মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনের শেষ বিকেলে দারুণ এক শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে আয়ারল্যান্ডকে ২৬৫ রানে থামিয়ে ২১১ রানের লিড পাওয়ার পর ব্যাট হাতেও করেছে দারুণ শুরু। দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেনিং জুটিতে ভালো ভিত্তি গড়ার পর দিন শেষ করেছে ১ উইকেটে ১৫৬ রানে। ফলে নাজমুল হোসেন শান্তর দল এখন এগিয়ে ৩৬৭ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সূচনাটা আসে মাহমুদুল হাসান জয় ও সাদমান ইসলামের ব্যাটে। শুরুর সতর্কতা কাটিয়ে দুজনই খেলেছেন স্বচ্ছন্দে। তবে ইনিংসের ৩২তম ওভারের প্রথম বলেই গ্যাভিন হোয়ের বলে এলবিডব্লু হয়ে থামতে হয় মাহমুদুলকে। ৯১ বলে ৬ চার হাঁকিয়ে ৬০ রানের মূল্যবান ইনিংস খেলেন তিনি।
তার বিদায়ের সময় বাংলাদেশের স্কোর ছিল ১১৯ রানে ১ উইকেট।
তৃতীয় উইকেটে এসে দায়িত্ব নেন মমিনুল হক। সাদমানের সঙ্গে গড়ে তুলেছেন আরেকটি আশাব্যঞ্জক জুটি। ৩৬তম ওভারের প্রথম দুই বলে হোয়েকে দুটি দারুণ বাউন্ডারি মেরে ইনিংসের গতি বাড়ান সাবেক অধিনায়ক।
তার ব্যাটে ও সাদমানের স্থিতিতে বাংলাদেশের লিড তখনই সাড়ে তিন শ পেরিয়ে যায়।
এর আগে আয়ারল্যান্ডকে চাপে ফেলে দেয় বাংলাদেশি বোলাররা। বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম ৭৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ছিলেন দলের সেরা। এছাড়া প্রয়োজনীয় সহায়তা দেন হাসান মুরাদ, ইবাদত হোসেন ও খালেদ আহমেদ। বড় লিড পেলেও আইরিশদের ফলোঅন করায়নি স্বাগতিকরা, বরং ব্যাট হাতে আরো চাপ বাড়ানোর পথই বেছে নেয়।
শেষ বিকেলে সাদমান ও মমিনুল শক্ত ভিত গড়ে বাংলাদেশ এক উইকেট হারিয়ে তোলে ১৫৬ রান। ফলে ৩৬৭ রানের লিড নিয়ে মিরপুর টেস্টের নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি শান্তর দলের হাতে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
২০২৪ সালে পাকিস্তান সফরে দুই ম্যাচের সিরিজ ২-০ ব্যবধানে জিতেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এবার ঘরের মাঠে ব্যাট-বল হাতে দাপট দেখিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানকে আবারও হোয়াইটওয়াশ করেছে টাইগাররা। বাংলাদেশের ক্রিকেটের উন্নতি দেখে মুগ্ধ পাকিস্তানের দুই সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম ও রশিদ লতিফ। মিরপুরে প্রথম টেস্টে পাকিস্তানকে ১০৪ রানের বড় ব্যবধানে হারায় বাংলাদেশ। সিলেটে পরের টেস্ট ৭৮ রানে জিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দ্বিতীয় সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা। বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরমেন্সের প্রশংসা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আকরাম লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের টানা দ্বিতীয় হার দেখাটা সত্যিই হতাশাজনক। তবে বিজয়ীদের পুরো কৃতিত্ব দিতেই হবে। কারণ তারা সেরা ক্রিকেট খেলেছে। একসময় বাংলাদেশের উইকেট মানেই ছিল মন্থর, নিচু ও স্পিন-সহায়ক। কিন্তু উদীয়মান পেসারদের সহায়তায় এখন তারা চমৎকার টেস্ট উইকেট বানাচ্ছে, যারা গতিতে পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেছে।’ বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার প্রশংসা করেছেন আকরাম, ‘টেস্ট সংস্করণে সেরা দলগুলোর সঙ্গে লড়াই করার জন্য এখন পুরোপুরি প্রস্তুত বাংলাদেশ। নাহিদ রানা হলো- অসাধারণ এক প্রতিভা। তার বোলিং পারফরমেন্স চোখ জুড়ানো। অভিনন্দন বাংলাদেশ।’ পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লতিফ বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক উন্নতি হয়েছে। দুই বছর আগে পাকিস্তান সফরে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ। এবার ঘরের মাঠে সিরিজ জিতল। বাংলাদেশের ক্রিকেট অনেক দূর এগিয়ে গেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্রিকেট খেলেছে তারা। দুই টেস্টেই ইতিবাচক ক্রিকেট খেলেছে দলটি। অনেক রানও করেছে। নতুন বল হাতে পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের তৃণমূল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৯ দল ও ‘এ’ দল, সুন্দরভাবে গড়ে তোলা হয়েছে। তাদের পরিশ্রমও চোখে পড়েছে। বাংলাদেশ সত্যিই দারুণ ক্রিকেট খেলেছে।’ দুই টেস্টের চার ইনিংসেই পাকিস্তানকে অলআউট করেছে বাংলাদেশের বোলাররা। কোন ম্যাচেই লিড নিতে পারেনি পাকিস্তান। প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে মেহেদি হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা ইনিংসে ৫টি করে উইকেট নেন। দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করেন স্পিনার তাইজুল ইসলাম। বাংলাদেশের পেসার ও স্পিনারদের প্রশংসা করে লতিফ বলেন, ‘পেসার ও স্পিনাররা খুব ভালো পারফরমেন্স করেছে। উইকেট খুব বেশি সাহায্য না করলেও স্পিনাররা বড় অবদান রেখেছে। এটা পুরোনো বাংলাদেশ নয়, যারা শুধু টার্নিং ট্র্যাক বানিয়ে জিততে চাইত। এখন বাংলাদেশ পেসার ও স্পিনার দুটো দিয়েই জেতার চেষ্টা করছে।’ হোয়াইটওয়াশ হলেও, পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়েছেন লতিফ। পাকিস্তানও ভালো ক্রিকেট খেলেছে বলে জানান তিনি। লতিফ বলেন, ‘পাকিস্তান ভালো লড়াই করেছে। এটা বলা যাবে না, তারা খুব খারাপ ক্রিকেট খেলেছে। প্রথম টেস্টে জয়ের সুযোগ ছিল। কিন্তু পারেনি। দ্বিতীয় টেস্টে ৪৩৭ রান, অনেক বড় লক্ষ্য ছিল। পাকিস্তানের খেলোয়াড়রা চেষ্টা করেছে, শেষ পর্যন্ত লড়াইও করেছে।’
একটি স্টাম্প মুশফিকের হাতে তুলে দেন একজন মাঠকর্মী। শেষ উইকেট নেওয়ার পরই বলটি পকেটে রেখে দেন তাইজুল ইসলাম। যে যেভাবে পারলেন সিলেট টেস্ট জয়ের স্মারক নিজের করে নিলেন ব্যক্তিগত শোকেসে রাখার জন্য। যারা কিছুই পেলেন না, তারাও স্মরণীয় মুহূর্তকে ছবির ফ্রেম করে নিলেন। তারা হয়তো এই ছবি ফেসবুকের টাইমলাইনে রেখে দেবেন, যেন প্রতিবছর মেমোরি মনে করিয়ে দেয় পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের কথা। হ্যাঁ, এই টেস্ট সিরিজ জয় বাংলাদেশের কাছে ঐতিহাসিক। সিলেট টেস্ট ম্যাচটি ৭৮ রানে জিতে দেশের মাটিতে প্রথমবার হোয়াইটওয়াশ করেছে পাকিস্তানকে। পুরস্কারও মিলেছে হাতেনাতে। টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে ২৫ বছরের মধ্যে এই প্রথম ৭ নম্বরে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট আগেও খেলেছে বাংলাদেশ। পাঁচ দিন মাঠে থাকার গল্প অনেক আছে। ওই ম্যাচগুলোর বেশির ভাগ শেষ হয়েছে পরাজয়ে। কখনও কখনও তৃপ্ত থাকতে হয়েছে ড্র মেনে নিয়ে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চতুর্থ আসরে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলা দুটি ম্যাচই ছিল ব্যতিক্রম। এই সিরিজের প্রতিটি ঘণ্টা, প্রতিটি সেশন, প্রতিদিন জেতার চেষ্টা করেছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা। মুহূর্তের অসতর্কতায় খানিকটা পিছিয়ে গেলে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা ছিল সমন্বিত। এই লড়াই এতটাই তীব্র ছিল, খাদের কিনারা থেকে রানের পাহাড়ে উঠে গেছে দল। প্রথম ইনিংসে লিটন কুমার দাস, দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকুর রহিম যেখান থেকে যেভাবে সেঞ্চুরি করলেন, তাতে মাখামাখি হয়ে আছে একজন বিজয়ী ক্রিকেট সৈনিকের নিবেদন। প্রথম ইনিংসে ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল বাংলাদেশ। ২ রানে অপরাজিত ছিলেন লিটন। সেখান থেকে তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে নিয়ে ১২৬ রান করেন তিনি। এই রান করার পেছনে ছিল একটি একক লড়াই। প্রতিটি ওভার সামাল দিয়েছেন নিজের ডিজাইনে। বাউন্ডারি বা ডাবল ছাড়া রান নেননি। জুটি টিকিয়ে রাখতে ষষ্ঠ বলে গিয়ে করেছেন প্রান্ত বদল। বোলারকে সামলানো, সতীর্থকে সাহস দেওয়া এবং ব্যাটিং প্ল্যান করা একজন পরিণত ব্যাটারের চরিত্রের প্রকাশ। লিটন অমন ব্যাটিং করায় প্রথম ইনিংসে ২৭৮ রানের সংগ্রহ পেয়েছিল বাংলাদেশ। সমন্বিত বোলিং আক্রমণ দিয়ে পাকিস্তানকে অলআউট করেছিল ২৩২ রানে। ৪৬ রানের লিড নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করে। এবার ১১৫ রানে চার উইকেট হারালে ইনিংস বড় করার দায়িত্ব বর্তায় মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের কাঁধে। আক্রমণাত্মক লিটন ৬৯ রানে আউট হলে নতুন করে লড়াইয়ে নামেন মুশফিক। তাইজুলকে নিয়ে ৭৭ রানের একটি জুটি গড়েন। ১৩৭ রানে আউট হন তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান করে বাংলাদেশ। ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দেয় পাকিস্তানকে। এই বিশাল রান তাড়া করে জিততে হলে বিশ্বরেকর্ড গড়তে হতো পাকিস্তানকে। টেস্ট ক্রিকেটের ১৪৯ বছরের ইতিহাসে যে রেকর্ড নেই। চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রেকর্ডটি গড়া। ওই রেকর্ড ভেঙে দেওয়ার লড়াইয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। দুটি ৭১ রান, একটি ৯৪ রানের ইনিংসে লড়াই জমিয়েও দিয়েছিল। তাইজুল ইসলামের বাঁহাতি স্পিন জাদুতে পাকিস্তান থেমে গেছে ৩৫৮ রানে। পাকিস্তান চতুর্থ দিন শেষ করেছিল সাত উইকেটে ৩১৬ রানে। ১২১ রানে