বিপিএলের চলতি মৌসুমটা দুর্দান্ত কাটল শরিফুল ইসলামের। আজ ফাইনালেও আলাদাভাবে নিজের জাত ছিনিয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই পেসার। রাজশাহীর কেন উইলিয়ামসন এবং নাজমুল হাসান শান্তর উইকেট দুটি দখল করেন তিনি। আর তাতেই বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড নতুন করে লিখলেন শরিফুল ইসলাম।
তাসকিন আহমেদকে হটিয়ে এক মৌসুমে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের রেকর্ড গড়লেন তিনি। দুর্দান্ত এক বিপিএল কাটানো শরিফুল এই আসরে নিয়েছেন মোট ২৬ উইকেট। এবারের আসরে নিজের শেষ বলে এই কীর্তি গড়েন শরিফুল ইসলাম।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে এখন দুর্দান্ত সময় কাটছে শরিফুলের। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখলেন এবারের বিপিএলেও। পুরো আসরেই দুর্দান্ত বোলিং করেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের এই তারকা পেসার। ফাইফারও নিয়েছেন তিনি। জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কারও। ফাইনালের আগে তার উইকেটের সংখ্যা ছিল ২৪। এক উইকেট বেশি নিয়ে তার আগে ছিলেন তাসকিন আহমেদ। যে কারণে দুই উইকেট পেলেই জাতীয় দলের সতীর্থকে ছাড়িয়ে যাওয়ার হাতছানি নিয়েই ফাইনালের মিশন শুরু করেন শরিফুল।
ফাইনালে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে শরিফুলের প্রথম উইকেটটি কেন উইলিয়ামসনের। ডিপ মিড উইকেটে ছক্কা মারার পরের বলেই অফ সাইডে আবারও বল উড়িয়ে দেন উইলিয়ামসন। তাতেই নাঈম শেখের তালুবন্দি হয়ে যান এই কিউই ক্রিকেটার। শরিফুল পেয়ে যান আসরের ব্যক্তিগত ২৫তম উইকেট। সেসঙ্গে ছুঁয়ে ফেলেন তাসকিন আহমেদকে।
তবে দ্বিতীয় উইকেটের জন্য অপেক্ষা করতে হয় রাজশাহীর ইনিংসের শেষ বল পর্যন্ত। ইনিংসের শেষ বলে শরিফুলকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক মেলাতে পারেননি রাজশাহীর অধিনায়ক শান্ত। ফলে ৩০ গজের মধ্যেই উঠে যায় ক্যাচ। শরিফুল নিজেই তা তালুবন্দি করেন এবং পেয়ে যান আসরে নিজের ২৬তম উইকেটটি। সেইসঙ্গে এক আসরে বিপিএলে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারির তালিকায় শীর্ষে থাকা তাসকিনকে ছাড়িয়ে নতুন রাজা বনে যান শরিফুল ইসলাম।
২৩ উইকেট নিয়ে এই তালিকার তিনে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। ২২ উইকেট নিয়ে পরের জায়গাটি দখল করে রেখেছেন কেভন কুপার।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
১৬ বছর পর আবারও ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে স্পেন। সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে শেষ ম্যাচের টিকিট নিশ্চিত করার পর আবেগ ধরে রাখতে পারেননি স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে উচ্ছ্বাসের মধ্যেও তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, দলের আসল লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি। ম্যাচ শেষে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘এই মুহূর্তে নিজের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সত্যিই কঠিন। তবে এটি অসাধারণ এক আনন্দের অনুভূতি। এমন একটি দলকে নেতৃত্ব দিতে পেরে আমি অত্যন্ত গর্বিত। কিন্তু আমরা এখনো আরও উন্নতি করতে চাই। আমাদের সামনে এখনো একটি ধাপ বাকি। সেটি অর্জনের জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠাকে বড় দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন স্পেন কোচ। তার ভাষায়, ‘ভেতরে অনেক চাপা উত্তেজনা কাজ করছে। বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছানো বিশাল দায়িত্ব। এটি এমন একটি সৌভাগ্য, যা খুব কম মানুষের ভাগ্যে আসে। তাই প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করা উচিত।’ চার বছর আগে শুরু হওয়া পরিকল্পনার কথাও স্মরণ করেন তিনি। দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘চার বছর আগে আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম। শুরু থেকে সেই ভাবনায় অটল ছিলাম। আজ আমরা যে অবস্থানে পৌঁছেছি, তা সেই পরিকল্পনারই ফল। এজন্য আমি খুবই গর্বিত।’ এই জয়ের মাধ্যমে অনন্য এক রেকর্ডও গড়েছেন দে লা ফুয়েন্তে। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ ও ফিফা বিশ্বকাপে কোনো ইউরোপীয় জাতীয় দলের কোচ হিসেবে প্রথম ১৪ ম্যাচে অপরাজিত থাকার কীর্তি গড়েছেন তিনি। এই সময়ে তার দল জিতেছে ১৩টি ম্যাচ, ড্র করেছে একটি।
ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পরপরই স্পেন জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। এর মধ্য দিয়ে ইতিহাসের দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে দলটি। তবে এই আনন্দ-উল্লাসের মধ্যেও নিজের চিরচেনা শান্ত ভাব ধরে রাখেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। চোখে জল না থাকলেও কণ্ঠে স্পষ্ট ছিল আবেগের ছাপ। এই স্প্যানিশ কোচ এবার ফাইনালের প্রতিপক্ষ নিয়েও নিজের মতামত জানিয়েছেন। সেমিফাইনালিস্ট দলগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, ‘গতকাল আমরা বলছিলাম স্পেন-ফ্রান্স ম্যাচ যেন একটি আগাম ফাইনাল হতে পারে। তবে আমার মনে হয় আমি এটাও বলেছিলাম যে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচও আরেকটি আগাম ফাইনাল। এমনি এমনি তো ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সেরা চার দল একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছে না। ইতিহাসে এমনটা আগে কখনো হয়নি, আর এতেই বোঝা যায় এই বিশ্বকাপে কতটা ফুটবল সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে।’ এরপর ফাইনালে কোন দলের মুখোমুখি হতে চান, এই প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, খেলার দিক থেকে তার কোনো পছন্দ নেই, তবে আবেগের দিক থেকে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো পছন্দ-অপছন্দের অবস্থানে নেই। আমাদের কাছে দুটোই সমান। প্রত্যেকের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য আছে। স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনার ফুটবল আর ইংল্যান্ডের ফুটবল এক নয়।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার ব্যাপারে আমার মধ্যে অনেক আগ্রহ আছে।’ তবে দ্রুতই নিজের কথার ভারসাম্য বজায় রাখেন তিনি। ইংল্যান্ড দলের প্রতিও নিজের শ্রদ্ধার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘ইংল্যান্ডের যে ফুটবল সামর্থ্য আছে তাকে আমি অনেক শ্রদ্ধা করি। বিশ্বকাপে আসার আগেই আমি তাদের অন্যতম প্রকৃত শিরোপাপ্রত্যাশী দল হিসেবে উল্লেখ করেছিলাম। দুই বড় দলের মধ্যে এটি হবে একটি হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। তবে আমরা দুই দলকেই খোলা মন নিয়ে স্বাগত জানাব।’ ফাইনাল নিয়ে ভাবনার আগে দে লা ফুয়েন্তে তার দলের পারফরম্যান্স নিয়েও কথা বলেন। তার দল হারিয়েছে শিরোপার অন্যতম বড় দাবিদার একটি দলকে। তিনি বলেন, ‘আজ আমরা হয়তো বিশ্বের অন্যতম সেরা একটি দলের মুখোমুখি হয়েছিলাম, কিন্তু তাদের সামনে ছিল বিশ্বের সেরা দল।’ শেষে স্প্যানিশ ফুটবলের প্রশংসাও করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় বলে এসেছি, আমার কাছে স্প্যানিশ ফুটবলারই বিশ্বের সেরা ফুটবলার। কারণ আক্রমণ ও রক্ষণ দুই ক্ষেত্রেই কীভাবে নিজেদের সামলাতে হয়, তা তারা ভালোভাবেই জানে। এটা স্প্যানিশ ফুটবলের বড় একটি অর্জন। এই অর্জন কোচদের, দলগুলোর এবং ক্লাবগুলোরও। আমাদের যা আছে তার মূল্য আমাদের বুঝতে হবে।’
