সর্বশেষ

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবি

বুধবার সায়েন্সল্যাব-টেকনিক্যাল-তাঁতীবাজার অবরোধের ঘোষণা

আক্তারুজ্জামান জানুয়ারী ১৩, ২০২৬

সাত কলেজের সমন্বয়ে প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মোড়ে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে সায়েন্সল্যাব, টেকনিক্যাল ও তাঁতীবাজার মোড় অবরোধ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির কথা জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাত কলেজের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫’-এর খসড়া গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। খসড়াটি প্রকাশের পর এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে নানা আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভার আয়োজন করে।

 

শিক্ষার্থীদের দাবি, স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রাপ্ত মতামতের ভিত্তিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় খসড়াটি হালনাগাদ করেছে। সর্বশেষ গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা ভবন অভিমুখে টানা অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে ডিসেম্বরের মধ্যেই আনুষঙ্গিক সব কার্যক্রম শেষ করে জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে অধ্যাদেশ জারির বিষয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল।

 

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি সূত্রে জানা গেছে আগামী ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের একটি সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চান, ওই সভাতেই ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫-এর হালনাগাদ করা খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হোক এবং একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হোক।

 

এ অবস্থায় এক দফা দাবিতে ১৪ জানুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