পিছিয়ে থেকে শেষ দিন ব্যাটিংয়ে নামেন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খান। দুজনে ৫৪ রানের জুটি গড়ে স্বাগতিক ড্রেসিংরুমে আতঙ্ক ছড়ান। একবার জীবন পেয়ে ২৮ রান করেন সাজিদ। ত্রাতা হয়ে দলীয় ৩৫৮ রানে জুটি ভাঙেন তাইজুল। ওই রানেই শরিফুল ইসলামের শিকার রিজওয়ান। তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ৯৪ রান। খুররম শাহজাদকে আউট করে ম্যাচের সমাপ্তি টানেন তাইজুল। পঞ্চম দিন সকালে এক ঘণ্টা ৫ মিনিটের রোমাঞ্চকর সেশনটি ছিল উত্তাপ ছড়ানো। উঁকি দিয়েছে হারের শঙ্কা। শেষ পর্যন্ত সব প্রতিকূলতাকে হার মানিয়ে ৭৮ রানের জয়ে আনন্দ লেখা। আশা করা হচ্ছিল, পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ে উল্লাস হবে, গ্যাংস্টাররা গ্যাংনাম নৃত্য করবেন, কিন্তু তার কিছুই হলো না। নাজমুর হোসেন শান্তদের সাদামাটা উদযাপন দেখে মনে হবে, নীরবে-নিভৃতে টেস্টের বড় দল হয়ে গেছেন তারা। এখন আর একটি সিরিজ জয়ে খুশিতে আত্মহারা হন না। গতকাল বুধবার সিরিজ জয়ের উদযাপন বলতে উইকেটের কাছে এসে একটি গ্রুপ ছবি তোলা, ট্রফি নিয়ে ফ্রেমবন্দি হওয়া, বিজয় উল্লাস এবং সেই পরিচিত টিম সং গাওয়া। বাংলাদেশ এখন টেস্টের অভিজ্ঞ একটি দল। শক্তিশালী একটি ব্যাটিং লাইনআপ আছে তার। মুমিনুল, শান্ত, মুশফিক ও লিটন ধারাবাহিক রান করছেন। এই টেস্টের দুই ইনিংসে যেমন দুজন ব্যাটার দুটি সেঞ্চুরি করেছেন দুর্দান্তভাবে। এই সিরিজ জিতে অনেকগুলো রেকর্ডের সঙ্গী হলো বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো দুই সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তানকে। টানা চার টেস্ট জয়ও একটি বাংলাদেশি রেকর্ড। গত বছর নভেম্বরে আয়ারল্যান্ডকে, এ বছর পাকিস্তানকে দুই টেস্টে হারালেন শান্তরা। ছোটমোটো আরও কত রেকর্ডই তো আছে। এই যেমন দেশের মাটিতে প্রথমবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করাও তো রেকর্ড। রেকর্ড গড়া ঐতিহাসিক এই সিরিজ জয়ে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ে প্রথমবার ৭ নম্বরে উন্নীত হলো বাংলাদেশ। আগের সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিং ছিল ৮ নম্বর। বাংলাদেশ ৭৮ পয়েন্ট নিয়ে শ্রীলঙ্কার নিচে আর পাকিস্তানের ওপরে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের টেবিলেও জাম্প করেছে, ৯ নম্বর থেকে পাঁচে উন্নীত হয়েছে। ২৮ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের ওপরে বাংলাদেশ। সাফল্যে মোড়ানো সিরিজের সেরা হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। ২১ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সিরিজ সেরা হলেন তিনি। মুশফিক দুই টেস্টের সিরিজে সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরিসহ ২৫৩ রান করেছেন। সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরিতে ১৯৫ রানে ম্যাচসেরা হয়েছেন লিটন কুমার দাস। ঢাকা টেস্টে সেঞ্চুরি, হাফ সেঞ্চুরি করা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ২৩২ রান নিয়ে সিরিজের মোস্ট ভ্যালুয়েবল খেলোয়াড়। এই যে দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ আর ম্যাচে ৯ উইকেট পাওয়া তাইজুল, তাঁকে দেওয়া হয়েছে সিলেট টেস্টের ভ্যালুয়েবল পুরস্কার। এই সাফল্য দেশের মানুষকে নাজমুল হোসেন শান্তদের ঈদ উপহার।
