জাতীয়

ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ভোটাররা কী করতে পারবেন, কী করবেন না

মো: দেলোয়ার হোসাইন ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে। দেশজুড়ে চলছে ভোটের উত্তেজনা। এবারের নির্বাচনে ভোট দেবেন ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার। ইসির তথ্যানুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ২২০ জন।


ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে। ভোটারকেও তাদের দায়িত্ব ও নিষেধাজ্ঞা মানতে হবে। ভোটারকে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টার মধ্যে নির্ধারিত কেন্দ্রে যেতে হবে। নির্ধারিত সময়ে লাইনে দাঁড়ালে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত থাকে। ভোটারদের পার্স ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ। মোবাইল ফোন কেন্দ্রের ভিতরে নেওয়া যাবে, তবে গোপন কক্ষে ব্যবহার করা যাবে না। যে কোনো পোশাকে ভোট দেওয়ার অনুমতি আছে; তবে নেকাব থাকলে পোলিং এজেন্টের অনুরোধে একবারের জন্য খুলে পরিচয় নিশ্চিত করতে হতে পারে। দাহ্য পদার্থ বা অস্ত্র সঙ্গে নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ভোটারের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া সহজ হয়।


কেন্দ্রে প্রবেশের পর পোলিং অফিসার ভোটারের নাম ও ক্রমিক নম্বর যাচাই করে আঙুলে অমোচনীয় কালির দাগ দেবেন। প্রিসাইডিং অফিসার বা পোলিং অফিসার ভোটারকে দুটি ব্যালট পেপার দেবেন—একটি সংসদ নির্বাচনের জন্য, অন্যটি গণভোটের জন্য। ভোটারকে অবশ্যই ব্যালট পেপারের পেছনে অফিসিয়াল সিল এবং প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর যাচাই করতে হবে। এরপর নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে ভোটার পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকের ওপর রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে ভোট প্রদান করবেন। গণভোটের ক্ষেত্রে হ্যাঁ/না ভোট আলাদা ব্যালটে দিতে হবে। ব্যালট ভাঁজ করতে হবে যাতে সিলের কালি অন্য কোনো প্রতীকের ওপর না পড়ে। ভাঁজ করা ব্যালট উন্মুক্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ফেলে ভোট প্রদান শেষে দ্রুত কেন্দ্র ত্যাগ করতে হবে।


ভোটারদের জন্য এই নিয়মাবলী মানা নিশ্চিত করবে ভোটের গোপনীয়তা এবং ভোট বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা কমাবে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

ছবি: সংগৃহীত
মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের আলোচনা, যুক্ত হতে পারেন চার নতুন মুখ

বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্তিকে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে বড় ধরনের রদবদল বা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের সিদ্ধান্ত আপাতত নেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গেছে। কাজের চাপ কমানো এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে সীমিত পরিসরে চারজন নতুন সদস্যকে মন্ত্রিসভায় যুক্ত করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।   আগামী ১৭ আগস্ট বর্তমান সরকারের ছয় মাস পূর্ণ হচ্ছে। এ উপলক্ষে সরকারের প্রথম ছয় মাসের কর্মকাণ্ড, মন্ত্রীদের কর্মদক্ষতা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।   সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সেলিমা রহমান ও আন্দালিব রহমান পার্থকে মন্ত্রী এবং শহিদুল ইসলাম বাবুল ও শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে।   আলোচনার ভিত্তিতে, মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন না এনে নতুন চারজনকে যুক্ত করার সম্ভাবনাই বেশি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার প্রধানমন্ত্রীর। তিনি প্রয়োজন ও সময় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।   সরকারের শুরুতে তুলনামূলক বড় পরিসরে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও কয়েকজন মন্ত্রীকে একাধিক মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ, শিল্প-বাণিজ্য-বস্ত্র ও পাট, কৃষি-মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং সড়ক-রেল-নৌপরিবহনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে একাধিক দায়িত্ব রয়েছে।   একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রীদের প্রশাসনিক চাপ কমানো এবং নীতিনির্ধারণে আরও মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে নতুন সদস্য যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।   আলোচনায় থাকা প্রস্তাব অনুযায়ী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে সেলিমা রহমান এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে আন্দালিব রহমান পার্থকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা রয়েছে।   এ ছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ে শহিদুল ইসলাম বাবুলকে প্রতিমন্ত্রী এবং ধর্ম মন্ত্রণালয়ে শামীম কায়সার লিংকনকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে।   তবে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের এই আলোচনা এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে রূপ নেয়নি। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হবে।   বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের দায়িত্বে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী ছাড়া মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

দেশে আল-কায়েদার তৎপরতার খবরে মনিরুলের ফেসবুক প্যারোডি

ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ে নিজের নামের প্রচারণায় বিরক্ত রাষ্ট্রদূত মুশফিক

ছবি: সংগৃহীত

এনআইডিতে পরিচয় বদলে দীর্ঘদিন পলাতক, শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত টিটু

ছবি: সংগৃহীত
র‌্যাবের উদ্ধার করা ‘কোকেন’ পরীক্ষায় মেলেনি মাদক, দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ

রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাবের অভিযানে উদ্ধার করা ৪৮০ গ্রাম কথিত কোকেনের রাসায়নিক পরীক্ষায় মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিয়েছে পুলিশ।   গত ১৪ এপ্রিল উত্তরা পশ্চিম থানার ৭ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর সড়কে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে সাইদুজ্জামান কাজল ও মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-১। সে সময় র‌্যাব জানিয়েছিল, তাদের কাছ থেকে ৪৮০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক কোটি টাকা।   ওই ঘটনায় র‌্যাব-১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল হালিম বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।   মামলার তদন্ত শেষে উত্তরা পশ্চিম থানার এসআই আবু সাঈদ গত ৩১ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, জব্দ করা কথিত কোকেন থেকে পাঁচ গ্রাম নমুনা রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সিআইডি পুলিশের পরীক্ষায় ওই নমুনায় কোকেনের কোনো উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।   তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাদী ‘ভুল তথ্যের ভিত্তিতে’ মামলা করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।   এসআই আবু সাঈদ বলেন, জব্দ করা আলামত রাসায়নিক পরীক্ষার পর কোকেনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এ কারণে দুই আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।   র‌্যাবের বক্তব্য:  মামলার বাদী র‌্যাব-১-এর ওয়ারেন্ট অফিসার আব্দুল হালিম বলেন, র‌্যাব আলাদাভাবে ল্যাব টেস্ট করায়নি। অভিযানের সময় আসামিরা ব্যাগে কোকেন থাকার কথা স্বীকার করেছিলেন এবং প্যাকেটের গায়েও ‘কোকেন’ লেখা ছিল বলে তিনি দাবি করেন। এজাহার অনুযায়ী, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব জানতে পারে, উত্তরা পশ্চিম থানার এলাকায় কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী কোকেন বিক্রির জন্য অবস্থান করছে। পরে একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক এবং তাদের কাছ থেকে কথিত ৪৮০ গ্রাম কোকেন উদ্ধার করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।   দুই আসামির একজন কারাগারে:  মামলার দুই আসামির মধ্যে মজনু মিয়া বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। অপর আসামি সাইদুজ্জামান কাজল কারাগারে আছেন। কাজলের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক বলেন, রাসায়নিক পরীক্ষায় জব্দ করা পদার্থ কোকেন নয় বলে প্রমাণিত হয়েছে। তার মক্কেল বর্তমানে কারাগারে থাকায় জামিনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। আগামী ৩০ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে মামলাটির পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

আক্তারুজ্জামান আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

বিনিয়োগে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ, মুখ খুললেন সাঈদ ইব্রাহিম

মাদকসহ নিজ গ্রামের ৪ বাসিন্দাকে পুলিশে দিলেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা

প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। সংগৃহীত ছবি

আজ খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন

ছবি : সংগৃহীত
তেজগাঁওয়ে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ৪৭

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এর তেজগাঁও বিভাগের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ৪৭ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।   গ্রেফতারকৃতরা হলো- মো. ফরিদ হোনেন (৪৪), মো. নুরে আলম (২৮), মোসা. শাহিনুর বেগম (২০), জয়া মার্কেট কস্তা, উম্মে কুলসুম রানি, মো. ইফতেখারুল আলম, রাকিব হোসেন (২৫), শাহরিয়ার হোসেন মৃদুল (২০), মো. আকাশ হোসেন (২৯), মো. শাকিল (২২), মো. স্বপন, মো. নুরুল ইসলাম (৩০), মো. ইমন হাওলাদার (২৬), মো. সিজান আহমেদ সিহান মাঝি (২৩), আরাফ হোসেন ওরফে দীপ (২০), মো. নুর ইসলাম (৩৩), মো. আতাউল্লাহ মোল্লা (২২), মো. মাহবুব আলম (৫৩), মো. সাগর সরদার (২৪), মো. মামুন (২৫), মো. প্রিন্স (৩৫), সুজন (২২), মো. স্বপন, মেহেদী হাসান সুমন (২২), মো. বাবুল (৪৮), মো. ইমন (২১), মো. জয় (১৮), মো. রানা (২৫), মো. সুজন (২৫), মো. বাবু (২০), মো. রমজান (২৫), মো. নাছির (২০), মো. মফিজ উদ্দিন (৫০), মো. নঈম ওরফে লিয়াকত, মো. সুরুজ খাঁ (৪৫), মো. সাকিল (২৩), মো. হাসনাইন (২১), মো. আব্দুর রউফ (১৮), মো. রাসেল (১৮), মো. রায়হান (১৮), শামীম (১৮), মো. সালমান হোসেন আবির (৩১), মো. রিফাত (২০), মো. মারুফ (২২), মাসুদ রানা শিকদার (২০), মো. সাইদুল ইসলাম ওরফে শুভ (২৩) ও মো. জুয়েল হাওলাদার ওরফে তিল্লা জুয়েল।   তেজগাঁও বিভাগের বরাত দিয়ে নিয়াজ মেহেদী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।   গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে তেজগাঁও থানা ৫ জন, শেরেবাংলা নগর থানা ৩ জন, মোহাম্মদপুর থানা ১৮ জন, আদাবর থানা ৬ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানা ২ জন ও হাতিরঝিল থানা ১৩ জন।   গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ১৫, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

মানবাধিকারকর্মী রঞ্জন কর্মকারের শেষকৃত্য আজ

ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় গ্রিডে সামিটের এলএনজি সরবরাহ ফের শুরু

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য দুবাইয়ের ৯৬ ঘণ্টার ট্রানজিট ভিসা

0 Comments