সর্বশেষ

আরও দেখুন
ছবি: সংগৃহীত
৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

দেশের পুঁজিবাজারে সাতটি ব্রোকারেজ হাউস ভুয়া ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার ও বিভিন্ন কারসাজির মাধ্যমে প্রায় ৪৫ হাজার বিনিয়োগকারীর ৫৬০ কোটি টাকার বেশি অর্থ ও শেয়ার আত্মসাৎ করেছে। ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘটিত এসব জালিয়াতি-কারসাজির তথ্য উঠে এসেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাম্প্রতিক পরিদর্শন প্রতিবেদনে। তদন্তে দেখা গেছে, পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত প্রযুক্তি ব্যবস্থার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগকারীদের অজান্তে শেয়ার বিক্রি, হিসাব গোপন এবং অর্থ সরিয়ে নেওয়ার মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়েছে।   ডিএসইর প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে মশিউর সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে। এরপর রয়েছে তামহা সিকিউরিটিজে ১৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, সালতা ক্যাপিটালে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজে প্রায় ৮০ কোটি টাকা (নিরীক্ষা অনুযায়ী ১০৫ কোটি টাকা), বাংকো সিকিউরিটিজে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর সিকিউরিটিজে ১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ব্লু চিপ সিকিউরিটিজের (সাবেক খুরশিদ সিকিউরিটিজ) বিরুদ্ধেও গ্রাহকের সোয়া দুই কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। সব মিলিয়ে ৫৬৩ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। অবশ্য ডিএসইর প্রতিবেদনে মোট আত্মসাতের পরিমাণ ৬৫০ কোটি টাকার বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বাকি টাকা কোন ব্রোকার হাউসের সে তথ্য তাদের প্রতিবেদনে নেই।   তদন্তে জালিয়াতির দুটি প্রধান কৌশল উঠে এসেছে। প্রথমত, নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত ব্যাক-অফিস সফটওয়্যারের পরিবর্তে ভুয়া বা ডুপ্লিকেট সফটওয়্যার ব্যবহার করে ডিএসই ও গ্রাহকদের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেখানো হতো। দ্বিতীয়ত, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেডের (সিডিবিএল) সিস্টেমে গ্রাহকের মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করে নিজেদের নম্বর যুক্ত করা হতো। ফলে শেয়ার কেনাবেচার এসএমএস বা নোটিফিকেশন গ্রাহকের পরিবর্তে সংশ্লিষ্টদের কাছে যেত এবং গ্রাহকের অজান্তেই শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হতো।   বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সব ব্রোকারেজ হাউসে অপরিবর্তনযোগ্য ব্যাক-অফিস সফটওয়্যার চালুর নির্দেশ দেয়। তবে ডিএসইর অগ্রগতি প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২৮০টি ব্রোকারেজ হাউস নতুন সফটওয়্যার গ্রহণ করলেও ১১৮টিতে এখনো বিনিয়োগকারীর তথ্য এবং ১০২টিতে লেজার ও পোর্টফোলিও স্থানান্তরের কাজ শেষ হয়নি। এ ছাড়া ২৪টি প্রতিষ্ঠান এখনো পুরোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করছে এবং ১৩৫টি ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকদের লেনদেন-সংক্রান্ত এসএমএস বা ই-মেইল পাঠায় না। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, এসব দুর্বলতাই জালিয়াতির সুযোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে।   তদন্তে নাম আসা সাতটি ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে। ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি ধরা পড়ার পর মশিউর সিকিউরিটিজের লেনদেন ও ডিপোজিটরি পার্টিসিপ্যান্ট (ডিপি) কার্যক্রম স্থগিত করা হয় এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।   ১৩৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০২১ সালের নভেম্বরে তামহা সিকিউরিটিজের কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় ডিএসই। বিএসইসির তদন্তে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. হারুনুর রশীদ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে প্রায় দুই হাজার বিনিয়োগকারীর অর্থ আত্মসাতের তথ্য উঠে আসে। পরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) তার ও পরিবারের সদস্যদের ১০টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ও শাখা অফিস বন্ধ রয়েছে।   ২০২৫ সালের নভেম্বরে ডিএসইর আকস্মিক পরিদর্শনে সালতা ক্যাপিটালের কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্টে (সিসিএ) ঘাটতি ধরা পড়ে। পরে বিএসইসির তদন্তে ১০০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শেয়ার ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া যায়। তবে প্রতিষ্ঠানটির মালিকদের অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ডিএসই জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে কঠোর নজরদারি চলছে।   ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে প্রায় ৮০ কোটি টাকা (নিরীক্ষা অনুযায়ী ১০৫ কোটি টাকা) আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠানটির মালিকপক্ষ পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহিদ উল্লাহ ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।   বাংকো সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধে ৬৬ কোটি ৫৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০২১ সালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেশ ছাড়ার সময় চেয়ারম্যান আবদুল মুহিতকে বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা বিচারাধীন।   ১৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠার পর ২০১৯ সালে শাহ মোহাম্মদ সগীর সিকিউরিটিজের ট্রেডিং রাইটস এনটাইটেলমেন্ট (টিআরই) সনদ স্থগিত করে ডিএসই। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।   ব্লু চিপ সিকিউরিটিজের বিরুদ্ধেও গ্রাহকের শেয়ার বিক্রি, চেক ডিজঅনার এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে ফৌজদারি মামলা চলছে। তবে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   বিপুল সংখ্যক গ্রাহকের শত শত কোটি টাকা আত্মসাৎ হলেও এখনো কার্যকর সমাধান পাননি ক্ষতিগ্রস্তরা। বিভিন্ন সময়ে টাকা ফেরতের দাবি জানানো হলেও অধিকাংশ বিনিয়োগকারী তাদের অর্থ ফেরত পাননি। সর্বশেষ ২০২৩ সালে ডিএসইর ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে তিনটি ব্রোকারেজ হাউসের কিছু গ্রাহককে মাত্র ৩৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।   এ বিষয়ে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নুজহাত আনোয়ার কালবেলাকে বলেন, ‘অতীতে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের জালিয়াতি প্রতিরোধে ডিএসই একটি বিশেষ সফটওয়্যার তৈরি করছে, যা চালু হলে কনসোলিডেটেড কাস্টমার্স অ্যাকাউন্ট (সিসিএ) রিয়েল টাইমে পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিদিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে হিসাবের সমন্বয় (রিকনসিলিয়েশন) করা যাবে। কোনো অমিল ধরা পড়লে সিস্টেম তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা দেবে, ফলে দ্রুত জবাবদিহি নিশ্চিত ও আকস্মিক পরিদর্শন চালানো সম্ভব হবে।’   তিনি বলেন, ‘ব্রোকারেজ হাউসের বিরুদ্ধে সরাসরি এনফোর্সমেন্ট ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার ডিএসইর নেই। তাই তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়লে প্রতিবেদন বিএসইসিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী ব্যবস্থা নেয় কমিশন।’   বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম কালবেলাকে বলেন, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কমিশন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পাশাপাশি এনফোর্সমেন্ট কার্যক্রমও চলমান রয়েছে। আত্মসাৎ করা অর্থ বিনিয়োগকারীদের ফেরত দিতে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য আইনগত বিষয়ও পর্যালোচনাধীন রয়েছে।’   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও পুঁজিবাজার বিশ্লেষক আল-আমিন কালবেলাকে বলেন, ‘যেসব ব্রোকারেজ হাউস গ্রাহকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকায় সেই অর্থ উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্ষীণ। একই সঙ্গে ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডে থাকা অর্থও ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের ক্ষতিপূরণের জন্য পর্যাপ্ত নয়।’   তিনি বলেন, ‘আইনি ও আর্থিক জটিলতার নিষ্পত্তি না হলে এসব ব্রোকারেজ হাউস বিক্রিও সহজ হবে না। তাই পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে বিনিয়োগকারীদেরও সচেতন থাকতে হবে এবং সুনাম ও বিশ্বাসযোগ্যতা রয়েছে—এমন ব্রোকারেজ হাউসের মাধ্যমেই বিনিয়োগ করা উচিত।’

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৬, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় সোহেল তাজের স্ট্যাটাস

ছবি: সংগৃহীত

শেখ হাসিনার দেশে ফেরায় কোনো আইনি বাধা নেই, বললেন চিফ প্রসিকিউটর

কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর। ছবি: সংগৃহীত

কেপ ভার্দে ভ্রমণে বাংলাদেশিদের কি আগাম ভিসা লাগবে?

কেপ ভার্দের রাজধানী প্রাইয়া শহর | ছবি: সংগৃহীত
কেপ ভার্দের মুসলিমদের জীবনযাপন কেমন চলছে?

আটলান্টিক মহাসাগরের নীল জলরাশির মাঝে অবস্থিত ১০টি দ্বীপের দেশ কেপ ভার্দে। আগ্নেয়গিরির পর্বত আর মনোরম সমুদ্র সৈকতের এই দেশটিতে মূলত খ্রিস্টধর্মের প্রভাব থাকলেও, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে এক শান্তিময় ও ক্রমবর্ধমান মুসলিম জনপদের বিকাশ ঘটছে। ২০২১ সালের জাতীয় আদমশুমারি অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৫ লক্ষ জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় ৫,০০০ জন (প্রায় ১ শতাংশ) মুসলিম বসবাস করেন, যাদের অধিকাংশেরই শিকড় প্রোথিত পশ্চিম আফ্রিকার সেনেগাল, গিনি-বিসাউ এবং মালি থেকে আসা অভিবাসীদের মাঝে।   কেপ ভার্দেতে ইসলামের আগমন যেভাবে কেপ ভার্দেতে ইসলামের পদচিহ্ন পড়েছিল সেই ১৫শ শতাব্দীতে, যখন ১৪৬২ সালে পর্তুগিজরা এই দ্বীপপুঞ্জকে দাস ব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। সেই সময় পশ্চিম আফ্রিকার ওলোফ, মান্ডিঙ্কা এবং ফুলানি গোষ্ঠীভুক্ত অনেক মুসলিমকে দাস হিসেবে এখানে আনা হয়েছিল। তবে পর্তুগিজ ক্যাথলিক শাসকরা ইসলাম চর্চাকে কঠোরভাবে দমন করত। মুসলিমদের জোরপূর্বক বাপ্তিস্ম দেওয়া হতো এবং কোরআন পাঠ বা ধর্মীয় আচার পালনের অপরাধে নির্বাসন বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল।   দীর্ঘ অন্ধকার কাটিয়ে ১৯৭৫ সালে পর্তুগাল থেকে স্বাধীনতা লাভের পর কেপ ভার্দে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। ১৯৯০-এর দশকে প্রথম সরকারিভাবে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি মেলে এবং ২০১৪ সালের এক আইনের মাধ্যমে মুসলিম অ্যাসোসিয়েশনগুলো আইনি স্বীকৃতি ও কর সুবিধা লাভের অধিকার পায়।   ভৌগোলিক বিন্যাস ও জীবিকা কেপ ভার্দেতে মুসলিমদের কোনো স্থায়ী গ্রামীণ বসতি নেই; তারা মূলত শহুরে জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত। অধিকাংশ মুসলিম রাজধানী প্রাইয়া (সান্তিয়াগো দ্বীপ) এবং বন্দরনগরী মিন্ডেলো (সাও ভিসেন্টে দ্বীপ) এলাকায় ঘনীভূত। এছাড়াও পর্যটন দ্বীপ সাল এবং বোয়া ভিস্তাতে অনেক মুসলিম বসবাস করেন।   তাদের জীবিকা মূলত বাণিজ্য ও শ্রমনির্ভর। সেনেগালিজ এবং গিনিয়ান মুসলিমরা প্রধানত খুচরা ব্যবসা, হস্তশিল্পের পণ্যের দোকান এবং নির্মাণ খাতে কাজ করেন। পর্যটন বিকাশের ফলে অনেক মুসলিম এখন বড় বড় হোটেলগুলোতে কুক, রক্ষণাবেক্ষণ কর্মী বা কনসিয়ার্জ হিসেবেও নিয়োজিত।   ধর্মীয় আচার ও উৎসবের বর্ণিল রূপ কেপ ভার্দেতে মুসলিমরা অত্যন্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। রমজান: পবিত্র রমজান মাসে তারা সেহরি ও ইফতারের মাধ্যমে সিয়াম পালন করেন। ইফতারে প্রথাগতভাবে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙা হয় এবং পরবর্তীতে একত্রে রাতের খাবার খাওয়া হয়। ঈদ উদযাপন: ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা সেখানে অত্যন্ত জাঁকজমকের সাথে পালিত হয়। রাজধানীর ‘তিরা চ্যাপেউ’ নামক মাল্টিপারপাস হলে শত শত মুসলিম একত্রে ঈদের নামাজ আদায় করেন। কোরবানি ঈদে তারা মেষ কোরবানি করেন এবং সেই মাংসের একটি অংশ প্রতিবেশী ও দরিদ্রদের মাঝে বিতরণ করেন। মাওলিদ: মহানবী (সা.)