সারাদেশ

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ঘরে ঘরে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে : তারেক রহমান

মোঃ ইমরান হোসেন ফেব্রুয়ারি ০৪, ২০২৬

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে মানুষ অনেক কষ্টে আছে। প্রয়োজনের সময় ডাক্তার পাওয়া যায় না, ওষুধ পায় না, সেজন্য আমরা হাসপাতালগুলো মেরামত করব, ডাক্তারের ব্যবস্থা করব। এজন্য আমরা হেলথ কেয়ার নিযুক্ত করতে চাই, যেই হেলথ কেয়ারের কাজ হবে গ্রামে গ্রামে, ঘরে ঘরে গিয়ে নারী এবং শিশুদের চিকিৎসা সুবিধা দেবে।

 

বুধবার ( ৪ জানুয়ারি) ফ‌রিদপুর শহ‌রের সরকা‌রি রা‌জেন্দ্র ক‌লে‌জ মা‌ঠে বিএন‌পির বিশাল জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তারেক রহমান বরিশালে নির্বাচনী জনসভা শেষ করে হেলিকপ্টারযোগে ফরিদপুর আসেন।

তারেক রহমান বলেন, যেসব চিকিৎস্যা সুবিধা ঘরে বসে দেওয়া যায়, ছোটখাটো অসুখ, যাতে করে মা-বোনদের কষ্ট করে হাসপাতালে আসতে না হয়। ঘরে বসেই তারা ওষুধ পাবে ইনশাআল্লাহ।

তি‌নি ব‌লেন, বিএনপি সরকার গঠন করলে এবং ফরিদপুরে বিভাগ গঠন করলে যদি জনগণের উপকার হয়, উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়, তবে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে। ফরিদপুর অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যা নদীভাঙন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দ্রুত পদ্মা ও সংশ্লিষ্ট নদীভাঙন সমস্যার কার্যকর সমাধান করা হবে। কৃষকদের জন্য বিশেষ কৃষককার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা সহজেই বীজ, সার ও কীটনাশক পাবে।

নারী ও শিশুদের বিষয়ে তা‌রেক রহমান বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী, এই জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নেবে।

বাংলা‌দে‌শের ইতিহাস টেনে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা দেশ স্বাধীন করেছিলেন, আর ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরাচার হটিয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা হয়েছে।

বি‌শেষ একটি দলকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এক গুপ্ত দলের নেতা আমাদের মা-বোনদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে। ইতিহাস সাক্ষী ১৯৭১ সালেও তাদের ভূমিকা ছিল কলঙ্কজনক।

তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যদি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐকবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র ঠেকিয়ে দিতে পারি তাহলে ১৩ তারিখ থেকেই বাংলাদেশে জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ১৩ তারিখ থেকে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।

দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন সম্ভাবনা তুলে ধরে তা‌রেক রহমান বলেন, কৃষি, শিল্প ও কর্মসংস্থানে সঠিক নীতি ও সুশাসন থাকলে এই অঞ্চল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি হতে পারে।

তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তোমরাই আগামীর বাংলাদেশ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও। বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের সব ক্ষমতার উৎস জনগণ। সেই বিশ্বাস থেকেই দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে চায়।

জনসভায় ফরিদপুরের ৫টি জেলার ১৫ জন ধানের শীষের প্রার্থীসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। বিএনপি চেয়ার‌ম্যানকে এক নজর দেখ‌তে ও তার বক্তব‌্য শুন‌তে দুপুর ১২টা থে‌কে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ভি‌ড়ে কলেজের মাঠ‌টি কানায় কানায় পূর্ণ হ‌য়ে যায়। একপর্যা‌য়ে আ‌শপা‌শের এলাকা লোকে লোকার‌ণ্যে প‌রিণত হয়।

উ‌ল্লেখ‌্য, এই প্রথমবার তা‌রেক রহমান ফ‌রিদপু‌রে জনসভা কর‌তে এলেন।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না প্যাথলজি-রেডিওলজি রিপোর্টে সরাসরি চিকিৎসকের স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক

প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

শুল্কমুক্ত সুবিধায় ব্যবসায়ীদের আগ্রহে ভাটা

পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না।   একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।   এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন।   গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে।   জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে।   সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে।   কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে।   প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে।   আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’   সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না।   এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।

সারাদেশ

আরও দেখুন
বাগেরহাটে বজ্রপাতে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

  বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে বজ্রপাতে বিধান বাছাড় (৫৫) ও মানিক বাছাড় (৪০) নামের দুই ভাই নিহত হয়েছেন।   বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার হোগলাপাশা ইউনিয়নের শৌলখালী গ্রামের একটি মাঠে ধান ক্ষেতে কাজ করার সময় তারা বজ্রপাতে নিহত হন।   মৃতরা হোগলাপাশা ইউনিয়নের শৌলখালী গ্রামের মনোরঞ্জন বাছাড়ের ছেলে।   বিধান বাছাড়ের স্ত্রী ও ৪ সন্তান রয়েছে। মানিক বাছাড়েরও স্ত্রী ও ২ সন্তান রয়েছে।   মৃতদের ভাইয়ের ছেলে রাজিব বাছাড় বলেন, সকালে তার দুই কাকা মাঠে কাজ করতে যান। সকাল থেকেই আবহাওয়া খারাপ ছিল। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বজ্রপাতে দুই কাকা ঘটনাস্থলে একত্রে মারা যান।   মোরেলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল্লাহ বলেন, বজ্রপাতে দুই জনের মৃত্যুর খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হবে।

জান্নাতুল ফেরদৌস জেমি সেপ্টেম্বর ০২, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছর ধরে ইন্টারপোলে রেড নোটিস, তবুও দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেই সাজ্জাদকে

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ, আগস্টে প্রতিদিন আক্রান্ত ৩৯ জন

ছবি: সংগৃহীত

বন্যা-ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত ১,৫০০ পরিবারের পাশে আরব আমিরাত

গ্রেপ্তারকৃত আওয়ামী লীগ নেতা। পুরোনো ছবি
গাইবান্ধায় ডিবির অভিযানে আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার

গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশের বিশেষ অভিযানে আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) এক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভিএইড রোড এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন- গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রনজিত বকশি সূর্য। এছাড়া তিনি সাবেক ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিল ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের জেলা সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার পৌরসভার মাস্টারপাড়া এলাকার মৃত রবিন্দ্র বকশির ছেলে। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট গাইবান্ধা জেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রনজিত বকশি সূর্যকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ সদর উপজেলার পৌরসভা এলাকার ভিএইড রোড থেকে রাত সাড়ে ১১টার দিকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জেলা ডিবি পুলিশ সদর থানায় এই নেতাকে হস্তান্তর করে। বর্তমানে সদর থানার হেফাজতে আছে এই নেতা। এদিকে জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মোত্তালিব সরকার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভিএইড রোড এলাকা থেকে এই আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, রাজনৈতিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট বিএনপি অফিস ভাঙচুর ও অগ্নি-সংযোগ মামলার একজন আসামি। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে তিনি সদর থানার পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করা হবে।

মারিয়া রহমান সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

হামের ভ্যাকসিন না কিনেই বিদায় নেয় অন্তর্বর্তী সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

‘ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ১০ লেনে উন্নীত করা জরুরি’: চেম্বার সভাপতি

