শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান।
এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিসি চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়। বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে টিএসসিতে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে ডাকসু নেতারা অভিযোগ করেন, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে পরাজয়ের আশঙ্কায় বিএনপি দেশব্যাপী সহিংসতায় জড়িয়ে পড়েছে। তারা নারীদের ওপর হামলা ও হত্যার রাজনীতি শুরু করেছে বলেও অভিযোগ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
সমাবেশ থেকে রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি বিএনপিকে সন্ত্রাস, হত্যা ও চাঁদাবাজিমুক্ত করতে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শেরপুরের ঘটনা নিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানান, শেরপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসারের আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জামায়াত সমর্থকদের ওপর হামলা চালানো হয়।
পোস্টে আরও বলা হয়, ওই ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর ৫০ জনের বেশি সমর্থক আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৯টা ২০ মিনিটে রেজাউল করিম মারা যান।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
পৃথিবীতে বর্তমানে ৮৩০ কোটি মানুষের বাস। এই বিশাল সংখ্যাক মানুষের মাত্র ৮ কোটির কিছু বেশি মানুষ সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অন্তত ৮ হাজার ২০২ ফুট উঁচুতে বসবাস করেন। এই উচ্চতায় বসবাসকারী মানুষের বেশির ভাগেরই বাস দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া এবং পূর্ব আফ্রিকায়। বাকিরা বাস করেন সমতলে। পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে গেলে অনেকেরই বুক ধড়ফড়, অল্পতে হাঁপিয়ে ওঠেন কিংবা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। কারণ, সমতলের তুলনায় পাহাড়ি অঞ্চলের বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ থাকে বেশ কম। সাধারণ মানুষের যেখানে কয়েক দিন থাকতেই দম আটকে আসে, সেখানে বছরের পর বছর ধরে মানুষ কীভাবে এত উঁচুতে বেঁচে আছেন? কেমন তাদের দৈনন্দিন জীবন? পৃথিবীর সর্বোচ্চ স্থায়ী বসতিগুলোর তালিকা করলে প্রথম দিকে থাকবে চীনের চিংহাই প্রদেশের ওয়েনকুয়ান শহরের নাম। এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ৯৮০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে ভারতের করজোক গ্রাম। এই গ্রামের উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৫ হাজার ফুট। তবে উচ্চতার দিক থেকে অন্য সব জায়গাকে ছাড়িয়ে গেছে পেরুর আন্দিজ পর্বতমালায় অবস্থিত একটি শহর। দুর্গম ও চরম আবহাওয়ার কারণে একে ডেভিলস প্যারাডাইস নামেও ডাকা হয়। তবে শহরটির আসল নাম লা রিনকোনাদা। এই শহরের প্রায় ৫০ হাজার বাসিন্দা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ১৬ হাজার ৪০৪ ফুট থেকে ১৭ হাজার ৩৮৮ ফুট উচ্চতার মধ্যে বসবাস করেন। এত উঁচুতে পৃথিবীর আর কোথাও কোনো শহর নেই। লা রিনকোনাদার জীবনযাত্রা লা রিনকোনাদা শহরের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কঠিন। এখানে ঘরের ভেতরে ব্যবহারের জন্য সুপেয় পানির কোনো লাইন নেই। নেই কোনো আধুনিক পয়োনিষ্কাশন বা ময়লা ফেলার ভালো ব্যবস্থা। পাহাড়ের নিচের অঞ্চল থেকে এখানে প্রতিদিন খাবার নিয়ে আসা হয়। এই দুর্গম পাহাড়ি শহরে ২০০০ সালের পর প্রথম