অর্থনীতি

বিইআরসি’র নতুন মূল্য নির্ধারণ: সেপ্টেম্বরে লিটার প্রতি বাড়ল ৬ টাকা

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি
সংগৃহীত ছবি

আগস্টে বড় ধরনের মূল্য বৃদ্ধির পর সেপ্টেম্বর মাসের জন্যও আরেক দফায় বেড়েছে জেট ফুয়েলের দাম। সেপ্টেম্বরে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৫৯ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৬৫ টাকা ৬৫ পয়সা করা হয়েছে।

 

 

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য প্রতি লিটার ফুয়েলের দাম ১ দশমিক শূন্য ৩৫৮ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক শূন্য ৭৭০ করা হয়েছে।

 

 

টানা তিন দফায় উড়োজাহাজের জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম কমার পর গত আগস্টে এসে এই জ্বালানির দাম লিটারে ২৮ টাকা ৫৩ পয়সা হারে বাড়িয়েছিল সরকার। সেপ্টেম্বরে এসে দাম লিটার প্রতি ৬ টাকা ১৩ পয়সা বাড়ল। 

 

 

গত মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে জেট ফুয়েলের নতুন দর ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন বিইআরসি।

 

 

 

কমিশনের আদেশে বলা হয়, গত ৫ আগস্ট থেকে ৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জেট এ-১-এর প্লাটস রেটের গড়, একই সময়ে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) এলসি সেটেলমেন্টে ডলারের বিনিময় হার বিবেচনায় শুনানি শেষে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

 

 

সবশেষ জুলাই মাসে জুলাই মাসে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৯ টাকা ২২ পয়সা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে প্রতি লিটার জেট ফুয়েলের দাম ১৩০ টাকা ৯৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তার আগে জুনের জন্য দাম ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৫০ টাকা ২১ পয়সা করা হয়। ২৩ মে মধ্যবর্তী সমন্বয়ে দাম ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ১৬৫ টাকা ৮৮ পয়সা করা হয়েছিল।

 


এর আগে ৭ মে প্রতি লিটার দাম ২২৭ টাকা ৮ পয়সা থেকে কমিয়ে ২০৫ টাকা ৪৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

অর্থনীতি

আরও দেখুন
সংগৃহীত ছবি
হরমুজে ইরান-মার্কিন উত্তাপ: অত্যাধুনিক মার্কিন ড্রোন জব্দের দাবি আইআরজিসির

পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির প্রবেশমুখে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর একটি আধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দের দাবি করেছে ইরান। এর আগে পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।     ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) সরকারি সংবাদমাধ্যম সেপাহ নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জটিল গোয়েন্দা অভিযানের মাধ্যমে ‘ডাইভ-এলডি’ নামে পরিচিত ওই আনম্যানড আন্ডারওয়াটার ভেহিকলটি আটক করা হয়।     আইআরজিসির নৌবাহিনী দাবি করেছে, যানটিতে বিশ্বের আধুনিকতম সাবসারফেস প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এসংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করেছে তারা।     পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালির ওপর একটি মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনও তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভূপাতিত করেছে।     কী বলছে যুক্তরাষ্ট্র? অত্যাধুনিক চালকবিহীন সাবমেরিন জব্দে ইরানের দাবির পর যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, আঞ্চলিক জলসীমা জরিপের সময় একদিনেরও বেশি আগে তাদের একটি পানির নিচে চলাচলকারী ড্রোনে ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। তবে সেটিই ইরানের হাতে পড়েছে কি না, তা স্পষ্ট করেনি পেন্টাগন।     পেন্টাগনের এক মুখপাত্র বলেন, ড্রোনটি চলমান সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য আঞ্চলিক জলসীমা পর্যবেক্ষণ করছিল। এটি পুরনো মডেলের ছিল এবং এতে কোনো সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা বা শ্রেণিবদ্ধ সোনার ও রাডার সরঞ্জাম ছিল না।       মার্কিন নৌবাহিনী বর্তমানে পানির নিচে ও পানির ওপর চলাচলকারী চালকবিহীন বিভিন্ন ব্যবস্থা উন্নয়নে বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। বিশাল সমুদ্রাঞ্চল পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন শনাক্ত করার ক্ষেত্রে এসব ব্যবস্থা ব্যবহারের পাশাপাশি এতে নাবিকদের ঝুঁকিও কমে।       ডাইভ-এলডি মূলত কী? প্রতিরক্ষাবিষয়ক মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডিফেন্সস্কুপের ২০২৪ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ডাইভ-এলডির প্রতিটি ইউনিটের দাম প্রায় ২৫ লাখ ডলার।      নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিলের তথ্য অনুযায়ী, এটি ঘাঁটিতে ফিরে না গিয়ে সর্বোচ্চ ১০ দিন পর্যন্ত কাজ করতে পারে এবং প্রায় ৬ হাজার মিটার গভীরতায় ডুব দিতে সক্ষম।     মার্কিন চাপ বৃদ্ধি এদিকে, ইরানের বিপ্লবী গার্ডের একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।     গত দুই দিনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের দুটি হামলার প্রচেষ্টার জবাবে এসব হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। ইরানের ওপর চাপ আরো বাড়াতে দেশটির বাকি সব এয়ারলাইনসকে লক্ষ্য করে ২৭টি ইরানি বিমান সংস্থাকে বিশেষভাবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় (এসডিএন) যুক্ত করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়।      ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ইরানের বাণিজ্যিক বিমান সংস্থাগুলো দেশটির ‘অস্থিতিশীলতামূলক কর্মকাণ্ডে’ সহায়তা করে এবং আইআরজিসি অস্ত্র সংগ্রহ ও পরিবহন এবং সদস্যদের যাতায়াতে এসব বিমান সংস্থা ব্যবহার করে।     পাল্টা অবস্থানে ইরান দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, ‘আগ্রাসীদের’ সম্পূর্ণ অনুশোচনায় না আনা পর্যন্ত শক্ত অবস্থানে প্রতিরোধ চালিয়ে যাবে ইরান।      সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ইরান সব সময় যুদ্ধের বিরোধিতা করেছে এবং পশ্চিম এশিয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুদ্ধ উসকে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় ইরান যেভাবে সাহসের সঙ্গে প্রতিরোধ করেছে, ভবিষ্যতেও শক্ত অবস্থানে সেই প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।     প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে যৌথ হামলা চালায়। জবাবে ইরান ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন ঘাঁটি ও সামরিক স্থাপনায় দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় এবং হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ আরো কঠোর করে।     এরপর গত ১৮ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে (এমওইউ) সই করে। চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে ৬০ দিনের মধ্যে আলোচনায় বসার কথা ছিল দুই দেশের। সেই সময়সীমা ১৭ আগস্ট শেষ হলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনার পর আলোচনার ভবিষ্যৎ এখনো স্পষ্ট নয়।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
সংগৃহীত ছবি