ফুটবল ম্যাচে ফাউল বা অসদাচরণের জন্য রেফারি খেলোয়াড়দের হলুদ কিংবা লাল কার্ড দেখান। কিন্তু কখনও কখনও প্রকৃত অপরাধীকে সঠিকভাবে শনাক্ত করতে না পেরে ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেখিয়ে ফেলেন। ফুটবলের ভাষায় এই পরিস্থিতিকেই বলা হয় 'মিসটেকেন আইডেন্টিটি' বা ভুল খেলোয়াড় শনাক্তকরণ। একসময় এই ধরনের ভুলের কারণে নিরপরাধ খেলোয়াড়কে শাস্তি পেতে হতো। পরে সংশ্লিষ্ট দলকে আপিলের মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্ত সংশোধন করতে হতো। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) চালু হওয়ার পর এ ধরনের ভুল তাৎক্ষণিকভাবে সংশোধনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রথমদিকে এই নিয়মের আওতায় কেবল তখনই ভিএআর হস্তক্ষেপ করতে পারত, যখন রেফারি একই দলের একজনের পরিবর্তে ভুলবশত অন্য একজন সতীর্থকে হলুদ বা লাল কার্ড দেখাতেন। অর্থাৎ, ভুল শনাক্তকরণ যদি একই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তবেই সিদ্ধান্ত সংশোধনের সুযোগ ছিল। তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের আগে আইএফএবি নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, এখন প্রতিপক্ষ দলের কোনো খেলোয়াড় ভুলবশত কার্ড পেলে কিংবা প্রকৃত অপরাধী অন্য দলের খেলোয়াড় হলে, সেই সিদ্ধান্তও ভিএআরের মাধ্যমে সংশোধন করা যাবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, রেফারি যদি কোনো ঘটনার জন্য স্পষ্টভাবে ভুল খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান, তাহলে সেটি 'মিসটেকেন আইডেন্টিটি' হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে এই প্রক্রিয়ায় কেবল ভুল খেলোয়াড়কে চিহ্নিত করার বিষয়টি সংশোধন করা যাবে, মূল অপরাধের প্রকৃতি নতুন করে পর্যালোচনা করা হবে না। কেন আনা হলো এই পরিবর্তন? আগের নিয়মে শুধু একই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ভুল হলে সেটি সংশোধন করা যেত। কিন্তু নতুন নিয়মে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ও এই সুরক্ষা পাচ্ছেন। ধরা যাক, রেফারি মনে করলেন একজন ডিফেন্ডার ফাউল করেছেন এবং তাকে হলুদ কার্ড দেখালেন। পরে ভিএআরের ফুটেজে দেখা গেল, আক্রমণভাগের খেলোয়াড় আদতে কোনো ফাউলের শিকার হননি, বরং তিনি ডাইভিং (সিমুলেশন) করে রেফারিকে বিভ্রান্ত করেছেন; সেক্ষেত্রে রেফারি ডিফেন্ডারের কার্ড বাতিল করে ডাইভিংয়ের দায়ে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়কে হলুদ কার্ড দেখাতে পারবেন। মাঠে যেভাবে কার্যকর হয় এই নিয়ম ১. প্রথমে রেফারিকে কার্ড দেখাতে হবে মাঠের রেফারিকে প্রথমে কোনো একজন খেলোয়াড়কে হলুদ বা লাল কার্ড দেখাতে হবে। কার্ড দেখানোর আগে ভিএআর স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। ২. ভিএআরের ভিডিও পর্যালোচনা কার্ড দেখানোর পর ভিএআর ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখে, শাস্তি পাওয়া খেলোয়াড়ই প্রকৃত অপরাধী কি না। ৩. সিদ্ধান্ত সংশোধন যদি দেখা যায়, ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া হয়েছে, তাহলে ভিএআর রেফারিকে অন-ফিল্ড রিভিউয়ের পরামর্শ দেয়। মনিটরে ফুটেজ দেখে রেফারি আগের কার্ড বাতিল করেন এবং প্রকৃত অপরাধীকে হলুদ বা লাল কার্ড দেখান। চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুইবার প্রয়োগ চলতি বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে দুইবার 'মিসটেকেন আইডেন্টিটি' নিয়ম প্রয়োগ করা হয়েছে। প্রথম ঘটনা ঘটে গ্রুপ পর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে। ওই ম্যাচে মার্কিন ডিফেন্ডার টিম রিমকে ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ভিএআরের পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্যারাগুয়ের মিগুয়েল আলমিরন ডাইভ দিয়ে রেফারিকে বিভ্রান্ত করেছিলেন। পরে রিমের কার্ড বাতিল করে আলমিরনকে ডাইভিংয়ের জন্য হলুদ কার্ড দেখানো হয়। দ্বিতীয়বার নিয়মটি ব্যবহার করা হয় কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে। ব্রিল এমবোলোর ডাইভিংয়ের ঘটনা পর্যালোচনার পর, রেফারি নিজের আগের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং 'মিসটেকেন আইডেন্টিটি' প্রোটোকল অনুযায়ী সঠিক খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেন।