প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানিয়েছেন, ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে। তার আগে ২৫ জুন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান।
আজ শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, মালয়েশিয়া সফর শেষে সেখান থেকে আগামী ২২ জুন বিকেলে রওনা দিয়ে সন্ধ্যায় ডালিয়ানে (চীনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বন্দর নগরী) পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। পরদিন ২৩ জুন ডব্লিউইএফের প্রেসিডেন্ট ও সিইওর সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে এবং সামার দাভোসে অংশগ্রহণকারী অন্যান্য দেশের সরকারপ্রধান, যেমন কাজাখস্তান, মঙ্গোলিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ইত্যাদি দেশের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে।
বৈঠকের সময়সূচি এখনো আলোচনাধীন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, চীন সফরের প্রথম দিন বিকেলে ডব্লিউইএফ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক একটি অধিবেশনে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখবেন।
সন্ধ্যায় চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং আয়োজিত স্বাগত নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।
২৪ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সামার দাভোসের ১৩তম বার্ষিক সভার মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন।
এবারের এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’। ওইদিন এই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর দুপুরে তিনি ট্রেনে বেইজিংয়ের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। বেইজিংয়ে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওউথাই স্টেট গেস্ট হাউসে থাকবেন।
২৫ জুন সকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের মিনিস্টার অব ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্ট অব সিপিসি সেন্ট্রাল কমিটি, বাণিজ্যমন্ত্রী, সিআইডিসিএর চেয়ারম্যান এবং এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম’ নামে একটি বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সেখানে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য রাখবেন এবং চীনের ব্যবসায়ীদের সামনে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ও সম্ভাবনা তুলে ধরবেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবেন।
বিকেলে চীনের গ্রেট হলে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হবেন বাংলাদেশের সরকারপ্রধান। সেখানে বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সব বিষয় এবং ভবিষ্যতে এ সম্পর্ক আরো কীভাবে এগিয়ে নেওয়া যায়, সে বিষয়ে বিশদ আলোচনা হবে।
বৈঠকের পর উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বেশ কয়েকটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হবে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার সম্মানে চীনের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত একটি রাষ্ট্রীয় ভোজসভায় অংশ নেবেন।
পরদিন ২৬ জুন চেয়ারম্যান অব দ্য স্ট্যান্ডিং কমিটি অব ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের (স্পিকার সমমর্যাদার পদ) প্রধান ঝাও লেজি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।
এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। বৈঠকে দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক এবং বৈশ্বিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এর ফাঁকে ২৬ জুন বেইজিংয়ে প্রধানমন্ত্রী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে সেখানকার বীর যোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, ওইদিন (২৬ জুন) বিকেলে প্রধানমন্ত্রী বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন এবং সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।
বেইজিং সফরে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীর সংখ্যা এখন পর্যন্ত ২৮ জন জানিয়ে সচিব জানান, মোটামুটি প্রতিটি ক্ষেত্রে সফরসঙ্গীর সংখ্যা যৌক্তিক রাখার চেষ্টা করেছি।
আসাদ আলম সিয়াম বলেন, এই সফর ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’, যা আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান, তাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি এবং দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার নতুন নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আমরা আশা করি।
বাংলাদেশে চীনের বিনিয়োগ প্রশ্নে সচিব বলেন, এ ক্ষেত্রে আমরা বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। চীনের একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশে গড়ে তোলার কথা রয়েছে। সেটির কাজও হচ্ছে। সেখানে বিভিন্ন প্রাইভেট সেক্টরের সঙ্গে তাদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ হবে। আমরা বলেছি, ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম হবে। সুতরাং নিশ্চয়ই আমরা চীনা বিনিয়োগ বাংলাদেশে চাই।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২২-২৬ জুন মালয়েশিয়া ও চীন সফর করবেন।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশিদের কাছে নিজ দলের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে পস্তাতে হবে না।’ শনিবার (২০ জুন) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। শুক্রবার (১৯ জুন) অনুষ্ঠিত ম্যাচে অস্ট্রেলিয়াকে ২–০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয় পর্ব নিশ্চিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বকাপে পরপর দুই খেলায় যুক্তরাষ্ট্রের জয় ১৯৩০ সালে অনুষ্ঠিত প্রথম বিশ্বকাপের পর এটিই প্রথম। এ জয়ের প্রসঙ্গ ধরে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণে আমি এখানে এসেছি। গত রাতে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দারুণ একটা জয় পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র এবং পরবর্তী পর্বে চলে গেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি এখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সব বাংলাদেশিকে উৎসাহিত করতে এসেছি, যাতে সামনের দিনে বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন করেন। কেননা, দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বাজি ধরলে আপনাকে কখনো পস্তাতে হবে না।’ এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাওয়ার আগের দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। তবে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাদের এই বৈঠককে ‘রুটিন সাক্ষাৎ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
