প্রথম দিন উইকেট পড়েছিল ১৬টি, দ্বিতীয় দিন পড়ল আরও একটি বেশি। পেসারদের দাপটের লর্ডস টেস্টে আরেকটি ঘটনাবহুল দিন শেষে জয়ের সম্ভাবনায় সুবিধাজনক অবস্থানে এখন ইংল্যান্ড।
আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে তিন দিনেই হয়তো শেষ হতে যাচ্ছে আলোচিত এই টেস্ট। ব্যাটিং দুরূহ উইকেটে ২৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুক্রবারের খেলা শেষে নিউ জিল্যান্ডের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৩৬ রান।
জয়ের জন্য সফরকারীদের প্রয়োজন এখনও ২১৮ রান, ইংল্যান্ডের চাই ৭ উইকেট।
এই ম্যাচের সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের ২২৬। এতেই পরিষ্কার, শেষ ইনিংসে রান তাড়ার কাজটা নিউ জিল্যান্ডের জন্য কতটা কঠিন।
উইকেটে মুভমেন্ট তো আছেই, সঙ্গে যোগ হয়েছে অসম বাউন্স। উইকেট নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের আলোচনা-সমালোচনাও বাড়ছে।
৬ উইকেটে ৬১ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ১১৩ রানে অলআউট হয় নিউ জিল্যান্ড।
প্রথম দিন ৫ উইকেট নিয়ে কিউইদের সফলতম বোলার ছিলেন যিনি, সেই পেসার কাইল জেমিসন ব্যাট হাতেও দলের সফলতম ব্যাটসম্যান! ৯ নম্বরে নেমে তিন ছক্কা ও দুই চারে ২৯ বলে ৩৮ রানে অপরাজিত রয়ে যান তিনি।
৩৯ রানে ৫ উইকেট নেন ইংল্যান্ডের পেসার অলি রবিনসন। টেস্টে চতুর্থবার এই স্বাদ পেলেন ৩২ বছর বয়সী পেসার।
প্রথম ইনিংসে ১৪০ রান করেও ২৭ রানের মূল্যবান লিড নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে, অভিষিক্ত এমিলিও গের ফিফটিতে একপর্যায়ে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ১২৬। কিন্তু ১১ বল আর ১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ১২৭!
সেখান থেকে কিপার জেমি স্মিথ ও ও লেজের ব্যাটসম্যানের দৃঢ়তায় দুইশ পার করে নিউ জিল্যান্ডকে আড়াইশ ছাড়ানো লক্ষ্য দিতে পারে স্বাগতিকরা।
দারুণ বোলিংয়ে ৭০ রানে ৬ উইকেট নেন ন্যাথান স্মিথ। পরপর দুই টেস্টে পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন এই পেসার। কদিন আগে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তিনি ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ৪০ রানে।
দ্বিতীয় ইনিংসে গে ও বেন ডাকেটের ব্যাটে শুরুটা ভালো করে ইংল্যান্ড। যদিও গে আউট হতে পারতেন শূন্য রানে, স্লিপে তার ক্যাচ ফেলেন টম ল্যাথাম।
৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েন দুজন। ডাকেটকে (৪৬ বলে ৩৩) ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন উইল ও’রোক।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে গে ও জ্যাকব বেথেল যোগ করেন ৪৭ রান। থিতু হয়ে ইনিংস টেনে নিতে পারেননি বেথেল (৩৫ বলে ১৪)।
স্মিথের এক ওভারে তিনটি চার মারার পথে গে ফিফটি করেন ৮৪ বলে। ২০০৪ সালে লর্ডসে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেই অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের (১১২) পর প্রথম ইংলিশ ওপেনার হিসেবে ঘরের মাঠে টেস্ট অভিষেকে পঞ্চাশ ছুঁলেন তিনি।
পরে স্মিথের বলে গের (৯৫ বলে ৫৭) বিদায়েই ইংল্যান্ডের ওই ছোট্ট ধসের শুরুটা হয়। পরের ওভারে হ্যারি ব্রুককে শূন্য রানে এলবিডব্লিউ করেন ও’রোক। স্মিথের পরের ওভারে জো রুট এলবিডব্লিউ হওয়ার পর, শূন্য রানে বোল্ড হয়ে যান বেন স্টোকস।
দ্রুত চার ব্যাটসম্যানের বিদায়ের পর পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন জেমি স্মিথ। অ্যাটকিনসনকে নিয়ে ইনিংস সেরা ৫৭ রানের জুটি গড়েন তিনি। অ্যাটকিনসনকে ফিরতি ক্যাচে জুটি ভাঙেন জেমিসন।
জেমি স্মিথকে (৫২ বলে ৩৯) বোল্ড করে থামান ন্যাথান স্মিথ। পরে জশ টংকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। রবিনসনকে (৩০ বলে ২৯) ফিরিয়ে ইংল্যান্ডের ইনিংসও গুটিয়ে দেন ২৭ বছর বয়সী এই পেসার।
রান তাড়ায় প্রথম ওভারেই অ্যাটকিনসনের বলে শূন্য রানে স্লিপে ধরা পড়েন কিউই অধিনায়ক ল্যাথাম। ডেভন কনওয়ে ও কেন উইলিয়ামসন শুরুর ধাক্কা সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু টংয়ের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে যান উইলিয়ামসন। লর্ডসে শেষ টেস্ট ইনিংসে সাবেক কিউই অধিনায়ক করেন ৩৬ বলে ১৮ রান।
‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে নেমে পরের ওভারে অ্যাটকিনসনের বলে বিদায় নেন ও’রোক। দিনের খেলাও শেষ হয়ে যায় সেখানে।
তৃতীয় দিনে নিউ জিল্যান্ডের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ১৪০
নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯.৫ ওভারে ১১৩ (আগের দিন ৬১/৬) (ফিলিপস ৩৪, স্মিথ ১৫, জেমিসন ৩৮*, ও’রোক ১, হেনরি ০; অ্যাটকিনসন ৫-০-৯-২, রবিনসন ১০.৫-৩-৩৯-৫, টং ১০-০-৪০-৩, স্টোকস ৪-০-২২-০)
ইংল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৫৬ ওভারে ২২৬ (ডাকেট ৩৩, গে ৫৭, বেথেল ১৪, রুট ৮, ব্রুক ০, স্মিথ ৩৯, স্টোকস ০, অ্যাটকিনসন ১৪, রবিনসন ২৯, টং ৫, বাশির ০*; জেমিসন ১২-২-৪১-১, স্মিথ ১৭-০-৭০-৬, ও’রোক ১৬-৪-৪৬-২, হেনরি ১১-১-৪৩-১)
নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২৫৪) ১১.৫ ওভারে ৩৬/৩ (ল্যাথাম ০, কনওয়ে ১২*, উইলিয়ামসন ১৮, ও’রোক ০; আটকিনসন ৩.৫-০-১০-২, রবিনসন ৫-১-১১-০, টং ৩-১-১০-১)
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশি সমর্থকদের প্রতি আর্জেন্টিনার তারকা গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের ভালোবাসাটা সর্বজনবিদিত। বছর তিনেক আগে বাংলাদেশেও সফর করে গিয়েছিলেন সেই ভালোবাসা থেকেই। এবার দেশটির সমর্থকদের জন্য ভালোবাসাটা নতুন করে প্রকাশ করলেন তিনি। জানালেন, তারাও কোনো না কোনোভাবে আর্জেন্টাইনই। বাংলাদেশ সফরের বহু আগে থেকেই এই লাল সবুজের দেশ তার মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিতভাবে বাংলাদেশিদের সমর্থন তার নজর এসেছে বহুবার। ভালোবাসাটাও বেড়েছে তাই পাল্লা দিয়েই। সেটা জানা গেল আর্জেন্টিনার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের পর। জর্ডানের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে আর্জেন্টিনা ৩-১ গোলে জয়লাভ করে। ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে লো সেলসো, লাউতারো মার্তিনেজ ও মেসি গোল করেন। ম্যাচ শেষে তিনি চলে আসেন মিক্সড জোনে। সেখানে একগাদা বাংলাদেশি সাংবাদিক রীতিমতো ছেঁকে ধরেন তাকে। সেখানেই তিনি প্রকাশ করেছেন তার ভালোবাসাটা। সেখানে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আর্জেন্টিনাকে নিয়ে কতটা আবেগপ্রবণ, তা তিনি নিজে সেখানে গিয়ে উপলব্ধি করেছেন। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন তাকে প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করে। বাংলাদেশের সমর্থকদের প্রতি তার পূর্ণ ভালোবাসা রয়েছে বলেও জানান এই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের গোলরক্ষক। তিনি বলেন, ‘সেখানকার ভক্তদের আমি ভালোবাসি। বাংলাদেশে গিয়েছিলাম আমি, দেশটাকে আমি ভালোবাসি। কোনো না কোনোভাবে তারাও তো আর্জেন্টাইনই।’
চলতি বিশ্বকাপে একের পর এক রেকর্ড লিওনেল মেসি নিজের করে নিয়েছেন। জর্ডানের বিপক্ষেও করেছেন আরেকটি বিশ্বরেকর্ড। বিশ্বকাপে টানা ৭ ম্যাচে গোল করা প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন তিনি। এতদিন ৬ ম্যাচে গোল করে তিনি ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন (১৯৫৮) ও ব্রাজিলের জেয়াজিনহোর (১৯৭০) সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন। এবার সপ্তম গোল করে তাদের ছাড়িয়ে গেছেন ৮০ মিনিটে। শেষ গ্রুপ ম্যাচে মেসি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৬০ মিনিটে। তার পর ফ্রিকিক থেকে দুর্দান্ত গোলটি করেছেন তিনি।
মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে বিশ্বকাপ চলাকালীন যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের ক্যাম্প ছেড়ে নিজ দেশে ফিরে গিয়েছিলেন প্রধান কোচ দিদিয়ের দেশম। মায়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করে শনিবার (২৭ জুন) তিনি আবারও দলের অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন। ফরাসি দলের ব্যবস্থাপনা সূত্র জানিয়েছে, গত মঙ্গলবার দেশম ফ্রান্সে যান এবং শুক্রবার (২৬ জুন) মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন। এ সময় তার অনুপস্থিতিতে সহকারী কোচ গায় স্টিফেন নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে দলের দায়িত্ব পালন করেন। প্রধান কোচকে ছাড়াই নরওয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয় ফ্রান্স। ম্যাচটিতে উসমান দেম্বেলের হ্যাটট্রিকের সুবাদে গ্রুপ ‘আই’-এর শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে ফরাসিরা। শনিবার ম্যাসাচুসেটসের ওয়ালথামে অবস্থিত বেন্টলি ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত দলের অনুশীলন সেশন দেশম নিজেই পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে। আগামী বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠিতব্য পরবর্তী রাউন্ডের ম্যাচে সুইডেনের মুখোমুখি হবে ফ্রান্স।