-এর জন্মদিবস উপলক্ষ্যে তারা মিলাদ ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করেন, যেখানে সেনেগালিজ সুফি ঐতিহ্যের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়।   প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও নেতৃত্ব বর্তমানে দেশটিতে বেশ কিছু প্রার্থনা কেন্দ্র ও অস্থায়ী মসজিদ রয়েছে। পর্যটন দ্বীপ সালে তিনটি ছোট প্রার্থনা কেন্দ্র রয়েছে, যা স্থানীয় মুসলিমদের অর্থায়নে পরিচালিত। তবে রাজধানীর প্রধান কেন্দ্রীয় মসজিদ নির্মাণের পরিকল্পনা প্রশাসনিক ও জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে এখনও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।   দেশটিতে ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ‘কমিউনিদাদে ইস্লামিকা দে কাবো ভার্দে’ এবং ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘অ্যাসোসিয়েশন ইসলামিকা ডি দাওয়াহ’ সক্রিয় রয়েছে। আইডিসিভি-এর ইমাম ইব্রাহিমা সিদি, যিনি সৌদি আরবে ইসলামি ধর্মতত্ত্বে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়েছেন, তিনি সেখানে মুসলিমদের ধর্মীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।   সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ ও সামাজিক অবদান কেপ ভার্দেতে মুসলিমদের উপস্থিতি দেশটির ক্রেওল সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। মুসলিম অভিবাসীরা তাদের সাথে নিয়ে এসেছেন পশ্চিম আফ্রিকান খাবার যেমন—‘থিয়েবৌডিয়েন’ এবং ‘ইয়াসা’, যা এখন স্থানীয়দের কাছেও জনপ্রিয়। এছাড়া ‘আল ওয়াসিলাহ ফাউন্ডেশন’-এর মতো সংস্থাগুলো জাকাতের মাধ্যমে স্থানীয় দরিদ্র পরিবারগুলোকে খাদ্য ও সহায়তা প্রদান করে সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি করছে।   চ্যালেঞ্জ ও আগামীর পথ সংখ্যালঘু এই জনপদকে কিছু চ্যালেঞ্জও মোকাবিলা করতে হয়। ২০১৪ সালের কঠোর অভিবাসন আইনের কারণে অনেক মুসলিম অভিবাসীর জন্য বসবাসের অনুমতি পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।   এছাড়া দারিদ্র্য এবং মসজিদ নির্মাণের জন্য জমি বরাদ্দের আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা বড় বাধা। এতকিছুর পরেও কেপ ভার্দেতে মুসলিম ও খ্রিস্টানদের মধ্যে চমৎকার আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগে ধর্মীয় সহনশীলতা প্রচার করা হয় এবং মুসলিম নেতারা নিয়মিতভাবে দেশের শান্তি ও অগ্রগতির প্রতি তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। আটলান্টিকের এই ছোট্ট ভূখণ্ডে ইসলাম আজ কেবল একটি ধর্ম নয়, বরং শান্তি, সহনশীলতা ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।   তথ্যসূত্র: গ্রোকিপিডিয়া

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০৫, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি, উড্ডয়নের পর ফিরে এলো নভোএয়ারের ফ্লাইট

ছবি: সংগৃহীত

ডিএমপিতে ঊর্ধ্বতন ৬ কর্মকর্তার রদবদল, নতুন দায়িত্বে পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত

লালবাগে সড়ক দুর্ঘটনা: বুলডোজারের চাপায় প্রাণ গেল অজ্ঞাত বৃদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
কাল থেকে সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য প্রাপ্তি জমায় ‘এ-চালান’ বাধ্যতামূলক