বিইআরসি’র নতুন মূল্য নির্ধারণ: সেপ্টেম্বরে লিটার প্রতি বাড়ল ৬ টাকা

ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি দামে এলএনজি কিনছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

টানা ২ দফায় কত কমল স্বর্ণের দাম

সুগন্ধি চাল রফতানিতে ৫০ শতাংশ কোটা কমালো সরকার

দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাজারে সম্ভাব্য মূল্যচাপ নিয়ন্ত্রণে সুগন্ধি চাল রফতানিতে অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে আগে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ করা সুগন্ধি চাল রফতানির পরিমাণ অর্ধেকে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশোধিত বরাদ্দ অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং অনুমোদনের মেয়াদ এ বছরের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে।   সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের রফতানিকারকরাও আগের অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেকের বেশি সুগন্ধি চাল রফতানি করতে পারবেন না।   রফতানিতে যুক্ত হচ্ছে ১০টি বাধ্যতামূলক শর্ত   কোটা কমানোর পাশাপাশি রফতানি কার্যক্রমে নজরদারি, জবাবদিহি ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে ১০টি শর্ত আরোপ করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।   শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে— রফতানি নীতি ২০২৪–২৭ এর বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে; অনুমোদন ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে এবং প্রতিটি চালান রফতানির আগে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যের মান ও সত্যতা যাচাই করবে।   এছাড়া প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণের পর সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখায় জমা দিতে হবে; ভবিষ্যতে নতুন রফতানি অনুমোদনের আবেদন করলে আগের অনুমোদিত কোটার বিপরীতে প্রকৃত রফতানির পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও প্রমাণ দিতে হবে; কোনও অবস্থাতেই সংশোধিত অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল রফতানি করা যাবে না; আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্য সুরক্ষায় প্রতি কেজি সর্বনিম্ন এফওবি রফতানিমূল্য ১ দশমিক ৬০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুমোদন সম্পূর্ণ অহস্তান্তরযোগ্য; সাব-কন্ট্রাক্ট বা অন্য প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে রফতানি করা যাবে না; জনস্বার্থে সরকার যেকোনও সময় কারণ দর্শানো ছাড়াই অনুমোদন বাতিল করতে পারবে এবং রফতানি আয় দেশে প্রত্যাবাসনের প্রমাণ হিসেবে প্রসিডস রিয়ালাইজেশন সার্টিফিকেট দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।   এর আগে দুই দফায় ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৪৫ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমতি দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ১২৯টি প্রতিষ্ঠান মোট ২ হাজার ৪ শত ১৯ মেট্রিক টন সুগন্ধি চাল রফতানি করতে সক্ষম হয়।   সরকারের নীতিগত অবস্থান হলো, রফতানি থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হলেও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ বাজারের সরবরাহ ও মূল্যস্থিতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সেই বিবেচনায় সুগন্ধি চাল রফতানির অনুমোদিত কোটা ৫০ শতাংশ কমানো এবং রফতানির ক্ষেত্রে মূল্য, পরিমাণ, নথিপত্র ও বৈদেশিক মুদ্রা প্রত্যাবাসনসংক্রান্ত কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।   নতুন ব্যবস্থায় রফতানিকারকদের অনুমোদিত সীমার মধ্যে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ অনুমোদনের ক্ষেত্রে আগের রফতানি-কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ হিসাব দিতে হবে। এর ফলে সুগন্ধি চাল রফতানিতে একদিকে যেমন নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, অন্যদিকে রফতানি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিও বাড়বে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।   বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, সরকারের এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য রফতানি পুরোপুরি বন্ধ করা নয়; বরং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রেখে নিয়ন্ত্রিত ও টেকসইভাবে সুগন্ধি চাল রফতানি পরিচালনা করা।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬

গ্যাস সংকট বাড়ায় বন্ধ হচ্ছে তৈরি পোশাক কারখানা

ছবি: সংগৃহীত

ডলারের দর কমতেই বাড়ল স্বর্ণের দাম, আউন্সে ৪৪২৯ ডলার

ছবি: সংগৃহীত

রূপালী ব্যাংক ব্যালান্সড ফান্ড মেয়াদি থেকে বে-মেয়াদিতে রূপান্তরের প্রস্তাব

ছবি: সংগৃহীত
ব্যবসায়ীদের মতামত নিয়েই চূড়ান্ত হবে কোম্পানি আইন: বাণিজ্যমন্ত্রী

ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মতামতের ভিত্তিতে কোম্পানি আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), অটোমেশন ও অনলাইনে তথ্য আদান-প্রদানের মতো আধুনিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বিদ্যমান আইনকে আরও যুগোপযোগী করা প্রয়োজন।   সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে এফবিসিসিআই কার্যালয়ে কোম্পানি আইন-১৯৯৪-এর খসড়া সংশোধনী নিয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক মো. ফজলুল হক।   বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন ইতোমধ্যে দুই দফা সংশোধন করা হয়েছে। এবার তৃতীয় দফা সংশোধনের ক্ষেত্রে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম ও পদ্ধতি সহজ করতে বিশ্বের যেসব দেশে আইন ও বিধিবিধান কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেসব দেশের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।   এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, আগামী তিন বছরে সরকারকে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। কোম্পানি আইন সংশোধন সেই বৃহৎ কর্মপরিকল্পনারই একটি অংশ।   পাঁচ কৌশলগত লক্ষ্য সভায় জানানো হয়, কোম্পানি আইনের সার্বিক আধুনিকায়ন এবং বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করার লক্ষ্যে পাঁচটি কৌশলগত লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো ব্যবসা পরিচালনার প্রক্রিয়া সহজ করা, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ তৈরি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহার নিশ্চিত করা, করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) আইনি ভিত্তি তৈরি এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা।   কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্দেশ্য, প্রস্তাবিত পরিবর্তন ও এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন অনুবিভাগের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মোস্তফা জামাল হায়দার। বেসরকারি খাতের পক্ষে প্রস্তাব উপস্থাপন করেন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) সাবেক সভাপতি ব্যারিস্টার নিহাদ কবির।   সভায় বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা করে কোম্পানি আইন সংশোধনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, বাংলাদেশের সভাপতি ও এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘অতীতে দেখেছি, বেসরকারি খাতের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই নীতি গ্রহণ করা হয়।’   ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার ক্ষেত্রে কোম্পানি আইনই মূল আইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর ওপর অন্য কোনো আইন প্রাধান্য পাওয়া উচিত নয়।   তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি মুক্ত আলোচনায় যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) অতিরিক্ত নিবন্ধক মো. নূর-ই-আলম বলেন, অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আরজেএসসির বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। শুধু আইন সংশোধন করলেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না।   অনলাইনে আরজেএসসিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন এপেক্স ফুটওয়্যার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর। একই সঙ্গে আরজেএসসির কার্যক্রম পরিচালনায় কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।   কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর তৃতীয় সংশোধনের খসড়া পর্যালোচনা করে খাতভিত্তিক সংগঠনগুলোর মূল্যায়ন ও প্রস্তাব দেওয়ার জন্য ব্যবসায়ী নেতারা আরও ৩০ দিন সময় চান। জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খসড়া সংশোধনী পর্যালোচনা করে মতামত দেওয়ার জন্য যুক্তিসঙ্গত সময় দেওয়া হবে।   অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল, এমসিসিআই সভাপতি কামরান টি. রহমান, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ), বারভিডা সভাপতি আবদুল হক এবং ট্রান্সকমের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সিমিন রহমানসহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন সেপ্টেম্বর ০৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ঋণের জামানত মূল্যায়নে ১৩১ প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

সংগৃহীত ছবি

মূল্যস্ফীতি কমলেও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপে পিছিয়ে নিম্ন আয়ের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ

0 Comments