আগামীতে বিএনপির সরকারে আসলে যে কোনো মূল্যে দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা হবে বলে ঘোষণা করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, অতীতে প্রমাণ হয়েছে বিএনপির পক্ষেই একমাত্র সফলভাবে যে বিষয়টি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটি হলো দুর্নীতি। এ দেশের মানুষের কাছে দুটি বিষয়ই হচ্ছে বিএনপির কমিটমেন্ট। একটা হচ্ছে দূর্নীতি প্রতিরোধ আরেকটা হচ্ছে মানুষের নিরাপত্তা।
তিনি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা হবে- আইন সবার জন্য সমান। অপরাধের পরিচয় কোনো দল নয়, অপরাধীই অপরাধী। দুর্নীতি যে করুক, যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে।
আজ রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের রেলওয়ে পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপির চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। এটা যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ না করি, তাহলে আমাদের কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। অতীতে প্রমাণ হয়েছে, একমাত্র যে বিষয়টি বিএনপির পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব, সেটি হলো দুর্নীতি। যে কোনো মূল্যে আগামীতে বিএনপির সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এ দেশের মানুষের কাছে এই দুটি বিষয়ই আমাদের কমিটমেন্ট- বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এই দুটি বিষয়ে কঠোরভাবে নজর দিতে হবে। এই দুটি বিষয় বাংলাদেশের মানুষকে বহু কিছু থেকে বঞ্চিত করেছে। এই দুটি বিষয় নিয়ন্ত্রণে একমাত্র বিএনপিই যে সফলভাবে পারে, তা বিএনপি অতীতে প্রমাণ করে দেখিয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষ যাতে নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে চাকরি-বাকরি সব কিছু নির্বিঘ্নে করতে পারে সেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বিগত সময়ে বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তখন আপনারা দেখেছেন- আমাদের দলের অনেক লোক যদি কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত থেকেছে, আমরা তাদেরও ছাড় দিইনি।
তিনি আরও বলেন, দেশের জনগণ যদি বিএনপির পাশে থাকে, ইনশাআল্লাহ আগামী দিনে আমরা একইভাবে দেশের আইনশৃঙ্খলাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করব। যাতে করে দেশের সাধারণ মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ নির্বিঘ্নে জীবিকা নির্বাহ করতে পারে।
বিএনপি সরকারে আসলে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী করার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে জানিয়ে বিএনপি’র চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, এ অঞ্চলে মানুষের একটি বড় দাবি আছে, যেটির উদ্যোগ বিএনপি সরকার গ্রহণ করেছিল, কিন্তু সময়ের অভাবে সম্পূর্ণ করে দিতে পারেনি। আমরা দেখেছি গত ১৫ বছর এই উদ্যোগ নিয়ে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এই উদ্যোগ নেওয়া হলে শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের মানুষের কর্মসংস্থান গড়ে উঠবে। সেই উদ্যোগটি হচ্ছে ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’।
ইনশাআল্লাহ আগামী নির্বাচনে আপনাদের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে বেগম খালেদা জিয়ার সেই ‘বাণিজ্যিক রাজধানী’ করার উদ্যোগ যত দ্রুত সম্ভব বিএনপি বাস্তবায়ন করবে।
চট্টগ্রামসহ সারা দেশের জলাবদ্ধতার সমস্যা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সমগ্র বাংলাদেশের খালকাটা কর্মসূচি চালু করতে চাই। ইনশাআল্লাহ আমরা দু’হাতে কোদাল দিয়ে খাল খনন শুরু করব, যাতে করে জলাবদ্ধতার বড় সমস্যা দূর করা যায়।
তিনি বলেন, এই চট্টগ্রামে ইপিজেড আছে, যেখানে মানুষ চাকরি করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এখানে লক্ষ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা রয়েছে। আপনাদের জানা আছে, এই ইপিজেডগুলো বিএনপির আমলেই হয়েছিল। আগামীতে যদি আমরা সরকার গঠন করি, তাহলে এরকম আরও অনেক ইপিজেড গড়ে তুলবো।
চট্টগ্রামের সঙ্গে গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আজ সময় এসেছে- অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য। এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখানে অনেক নতুন ভোটার রয়েছেন, যারা বিগত ১৫-১৬ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন আপনাদের কাছে আমার প্রত্যাশা- কখন যাবেন ভোট দিতে? এবার ফজরে গেলে হবে না। এবার তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ার জন্য উঠতে হবে। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়বেন এবং যার যে ভোট কেন্দ্র, ভোট কেন্দ্রের সামনে গিয়ে ফজরের নামাজ জামাতে আদায় করবেন। তারপর লাইন দিয়ে ভোট দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাবেন, যখনই ভোট কেন্দ্র খুলবে।