বিদ্যুৎ-সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। আসলে প্রায় ৬০ বছর আগে এই শহরটি গড়ে উঠেছিল সোনা তোলার একটি অস্থায়ী খনি অঞ্চল হিসেবে। বর্তমানে এখানকার বাসিন্দারা সোনার খোঁজেই এই চরম প্রতিকূল পরিবেশে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছেন। তবে সোনার খোঁজের এই মূল্য দিতে হচ্ছে জীবন দিয়ে। কারণ, এখানকার বাতাসে অক্সিজেনের চাপ সমতলের চেয়ে প্রায় অর্ধেক। উচ্চতায় শরীর যেভাবে সাড়া দেয় সমতলে বসবাসকারী কোনো মানুষ যদি হঠাৎ করে লা রিনকোনাদার মতো এত উঁচুতে যান, তবে তার শরীরে প্রথম পরিবর্তন আসবে শ্বাসপ্রশ্বাস ও হৃৎস্পন্দনে। বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ কম থাকায় সেখানে যাওয়া মাত্র বুক ধড়ফড় করতে শুরু করবে এবং দ্রুত শ্বাস নিতে হবে। কারণ, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ও কোষে পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছে দিতে তখন ফুসফুস ও হৃৎপিণ্ডকে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওতে অবস্থিত কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির নৃবিজ্ঞানের অধ্যাপক সিনথিয়া বিল জানান, আপনি যখন সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১৪ হাজার ৭৬৩ ফুট উঁচুতে পৌঁছাবেন, তখন সমতলের তুলনায় প্রতিবারের নিঃশ্বাসে বাতাসে মাত্র ৬০ শতাংশ অক্সিজেনের অণু পাবেন। বাতাসে অক্সিজেনের এই বড় ঘাটতি মানবদেহের ওপর প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করে। এত উঁচুতে ওঠার পর শুরুতেই রক্তের লোহিত কণিকায় থাকা হিমোগ্লোবিন প্রোটিনের পরিমাণ দ্রুত কমতে শুরু করে। এই হিমোগ্লোবিনের কাজই হলো সারা শরীরে অক্সিজেন বহন করে নিয়ে যাওয়া। উচ্চতা যত বাড়তে থাকে, শরীরের এই সংকট ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়াগুলো তত তীব্র হতে থাকে। বাতাসে অক্সিজেনের এই কম মাত্রার সঙ্গে শরীর যখন হুট করে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন অনেক মানুষের মধ্যেই ‘অ্যাকিউট মাউন্টেন সিকনেস’ বা উচ্চতাজনিত শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। হঠাৎ করে বেশি উঁচুতে উঠলে এই সমস্যার কারণে তীব্র মাথাব্যথা, শরীর ছেড়ে দেওয়া বা ক্লান্তি, বমি বমি ভাব এবং খাওয়ার রুচি চলে যাওয়ার মতো নানাবিধ উপসর্গ দেখা দিতে পারে। মূলত কম অক্সিজেনের কারণে ফুসফুস ও মস্তিষ্কে চাপ পড়ায় এমনটি ঘটে। চরম পরিবেশে শারীরিক অভিযোজন লা রিনকোনাদার মতো চরম উচ্চতায় যাঁরা স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, তাঁদের শরীর এই কম অক্সিজেনের সঙ্গে দারুণভাবে মানিয়ে নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে হওয়া বিভিন্ন গবেষণা থেকে স্পষ্ট প্রমাণ মিলেছে, যাঁরা একদম ছোটবেলায় বা বয়ঃসন্ধির আগে থেকেই এমন উঁচুতে বাস করেন, বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের ফুসফুসের আকার বা ধারণক্ষমতা সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক বড় হয়ে যায়। আন্দিজ পর্বতমালায় বসবাসকারী মানুষদের রক্তে সাধারণ মানুষের তুলনায় হিমোগ্লোবিনের ঘনত্ব অনেক বেশি থাকে। এই বাড়তি হিমোগ্লোবিন তাঁদের রক্তকে সমতলের মানুষের চেয়ে বেশ ঘন করে তোলে, যা কম অক্সিজেনযুক্ত পরিবেশেও শরীরকে সচল রাখতে সাহায্য করে। তবে এই বাড়তি সুবিধার একটি বড় নেতিবাচক দিকও রয়েছে। রক্ত অতিরিক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার কারণে এখানকার বাসিন্দারা ‘ক্রনিক মাউন্টেন সিকনেস’ নামক একধরনের দীর্ঘমেয়াদি পাহাড়ি রোগে আক্রান্ত