বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন পরিচালক ইশতিয়াক সাদেক। শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের সভায় তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠান। বোর্ডের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
জানা গেছে, দিনের গুরুত্বপূর্ণ ওই বোর্ড সভায় ইশতিয়াক সাদেক উপস্থিত ছিলেন না। সূত্রের তথ্যমতে, দেশের ক্রিকেটের বর্তমান পারিপার্শ্বিক অবস্থা নিয়ে সন্তুষ্ট নন তিনি। পাশাপাশি বোর্ডের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মতের অমিল থাকায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।
এ বিষয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ইশতিয়াক সাদেক বলেন,
“আমি পদত্যাগ করেছি মূলত এই কারণে যে, গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে নিজের কাছেই অনুতপ্ত। দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করতে না পারলে সরে দাঁড়ানোই সমীচীন বলে মনে করেছি।”
নিজের স্থলাভিষিক্ত ব্যক্তি বিভাগটিকে আরও এগিয়ে নেবেন বলেও আশাবাদী তিনি। তার ভাষায়,
“আমি বিশ্বাস করি, আমার জায়গায় যিনি আসবেন তিনি যথেষ্ট সময় ও মনোযোগ দিয়ে গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগকে এগিয়ে নিতে পারবেন।”
বোর্ডের সঙ্গে বা অন্য কোনো পরিচালকের সঙ্গে কোনো ধরনের মতবিরোধ রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন,
“একেবারেই না। বোর্ডের কারও সঙ্গে আমার কোনো সমস্যা নেই। সবার সঙ্গেই আমার সম্পর্ক ভালো। এটি পুরোপুরি আমার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
লঙ্কান প্রিমিয়ার লিগের (এলপিএল) আসন্ন আসর মাঠে গড়াবে ১৭ জুলাই। তার আগে সরাসরি চুক্তিতে খেলোয়াড়দের দলে ভেড়াতে শুরু করেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো। যেখানে সরাসরি চুক্তিতে দল পাওয়া ক্রিকেটারদের তালিকায় আছেন দুই বাংলাদেশিও। এলপিএলের এবারের আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফট অনুষ্ঠিত হবে আগামী পহেলা জুন। এই টুর্নামেন্টে সরাসরি চুক্তিতে দল পেয়েছেন বেশকিছু তারকা। তার মধ্যে আছেন সাহিবজাদা ফারহান, সাকিব আল হাসান ও বিজয় শংকররা। চারবারের চ্যাম্পিয়ন জাফনা কিংস সরাসরি চুক্তিতে দলে ভিড়িয়েছে অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানকে। একইসাথে আরেক বাংলাদেশি পেসার তাসকিন আহমেদও খেলবেন একই দলে। এছাড়া স্থানীয়দের মধ্যে বাঁহাতি ব্যাটার ভানুকা রাজাপক্ষে ও স্পিন অলরাউন্ডার দুনিথ ভেল্লালাগে দলে নিয়েছে তারা। কলম্বো ক্যাপসের হয়ে খেলবেন জিমি নিশাম ও বেন ম্যাকডারমট৷ শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটারদের মধ্যে রয়েছে দুই ‘মেন্ডিস’, কুশল ও কামিন্দু। গল গ্যালান্টসের হয়ে খেলবেন আইপিএল মাতানো ঈশান মালিঙ্গা। আরও আছেন অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা ও প্রোটিয়া ব্যাটার রাসি ফন ডার ডুসেন। এলপিএলের এবারের আসর আয়োজিত হবে তিন ভেন্যুতে- কলম্বো, পাল্লেকেলে ও ডাম্বুলায়। কলম্বো ক্যাপস: স্থানীয় আইকন: কুশল মেন্ডিস স্থানীয় তারকা: কামিন্দু মেন্ডিস বিদেশি আইকন: জিমি নিশাম বিদেশি তারকা: বেন ম্যাকডারমট ডাম্বুলা সিক্সার্স: স্থানীয় আইকন: দুশমন্থ চামিরা স্থানীয় তারকা: দীনেশ চান্দিমাল বিদেশি আইকন: সাহিবজাদা ফারহান বিদেশি তারকা: রিজা হেনড্রিকস গল গ্যালান্টস: স্থানীয় আইকন: দাসুন শানাকা স্থানীয় তারকা: ইশান মালিঙ্গা বিদেশি আইকন: রাসি ফন ডার ডুসেন জাফনা কিংস: স্থানীয় আইকন: ভানুকা রাজাপাকসে স্থানীয় তারকা: দুনিথ ভাল্লালাগে বিদেশি আইকন: সাকিব আল হাসান বিদেশি তারকা: তাসকিন আহমেদ ক্যান্ডি রয়্যালস: স্থানীয় আইকন: ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা স্থানীয় তারকা: অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস বিদেশি আইকন: মঈন আলি বিদেশি তারকা: বিজয় শঙ্কর