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক এরশাদ উল্লাহ’র সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব নাজিমুর রহমানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার, আসলাম চৌধুরী এফসিএ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, এসএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন, সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান, সরওয়ার জামাল নিজাম, সাঈদ আল নোমান প্রমুখ।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দাবি না মানলে ২৮ মার্চ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী, স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি পালন করবে তারা। গতকাল শুক্রবার সংগঠনের সদস্যসচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০১৫ সালে দেওয়া অষ্টম পে-স্কেলে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীদের বৈষম্যের বেড়াজালে আবদ্ধ করার পর থেকেই প্রথম পর্যায়ে পে স্কেলের বৈষম্য নিরসনের জন্য আবেদন নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও তৎকালীন সরকারের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বিগত কোনো সরকার উক্ত সংগঠনের সঙ্গে আলোচনাও করেননি। অথচ বিগত বিএনপির সরকার ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে সুন্দর দুইটি পে স্কেল দিয়েছিল। বিগত ১১ বছর কর্মচারীরা পে স্কেল থেকে বঞ্চিত উল্লেখ করে এতে বলা হয়েছে, দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির দরুণ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬ সদস্য পরিবারের ব্যয়ভার বহন করা নিয়ে কর্মচারীরা দিশাহারা। পরবর্তীতে ২০১৯ সাল থেকে বৈষম্যহীন ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবেদন-নিবেদনসহ বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছি। এর ধারাবহিকতায় অর্ন্তবর্তী সরকারের কাছেও আবেদন নিবেদনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখা হয়। তৎপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে ৮ম পে-কমিশন গঠন করে, যার রিপোর্ট ইতিমধ্যে সরকারের কাছে প্রদান করেছেন। কিন্তু অর্ন্তবর্তী সরকার পে-স্কেল দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও তা বাস্তবায়ন করেনি। তারা বলেন, বর্তমান সদাসয় সরকারের কাছে প্রত্যাশা দীর্ঘ ১১ বছর ধরে পে স্কেল না হওয়া ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির দরুণ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয় বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বৈষম্যহীন ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করবেন। বর্ণিত অবস্থায় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে কর্মচারীদের বৈষম্যহীন ৯ম পে স্কেল প্রাপ্তির বিষয় অবহিতকরণের লক্ষ্যে সংগঠনের ২০ ফেব্রুয়ারির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক নিম্নোক্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে ১. ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান (জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সম্মানিত নেতৃবৃন্দ উক্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবেন)। ২. একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করবেন। ৩. পবিত্র মাহে রমজানে মাসব্যাপী বিভাগীয় শহরগুলোয় পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি চলমান থাকবে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়নের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপন পরবর্তী ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস দীর্ঘ ১৮ মাস পর তার পুরোনো কর্মস্থলে ফিরেছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পালনকালীন দীর্ঘ বিরতি শেষে তিনি মিরপুরের গ্রামীণ টেলিকম ভবনে অবস্থিত ‘ইউনূস সেন্টারে’ নিজের দপ্তরে ফেরেন তিনি। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) প্রফেসর ইউনূসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে তার এই প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে। তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে মিরপুরে পৌঁছালে দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও কর্মকর্তারা তাকে ফুল দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দপ্তরে ফেরার পরপরই প্রফেসর ইউনূস গ্রামীণ পরিবারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ইউনূস সেন্টারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। উল্লেখ্য, ১৮ মাস আগে তিনি ‘ইউনূস সেন্টার’ থেকে বিদায় নিয়ে দেশের রাজনীতির বিশেষ এক সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বের হাল ধরেছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৃথক বৈঠকে পররাষ্ট্র নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে রাষ্ট্রদূত প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের দপ্তরে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, একই দিনে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন সৌদি রাষ্ট্রদূত। সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।