চমৎকার দুই গোলে প্রথমার্ধেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিল অ্যাস্টন ভিলা। বিরতির পর তারা ব্যবধান বাড়াল আরও। একপেশে লড়াইয়ে ফ্রেইবুর্ককে হারিয়ে ইউরোপা লিগে চ্যাম্পিয়ন হলো উনাই এমেরির দল। ইস্তানবুলের বেসিকতাস পার্কে বুধবার রাতে ফাইনালে ৩-০ গোলে জিতেছে ভিলা। ইউরি টিয়েলেমান্স দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া। তৃতীয় গোলটি করেন মর্গ্যান রজার্স। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি এর আগে সবশেষ শিরোপা জিতেছিল ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে, ইংলিশ লিগ কাপ। ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় তাদের আগের সাফলের গল্প তো আরও পুরনো; সেই ১৯৮১-৮২ মৌসুমে ওই সময়ের ইউরোপিয়ান কাপ জিতেছিল ক্লাবটি। উনাই এমেরির ছোঁয়ায় সব খরা এক দিনেই দূর হলো। ইউরোপীয় ক্লাব ফুটবলের দ্বিতীয় সেরা এই প্রতিযোগিতায় কোচ হিসেবে সবচেয়ে বেশি শিরোপা জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই এমেরির দখলে। পঞ্চমবার জিতে সেটাই আরও পোক্ত করলেন এই স্প্যানিয়ার্ড; সেভিয়ার হয়ে টানা তিনবার জয়ের পর, সবশেষ ২০২০-২১ আসরে আবার এই ট্রফি উঁচিয়ে ধরেন তিনি ভিয়ারিয়ালের হয়ে। প্রতিযোগিতাটি মোট ছয়বার ফাইনালে উঠে পাঁচবারই সফল এমেরি। কেবল একবার জিততে পারেননি আর্সেনালের ডাগআউটে থেকে, ২০১৮-১৯ মৌসুমে। স্বপ্ন পূরণের মিশনে নেমে ৪১তম মিনিটে প্রথম গোলের দেখা পায় ভিলা। বাঁ দিক থেকে ডি-বক্সে ফাঁকা জায়গায় দারুণ ক্রস বাড়ান মর্গ্যান রজার্স, ছুটে গিয়ে দুর্দান্ত ভলিতে ঠিকানা খুঁজে নেন বেলজিয়ান মিডফিল্ডার টিয়েলেমান্স। এগিয়ে যাওয়ার আনন্দের মাঝেই বিরতির আগমুহূর্তে আরেকটি চমৎকার গোল করেন বুয়েন্দিয়া। ডি-বক্সের বাইরে সতীর্থের পাস পেয়ে, একটু আড়াআড়ি এগিয়ে শট নেন আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার, বল হাওয়ায় একটু বাঁক নিয়ে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ায়। ৫৮তম মিনিটে জয়ের পথে আরও এগিয়ে যায় ভিলা। বাঁ দিকে একজনকে কাটিয়ে গোলমুখে পাস দেন বুয়েন্দিয়া, আর সঙ্গে লেগে থাকা একজনের চ্যালেঞ্জ সামলে ছোট্ট টোকায় বল জালে পাঠান ইংলিশ মিডফিল্ডার রজার্স। ১২ মিনিট পর ব্যবধান আরও বাড়তে পারতো, তবে আমাদু ওনানার হেড পোস্টে বাধা পায়। অবশ্য আরেকটি গোল হজম করা থেকে বেঁচে গেলেও, লড়াইয়ে ফেরার মতো তেমন কিছুই করতে পারেনি ফ্রেইবুর্ক। গত শুক্রবার প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলকে ৪-২ গোলে হারিয়ে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জায়গা পাকা করে ভিলা। দাপুটে পারফরম্যান্সের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার ট্রফি উঁচিয়ে ধরল তারা।