সরকারি রাজস্ব ও অন্যান্য সব ধরনের সরকারি প্রাপ্তি জমার ক্ষেত্রে বুধবার (১ জুলাই) থেকে এ-চালান ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করেছে সরকার।   মঙ্গলবার (৩০ জুন) অর্থ বিভাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সরকারি অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে (টিএসএ) জমা নিশ্চিত করা, নগদ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা, আর্থিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং ম্যানুয়াল চালান ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ করার লক্ষেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের শুরু থেকে কোনো মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা বা অধীনস্থ দপ্তর এ-চালানের বাইরে অন্য কোনো মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব বা অন্যান্য প্রাপ্তি সংগ্রহ ও জমা দিতে পারবে না। বর্তমানে সরকারি অর্থ সংগ্রহে ব্যবহৃত পৃথক কোনো ব্যবস্থা থাকলে তা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিক ব্যাংকের বিভিন্ন হিসাবে সংরক্ষিত সরকারি অর্থ ৩০ জুনের মধ্যে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারের ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থ বিভাগ জানায়, এ-চালান ব্যবস্থার ব্যবহার এবং এর মাধ্যমে আদায়ের ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনায় এর কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে ৪ লাখ ৭ হাজার ২২৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আগের অর্থবছরের তুলনায় যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একই সময়ে ৬ কোটি ৭৫ লাখ চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ বেশি। তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে মাত্র ১৭টি চালান দিয়ে যাত্রা শুরু করা এ-চালান প্ল্যাটফর্মে গত সাত অর্থবছরে ১৯ কোটি ৩ লাখের বেশি চালান প্রক্রিয়াকরণ হয়েছে। এ সময়ে সরকারি হিসাবে জমা হয়েছে ১০ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অনলাইন চালানের সংখ্যা ৯২ শতাংশ বেড়ে ৫ কোটি ৩৬ লাখে পৌঁছেছে। অনলাইনে আদায়ের পরিমাণ ৫৪ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ২৯৮ কোটি ১২ লাখ টাকা। একই সময়ে ওভার দ্য কাউন্টার (ওটিসি) লেনদেনের মাধ্যমে জমা হয়েছে ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৩৯৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। অর্থ বিভাগ বলেছে, এ-চালান পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে সরকারের প্রকৃত নগদ অবস্থান সম্পর্কে তাৎক্ষণিক ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ছড়িয়ে থাকা অলস সরকারি অর্থ কমবে। নগদ ব্যবস্থাপনাও হবে আরও দক্ষ ও ব্যয়-সাশ্রয়ী। এ-চালান চালুর ফলে সরকারি ফি ও রাজস্ব জমা দিতে নির্দিষ্ট ব্যাংক শাখায় যাওয়ার প্রয়োজন অনেকটাই কমেছে। অর্থ জমা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই চালানের রসিদ তৈরি হয় এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহার করা যায়। এতে নাগরিক সেবা পাওয়া আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সব তফসিলি ব্যাংকের শাখা কাউন্টার, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায়, ট্যাপসহ বিভিন্ন মোবাইল আর্থিক সেবা এবং ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সরকারি রাজস্ব ও সেবা ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে। অর্থ বিভাগ আরও জানিয়েছে, এ-চালানের মাধ্যমে জমা হওয়া অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে ট্রেজারি সিঙ্গেল অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়। ফলে সরকারি প্রাপ্তির তথ্য রিয়েল-টাইমে পর্যবেক্ষণ, আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং ঋণ ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক, সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ অফিস এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিত হচ্ছে। এ-চালান ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে রাজস্ব আদায় ও লেনদেনের তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে পারছে। চালান যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে যে কোনো চালানের সত্যতা দ্রুত যাচাই করা সম্ভব হওয়ায় ভুয়া চালান, জাল দলিল এবং রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। উল্লেখ্য, বৃহত্তর সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা সংস্কারের অংশ হিসেবে অর্থ বিভাগ ২০১৯-২০ অর্থবছরে এ-চালান ব্যবস্থা চালু করে। এর মূল লক্ষ্য সরকারি অর্থ দ্রুত কোষাগারে জমা নিশ্চিত করা, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, ভুয়া চালান প্রতিরোধ এবং সরকারের নগদ অবস্থান সম্পর্কে নির্ভুল তথ্য নিশ্চিত করা।

মো: দেলোয়ার হোসাইন জুলাই ০১, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

জেল থেকে ছাড়া পেয়েই সাইফুলের নয়া মিশন

ছবি : সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার: নতুন দরজা, পুরোনো চ্যালেঞ্জ

ছবি : সংগৃহীত

ঋণখেলাপির দায়ে আসলাম চৌধুরী শপথ নিতে পারবেন না: আপিল বিভাগ

0 Comments