বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে আবারও অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। দীর্ঘদিন জাতীয় দলের বাইরে থাকা, চোট ও ব্যক্তিগত ব্যস্ততার কারণে অনিয়মিত থাকা এই তারকা ক্রিকেটারকে ঘিরে নতুন করে পরিকল্পনায় ফিরছে বোর্ড। বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন চুক্তি তালিকায় সাকিবের নাম রাখার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সূত্রগুলো জানিয়েছে, জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অভিজ্ঞতার ঘাটতি এবং গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে নেতৃত্ব ও ভারসাম্যের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সাকিবকে আবার কেন্দ্রীয় চুক্তির আওতায় আনা হচ্ছে। বোর্ড মনে করছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের কঠিন সময়গুলোতে সাকিবের অভিজ্ঞতা এখনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, বিশেষ করে বড় টুর্নামেন্ট ও বিদেশের মাটিতে সিরিজে।
এর আগে ফিটনেস, ইনজুরি ও খেলার ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায় কেন্দ্রীয় চুক্তির বাইরে ছিলেন সাকিব। পাশাপাশি রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত নানা ইস্যুতে আলোচনায় থাকলেও ক্রিকেটীয় সক্ষমতা নিয়ে বোর্ডের ভেতরে কখনোই বড় ধরনের সংশয় ছিল না। সাম্প্রতিক সময়ে ফিটনেস ও খেলার প্রস্তুতি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা পাওয়ার পরই তার কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফেরার বিষয়টি জোরালোভাবে সামনে আসে।
বিসিবির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সাকিবকে কোন ক্যাটাগরিতে রাখা হবে—সে বিষয়টি চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। খেলার সংখ্যা, ফিটনেস রিপোর্ট এবং জাতীয় দলের চাহিদার ভিত্তিতে চুক্তির ধরন নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনে সীমিত সংস্করণ বা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশেষ চুক্তির পথেও হাঁটতে পারে বোর্ড।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাকিবের প্রত্যাবর্তন শুধুই একজন খেলোয়াড়কে চুক্তিতে ফেরানো নয়, বরং দলের অভিজ্ঞতার ঘাটতি পূরণে একটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত। তরুণ ক্রিকেটারদের জন্যও সাকিবের উপস্থিতি মাঠে ও ড্রেসিংরুমে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
বিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তি তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার পরই সাকিবের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সব ধরনের জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে। তবে বোর্ডের ভেতরের আলোচনা অনুযায়ী, সাকিব আল হাসানকে আবারও জাতীয় ক্রিকেট কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনাল, আরেকটি ইতিহাস গড়ার হাতছানি—সবকিছুই মিলিয়ে গেল টেক্সাসের আর্লিংটন স্টেডিয়ামে। স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে ফ্রান্সকে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার যে স্বপ্ন দেখছিলেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে, তা ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে নিজের সেই ‘অসীম হতাশা’ আর ম্যাচ হারার ভেতরের গল্প অকপটে স্বীকার করেছেন ২৭ বছর বয়সী এই রিয়াল মাদ্রিদ তারকা। এবারের বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পথচলা ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। আক্রমণভাগের নেতৃত্বে থেকে আটটি গোল করে ফুটবলবিশ্বকে বুঁদ করে রেখেছিলেন এমবাপে। কিন্তু সেমিফাইনালের মঞ্চে স্পেনের কৌশলী ফুটবলের সামনে খেই হারিয়ে ফেলে ‘লে ব্লুজ’রা। ম্যাচ শেষে ফরাসি ব্রডকাস্টার এমসিক্স-এর সঙ্গে আলাপকালে এমবাপে বলেন, ‘যেভাবে খেলতে চেয়েছিলাম—কৌশলগত, টেকনিক্যাল কিংবা সার্বিক পারফরম্যান্সের দিক থেকে—তার কিছুই আমরা মাঠে করে দেখাতে পারিনি।’ নিজের দলের ভুলগুলো লুকাতে চাননি এই ফরাসি অধিনায়ক, ‘বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে যা করা উচিত, তা যদি করতে না পারেন, তবে জয় পাওয়া সম্ভব নয়।’ স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সহজাত ক্ষমতাকে রুখতে ফরাসিদের যে পরিকল্পনা ছিল, তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে জানান এমবাপে। তার ভাষায়, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল মাঠের ওপরের দিকে ওদের চেপে ধরা, যেন ওরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে ধীরগতির ছন্দ তৈরি করতে না পারে। কারণ খেলা নিয়ন্ত্রণে রাখার ক্ষেত্রে ওরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে। আর এই কাজটাই আমরা করতে পারিনি।’ পরাজয়ের মূল কারণ হিসেবে মাঝমাঠের ব্যর্থতাকেই চিহ্নিত করেছেন এমবাপে। মাঠের ঠিক মাঝখানে আদ্রিয়েন রাবিও এবং অহেলিয়াঁ চুয়ামেনির ফরাসি জুটি স্পেনের রদ্রি, দানি ওলমো আর ফাবিয়ান রুইসের ত্রয়ীর কাছে পুরোপুরি পরাস্ত হয়েছে। এমবাপে বলেন, ‘মাঝমাঠে আমরা বারবার তিনজনের বিরুদ্ধে দুজন হয়ে পড়ছিলাম। স্পেনের মতো দলের সঙ্গে এমনটা হওয়া মানেই বড় বিপদ। সব মিলিয়ে এই ভুলের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে হারের মাধ্যমে। এটা সত্যিই এক বিশাল হতাশা।’ স্বপ্নভঙ্গের এই বেদনায় ফরাসি শিবির স্তব্ধ হয়ে গেলেও, এই ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়াতে চান এমবাপে। দেশের মানুষকে আরও একবার গৌরবের উপলক্ষ এনে দিতে না পারার আক্ষেপ তার কণ্ঠে, ‘ফাইনালে ওঠা, দেশকে স্বপ্ন দেখার সুযোগ করে দেওয়া আর নতুন ইতিহাস গড়া আমাদের স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন এই কঠিন বাস্তবতা আমাদের মাথা উঁচু করেই মেনে নিতে হবে। আমি বিশ্বাস করি, জেতার পর যেভাবে মাথা উঁচু রাখতে হয়, হারের পরও ঠিক সেভাবেই মাথা উঁচু রেখে মাঠ ছাড়তে হয়।’ ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে এমবাপে যোগ করেন, ‘এই মুহূর্তে হতাশার পাল্লাটা বড্ড ভারী। আমি ও আমার দল কতটা হতাশ, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। কিন্তু ফুটবল কারও জন্য অপেক্ষা করে না। তাই কিছুটা যান্ত্রিক শোনালেও আমাদের এখন এই ধাক্কা সামলে উঠতে হবে, ছুটিতে যেতে হবে এবং জীবনের পরের অধ্যায়ে মনোযোগ দিতে হবে। এই ব্যর্থতা পেছনে ফেলে আমাদের নতুন করে শুরু করতে হবে এবং এই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’
আটলান্টা স্টেডিয়াম সুবিশাল। মিডিয়া সেন্টার থেকে প্রেস কনফারেন্স কক্ষে যেতে আধ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ বিশ্ব ফুটবলে অত্যন্ত ঐতিহাসিক। এরপর আবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচ। তাই সংবাদ সম্মেলন কক্ষ পুরোপুরি পূর্ণ। ইংল্যান্ডের বেসক্যাম্প কানসাস। তারা সেখানে দুপুরে অনুশীলন করে আটলান্টা রওনা হয়েছে। আটলান্টা সময় বিকেল ছয়টায় তাদের প্রেস কনফারেন্স থাকলেও আধ ঘণ্টা দেরিতে শুরু হয়েছে। ইংল্যান্ডের সম্মেলন দেরি হওয়াই এর কারণ। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনিকে কালকের ম্যাচের পাশাপাশি দুই দলের ঐতিহাসিক দ্বৈরথ নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। আধ ঘণ্টা সংবাদ সম্মেলনের একেবারে শেষ প্রশ্ন করার সুযোগ পেয়েছেন এক বাংলাদেশি সাংবাদিক। টেকনিক্যালি কোনো বিষয় নয়, বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার অনেক সমর্থন নিয়ে তিনি স্কালোনির কাছে জানতে চান। এনিয়ে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘আসলে আমরা বিস্মিত, এত দূর থেকে বাংলাদেশ আর্জেন্টিনাকে যেভাবে সমর্থন করে আসছে। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনার জার্সি পরে অনেকে। এটা আসলেই অনেক অসাধারণ ও সুন্দর বিষয়। আশা করি আমরা আগামীকাল ভালো কিছু উপহার দিতে পারব।’ বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের সমর্থন দীর্ঘদিন থেকেই। তবে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে এটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে। আর্জেন্টিনার কোচ স্কালোনি কাতার বিশ্বকাপে বাংলাদেশের উন্মাদনা নিয়ে নিজেই মন্তব্য করেছিলেন। এবার আর্জেন্টিনার ম্যাচের মিক্সড জোনে এমিলিয়েনো মার্টিনেজ, সংবাদ সম্মেলনে ব্রুনো গিমারেস বাংলাদেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলে না। এরপরও বাংলাদেশের সমর্থকদের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনাকে সমর্থনের জন্য বিশ্বকাপে আলোচনা হয়। না খেলেও তাই বিশ্বকাপের অংশ হয় বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপে সবচেয়ে সফল দল পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তিনবার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া আর্জেন্টিনাও কম যায় না। বিশ্বমঞ্চে এই দুই পরাশক্তির সাফল্য আর আধিপত্য নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে এক অদ্ভুত পরিসংখ্যান। বিশ্বকাপের ফাইনালে সবচেয়ে বেশিবার ওঠার রেকর্ডটি ব্রাজিল কিংবা আর্জেন্টিনা—কারও নামের পাশেই যে লেখা নেই। এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়েছে অন্য এক পরাশক্তি। বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা এক কথা, আর সেই ট্রফি উঁচিয়ে ধরা সম্পূর্ণ ভিন্ন এক লড়াই। নেদারল্যান্ডসের দিকে তাকালেই সেটা স্পষ্ট হয়ে যায়। ডাচরা এ পর্যন্ত তিন তিনবার বিশ্বকাপের ফাইনালে (১৯৭৪, ১৯৭৮ ও ২০১০) পা রেখেও কখনও সোনালী ট্রফিটার ছোঁয়া পায়নি। ফাইনালে গিয়েও রানার্স-আপ হয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করা এমন ৫টি দুর্ভাগা দলের একটি তারা। আবার অন্যপাশে আছে চলতি আসরের দুই সেমিফাইনালিস্ট ইংল্যান্ড ও স্পেন। মাত্র একবারই ফাইনালের টিকিট কেটেছিল তারা, আর প্রথম সুযোগেই বাজিমাত করে ট্রফি নিজেদের করে নিয়েছিল। ফাইনালে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা দল বিশ্বকাপের ফাইনাল বললেই চোখে ভেসে ওঠে এই টুর্নামেন্টে আধিপত্য বিস্তার করা দলগুলোর নাম—ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ইতালি, জার্মানি ও ফ্রান্স। ৫টি শিরোপা নিয়ে ব্রাজিল বিশ্বকাপের সবচেয়ে সফল দল হলেও, সবচেয়ে বেশি ফাইনাল খেলার কীর্তি কিন্তু সেলেসাওদের নয়! সেই অনন্য রেকর্ডটি নিজেদের করে রেখেছে জার্মানি। 'ডাই মানশাফট'রা এ পর্যন্ত রেকর্ড ৮টি ফাইনাল খেলেছে, যার প্রথম ৫টি ছিল পশ্চিম জার্মানি হিসেবে। সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৫৪ সালের আসরে নিজেদের প্রথম ফাইনালে উঠেছিল তারা। বার্নের সেই ফাইনালে হাঙ্গেরিকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বজয়ের স্বাদ পায় পশ্চিম জার্মানি। তবে এর ১২ বছর পর, ১৯৬৬ সালে ওয়েম্বলিতে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের কাছে প্রথমবার ফাইনাল হারের তেতো স্বাদ পায় জার্মানি। অতিরিক্ত সময়ে জিওফ হার্স্টের জোড়া গোলে সেবার প্রথম রানার্স-আপ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। ১৯৭৪ সালে নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে হারিয়ে উরুগুয়ে, ইতালি ও ইংল্যান্ডের পর চতুর্থ স্বাগতিক দেশ হিসেবে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে পশ্চিম জার্মানি। এরপর ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে টানা তিনটি ফাইনালে খেলার কীর্তি গড়ে পশ্চিম জার্মানি। তবে প্রথম দুটিতেই তাদের স্বপ্নভঙ্গ হয়—১৯৮২ সালের স্পেন বিশ্বকাপে ইতালির কাছে ৩-১ গোলে এবং ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল তাদের। পরের আসরেই, অর্থাৎ ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে রোমের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে মধুর প্রতিশোধ নেয় পশ্চিম জার্মানি। আর এই জয়ের মাধ্যমে ৬টি ফাইনাল খেলে ৩টি শিরোপা নিজেদের শোকেসে তোলে তারা। দুই জার্মানি এক হওয়ার পর একক জার্মানি হিসেবে এবং নিজেদের ইতিহাসে সপ্তম ফাইনালে তারা মাঠে নামে ২০০২ সালের জাপান-দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বকাপে। তবে ফাইনালে রোনালদোর জাদুকরী পারফরম্যান্স—আর সম্ভবত তার সেই অদ্ভুত চুলের ছাঁটের মায়ায় পড়ে—জার্মানরা ২-০ ব্যবধানে ম্যাচটি হেরে বসে। এরপর ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আরও একটি স্মরণীয় জয় পায় জার্মানি। এবার অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে নিজেদের চতুর্থ বিশ্বকাপ ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরে তারা।