বিদায় পেপ গার্দিওলা। ম্যানচেস্টার সিটিকে সাফল্যের এক স্বর্ণালী দশক উপহার দিয়ে অবশেষে ইতি টানলেন এই মাস্টার ট্যাক্টিশিয়ান। গত দশ বছরে ডাগআউটে দাঁড়িয়ে সারি সারি ট্রফির এক মহাকাব্য লিখেছেন তিনি, যার মোট সংখ্যা ২০টি। এই অবিশ্বাস্য অর্জনের মাধ্যমে ইংলিশ ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি; পুরো ম্যানচেস্টার শহরকে যেন লাল (ইউনাইটেড) থেকে স্থায়ীভাবে নীল (সিটি) রঙে রূপান্তর করেছেন তিনি। আর এই রূপান্তরের মূল স্থপতি ছিলেন গার্দিওলাই। পেপ গার্দিওলার ঐতিহাসিক বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে ম্যানচেস্টার সিটি আয়োজন করেছিল এক জমকালো অনুষ্ঠান—‘দ্য আফটার পার্টি’। শহরের কো-অপ লাইভ অ্যারেনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রিয় কোচকে বিদায় জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন প্রায় ১৯ হাজার আবেগাপ্লুত সমর্থক। অনুষ্ঠানে গার্দিওলার তিন সন্তান মারিয়া, মারিউস ও ভ্যালেন্তিনোর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন তার সাবেক শিষ্য ও বর্তমান বায়ার্ন মিউনিখ কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি, সাবেক অধিনায়ক ফার্নান্দিনহো এবং বর্তমান তারকা জ্যাক গ্রিলিশ। এ ছাড়া ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ফুটবল দুনিয়ার বাইরের দুই কিংবদন্তি—বাস্কেটবল সুপারস্টার মাইকেল জর্ডান এবং ব্রিটিশ গলফার টমি ফ্লিটউড এই স্প্যানিশ কোচকে শুভকামনা জানান। ২০১৬ সালে যখন গার্দিওলা ইতিহাদ স্টেডিয়ামে পা রাখেন, তখন ক্লাবের অর্থনৈতিক শক্তি থাকলেও অভাব ছিল নিয়মিত ও ধারাবাহিক সাফল্যের। পেপ এসে সিটিকে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম সেরা ক্লাবে পরিণত করেন। এক দশকের যাত্রায় তারা জিতেছে চ্যাম্পিয়নস লিগ, ছয়টি প্রিমিয়ার লিগ, পাঁচটি লিগ কাপ, তিনটি এফএ কাপ ও কমিউনিটি শিল্ড, সুপার কাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপ। বিদায়ী মঞ্চে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি গার্দিওলা। উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেই পারিনি এখানে এসে এতটা ভালোবাসা পাব। দীর্ঘ ১০ বছর আপনাদের কোচ হয়ে থাকাটা সত্যিই অসাধারণ এবং অবিশ্বাস্য এক অনুভূতি। আপনাদের কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। সারা জীবন আমি আপনাদের এই ভালোবাসা হৃদয়ে ধারণ করব।’ গার্দিওলার বিদায়ের আগে খোলা বাসে করে ম্যানচেস্টার শহরজুড়ে এক বর্ণাঢ্য প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। যেখানে গার্দিওলার মূল দলের পাশাপাশি অংশ নেয় ক্লাবের নারী ও যুব দলও। এই মৌসুমে সিটির পুরুষ দল জিতেছে এফএ কাপ ও লিগ কাপ, নারী দল ঘরে তুলেছে ‘উইমেনস সুপার লিগ’ এবং অনূর্ধ্ব-যুব দল জিতেছে ‘এফএ ইয়ুথ কাপ’। ম্যানচেস্টার সিটির রূপকার পেপ গার্দিওলা এরপর কোন ক্লাবের বা দেশের দায়িত্ব নেবেন, তা এখনও নিশ্চিত নয়। অন্যদিকে, সিটির ডাগআউটে তার উত্তরসূরি কে হচ্ছেন—তা নিয়েও ধোঁয়াশা কাটেনি। তবে ফুটবল মহলের গুঞ্জন অনুযায়ী, গার্দিওলার সাবেক সহকারী এবং চেলসির বর্তমান কোচ এনজো মারেসকা সিটির পরবর্তী কোচ হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে আছেন।
বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের অসাধারণ প্রদর্শনী মেলে ধরলেন রাজাত পাতিদার। অধিনায়কের দুর্দান্ত ইনিংসে রেকর্ড সংগ্রহ গড়ল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তাদের পেসারদের তোপে মুখ থুবড়ে পড়ল গুজরাট টাইটান্সের ব্যাটিং। বিশাল জয়ে আইপিএলের শিরোপা ধরে রাখার শেষ ধাপে পৌঁছে গেল বেঙ্গালুরু। প্রথম কোয়ালিফায়ারে ৯২ রানের জয়ে ফাইনালে উঠেছে পাতিদারের দল। ধারামসালায় মঙ্গলবার ২০ ওভারে বেঙ্গালুরু করে ৫ উইকেটে ২৫৪ রান। আইপিএলের প্লে-অফে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ এটি। ২০২৩ সালে প্রথম কোয়ালিফায়ারে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিপক্ষে গুজরাটের ২৩৩ ছিল আগের সর্বোচ্চ। বড় লক্ষ্য তাড়ায় ৮৮ রানে ৮ উইকেট হারিয়ে একশর আগে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে যায় গুজরাট। ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে রাহুল তেওয়াতিয়ার পঞ্চাশোর্ধ ইনিংসে কোনোমতে দেড়শ ছাড়াতে পারে শুবমান গিলের দল। শেষ ওভারে অলআউট হয় তারা ১৬২ রানে। ৯ ছক্কা ও ৫ চারে ৩৩ বলে অপরাজিত ৯৩ রানের ইনিংস খেলে বেঙ্গালুরুর নায়ক পাতিদার। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই। ভুবনেশ্বর কুমার, জশ হেইজেলউড ও রাসিখ সালাম, এই পেসত্রয়ীর সামর্থ্যে আস্থা রাখার কথা জানিয়ে ম্যাচের আগের দিন পাতিদার বলেছিলেন, পেস আক্রমণ দিয়েই গুজরাটকে গুঁড়িয়ে দিতে চান তারা। ওই তিন জন যথারীতি জ্বলে উঠলেন এই ম্যাচেও। রাসিখ সালাম ২৪ রানে ও ভুবনেশ্বর ২৮ রানে নেন ২টি করে উইকেট। ৩৯ রানে একটি উইকেট নেন হেইজেলউড। যদিও ৩৯ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার আরেক পেসার জ্যাকব ডাফি। ২৮ বলে ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলার পর, হাত ঘুরিয়ে ২টি উইকেট নেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। এ দিন রোহিত শার্মাকে (২৮১) ছাড়িয়ে আইপিএলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড আবার নিজের করে নেন ভিরাট কোহলি (২৮২)। টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামে বেঙ্গালুরু। ঝড়ো শুরু করে ইনিংস বড় করতে পারেননি ভেঙ্কাটেশ আইয়ার (৭ বলে ১৯)। দ্বিতীয় উইকেটে ৭২ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন কোহলি ও দেবদুত পাডিক্কাল। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আইপিএলের টানা চার আসরে ৬০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন কোহলি। সেখানেই থামে তার ইনিংস (২৫ বলে ৪৩)। জেসন হোল্ডারের ওই ওভারে বিদায় নেন পাডিক্কালও (১৯ বলে ৩০)। এরপর শুরু হয় পাদিতার ও পান্ডিয়ার তাণ্ডব। চার-ছক্কার ঝড় বইয়ে ৪৭ বলে ৯৫ রানের জুটি গড়েন দুজন। যদিও জুটি ভাঙতে পারত অনেক আগেই, পাতিদার আউট হতে পারতেন ২০ রানে, কিন্তু তার ক্যাচ ফেলেন কাগিসো রাবাদা। ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৩ রান করে ফেরেন পান্ডিয়া। টিম ডেভিড টিকতে পারেননি। তবে অন্য প্রান্তে পাতিদারের ঝড় থামেনি। শেষ ওভারে প্রাসিধ কৃষ্ণার প্রথম ও চতুর্থ বলে ছক্কা মেরে ৯২ রানে পৌঁছে যান পাতিদার। সেঞ্চুরির জন্য শেষ দুই বলে প্রয়োজন ছিল তার ৮ রান। কিন্তু পঞ্চম বলে এক রানের বেশি তিনি নিতে পারেননি। শেষ ৬ ওভারে আসে ১১৪ রান! বেঙ্গালুরুর ইনিংসে বাউন্ডারি হয় ৩৮টি, এটিও প্লে-অফে এক ইনিংসে রেকর্ড। ২০১২ সালে দিল্লির বিপক্ষে চেন্নাই সুপার কিংসের ৩৩টি ছিল আগের সর্বোচ্চ। রান তাড়ায় শুরু থেকে নিয়মিত উইকেট হারায় গুজরাট। যার শুরুটা হয় সাই সুদার্শানের হিট উইকেট আউট দিয়ে। পাওয়ার প্লেতে ৫১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একরকম ছিটকে যায় তারা। সাত নম্বরে নেমে ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৩ বলে ৬৮ রানের ইনিংস খেলে পরাজয়ের ব্যবধান কমান তেওয়াতিয়া। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯ রান করতে পারেন জস বাটলার। এই ম্যাচে হারলেও গুজরাটের ফাইনালে যাওয়ার সুযোগ শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বুধবার এলিমিনেটরে রাজস্থান রয়্যালস ও সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মধ্য জয়ী দলের বিপক্ষে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে খেলবে তারা।