হন। যাঁরা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ হাজার ফুট বা এর চেয়ে বেশি উঁচুতে বছরের পর বছর বসবাস করেন, তাঁদের শরীরে অতিরিক্ত লোহিত কণিকা তৈরির কারণেই এই রোগটি দেখা দেয়। এর ফলে সারাক্ষণ তীব্র ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট এবং সারা শরীরে প্রচণ্ড ব্যথা-বেদনার মতো সমস্যা হতে থাকে। ধারণা করা হয়, খনি শহর লা রিনকোনাদার প্রতি চারজন বাসিন্দার মধ্যে একজন এই রোগে ভুগছেন। আন্দিজ পর্বতমালার বাসিন্দাদের মতো তিব্বতের পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষেরাও তীব্র উচ্চতায় বাস করেন, কিন্তু এক অদ্ভুত কারণে তাঁরা সুরক্ষিত থাকেন। উঁচুতে থাকলেও তিব্বতিদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা খুব একটা বাড়ে না, যার ফলে তাঁদের ক্রনিক মাউন্টেন সিকনেস রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে না। অতিরিক্ত লোহিত কণিকা তৈরির বদলে তিব্বতিদের শরীর রক্তনালির ভেতর রক্তের প্রবাহ বা গতি বাড়িয়ে দিয়ে এই কম অক্সিজেনের সঙ্গে চমৎকারভাবে মানিয়ে নিয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন, তিব্বতিদের এই বিশেষ শারীরিক ক্ষমতার পেছনে রয়েছে ‘ইপিএএস১’ (EPAS1) নামের একটি জিনের মিউটেশন। এই জিনটি মূলত তাঁদের রক্তে হিমোগ্লোবিনের পরিমাণকে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি বাড়তে দেয় না। ফলে রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে না।
সংসদে ভালো পারফর্ম করতে জামায়াতের এমপিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ‘রাজনৈতিক ক্লাস’ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপি নেতা রাশেদ খাঁন। বুধবার (১০ জুন) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডির এক পোস্টে এ পরামর্শ দেন তিনি। রাশেদ ফেসবুক পোস্টে লেখেন, শুনেছিলাম গত অধিবেশন জামায়াতের এমপিদের খারাপ পারফরম্যান্সের জন্য এবারের অধিবেশনে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা ইসলামি ব্যাংকের ওপর ব্যাপক প্রশিক্ষণ নিয়ে সংসদে যায়, কিন্তু প্রশ্ন এতো কঠিন হবে কে জানতো? প্রশিক্ষণ নিয়ে বলতে গেলে তো কোর্সের বাইরে বলা যায় না। রাশেদ বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ কোর্সের বাইরে গিয়ে বলা শুরু করলেন, এতে জামায়াতের এমপিরা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলেন আর ভাবতে থাকলেন ধুর রাতদিনের প্রশিক্ষণই তো বৃথা। জামায়াতে এমপিদের উচিত সালাহউদ্দিন আহমদের কাছ থেকে রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নেওয়া। এতে সংসদে কিছুটা হলেও ভাল পারফর্ম করতে পারবেন। অন্যথায় এক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাছে জামায়াতে ৬৮ জন এমপি যেভাবে ধরা খাচ্ছেন, সত্যিই আমারও লজ্জা লাগছে। বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা আগে জানতাম, জামায়াতের লোক শিক্ষিত বেশি, তাদের রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ বেশি। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে জামায়াতের গুরু দুর্বল। মানে জামায়াতে মনোযোগী ছাত্র থাকলেও, দক্ষ প্রশিক্ষকের অভাব। সেই জায়গায় জামায়াতের এমপিরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে রাজনৈতিক ক্লাশ করতে পারেন। পোস্টের শেষে তিনি বলেন, শেখার কোনো শেষ নাই, শিখতে কোনো লজ্জা নাই। বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতে ভালো করুক, আমরা এটাই চাই। আমরা সংসদীয় শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে জামায়াতকে দেখতে চাই, দুর্বল মনে হলেই মানুষ আওয়ামী শূন্যতা ফিল করা শুরু করবে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু সংসদে দৈনন্দিন যাতায়াত ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে একটি ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা, যাতায়াত ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) বেলা ১১টায় সেই পোস্টে তিনি লিখেছেন, রাত ৭.