ছবি: সংগৃহীত

রংপুরে গণপতি পরিবার হত্যা: মুগ্ধ-সিদ্ধার্থের ডোপ টেস্টে মেলেনি মাদক

ছবি: সংগৃহীত
সীতাকুণ্ডে ১০ শ্রমিকের মৃত্যু: নিরাপত্তা গাফিলতিকে দায়ী করে ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার সুপারিশ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাসে ১০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় ‘গুরুতর ঘাটতি ও অবহেলা’ পাওয়ার কথা জানিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটি।   ওই ঘটনায় ‘দ্য শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস-২০১১’ অনুযায়ী ইয়ার্ড মালিকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংক ছিদ্র করার সময় শ্রমিকরা গ্যাস মাস্ক বা স্বয়ংসম্পূর্ণ শ্বাসযন্ত্র (এসসিবিএ) ব্যবহার করেননি। ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি চলছিল সাপ্তাহিক ছুটির দিনে; ওই সময় ঘটনাস্থলে সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক বা জরুরি উদ্ধারকারী দলও উপস্থিত ছিল না।   গত ১৪ অগাস্ট সীতাকুণ্ডের ওই ইয়ার্ডে ‘এমটি রাসি’ নামের একটি স্ক্র্যাপ জাহাজের ব্যালস্ট ট্যাংক ছিদ্র করার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড (H2S) গ্যাস নির্গত হয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।   এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন এবং পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহের গাড়ির একজন হেলপারও (বহিরাগত) ছিলেন।   এ ঘটনার পর শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজীকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ শেষে সম্প্রতি কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।   সোমবার দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে ওই প্রতিবেদন প্রকাশ করে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ফেরদৌস স্টিলের ওই ঘটনায় কারও গাফিলতি বা দায়িত্বে অবহেলা থাকলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।   বিষাক্ত গ্যাস কোথা থেকে এল জাহাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য ব্যালাস্ট ট্যাংকে পানি জমিয়ে রাখতে হয়। নৌযান চলাচলের নিয়ম অনুসারে একটি আন্তর্জাতিক সীমা থেকে অন্য একটি আন্তর্জাতিক নৌ সীমায় প্রবেশ করতে হলে জাহাজের ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি পাল্টে ‘নতুন ব্যালাস্ট ওয়াটার’ নিতে হয়।   ‘এমটি রাসি’ নামের প্রায় ৩০ হাজার ৭৭০ টন ওজনের জাহাজটি গত বছরের জুলাই মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারি ইউনিয়নের ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ডে ভাঙার জন্য নিয়ে আসা হয়।   ভাঙার জন্য তীরে ভেড়ানোর সময় জাহাজটির চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংকই ছিল পানিতে পূর্ণ। জাহাজটি ভাঙার কাজ প্রায় শেষ দিকে হওয়ায় একে একে ব্যালাস্ট ট্যাংকগুলো কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়।   ওই জাহাজের চারটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের মধ্যে একটি আগে কাটা হয়েছিল। দ্বিতীয়টি কাটার সময় বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।   তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজের ব্যালস্ট ট্যাংকের তলায় দীর্ঘদিন ধরে সামুদ্রিক পানি জমে ছিল। ওই পানির সঙ্গে কাদা, তলানি ও জৈব পদার্থও জমে ছিল। দীর্ঘদিন পানি স্থির থাকায় ধীরে ধীরে সেখানে অক্সিজেন কমে যায়।   অক্সিজেন কমে যাওয়া এই পরিবেশে তলানিতে থাকা জীবাণু জৈব পদার্থ ভাঙার সময় বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাস তৈরি করে।   ১৪ অগাস্ট ট্যাংকের তলায় ছিদ্র করে পানি বের করার সময় জমে থাকা সেই গ্যাসও পানির সঙ্গে বেরিয়ে আসে। ট্যাংকের মুখের কাছে গ্যাসের মাত্রা দ্রুত বেড়ে যায়। সেখানে থাকা শ্রমিকরা অল্প সময়ের মধ্যেই বিষাক্ত গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাদের মৃত্যু হয়।   