাল্ডো বেকার গোল করলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মাইন্স। ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই হ্যারি কেইন ও মাইকেল ওলিসেকে মাঠে নামান বায়ার্ন কোচ। এরপরই আক্রমণে গতি ফেরে দলটির। ৫৩তম মিনিটে নিকোলাস জ্যাকসনের গোলে ব্যবধান কমায় বায়ার্ন। ৭৩তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে আরও একটি গোল করলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় তারা। ৮১তম মিনিটে জামাল মুসিয়ালার গোলের পর সমতায় ফেরে জার্মান জায়ান্টরা। এর দুই মিনিট পরই জয়সূচক গোলটি করেন হ্যারি কেইন। এই মৌসুমে এটি তার ৩৩তম গোল। সবশেষে ৩১ ম্যাচে ২৬ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৮২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে সমান ম্যাচে ৩৪ পয়েন্ট নিয়ে দশম স্থানে মাইন্স।
পুরোটা সময় কোণঠাসা থেকে মুহূর্তের চমকে আরেকটি অঘটনের সম্ভাবনা জাগাল সাউথ্যাম্পটন। তবে ওই ধাক্কায় এলোমেলো হলো না ম্যানচেস্টার সিটি। বরং ঘুরে দাঁড়িয়ে, পাঁচ মিনিটে দুই গোল করে এফএ কাপের ফাইনালে উঠল পেপ গুয়ার্দিওলার দল। লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে শনিবার প্রথম সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছে সিটি। প্রতিপক্ষের অনেক সুযোগ নষ্টের মাঝে, ফিন এজাজের অসাধারণ এক গোলে এগিয়ে যায় আর্সেনালকে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে ওঠা সাউথ্যাম্পটন। একটু পরই কিছুটা সৌভাগ্যের ছোঁয়ায় সমতা টানেন জেরেমি ডোকু, আর এরপর ব্যবধান গড়ে দেন নিকো গন্সালেস। কোচ গুয়ার্দিওলার হাত ধরে অনন্য এক কীর্তি গড়ল ম্যানচেস্টার সিটি। প্রথম ক্লাব হিসেবে তারা টানা চারবার উঠল এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে। আগের ম্যাচের দল থেকে আটটি পরিবর্তন এনে একাদশ সাজান গুয়ার্দিওলা। তাতে প্রথমার্ধে প্রত্যাশিত পারফর্ম করতে পারেনি তারা। পরে পিছিয়ে পড়তে হয়, তবে হাল না ছাড়ার মানসিকতায় দলটি পেরিয়ে গেল সব বাধা। পঞ্চম মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো সিটি; তবে সেটা হতে দেননি সাউথ্যাম্পটন গোলরক্ষক। টিয়ানি রেইন্ডার্সের শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন দানিয়েল পেরেৎস, বল তার হাত ছুঁয়ে পোস্টে লাগে। প্রথমার্ধে গোলের জন্য আরও পাঁচটি শট নিয়ে একটিও লক্ষ্যে রাখতে পারেনি সিটি। কিছুক্ষণ পর পাল্টা আক্রমণে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার লেও সিনজা জালে বল পাঠালে গ্যালারিতে উল্লাসে ফেটে পড়ে সাউথ্যাম্পটনের সমর্থকরা, যদিও একটু পরই বাজে অফসাইডের বাঁশি। বিরতির পর আক্রমণে জোর দেয় সিটি। কয়েক মিনিটের মধ্যে ভালো দুটি সুযোগও তৈরি করে তারা; কিন্তু কাছ থেকে ওমার মার্মুশ লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেওয়ার পর, সাভিনিয়োর প্রচেষ্টা আটকে দেন গোলরক্ষক। ৭১তম মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন করেন গুয়ার্দিওলা। মার্মুশ ও রায়ান আইত-নুরিকে তুলে আর্লিং হলান্ড ও নিকো ও’রাইলিকে নামান কোচ। এর পরপরই প্রতিপক্ষের বক্সে ভীতি ছড়ায় সিটি। নিকো গন্সালেসের শট আটকে দেন গোলরক্ষক, হায়ান শেহকির শট রক্ষণে প্রতিহত এবং তৃতীয় প্রচেষ্টায় রেইন্ডার্সের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। শুরু থেকে প্রায় পুরোটা সময় ঘর সামলাতে ব্যস্ত থাকা সাউথ্যাম্পটন ৭৯তম মিনিটে ওই চমৎকার গোলে সিটিকে চমকে দেয়। মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের থেকে বল কেড়ে পাল্টা আক্রমণে উঠে, কয়েকজন সতীর্থের পা ঘুরে বল পান ফিন এজাজ এবং শরীরটাকে পুরো ঘুরিয়ে ডি-বক্সের বাইরে থেকে জোরাল উঁচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ইংলিশ মিডফিল্ডার। ধাক্কা সামলে পাল্টা আঘাত হানতে অবশ্য দেরি করেনি সিটি। তিন মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে শট নেন জেরেমি ডোকু এবং বল প্রতিপক্ষের একজনের পায়ে লেগে সামান্য দিক পাল্টে জালে জড়ায়। ৮৭তম মিনিটে আরেকটি দর্শনীয় গোলে এগিয়ে যায় সিটি। অনেকটা দূর থেকে বুলেট গতির শটে বল জালে পাঠান নিকো গন্সালেস। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে সব অনিশ্চয়তার ইতি টেনে দিতে পারতেন ডোকু। সাউথ্যাম্পটন গোলরক্ষক কী বুঝে উঠে আসেন প্রায় মাঝমাঠে, সেখানে বল পেয়ে যান বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড, কিন্তু শট না নিয়ে সময় নষ্ট করে সুবর্ণ সুযোগটা হারান তিনি। পরে আর কোনো অঘটন না ঘটায়, অমন সুযোগ নষ্টের হতাশা পেয়ে বসেনি ডোকু ও তার দলের। সবশেষ ২০২৩ সালে ও মোট সাতবারের শিরোপাজয়ীরা ফাইনালে খেলবে চেলসি অথবা লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে উদ্বেগজনক একটি ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ), এনএএসিপিসহ একাধিক সংগঠন যৌথভাবে এই সতর্কবার্তা প্রকাশ করে। তাদের মতে, আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে যাওয়া সাংবাদিক, খেলোয়াড় কিংবা দর্শনার্থীরা বর্ণবৈষম্য বা হয়রানির ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশেষ করে অভিবাসী ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর জন্য পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হতে পারে। বর্তমান রাজনৈতিক পরিবেশ এবং কঠোর অভিবাসন নীতিই এই উদ্বেগের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ভ্রমণকারীদের মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপের মতো ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইস তল্লাশি করা হতে পারে। এমনকি বর্ণগত প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু বানানোর আশঙ্কাও রয়েছে। কেউ যদি অভিবাসন সংক্রান্ত কারণে আটক হন, তাহলে আটক কেন্দ্রে অমানবিক আচরণের শিকার হওয়ার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো মনে করছে, বর্তমান প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং সংখ্যালঘু ও এলজিবিটিকিউ সম্প্রদায়ের সুরক্ষা কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তাই তারা ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ফিফার কাছে দর্শকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যদিকে, ফিফা তাদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে জানিয়েছে যে, সংস্থাটি মানবাধিকার রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন সংগঠন এই আশ্বাসে সন্তুষ্ট নয়। তারা আগেই সতর্ক করেছিল যে, বিশ্বকাপকে নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান বাস্তবতা তা থেকে অনেকটাই সরে গেছে।