০৪ বাজে, অধিবেশন শেষে বাসায় যাচ্ছি। বাসায় যেতে যেতে প্রায় প্রতিদিনই আমার জজ বান্ধবীর কথা মনে পড়ে। বলছিল, জজ হইছি এখন আর লোকাল বাসে পরিবার নিয়ে বাড়ি যাইতে পারি না। তার ওপর সবার ধারণা— বিরাট বড় জজ কত না জানি টাকা, যা আয় করি যা জমাই বছরে দুবার বাড়ি গেলেই অনেক খানি শেষ হয়ে যায়। যাতায়াত খরচ নিয়ে ডা. মিতু বলেন, গত ৫ দিনে আমার উবার /পাঠাও খরচ অলমোস্ট ৮ হাজার টাকা। বলা ভালো, আমি গরমের কষ্ট থেকে বাঁচতে প্রিমিয়াম সার্ভিস নেই। কারণ অধিকাংশ কারের এসি ভালো না। প্রতিদিন এক্সট্রা প্রোগ্রাম থাকে ৩/৪টা। অধিকাংশ ফিরিয়ে দিই। এ ছাড়া আত্মীয়ের বাসা, কারও অসুস্থতা সব মিলিয়ে। পোস্টে তিনি বলেন, সংসদ ভবনের গেটে ঢোকার সময় উবার নিয়ে ঢোকা গেলেও বের হওয়ার সময় উবার ঢুকতে দেয় না। প্রায় এক কিমি রাস্তা (নেটে দেখলাম) হেঁটে বের হতে হয় যদি ঘুরে বের হন। গতকাল আমি এক হাতে ৩টা বই অন্য হাতে ব্যাগ, মোবাইল, কাগজপত্র নিয়ে বের হতে গিয়ে মনে হচ্ছিল রাস্তার মধ্যে বসে পড়ি এত কষ্ট লাগছিল। তিনি আরও জানান, সংসদের গেটে দাঁড়িয়ে সিএনজি পাই না। তার চেয়েও মজার হলো— লোকজন আমাকে সিএনজি খুঁজতে দেখে এমন ভাবে দেখছে, যেন নতুন কিছু দেখছে। কানে ফিসফাস করছিল। পরে ধুম করে প্রিয় ব্যাটারির গাড়িতে উঠে পড়লাম। সংসদের অনেক নতুন রীতির ভিড়ে বোধহয় এটাও নতুন সংসদ সদস্যরা অধিবেশন শেষে ব্যাটারিরচালিত রিকশা করে বাড়ি ফিরছে। ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্যদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার বিষয়ও তুলে ধরেন ডা. মিতু। তিনি বলেন, লিখতে লিখতেই মনে হলো ট্যাক্স ফ্রি গাড়িসহ সংসদ সদস্যদের অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকত। যেগুলো হয়তো আমাদের মতো এমপিদের জন্যই ছিল। কিন্তু সমস্যা হলো— গত কয়েক যুগেও আমাদের মতো এমপি সংসদে ঢুকেনি। যারা ঢুকেছে তাদের আগে থেকেই ৪/৫টা গাড়ি থাকত। এখনো তাই। এসব সুবিধা বাতিল হওয়ায় ভালো হয়েছে অবশ্যই দুর্নীতিবাজ ধনী এমপিরা আরও ধনী হতো। তবে আমার মতো যারা আছেন, যেমন— মানসুরা, মারদিয়া আপা, হাসনাত, আতিক ভাই এদের এখন সব খরচ সামলে জীবন যায় যায় অবস্থা। পুরো সংসদে ২-৩ শতাংশ মানুষ হবে যাদের আমাদের মতো দশা। ঘেঁটেঘুটে দেখলাম সংসদ সদস্যদের বিশেষ সুবিধার কোনো লোন নেই। পোস্টের একপর্যায়ে ডা. মিতু জানান, যাই হোক এর মধ্যে খুশির খবর হলো— গতরাতেও বসে বসে রেগুলার অধিবেশনের জন্য কমদামি শাড়ি খুঁজেছি অনলাইনে। কারণ সারাদিন ধরে পড়ে থেকে সব জামদানি নষ্ট হচ্ছে। স্ট্যাটাস লিখতে লিখতে বাসায় কলিংবেল। মাশাআল্লাহ দেখি বড় আপা মানে আমার হাজবেন্ডের বোন ৪টা শাড়ি পাঠিয়েছেন। যদিও আমার দামি, কমদামি সব (শাড়ি) বড় আপার দেওয়া। বড় আপা সবসময়ই কীভাবে যেন আমার মনের কথা বুঝে যায়। যখন যা লাগে না চাইতেই হাজির করে। আমার সারাজীবনের স্বপ্ন ছিল একটা বড় বোনের, আল্লাহ আমাকে আমার হাজবেন্ডের বোন দিয়ে সেটা পূরণ করছে, আলহামদুলিল্লাহ। পোস্টের শেষাংশে তিনি বলেন, তবে এই টেসলায় যাতায়াতেরও মজা আছে। দূর থেকে মানুষ ডাক দেয় এই মিতু আপু, এই মিতু আপু। আপনি মিতু আপু না? তখন সব কষ্ট মুছে যায়।