গাফিলতির চিত্র তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। সেদিন ইয়ার্ডের নিয়মিত কাটিং কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও পরদিনের কাজের প্রস্তুতি হিসেবে ট্যাংক ছিদ্র করার ‘রুটিন’ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি।   ছুটির দিনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চললেও ইয়ার্ডে সেফটি ম্যানেজার, অ্যাম্বুলেন্স, চিকিৎসক বা জরুরি উদ্ধারকারী দল ছিল না।   দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকদের গ্যাস মাস্ক বা সেলফ-কন্টেইন্ড ব্রিদিং অ্যাপারেটাস (এসসিবিএ) দেওয়া হয়নি। এমনকি উদ্ধার কাজে অংশ নেওয়া শ্রমিকদেরও পর্যাপ্ত এসসিবিএ ছাড়াই ঘটনাস্থলে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এতে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে থাকতে পারে বলে কমিটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।   প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়ার্ডের পিপিই স্টোরে সাধারণ নিরাপত্তা সরঞ্জাম মজুদ থাকলেও উচ্চঝুঁকির কাজে সেগুলো যথাযথভাবে সরবরাহ ও ব্যবহার করা হয়নি।   এ ছাড়া দুর্ঘটনার খবর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানাতেও বিলম্ব হয়েছিল বলে তদন্ত কমিটির কাছে তাদের প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন।   ইয়ার্ডে নতুন এনভিআর ভিত্তিক সিসিটিভি ব্যবস্থা স্থাপনের কাজ চললেও সেটি তখনও কার্যকর হয়নি। ফলে দুর্ঘটনার কোনো সিসিটিভি ভিডিও পাওয়া যায়নি।   শ্রমিকের তালিকায় গরমিল দুর্ঘটনার দিন ইয়ার্ডে কর্মরত শ্রমিকদের তালিকার সঙ্গে বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ডে জমা দেওয়া অনুমোদিত তালিকার উল্লেখযোগ্য গরমিল পেয়েছে তদন্ত কমিটি।   প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহত মূল পাঁচ শ্রমিকের মধ্যে একজন ছাড়া অন্যদের নাম অনুমোদিত জনবল তালিকায় ছিল না। এ ছাড়া দুর্ঘটনার দিনের প্রকৃত হাজিরা শিটও তদন্ত কমিটির কাছে দেখাতে পারেনি ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবি, দুর্ঘটনার পর বহিরাগত শ্রমিকদের নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়।   কমিটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ট্যাংক ছিদ্র করার সিদ্ধান্তকে ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ‘রুটিন’ কাজ হিসেবে বিবেচনা করেছিল। সাধারণত এ ধরনের সিদ্ধান্ত ঊর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনাকে জানানো হয় না। তদন্ত কমিটি এটিকে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও তদারকির একটি উল্লেখযোগ্য ত্রুটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে   গ্যাস-ফ্রি সনদ নিয়েও প্রশ্ন তদন্ত প্রতিবেদনে জাহাজটির গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেট নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।   কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ইন্টারটেক কিমসকোর দেওয়া গ্যাস-ফ্রি সার্টিফিকেটে সব ট্যাংক প্রকৃতপক্ষে পরিদর্শন না করেই সনদে ‘একসেপ্টেবল’ লেখা হয়েছে।   ওই সনদে হাইড্রোজেন সালফাইড ও কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস পরীক্ষা করা হয়নি; শুধু অক্সিজেন ও দাহ্য গ্যাসের নিম্ন বিস্ফোরণসীমা ‘গ্রহণযোগ্য’ বলা হয়েছিল।   তবে জাহাজ আমদানি, বিচিং, সৈকতায়ন ও বিভাজনের অনুমতি দেওয়ার প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় অনিয়ম পাওয়া যায়নি বলে তদন্ত প্রতিবেদনে পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।   