বিনোদন

বিশ্বমঞ্চে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের মিথিলা

মোঃ ইমরান হোসেন নভেম্বর ২১, ২০২৫

বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার চরম উত্তেজনায় এবার চোখ ধাঁধানো সাফল্যের গল্প লিখলেন বাংলাদেশের মিস ইউনিভার্স তানজিয়া জামান মিথিলা। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে অভিষেকের মঞ্চেই টপ থার্টিতে জায়গা করে নেওয়া এই অর্জন শুধু মিথিলার ব্যক্তিগত পরিশ্রমের ফলের পাশাপাশি বাংলাদেশের সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে নতুন সম্ভাবনার উজ্জ্বল বার্তা বহন করছে।

 

বাংলাদেশি দর্শকরা মিথিলার এই সাফল্যে গর্বিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যা বইছে, যা প্রমাণ করে দেশের মানুষের জন্য এই অর্জন কতটা বড় অনুপ্রেরণা। মিথিলার আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা এবং মাধুর্য আন্তর্জাতিক মানের প্রতিযোগিতায় আমাদের দেশের উপস্থিতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার এই মঞ্চে বাংলাদেশি প্রতিনিধির আত্মপ্রকাশ যে শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, তা এবার পুরো বিশ্বের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মিথিলার এই যাত্রা আগামীতে আরও বড় স্বপ্ন দেখার পথ খুলে দেবে নতুন প্রজন্মের জন্য।

এদিকে পিপলস চয়েস ভোটে তৃতীয় স্থান অধিকার করলেও মিথিলা আবারও সুইমসুট রাউন্ডে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে সেরা ৩০-এ জায়গা নিশ্চিত করেন। তবে পিপলস চয়েস ভোটে যদি তিনি শীর্ষে থাকতে পারতেন তাহলে সরাসরি সেরা ৩০ এ চলে যেতে পারতেন।

এ ছাড়া ন্যাশনাল কস্টিউম ও গাউন রাউন্ডে তার উপস্থিতি দর্শকদের মন জয় করলেও সবচেয়ে বেশি প্রশংসা পেয়েছিলেন মিস ভেনেজুয়েলার অপ্রীতিকর আচরণকে গ্রেসফুলি সামলানোর ক্ষমতার জন্য।

 

তানজিয়া জামান মিথিলা চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ ২০২৫’ খেতাব জিতেছেন। এ ছাড়া ২০২০ সালে একই খেতাব অর্জন করেছিলেন তিনি কিন্তু করোনার কারণে আন্তর্জাতিক পর্বে অংশ নিতে পারেননি। তবে এবার পুনরায় স্বপ্নের বিশ্বমঞ্চে ফিরে এসে সেরা ৩০ এ নিজের অবস্থান করে তিনি নতুন ইতিহাস গড়লেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

বিনোদন

আরও দেখুন
‘ইত্যাদি’র শুটিং স্পট। ছবি: সংগৃহীত
‘ইত্যাদি’র শুটিং স্পট থেকে শতাধিক মোবাইল চুরির অভিযোগ

বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’র শুটিং স্পট থেকে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার শতাধিক দর্শকের মোবাইল ফোন চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘর, রামনগর হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীরা বলছেন, অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের ক্ষেত্রে পাসের ব্যবস্থা ছিল। আয়োজক কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনার কারণে ওই অনুষ্ঠানে প্রবেশের সময় পাস হাতে থাকা নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী দর্শকদের ঠেলাঠেলি করে প্রবেশ করতে হয়েছে।  বিশৃঙ্খল এই পরিস্থিতিতে সাংবাদিকসহ অন্তত শতাধিক ব্যক্তির মুঠোফোন চুরি হয়। এ সময় আহত হয় বেশ কয়েকজন। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিপুলসংখ্যক পু্লিশ সদস্যও এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হন। জানা গেছে, তিন হাজার অতিথির জন্য আসন বরাদ্দ করা হলেও আরও কয়েক হাজার ব্যক্তি অনুষ্ঠানে অনধিকার প্রবেশ করেন।  পুলিশি বাঁধা উপেক্ষা করে, দেয়াল টপকে তারা ভিতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কির সুযোগে একটি চক্র প্রবেশ ফটক থেকেই হাতিয়ে নেয় ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন, দীপ্ত টিঁভি, ইভিনিং নিউজ, দৈনিক আমার দেশ, ভোরের ডাক, প্রতিদিনের সংবাদের সাংবাদিক সহ অন্ততঃ ৭ সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের প্রায় শতাধিক মুঠোফোন।  পরে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে শতশত পাসধারী দর্শকঅতিথি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। অনুষ্ঠান স্থলে উপস্থিত ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবেশের জন‍্য প্রধান ফটক দিয়ে ঢোকার সময় প্রশাসনের অব‍্যবস্থাপনার কারণে হট্টগোল দেখা দেয়।  এসময় আমিসহ অন‍্যান‍্য সাংবাদিকরা ভিতরে প্রবেশ করার পর দেখি আমার মোবাইলটি নেই। তা‍ৎক্ষণিক গেইটে অবস্থান রত পুলিশকে চুরির ঘটনা জানানো হয়। জানানোর পর পুলিশের সাথে প্রায় এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকাবস্থায় ৬জন সাংবাদিক, ১জন জেলা প্রশাসনের কর্মচারি সহ অন্তত ৪০/৪৫ জন মোবাইল চুরির ঘটনা পুলিশকে অবহিত করে। তবে পুলিশ নীরব ভূমিকায় ছিল। প্রবেশ গেইটে এত হট্টগোল হচ্ছে দেখেও পুলিশ কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, ইত্যাদি অনুষ্ঠান উপভোগের জন্য জেলা, জেলার বাইরে থেকে হাজার হাজার দর্শক এসেছেন, পাশাপাশি হয়তো অনেক চোরও এসেছে। অনুষ্ঠানে বেশকিছু দর্শকের মুঠোফোন মিসিং হয়েছে জেনেছি। থানায় রিপোর্ট করলে তাদের মুঠোফোন উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে।

মারিয়া রহমান মে ২১, ২০২৬
দিলু মজুমদার। ছবি : সংগৃহীত

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলেন অভিনেতা দিলু মজুমদার

আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম । ছবি : সংগৃহীত

দীর্ঘ বিরতির পর আবার একসঙ্গে শুভ ও মিম

মেহজাবীন চৌধুরী । ছবি : সংগৃহীত

কার হৃদয়ের জায়গা চাইছেন মেহজাবীন?

