জাতীয়

বোয়িং চুক্তির পর বিমানকে ১৪টির বদলে ১০ উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব এয়ারবাসের

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি
এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা 'এয়ারবাস' বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জন্য তাদের বহরের একটি সংশোধিত প্রস্তাব জমা দিয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী বোয়িংয়ের সাথে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির সাম্প্রতিক মাল্টি-বিলিয়ন ডলারের চুক্তির পর এয়ারবাস তাদের আগের প্রস্তাব কমিয়ে ১০টি উড়োজাহাজে নামিয়ে এনেছে।

এয়ারবাস ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স সূত্র জানিয়েছে, ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি সম্প্রতি বিমানের টেকনো-ফাইন্যান্স কমিটির কাছে একটি নতুন প্রস্তাব পেশ করেছে। এই প্রস্তাবে ৪টি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইড-বডি উড়োজাহাজ এবং ৬টি এ৩২১ নিও ন্যারো-বডি জেটের অফার দেওয়া হয়েছে।

গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সাথে বিমানের ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক দিন পরই এই সংশোধিত প্রস্তাবটি এল। ওই চুক্তির আওতায় বিমান বোয়িং থেকে ৮টি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্সসহ মোট ১৪টি উড়োজাহাজ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী বহর সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার একটি কৌশলগত প্রচেষ্টা হিসেবেই এয়ারবাস তাদের আগের প্রস্তাবটি কাটছাঁট করেছে। এর আগে এয়ারবাস ১০টি এ৩৫০ ওয়াইড-বডি জেট এবং ৪টি এ৩২০ নিও ন্যারো-বডি উড়োজাহাজসহ মোট ১৪টি বিমানের প্রস্তাব দিয়েছিল বলে জানা গেছে। উল্লেখ্য, এয়ারবাস এ৩২১ নিও মূলত এ৩২০ নিও-র একটি দীর্ঘ সংস্করণ, যাতে ১৮০ থেকে ২২০ জন যাত্রী পরিবহন করা যায়।

এয়ারবাসের একটি সূত্র জানিয়েছে, "বোয়িং চুক্তির আগে থেকেই আমরা বিমানের সাথে নিরবচ্ছিন্নভাবে যোগাযোগ রক্ষা করে আসছি। সংশোধিত প্রস্তাব জমা দেওয়ার পর আমরা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি লক্ষ্য করেছি।"

গত ৫ মে এয়ারবাসের ভাইস প্রেসিডেন্ট এডওয়ার্ড ডেলাহে সচিবালয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানমের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহিদা আক্তার এবং বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কায়সার সোহেল আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনাকালে এয়ারবাস বিমানের জন্য একটি মিশ্র বহর কাঠামো তৈরিতে সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করে। মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীও ভবিষ্যতে বহর উন্নয়নে এয়ারবাসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন।

দক্ষিণ এশিয়ার জন্য এয়ারবাসের একজন মুখপাত্র বলেন, "গ্রাহকদের সাথে আমাদের আলোচনা হতে পারে বা না-ও পারে, এমন কোনো বিষয় নিয়ে আমরা মন্তব্য করি না।"

বিমানের মুখপাত্র বোসরা ইসলাম বলেন, এয়ারলাইন্সটি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন উড়োজাহাজ নির্মাতাদের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়ে থাকে।তিনি বলেন, "একজন গ্রাহক হিসেবে আমরা নির্মাতাদের সাথে সম্পৃক্ত হই কারণ আমাদের উড়োজাহাজ প্রয়োজন। কিন্তু প্রস্তাব পাওয়ার মানেই এই নয় যে আমরা অবশ্যই উড়োজাহাজ কিনব।"

এয়ারবাসের এই নতুন তৎপরতা এমন এক সময়ে যখন সরকার ২০৩৪-৩৫ অর্থ বছরের মধ্যে বিমানের বহর ৪৭টি উড়োজাহাজে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ পর্যালোচনা করছে। জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটিকে আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশকে একটি আঞ্চলিক এভিয়েশন ও কার্গো হাব হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ এটি। এয়ারবাস সূত্র জানায়, বিমান যদি মিশ্র বহর চালুর সিদ্ধান্ত নেয় তবে কোম্পানিটি ২০৩৩ সালের মধ্যে উড়োজাহাজ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে। বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বোয়িং তাদের অর্ডার করা ১৪টি উড়োজাহাজ ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ রয়েছে, যার মধ্যে ১৪টিই বোয়িংয়ের তৈরি।

এয়ারবাস-বোয়িং দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা

বিমানের ভবিষ্যৎ বহর পরিকল্পনা নিয়ে বোয়িং এবং এয়ারবাসের মধ্যে কয়েক বছর ধরে চলা প্রতিযোগিতার মধ্যেই সর্বশেষ বোয়িং চুক্তিটি সম্পাদিত হয়েছে। যদিও এয়ারবাস এখন পর্যন্ত বিমানের কাছ থেকে কোনো অর্ডার নিশ্চিত করতে পারেনি, তবে কোম্পানির প্রতিনিধিরা বলছেন যে আলোচনা এখনও সচল রয়েছে এবং তাদের প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়া হয়নি।

ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং জার্মানি সহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের কূটনীতিকরাও একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রতিযোগিতামূলক ক্রয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ বিবেচনা করতে বাংলাদেশকে উৎসাহিত করে আসছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বাংলাদেশ সফরের পর ২০২৩ সালে এয়ারবাসের বিষয়টি গতি পায়। সে সময় বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য যৌথ বিবৃতিতে ফ্রেইটার সহ ১০টি এয়ারবাস এ৩৫০ উড়োজাহাজ কেনার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের যুক্তি হলো, বিমানের বহরে এয়ারবাসের উড়োজাহাজ অন্তর্ভুক্ত করলে কার্যক্রম বৈচিত্র্যময় হবে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাথে অর্থনৈতিক সম্পর্ক শক্তিশালী হবে।

তবে বোয়িং নীতিনির্ধারকদের সাথে দীর্ঘমেয়াদী যোগাযোগ এবং ড্রিমলাইনার, ফ্রেইটার ও ন্যারো-বডি জেটের বিস্তৃত পরিসরের অফার দিয়ে বিমানের বহরে তাদের আধিপত্য বজায় রেখেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পারস্পরিক শুল্ক সংক্রান্ত আলোচনার সময় বাংলাদেশ সরকার ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিল।

যেহেতু নতুন অর্ডার করা উড়োজাহাজ সরবরাহ হতে কয়েক বছর সময় লাগবে, তাই সরকার তাৎক্ষণিক সক্ষমতা সংকট মেটাতে অন্তর্বর্তীকালীন সমাধানের কথা বিবেচনা করছে। প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি বলেছেন, "এই রূপান্তরকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন কার্যক্রম নিশ্চিত করতে আমরা আগামী পাঁচ বছরের জন্য উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার পরিকল্পনা করছি, বিশেষ করে ড্রাই লিজিংয়ের মাধ্যমে।"

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ছবি: সংগৃহীত
ঢাকায় চালু হচ্ছে ‘হ্যালো ডিসি,’ ফোনে জানানো যাবে অভিযোগ

রাজধানী ঢাকার নাগরিক সেবাকে আরও সহজ ও জনবান্ধব করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে ফোন কলের মাধ্যমেই বিভিন্ন সমস্যা, অভিযোগ ও সেবাসংক্রান্ত তথ্য জানাতে পারবেন নগরবাসী। এ লক্ষ্যে চালু করা হচ্ছে বিশেষ সেবা ‘হ্যালো ডিসি’।   জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমানো, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘হ্যালো ডিসি’ সেবার মাধ্যমে নাগরিকরা ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা, দালালচক্রের হয়রানি, বাজারে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, অবৈধ দখল, শব্দদূষণ, সরকারি অফিসে অনিয়মসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে পারবেন।   এছাড়া জরুরি নাগরিক সেবা, প্রশাসনিক সহায়তা এবং সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কেও তথ্য পাওয়া যাবে এই প্ল্যাটফর্মে। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।   সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডিজিটাল সেবার বিস্তারের অংশ হিসেবে ‘হ্যালো ডিসি’ জনগণের সঙ্গে প্রশাসনের সরাসরি যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে। এতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই সহজে নিজেদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন এবং সেবার স্বচ্ছতাও বাড়বে।   ঢাকা জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা বলেন, “মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয় এবং দ্রুত সেবা পায়, সেজন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।”   খুব শিগগিরই ‘হ্যালো ডিসি’ সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে। এরপর নির্ধারিত হটলাইন নম্বরে ফোন করেই নাগরিকরা সরাসরি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চলছে এনইসি সভা

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি সমঝোতায় স্বাক্ষর করেছে। সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের জ্বালানি চুক্তিতে কী আছে?