সরকারি চাকরিজীবীদের অবসরকালীন আর্থিক নিরাপত্তা আরো শক্তিশালী করতে ২০১৫ সালে পেনশনব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার আনে সরকার। পেনশন পাওয়ার ন্যূনতম চাকরিকাল কমানো, সর্বোচ্চ পেনশনের হার বৃদ্ধি, গ্র্যাচুইটির নতুন কাঠামো, পারিবারিক পেনশনে শর্ত শিথিল এবং ছুটি নগদায়নের সুবিধা বাড়ানোর ফলে অবসরপ্রাপ্ত ও চাকরিজীবীদের জন্য তৈরি হয়েছে বাড়তি স্বস্তি। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম চাকরিকাল ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৫ বছর করা হয়। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ পেনশনের হার শেষ অর্জিত মূল বেতনের ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। এর ফলে দীর্ঘদিন চাকরি করা কর্মচারীরা অবসরের পর তুলনামূলকভাবে বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। প্রজ্ঞাপনে ৫ থেকে ২৫ বছর বা তার বেশি চাকরিকালের জন্য ধাপে ধাপে নতুন পেনশন হার নির্ধারণ করা হয়। এতে ৫ বছর চাকরিকালে ২১ শতাংশ থেকে শুরু করে ২৫ বছর বা তদূর্ধ্ব চাকরিতে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার বিধান রাখা হয়। তবে ৫ থেকে ২৪ বছর চাকরিকালের এই সুবিধা সাধারণত নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। যেমন—চাকরিরত অবস্থায় মৃত্যু, মেডিক্যাল বোর্ড কর্তৃক স্থায়ী অক্ষমতা অথবা পদ বিলুপ্তির কারণে চাকরি হারানোর ঘটনা। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে অবসরপ্রাপ্তদের পেনশনও বাড়ানো হয়। ৬৫ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ৪০ শতাংশ এবং ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সীদের ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ পেনশন বৃদ্ধি করা হয়। একই সঙ্গে মাসিক ন্যূনতম পেনশন ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। চাকরিকাল কমিয়ে আনার ফলে আনুতোষিক বা গ্র্যাচুইটির ক্ষেত্রেও নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। ৫ থেকে ৯ বছর চাকরিকালের ক্ষেত্রে প্রতি ১ টাকা পেনশনের বিপরীতে ২৬৫ টাকা আনুতোষিক নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া চাকরির মেয়াদ ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই কোনো কর্মচারী মৃত্যুবরণ করলে বা স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে তার পরিবারের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তার বিধান রাখা হয়। প্রতিটি পূর্ণ বছরের জন্য শেষ তিন মাসের মূল বেতনের সমপরিমাণ অর্থ এককালীন সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে। পারিবারিক পেনশন ব্যবস্থাতেও আনা হয় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বিধবা স্ত্রীদের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বয়সের পর পুনর্বিবাহ না করার অঙ্গীকারনামার শর্ত শিথিল করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে মৃত নারী কর্মচারীর স্বামীও পারিবারিক পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। অবসর সুবিধার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের একটি হলো ছুটি নগদায়নের সুযোগ বৃদ্ধি। আগে যেখানে সর্বোচ্চ ১২ মাসের ছুটি নগদায়ন করা যেত, সেখানে তা বাড়িয়ে ১৮ মাস করা হয়। ফলে অবসরের সময় কর্মচারীরা আরও বেশি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পান। প্রজ্ঞাপনটি ২০১৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ধরা হয় এবং ওই সময় পিআরএলে থাকা কর্মচারীরাও নতুন সুবিধার আওতায় আসেন। গত ১১ জুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের সময় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দেন।
পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, শিগগিরই জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)-এর সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনা প্রকল্প অনুমোদন পাবে। বিশেষজ্ঞদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। শুক্রবার (১৯ জুন) রংপুরের কাউনিয়ায় তিস্তা সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই প্রকল্পকে অগ্রাধিকার প্রকল্প হিসেবে বিবেচনায় নিয়েছেন, ফলে তিস্তা পারের মানুষের আর কোনো উদ্বেগের কারণ নেই। তার মতে, পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে এ অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান সম্ভব হবে। মন্ত্রী আরও জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রাথমিক সমীক্ষা ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে এবং ৯ সদস্যের বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী দল এর নকশা ও রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে। আগামী দুই-এক মাসের মধ্যেই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হতে পারে। তিনি দাবি করেন, তিস্তা শুধু উত্তরাঞ্চলের নয়, পুরো দেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং নতুন শিল্প ও কৃষি অঞ্চলের বিকাশ ঘটবে। পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রকল্পে শুধু নদীশাসন নয়, শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি ধরে রাখার স্থায়ী ব্যবস্থাও থাকবে। পরে তিনি তিস্তা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন।