চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে ২ ফেব্রুয়ারি থেকে টানা সাত দিন ধর্মঘটে থাকায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর অনেকটাই অচল হয়ে পড়ে। এই সময়ে সমস্ত পণ্য উঠা-নামা বন্ধ রাখেন শ্রমিকরা। সোমবার থেকে আন্দোলন সাময়িকভাবে প্রত্যাহার হলেও এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে রমজানের ভোগ্যপণ্যে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ছোলা, চিনি ও সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে গত সপ্তাহের তুলনায়। পাইকারি বাজারে দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি যাচ্ছে খুচরা ক্রেতাদের কাছে। শুধু এ তিন পণ্যই নয়, প্যাকেটজাত খাবারের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে।
দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ যে বন্দরের ওপর নির্ভরশীল, সেই বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকায় দেশের বাজারব্যবস্থা, সরবরাহ চেইন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা একসঙ্গে ঝুঁকির মুখে পড়ে। ইফতার ও সাহরির টেবিলে খাবার থাকবে কি না, বাজারে দাম কত বাড়বে—এই প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে।
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ব্যানারে ৩১ জানুয়ারি থেকে কর্মবিরতি শুরু হয়। ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে তা অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মসূচিতে রূপ নেয়। ফলে বন্দরের প্রায় সব অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কনটেইনার হ্যান্ডলিং, পণ্য খালাস, ডেলিভারি ও রপ্তানি শিপমেন্ট স্থবির হয়ে পড়ে। বহির্নোঙরে নোঙর করা জাহাজ থেকেও পণ্য খালাস বন্ধ হয়, যা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজার ও রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
এই টানা অচলাবস্থার সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ। রমজানকে সামনে রেখে খাদ্যপণ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বড় অংশ এই বন্দরের মাধ্যমে আসে। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ছোলা, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, খেজুর, পেঁয়াজ, গমসহ রমজানের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রায় সব নিত্যপণ্যের আমদানি ও খালাস সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বন্দরে কনটেইনার আটকে থাকার ফলে বাজারে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয় এবং অসাধু ব্যবসায়ীরা এর সুযোগ নেয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বন্দরের কার্যক্রম সচল রাখার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হলেও জেটি ও বহির্নোঙরের কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হয়নি। ক্রেন ও বার্থ অপারেশন বন্ধ থাকায় ছয় দিনের বেশি সময় ধরে ৫০ থেকে ৬০ হাজার কনটেইনার বন্দরে আটকে পড়ে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য স্থবির হয়ে গেছে, যার প্রভাব জিডিপি প্রবৃদ্ধিতেও পড়বে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম. সাখাওয়াত হোসেন ৫ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম সফর করেন। তিনি বন্দর কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করে বলেন, পবিত্র রমজানের আগে বন্দর বন্ধ করা উচিত নয়। এ আশ্বাসের পর শ্রমিক নেতারা ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দেন। তবে স্থগিতাদেশের মেয়াদ শেষ হতেই ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে আবারও অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়।
এই পরিস্থিতিতে ৮ ফেব্রুয়ারি কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) চট্টগ্রাম বিভাগ ও নগর কমিটি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে, জানিয়ে দেয়, শ্রমিক–কর্মচারীদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির কারণে রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। ছোলা, ডাল, তেল, চিনি ও খেজুরের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যেতে পারে। এতে সাধারণ ভোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
বন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিমের সই করা এক চিঠিতে আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ১৫ জন কর্মচারীর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি ও তাদের স্থাবর–অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই)-কে পাঠানো হয়েছে।
দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা প্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির ও মো. ইব্রাহিম খোকনসহ মোট ১৫ জন। এর আগে ২ ফেব্রুয়ারি তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এই বদলি ও তদন্তমূলক পদক্ষেপ পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করেছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, রাষ্ট্রীয় স্থাপনা অচল করে জনগণের জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত করার কোনো অধিকার কারও নেই।
অর্থনীতি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের কৃষক, শিল্পপতি, রপ্তানিকারক ও ভোক্তাদের জীবনরেখা। নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একাই বন্দরের মোট কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিচালনা করে এবং ২০২৫ সালে এই টার্মিনাল সিপিএর রাজস্ব আয়ে হাজার কোটি টাকার বেশি অবদান রেখেছে। তাই এই টার্মিনাল অচল থাকায় দেশের আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার বড় অংশ স্থবির হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ ও নেপালের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে বিশেষ কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে কাঠমান্ডুতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস। শুভেচ্ছা ও সৌহার্দ্যের নিদর্শন হিসেবে নেপালের বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে বাংলাদেশের উৎকৃষ্ট মানের আম উপহার হিসেবে পাঠানো হয়েছে। দূতাবাস সূত্রে জানা যায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ১ হাজার ৭৫০ কেজি উন্নতমানের আম নেপালের রাষ্ট্রীয়, কূটনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। এই উপহারের প্রাপকদের মধ্যে রয়েছেন নেপালের রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, কূটনৈতিক কোরের সদস্য, ব্যবসায়ী নেতা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা। মোট ৩৬০ জনেরও বেশি ব্যক্তির কাছে এসব আম পৌঁছে দেওয়া হয়। আমগুলোর গুণগত মান ও সতেজতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর, ভারতের ফুলবাড়ি সীমান্ত এবং কাকরভিটা বন্দর হয়ে সতর্কতার সঙ্গে সেগুলো কাঠমান্ডুতে পরিবহন করা হয়। উপহার হিসেবে পাঠানো আম ছিল জিআই সনদপ্রাপ্ত জনপ্রিয় ‘ক্ষীরশাপাত’ জাতের, যা স্বাদ ও গুণগত মানের জন্য দক্ষিণ এশিয়াজুড়ে বিশেষভাবে সমাদৃত। দূতাবাসের মতে, এই উদ্যোগ দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান আন্তরিক সম্পর্ক ও দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের প্রতিফলন। পাশাপাশি এটি বাংলাদেশ ও নেপালের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদারে উষ্ণতা, সদিচ্ছা ও কূটনৈতিক সৌহার্দ্যের বার্তা বহন করছে। ‘ম্যাংগো ডিপ্লোমেসি’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতাকারী সকল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।
ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার বিষয়টি কূটনৈতিকভাবে সমাধানের জন্য সরকার কাজ করছে বলে বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ। তিনি বলেছেন, “পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘পুশইন’ বিষয়টি কূটনৈতিক মাধ্যমে সমাধানের জন্য কাজ করছে। এক্ষেত্রে বিজিবি সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ভারতের পাশ থেকে যে ‘পুশইন’ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, বিজিবি সেগুলো প্রতিহত করছে। “এরই মধ্যেই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ১২-১৩টি চিঠি দেওয়া হয়েছে দিল্লিতে এই ‘পুশইন’ বন্ধ করার জন্য। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় ফরিদপুরের সালথা প্রেস ক্লাব উদ্বোধন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন। এ সময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, যেকোনো দেশের অবৈধ নাগরিকদের ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমরা আশা করব, ভারত সরকার সে নীতিমালা মেনে কাজ করবে। যদি ভারতের কোনো অবৈধ নাগরিক বাংলাদেশে থাকে সেক্ষেত্রে কূটনৈতিক নিয়ম মেনে বাংলাদেশ তাদেরকে ফেরত পাঠাবে। রাতের আঁধারে ‘পুশইন’ করা থেকে ভারত সরকার বিরত থাকবে বলে আমরা আশা করি। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সালথা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দিন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মামুন সরকার, নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহম্মদ আল ফাহাদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, বিএনপি নেতা আসাদ মাতুব্বর। পরে প্রতিমন্ত্রী সালথা উপজেলা বাজারে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়কের উদ্বোধন করেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে এই বাজেট দেয়া আমাদের জন্য কঠিন ছিল। তবে সীমিত সম্পদের মধ্যেই সবার জন্য এই বাজেট দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (১২ জুন) বেলা ৩টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মানুষের জন্য এই বাজেট দেয়া হয়েছে। জাতিবর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে বাজেটের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বরাদ্দের ক্ষেত্রে চারটি বিষয় মাথায় রাখা হয়েছে। বরাদ্দে ব্যয় যেন সঠিকভাবে হয় সেটা নিশ্চিত করা হবে। মূল্যস্ফীতি প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, মূল্যস্ফীতি কমাতে সরকার ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় হ্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকে। তিনি বলেন, নিম্ন শ্রেণীর মানুষদের অর্থনীতির মূল ধারায় আনতে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বড় বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এত বড় বরাদ্দ আগে কোনো বাজেটে হয়নি।