এআই দিয়ে তৈরি প্রতীকী ছবি

বোয়িং চুক্তির পর বিমানকে ১৪টির বদলে ১০ উড়োজাহাজ কেনার প্রস্তাব এয়ারবাসের

ছবি: সংগৃহীত
সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা

আগামী ৩০ জুনের মধ্যে বকেয়াসহ চলতি অর্থবছরের ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করতে সারাদেশের ভূমি মালিকদের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে জমি সুরক্ষিত রাখতে ডিজিটাল পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে সরকার। মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে, কোনো রকম ঝামেলা ছাড়াই নাগরিকরা এখন ঘরে বসে land.gov.bd ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে তাদের ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে পারবেন। সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ স্মার্ট ও স্বচ্ছ করার লক্ষ্যে এই ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম চালু করেছে। ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের জন্য নাগরিককে প্রথমে নির্ধারিত পোর্টালে (land.gov.bd) গিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধিত হওয়ার পর পর্যায়ক্রমে খতিয়ান ও জোত সংক্রান্ত তথ্য প্রদান করে করের পরিমাণ জানা যাবে এবং মোবাইল ব্যাংকিং বা কার্ডের মাধ্যমে তা পরিশোধ করা যাবে। মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে, ৩০ জুনের মধ্যে অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করুন এবং নিজের জমি সুরক্ষিত রাখুন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর পরিশোধ না করলে পরবর্তী সময়ে আইন অনুযায়ী বকেয়ার ওপর সুদ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সাধারণত সরকারি অর্থবছর শেষ হয় ৩০ জুন। তাই বছরের হিসাব চুকিয়ে দিতে এবং আইনি জটিলতা এড়াতে এই সময়ের মধ্যেই খাজনা পরিশোধ করা বাঞ্ছনীয়।  অনলাইন পদ্ধতি চালুর ফলে এখন আর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সশরীরে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর প্রয়োজন পড়ছে না, যা সাধারণ মানুষের সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় করছে। ভূমি মন্ত্রণালয় আশা করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তরের ফলে ভূমি কর আদায়ে স্বচ্ছতা আসবে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হবে।

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
এআই প্রযুক্তিতে শৃঙ্খল ফিরছে ঢাকার রাস্তায়। ছবি:সংগৃহীত

ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় এআই ক্যামেরা: কীভাবে কাজ করছে, জটিলতা কোথায়?

ছবি: সংগৃহীত

জয়–পলক মানবতাবিরোধী মামলায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ আদালতে

ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
হালদা নদীর উৎসমুখে খননকাজ, মৎস্য ও কৃষিতে জাগছে নতুন সম্ভাবনা

দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র হালদা নদী রক্ষায় শুরু হয়েছে বৃহৎ পরিসরের খনন কার্যক্রম। নদীর পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের উদ্যোগে বর্তমানে উৎসমুখ এলাকায় ব্যাপক খননকাজ চলছে।   খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের হাসুকপাড়ার ঝিরি থেকে উৎপত্তি হওয়া হালদা নদী মানিকছড়ি, ফটিকছড়ি, রাউজান ও হাটহাজারী হয়ে কর্ণফুলী নদীতে মিলিত হয়েছে। প্রায় ৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদী দেশের মৎস্যসম্পদ, কৃষি ও জীববৈচিত্র্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।   সরকার ২০২৫ সালের ৫ অক্টোবর হালদা নদী ও তীরবর্তী এলাকাকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করে। এরপর নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় গত ২৭ এপ্রিল শুরু হয় উৎসমুখ খনন কার্যক্রম।   বর্তমানে নদীর উজান অংশ ‘সালদা’ এলাকায় প্রায় ৪৯৬ জন শ্রমিক কাজ করছেন। প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় খনন, লেভেলিং, ড্রেসিং ও ঘাসের চাপড়া বসানোর কাজ চলছে। স্থানীয়দের মধ্যে এ প্রকল্প ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশও তৈরি হয়েছে।   অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত এই প্রকল্প স্থানীয় মানুষের জন্য নতুন আয়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নদীর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে কৃষি, সেচ ও মৎস্য উৎপাদনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।   এ বিষয়ে মানিকছড়ি উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, হালদা দেশের প্রাকৃতিক সম্পদের অমূল্য ভাণ্ডার। নদীর প্রবাহ ঠিক থাকলে মাছের উৎপাদন বাড়বে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।   মানিকছড়ি উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, হাটহাজারী অংশে মূলত নিষিক্ত মাছের ডিম সংগ্রহ করা হয়। উৎসমুখ ঠিক থাকলে নদীতে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং মাছের প্রজননের পরিবেশ আরও উন্নত হবে।   তিনি আরও বলেন, খননকাজ সম্পন্ন হলে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, ডিম ছাড়ার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে এবং বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছের প্রজননও বৃদ্ধি পাবে।   মানিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাহমিনা আফরোজ ভূঁইয়া জানান, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ৪৩ দিনব্যাপী এ প্রকল্পে ২০ জন দক্ষ ও ৪৭৬ জন অদক্ষ শ্রমিক কাজ করছেন। অদক্ষ শ্রমিকরা প্রতিদিন ৫০০ টাকা এবং দক্ষ শ্রমিকরা ৮০০ টাকা করে মজুরি পাচ্ছেন।   বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বের একমাত্র প্রাকৃতিক জোয়ার-ভাটাভিত্তিক রুই জাতীয় মাছের প্রজনন কেন্দ্র হিসেবে হালদা নদীর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই এই খনন উদ্যোগকে শুধু উন্নয়ন প্রকল্প নয়, বরং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

আক্তারুজ্জামান মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরে আত্মীয়ের বাসা থেকে একই পরিবারের তিনজনের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত

বিকেলে দল ছাড়ার ঘোষণা, রাতে বহিষ্কার এনসিপি নেতা আমিরুলের

রোববার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন সম্পাদক পরিষদের নেতারা।ছবি : পিএমও

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য আইনের অগণতান্ত্রিক ধারা বাতিলের দাবি

0 Comments