ছবি : সংগৃহীত
টিভি পর্দায় একসঙ্গে সাত নায়িকা, জমবে ভিন্ন স্বাদের গল্প

ঈদুল আজহা মানেই টেলিভিশনের পর্দায় বিশেষ আয়োজনের ছড়াছড়ি। নাটক, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ও রিয়েলিটি শোর পাশাপাশি ঈদের আনন্দ বাড়াতে দর্শকদের জন্য এবার সাতটি বাংলা সিনেমা নিয়ে বিশেষ আয়োজন করেছে চ্যানেল আই। টানা সাত দিন প্রতিদিন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে প্রচার হবে একটি করে নতুন সিনেমার ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার। এ আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, সাত দিনে টিভি পর্দায় হাজির হচ্ছেন সাত নায়িকা। গল্প, চরিত্র ও অভিনয়ের বৈচিত্র্যে তারা ঈদের সকালগুলোকে করে তুলবেন আরও প্রাণবন্ত।   ঈদের দিনই শুরু হচ্ছে এ আয়োজন। প্রথম দিন প্রচারিত হবে মিঠু খান পরিচালিত ‘নীল চক্র’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। এতে তিনি জুটি বেঁধেছেন আরিফিন শুভর সঙ্গে। রহস্যঘন গল্পে নির্মিত এ সিনেমায় মন্দিরা চক্রবর্তীর উপস্থিতি দর্শকদের জন্য নতুন আকর্ষণ হয়ে উঠতে পারে। ঈদের দ্বিতীয় দিনে দেখানো হবে আবু হায়াত মাহমুদ পরিচালিত ‘প্রিন্স’। সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ। সঙ্গে রয়েছেন কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু। এতে দুজনই শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন। বাণিজ্যিক ঘরানার এ সিনেমায় দুই নায়িকার উপস্থিতি গল্পে ভিন্ন মাত্রা যোগ করবে বলেই আশা নির্মাতাদের। ঈদের তৃতীয় দিন প্রচার হবে সিনেমা ‘সাবা’। মাকসুদ হোসেন পরিচালিত এ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন মেহজাবীন চৌধুরী। তার সঙ্গে রয়েছেন রোকেয়া প্রাচী, মন্‌ওয়ার, সুমন পাটোয়ারী ও অশোক বেপারি। নারীকেন্দ্রিক গল্পের এ সিনেমাটি এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে। ঈদের চতুর্থ দিনে প্রচারিত হবে আলোক হাসান পরিচালিত ‘টগর’। এতে অভিনয় করেছেন পূজা চেরী। সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে খুব একটা সুবিধা করতে না পারেনি। গ্রামীণ আবহের গল্পে নির্মিত এ সিনেমায় পূজা চেরীর ভিন্নধর্মী উপস্থিতি টিভি পর্দার দর্শকদের আগ্রহ বাড়াতে পারে বলেই মনে করছেন অনেক। এতে পূজার সঙ্গে দেখা যাবে আদর আজাদকে। পঞ্চম দিনের সিনেমা ‘জয়া আর শারমিন’। পিপলু আর খান পরিচালিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন জয়া আহসান ও মহসিনা আক্তার। দুই নারীর জীবনের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি উৎসবের আয়োজনের মধ্যে ভিন্ন স্বাদের একটি উপস্থাপনা হতে যাচ্ছে। ঈদের ষষ্ঠ দিনে থাকছে ‘বাড়ির নাম শাহানা’। লিসা গাজীর রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন আনান সিদ্দিক। আরও রয়েছেন ইরেশ যাকের, লুৎফর রহমান জর্জ ও জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়। পারিবারিক সম্পর্ক ও আবেগের গল্প ঘিরে নির্মিত সিনেমাটিতে গুরুত্বপূর্ণ নারী চরিত্রটি দর্শকদের কাছে বিশেষভাবে ধরা দেবে। ঈদের সপ্তম ও শেষ দিনে প্রচারিত হবে ‘শরতের জবা’। কুসুম শিকদার পরিচালিত এ সিনেমায় কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন কুসুম শিকদার নিজেই। তার সঙ্গে রয়েছেন এ প্রজন্মের অভিনেতা ইয়াশ রোহান। নির্মাতা ও অভিনেত্রী দুই পরিচয়েই কুসুম শিকদারের উপস্থিতি সিনেমাটিকে করেছে আলাদা আকর্ষণীয়। সব মিলিয়ে এবারের ঈদে চ্যানেল আইয়ের এ আয়োজন যেন হয়ে উঠছে সাত নায়িকার সাত গল্পের এক বিশেষ সিনেমা উৎসব। ভিন্ন ভিন্ন নির্মাতা, গল্প ও অভিনয়ের বৈচিত্র্যে সাজানো এ সাত সিনেমা দর্শকদের ঈদের সকালগুলোকে করে তুলবে আরও রঙিন ও উপভোগ্য।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২১, ২০২৬
রিয়া চক্রবর্তী। ছবি : সংগৃহীত

জীবন এত কঠিন হবে ভাবিনি : রিয়া

‘নুড়ি’ সিনেমার পোস্টারের একাংশ

কান উৎসবের শর্ট ফিল্ম কর্নারে বাংলাদেশের ‘নুড়ি’

ছবি : সংগৃহীত

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় গায়িকাকে কানাডা থেকে এসে হত্যা

শরীফুল রাজ, শাকিব খান, সিয়াম আহমেদ ও আফরান নিশো। ছবি : সংগৃহীত
ঈদে ছোট পর্দায় আসছে ৪ সিনেমা

ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাওয়া আলোচিত চার সিনেমা রাক্ষস, ‘বনলতা এক্সপ্রেস,’ ‘দম’ ও প্রিন্স এবার মুক্তি পাচ্ছে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। আগামী ২৪ মে থেকে ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম হইচইয়ে দেখা যাবে ‘বনলতা এক্সপ্রেস’। আর ২১ মে থেকে চরকিতে স্ট্রিমিং হবে ‘দম’। অন্যদিকে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ সিনেমা ও সিয়াম অভিনীত ‘রাক্ষস’ মুক্তি পেতে চলেছে নতুন ওটিটি প্লাটফর্ম উৎসব-এ। ২১ মে থেকে থেকে শুরু হবে সিনেমার গুলোর স্ট্রিমিং।   তানিম নূর পরিচালিত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নির্মিত হয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাস অবলম্বনে। গত ঈদে মুক্তির পর থেকেই সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উন্মাদনা দেখা যায়। ঈদুল ফিতরে মুক্তির পর থেকে সিনেমাটির বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত আয় ১৪ কোটি টাকার বেশি। বিদেশের বাজারসহ আয় ২০ কোটির বেশি। গত শুক্রবারেও এটি মাল্টিপ্লেক্স থেকে ২৪ লাখ টাকা আয় করে। প্রযোজনা-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, প্রেক্ষাগৃহে দুই মাস চলার পরে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে সিনেমাটি মুক্তি কথা ছিল। সেভাবেই এবার সব দর্শকের জন্য উন্মুক্ত হচ্ছে। তবে ওটিটিতে মুক্তি পেলেও প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি দেখতে পারবেন দর্শক। সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মোশাররফ করিম, চঞ্চল চৌধুরী, শরীফুল রাজ, সাবিলা নূর, শ্যামল মাওলা, জাকিয়া বারী মম, আজমেরী হক বাঁধন, শামীমা নাজনীন, ইন্তেখাব দিনার, আরেফিন জিলানীসহ আরও অনেকে। ঈদুল ফিতরের আরেক আলোচিত সিনেমা ‘দম’ মুক্তি পাচ্ছে আগামী ২১ মে চরকিতে। প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সাড়া পাওয়ার পর এবার ওটিটি প্ল্যাটফর্মে আসছে সিনেমাটি। ২০ মে রাত ১২টার পর থেকে (বাংলাদেশ সময় ২১ মে) দেশ-বিদেশের দর্শকরা চরকিতে সিনেমাটি দেখতে পারবেন। অনেক দর্শক এরই মধ্যে সিনেমাটি দেখলেও ব্যস্ততা কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে অনেকে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখতে পারেননি। তাদের জন্য ওটিটিতে মুক্তির ঘোষণা স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। ‘দম’ পরিচালনা করেছেন রেদওয়ান রনি। ওটিটিতে মুক্তি নিয়ে এ নির্মাতা বলেন, “আমি বরাবরই বলে এসেছি ‘দম’ বাংলাদেশের এবং বাংলাদেশিদের জয়ের গল্প। চরকিতের মুক্তির মাধ্যমে এ জয়ের গল্প সবার ঘর বা হাতে পৌঁছে যাবে। আশা করব দেশ-বিদেশের সবাই এ জয় উপভোগ করবেন। ঈদের আনন্দে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘরে বসেই ‘দম’ দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা।” আফগানিস্তানে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসা এক বাংলাদেশির জীবনের সত্য ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে নির্মিত হয়েছে সিনেমাটি। এ সিনেমায় প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন আফরান নিশো ও পূজা চেরী। আরও রয়েছেন চঞ্চল চৌধুরী, জাহিদ হাসান, আবুল হায়াত, ডলি জহুরসহ অনেকে। সিনেমার বড় অংশের দৃশ্য ধারণ হয়েছে কাজাখস্তানে। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড ও চরকি। ‘দম’-এর চিত্রনাট্য লিখেছেন রেদওয়ান রনি, রবিউল আলম রবি, সৈয়দ আহমেদ শাওকী, আল-আমিন হাসান ও মো. সাইফুল্লাহ রিয়াদ। এদিকে শাকিব খান অভিনীত ‘প্রিন্স’ পরিচালনা করেছেন আবু হায়াত মাহমুদ। সিনেমাটিতে শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ এবং কলকাতার অভিনেত্রী জ্যোতির্ময়ী কুণ্ড। গেল ঈদে মুক্তির পর সিনেমাটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হলেও ডিসিপি ও সার্ভার জটিলতার কারণে অনেক প্রেক্ষাগৃহে ঠিকভাবে সিনেমাটি উপভোগ করা সম্ভব হয়নি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ওটিটি মুক্তির আগে সিনেমাটির ডিজিটাল সংস্করণ নতুনভাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। সাউন্ড, কালার গ্রেডিং ও ভিএফএক্স নিয়ে দর্শকদের যেসব অভিযোগ ছিল, সেগুলো সংশোধন করে আরও উন্নত মানে সিনেমাটি উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। দর্শকরা এবার ওটিটিতে ‘প্রিন্স’-এর আরও পরিপূর্ণ ও উপভোগ্য সংস্করণ দেখতে পারবেন। অন্যদিকে ঈদের অন্যতম আলোচিত ও প্রশংসিত সিনেমা ‘রাক্ষস’ নির্মাণ করেছেন মেহেদি হাসান হৃদয়। এর আগে তিনি ইন্ডাস্ট্রি হিট ‘বরবাদ’ নির্মাণ করে আলোচনায় আসেন। নির্মাতার ভাষায়, ‘রাক্ষস’ মূলত ‘বরবাদ ইউনিভার্স’-এরই একটি অংশ। প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর সিনেমাটিতে সেই আবহ ও নির্মাণশৈলীর ছাপ পেয়েছেন দর্শকরাও। রোমান্টিক অ্যাকশন-থ্রিলার ঘরানার এই সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সিয়াম আহমেদ। তার বিপরীতে রয়েছেন কলকাতার অভিনেত্রী সুষ্মিতা চ্যাটার্জি। এছাড়া অভিনয় করেছেন আলী রাজ, সোহেল মণ্ডলসহ আরও অনেকে। সিনেমার বিশেষ একটি গানে অংশ নিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী নাতালিয়া জানোসজেক। ‘রাক্ষস’-এর মাধ্যমে সিয়ামকে পুরোপুরি অ্যাকশনধর্মী নায়ক হিসেবে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন দর্শকরা। সিনেমাটি এখনও দেশের বাইরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রদর্শিত হচ্ছে। আরও বেশি দর্শকের কাছে সিনেমাটি পৌঁছে দিতেই এবার ওটিটিতে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রিন্স ও রাক্ষস সিনেমা নিয়ে উৎসব- এর যাত্রা প্রসঙ্গে এর প্রধান নির্বাহী জাহিদ হাসান অভি বলেন, ‘বাংলা কনটেন্টকে আরও সহজ ও আকর্ষণীয়ভাবে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। আমরা এমন একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে চাই, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা বাংলা ভাষাভাষী দর্শক সহজেই নতুন সিনেমা, নাটক ও সিরিজ উপভোগ করতে পারবেন। তাই যাত্রার শুরুতেই আমরা ঈদের সবচেয়ে আলোচিত দুই সিনেমাকে সঙ্গে রাখছি। পৃথিবীর সব দেশের দর্শকরা বাংলা সিনেমাকে সহজেই উৎসবে দেখতে পারবেন।’ প্রাথমিকভাবে দর্শকরা সরাসরি উৎসবের ওয়েবসাইট (www.utshob.live)-এ প্রবেশ করে নির্ধারিত অর্থের সাবস্ক্রিপশন নিয়ে ‘প্রিন্স’ ও ‘রাক্ষস’ উপভোগ করতে পারবেন। পাশাপাশি প্ল্যাটফর্মটিতে শতাধিক সিনেমা, নাটক ও ওয়েব সিরিজও দেখা যাবে। খুব শিগগিরই গুগল প্লে স্টোরে ‘উৎসব’ অ্যাপ উন্মুক্ত করা হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে আইওএস, অ্যাপল টিভি, অ্যামাজন ফায়ার টিভি, অ্যান্ড্রয়েড টিভি এবং স্যামসাং স্মার্ট টিভিতেও প্ল্যাটফর্মটির সেবা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ১৯, ২০২৬
মৌসুমী হামিদ । ছবি : সংগৃহীত

শিল্পীদের জীবনধারা আমাকে মুগ্ধ করে: মৌসুমী হামিদ

ওয়েব ফিল্ম ‘তাজমহল’ এর পোস্টার। ছবি - বঙ্গ'র সৌজন্যে

সীমান্তের গল্পে নতুন জুটি, বঙ্গ-তে আসছে ‘তাজমহল’

শাকিরা । ছবি : সংগৃহীত

কর মামলায় জয় পেলেন শাকিরা

0 Comments