আসন্ন বিশ্বকাপে জাতীয় সংগীতের রীতিতে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে ফিফা। প্রতিটি দলের ২৬ জন খেলোয়াড়ই জাতীয় সংগীতের সময় মাঠে থাকবেন।
এতদিন আন্তর্জাতিক ফুটবলে জাতীয় সংগীতের সময় কেবল শুরুর একাদশের খেলোয়াড়রাই মাঠে থাকতেন এবং বেঞ্চের খেলোয়াড়রা কোচ ও কোচিং স্টাফদের সঙ্গে সাইডলাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াতেন।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে অনুষ্ঠেয় এবারের বিশ্বকাপে সেই রীতিতে পরিবর্তন আসবে।
খেলোয়াড়রা এখন গ্যালারির দিকে মুখ করে দাঁড়ানোর পরিবর্তে মাঠের মাঝের বৃত্তের চারপাশে দাঁড়াবেন এবং শুরুর একাদশে না থাকা ১৫ জন খেলোয়াড় মাঝের বৃত্তের দুই পাশে সতীর্থদের সঙ্গে যোগ দেবেন।
এক বিবৃতিতে এই পরিবর্তন আনার কারণ তুলে ধরেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো।
বিশ্বকাপ যত এগিয়ে যাচ্ছে, আমরা খেলাটি উপভোগ করার পদ্ধতিতেও নতুনত্ব আনছি। জাতীয় সংগীত চলাকালীন সকল খেলোয়াড় ও রেফারিদের মাঝের বৃত্তে মুখোমুখি দাঁড়ানোটা একতা, গর্ব ও আবেগের এমন একটি মুহূর্ত তৈরি করবে, যা প্রকৃতপক্ষে দলগুলোর এবং সকলেরই।
এই বিশ্বকাপে এটিই প্রথম নতুন উদ্ভাবন নয়; এর আগে বিশ্বকাপ ফাইনালের বিরতির সময় সুপার বোল ধাঁচের একটি ‘হাফ-টাইম শো’-এর ঘোষণা দিয়েছে ফিফা, যেখানে ম্যাডোনা ও শাকিরার মতো শিল্পীরা পারফর্ম করবেন।
রেকর্ড ৪৮টি দল ও ১০৪টি ম্যাচের এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় এই বিশ্বকাপে প্রথমবার তিনটি ভিন্ন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানও দেখা যাবে, প্রতিটি আয়োজক দেশে একটি করে।
খেলার নিয়মেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে; কর্নার ও দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পর্যালোচনার জন্য ভিএআর (ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি) ব্যবহার করা হবে। এছাড়া গোল কিক ও থ্রো-ইনের জন্য থাকবে নির্ধারিত সময়সীমা এবং প্রতিটি অর্ধে তিন মিনিটের একটি পানি পানের বিরতিও থাকবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন ওয়ানডে সিরিজে বিরাট কোহলির পরিবর্তে ভারতীয় দলে সুযোগ পেলেন বাঁহাতি ওপেনার যশস্বী জয়সোয়াল। চোটের কারণে আফগান সিরিজ থেকে ছিটকে গেছেন বিরাট কোহলি। কিংবদন্তি এই ব্যাটসম্যানকের জায়গায় খেলবেন তরুণ জয়োসওয়াল। সদ্য শেষ হওয়া আইপিএলে দুর্দান্ত ব্যাটিং করেন বিরাট কোহলি। রয়েল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর টানা দ্বিতীয় শিরোপা উপহার দিতে টুর্নাামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। আইপিএল খেলার সময় হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পান কোহলি। সেই চোটের কারণে আফগান সিরিজ থেকে বাদ পড়েছেন। আফগান সিরিজে না পাওয়া গেলেও ইংল্যান্ড সিরিজে কোহলিকে পাওয়া যাবে এমন প্রত্যাশা ভারতের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান অজিত আগরকারের। টেস্ট ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নিয়েছেন কোহলি। ভারতের হয়ে এখন শুধু ওয়ানডে খেলেন তিনি। সর্বশেষ তাকে দেশের জার্সিতে দেখা গেছে গত জানুয়ারিতে; নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সিরিজে। সেই সিরিজে ৮০ গড় ও ১০৫.২৬ স্ট্রাইক রেটে ২৪০ রান করেন কোহলি।
বিশ্বকাপ ২০২৬-এ অংশ নিতে যাওয়া খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী ফুটবলার হিসেবে নজর কেড়েছেন মেক্সিকোর উদীয়মান তারকা গিলবার্তো মোরা। বিশ্বকাপ শুরুর দিনে তার বয়স হবে মাত্র ১৭ বছর ২৪০ দিন। ফিফার প্রকাশিত ৪৮ দলের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে মোট ১ হাজার ২৪৮ জন ফুটবলার অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ২২ জন কিশোর বয়সী খেলোয়াড় রয়েছেন। আর এই তালিকার সবচেয়ে কম বয়সী সদস্য গিলবার্তো মোরা। মেক্সিকোর এই তরুণ মিডফিল্ডার গত এক বছরে নিজেকে দেশটির অন্যতম সম্ভাবনাময় ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। বিশ্বকাপে মাঠে নামার সুযোগ পেলে তিনি মেক্সিকোর ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী বিশ্বকাপ খেলোয়াড়ের রেকর্ডও গড়বেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে ২০২৪ সালের আগস্টে মেক্সিকোর শীর্ষ ফুটবল লিগে অভিষেক করে আলোচনায় আসেন মোরা। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলের জার্সিতে প্রথমবার মাঠে নামেন। একই বছর গোল্ড কাপজয়ী মেক্সিকো দলের সদস্যও ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপের মঞ্চে তরুণদের সাফল্যের ইতিহাসও কম নয়। ব্রাজিলের কিংবদন্তি পেলে ১৯৫৮ বিশ্বকাপে মাত্র ১৭ বছর বয়সে খেলেছিলেন এবং ফাইনালে গোল করে আজও সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড ধরে রেখেছেন। অন্যদিকে ২০১৮ বিশ্বকাপে ফ্রান্সের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। এবারের আসরে আরও কয়েকজন তরুণ ফুটবলার বিশেষ নজরে থাকবেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন স্পেনের লামিন ইয়ামাল ও পাউ কুবারসি, জার্মানির লেনার্ট কার্ল, ফ্রান্সের ওয়ারেন জায়েরে-এমেরি ও ডিজায়ার দুয়ে, ইংল্যান্ডের নিকো ও’রাইলি, তুরস্কের আরদা গুলার এবং আর্জেন্টিনার নিকো পাজ। অন্যদিকে বয়সের দিক থেকে সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে অংশ নিতে যাচ্ছেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন। তার বয়স ৪৩ বছর। এছাড়া ৪১ বছর বয়সী পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও থাকছেন এবারের আসরে। ফিফার তথ্য অনুযায়ী, এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী ১ হাজার ২৪৮ ফুটবলারের মধ্যে ৩৫৭ জনের আগেও বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাকি ৮৯১ জন প্রথমবারের মতো ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।
ভারতের টি-টোয়েন্টি দলে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে নির্বাচকরা। নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন । একই সঙ্গে দল থেকে বাদ পড়েছেন বর্তমান অধিনায়ক । অন্যদিকে মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন তরুণ ব্যাটার । আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে নেতৃত্ব দেবেন শ্রেয়াস আইয়ার। প্রায় তিন বছর পর জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে সরাসরি অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন তিনি। সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই সংস্করণে ভারতের হয়ে মাঠে নেমেছিলেন আইয়ার। স্কোয়াডের সবচেয়ে আলোচিত নাম বৈভব সূর্যবংশী। সম্প্রতি আইপিএলে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে নির্বাচকদের নজরে আসেন তিনি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তাকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৮ অলিম্পিক ও পরবর্তী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তাকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার মাধ্যমে ভারতের টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে জায়গা পাওয়া সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের রেকর্ডও গড়েছেন সূর্যবংশী। তবে জাতীয় দলের জার্সিতে মাঠে নামার আগে ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবেন তিনি। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে টি-টোয়েন্টি দল থেকে বাদ পড়েছেন সূর্যকুমার যাদব। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা এবং আইপিএলে ধারাবাহিকভাবে রান না পাওয়াকে এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নেতৃত্বগুণ ও ধারাবাহিক সাফল্যের কারণে শ্রেয়াস আইয়ারের ওপর আস্থা রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড। বিভিন্ন আইপিএল দলে সফল অধিনায়কত্বের অভিজ্ঞতা তাকে এই দায়িত্ব পেতে সহায়তা করেছে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে ভারত, যা অনুষ্ঠিত হবে ২৬ ও ২৮ জুন। এরপর ১ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে অংশ নেবে দলটি।