এ ছাড়া ইয়ার্ডটির পরিবেশগত ছাড়পত্র ১২ অগাস্ট ২০২৬ মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও তা নবায়ন না করে জাহাজ কাটার কার্যক্রম চলছিল বলে পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি তদন্ত কমিটিকে জানিয়েছেন।   দুর্ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে জানানোর আইনি বাধ্যবাধকতাও যথাযথভাবে পালন করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।   ক্ষতিপূরণ ইয়ার্ড কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে মৃত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বলে তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।   এ ছাড়া তাৎক্ষণিক মানবিক সহায়তা হিসেবে প্রতিটি পরিবারকে ১ লাখ টাকা এবং শ্রম আইন অনুযায়ী প্রযোজ্য ২ লাখ টাকা শ্রম আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কথাও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।   ৩৫ সুপারিশ ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ৩৫টি সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।   এর মধ্যে রয়েছে জাহাজের প্রতিটি ব্যালাস্ট ট্যাংকের পানি ও তলানির নমুনা পরীক্ষা, ডিজিটাল ব্যালাস্ট ওয়াটার এক্সচেঞ্জ রিপোর্ট সংরক্ষণ, প্রতিটি জাহাজের জন্য সুনির্দিষ্ট গ্যাস-ফ্রি ও ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু এবং প্রশিক্ষিত কারিগরি দল দিয়ে শিপ রিসাইক্লিং প্ল্যান বাস্তবায়ন।   প্রতিটি ইয়ার্ডে ব্যালস্ট ট্যাংকের ভেন্টিলেশন পরিকল্পনা, সিসিটিভি ও রেকর্ড সংরক্ষণ, নিয়মিত মহড়া এবং আধুনিক মাল্টি-গ্যাস ডিটেক্টর ব্যবহারের সুপারিশ করা হয়েছে।   কোনো শ্রমিক আবদ্ধ স্থানে প্রবেশ বা কাজ শুরুর আগে অক্সিজেন, বিষাক্ত ও দাহ্য গ্যাসের মাত্রা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হয়েছে। কাজ চলাকালে প্রতি এক থেকে দুই ঘণ্টা পরপর গ্যাস পরীক্ষা এবং তার রেকর্ড সংরক্ষণের সুপারিশও রয়েছে।   এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানে প্রশিক্ষিত এইচএসই সুপারভাইজার নিয়োগ, হট ওয়ার্ক বা কনফাইন্ড স্পেসে প্রবেশের আগে ‘পারমিট টু ওয়ার্ক’ ব্যবস্থা চালু করা, বিষাক্ত বা সংকুচিত স্থানের বাইরে সার্বক্ষণিক উদ্ধারকারী দল রাখা এবং শ্রমিক ও সেফটি কর্মীদের এসসিবিএ ব্যবহারের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে।   প্রতিটি ইয়ার্ডে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সাড়া দেওয়ার দল রাখার পাশাপাশি দুর্ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে জানানোর সুপারিশ করেছে কমিটি।   সবশেষে ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইন্ডাস্ট্রিজের নিরাপত্তা গাফিলতির জন্য ‘দ্য শিপ ব্রেকিং অ্যান্ড রিসাইক্লিং রুলস-২০১১’ অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।   কমিটির সার্বিক মতামতে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা তদারকি ও সেফটি ক্লিয়ারেন্স ছাড়া ছুটির দিনে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ পরিচালনা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও উদ্ধার ব্যবস্থার ঘাটতি, অনুমোদিত জনবল তালিকায় অসামঞ্জস্য এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কার্যক্রম চালানো ইয়ার্ডটির নিরাপত্তা ও কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নির্দেশ করে।   তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত রাসায়নিক কারণ ও দায়দায়িত্ব নির্ধারণে চূড়ান্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে বলে তদন্ত কমিটি মত দিয়েছে।

মো: দেলোয়ার হোসাইন আগস্ট ৩১, ২০২৬

বান্দরবানে পাহাড়ি সড়কে গাড়ি উল্টে চালকের মৃত্যু, আহত ৩

এক লাখ টাকায় ছেলেকে বিক্রি করে আইফোন কিনেছেন বাবা

ছবি: সংগৃহীত

বঙ্গোপসাগরে জেলেদের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩

0 Comments