অন্যান্য

বিএনপি-জামায়াতের পরিবেশ ও জলবায়ু ভাবনা

মারিয়া রহমান ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬

 

১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি। নির্বাচন ঘিরে চাকরি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে তুমুল রাজনৈতিক আলোচনা চলছে। কিন্তু আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তেমন আলোচনা নেই। সেটি হলো পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন। দেশের দুই প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের ইশতেহারে দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেছে। 

বিএনপি তাদের ৫১ দফা ইশতেহারে পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ২০৩০ সালের মধ্যে ‘থ্রি-জিরো ভিশন’—শূন্য পরিবেশ অবক্ষয়, শূন্য বর্জ্য ও শূন্য বন্যা ঝুঁকি ঘোষণা করেছে।

বিএনপির পরিবেশ ও জলবায়ু পরিকল্পনা

বনায়ন ও সবুজ কর্মসংস্থান

  • ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা
  • প্রায় সাড়ে তিন লাখ ‘গ্রিন জব’ ও নার্সারি খাতে আরও আড়াই লাখ কর্মসংস্থান তৈরি
  • জিআইএস প্রযুক্তি দিয়ে কোথায় কোন গাছ লাগানো হবে তা নির্ধারণ
  • গাছের অবস্থা পর্যবেক্ষণে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ চালু

জ্বালানি ও কার্বন অর্থনীতি

  • ২০৩০ সালের মধ্যে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদন
  • সৌর, বায়ু, জলবিদ্যুৎ ও বর্জ্যভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন
  • রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প পর্যালোচনার প্রতিশ্রুতি
  • কার্বন ক্রেডিট বাজার গড়ে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য
  • দেশীয় কার্বন ট্রেডিংয়ের জন্য এমআরভি (মেজারমেন্ট, রিপোর্টিং, ভ্যারিফিকেশন) সিস্টেম

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • সার্কুলার ফিউচার মডেলের আওতায় বর্জ্যকে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তর
  • প্রতিটি বিভাগে ই-ওয়েস্ট রিসাইক্লিং সুবিধা
  • ২ লাখ অনানুষ্ঠানিক বর্জ্য শ্রমিককে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্ত
  • ৫ বছরে প্লাস্টিক বর্জ্য ৩০% কমানোর লক্ষ্য
  • বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প

জলবায়ু অভিযোজন ও কৃষি

  • জাতিসংঘের ১৯৯৭ পানি কনভেনশনে যোগদানের পরিকল্পনা
  • তিস্তা মেগা প্রকল্প ও পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়ন
  • বন্যাপ্রবণ এলাকায় উঁচু সড়ক, আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা
  • ২০৩৫ সালের মধ্যে ৩০–৫০ শতাংশ ধানক্ষেতে পানি সাশ্রয়ী সেচ প্রযুক্তি
  • ব্লু ইকোনমি উন্নয়নে সমুদ্র সম্পদের ব্যবহার ও ১০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি

জামায়াতে ইসলামীর পরিবেশ ও জলবায়ু পরিকল্পনা

থ্রি-জিরো ভিশন ২০৩০

  • শূন্য পরিবেশ অবক্ষয়
  • শূন্য বর্জ্য
  • শূন্য বন্যা ঝুঁকি

বন ও সবুজায়ন

  • বন উজাড় বন্ধ করা
  • দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানো
  • নগর পরিকল্পনায় সবুজায়ন নিশ্চিতকরণ

জ্বালানি

  • বড় সৌরবিদ্যুৎ পার্ক স্থাপন
  • ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ও নেট মিটারিং সম্প্রসারণ
  • আন্তর্জাতিক মান মেনে পারমাণবিক শক্তি উন্নয়ন
  • জলবায়ু ঝুঁকির কারণে ধনী দেশগুলোর কাছ থেকে বেশি অর্থ আদায়ে আন্তর্জাতিক লবিং

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

  • প্লাস্টিক বোতলের ডিপোজিট-রিটার্ন ব্যবস্থা
  • শহরে কম্পোস্টিং জোন
  • পলিথিনের বদলে পরিবেশবান্ধব বিকল্প
  • শিল্পকারখানায় বাধ্যতামূলক বর্জ্য শোধনাগার
  • বুড়িগঙ্গা, তুরাগ ও কর্ণফুলী নদী পরিষ্কার

বন্যা ও কৃষি

  • ডাচ ডেল্টা মডেল অনুসারে বন্যা ব্যবস্থাপনা
  • ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণ
  • আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ডিজিটাল করা
  • বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ
  • কৃষিজমি ও মাটির উর্বরতা রক্ষা

পরিবেশ ও জলবায়ু এখন রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। নির্বাচনের পর এসব অঙ্গীকার বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে—সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

অন্যান্য

আরও দেখুন
ছবি : সংগৃহীত
আওয়ামী লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, দাবি মাহফুজ আলমের

চব্বিশের আন্দোলনের পর কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ আবার দেশের রাজনীতিতে ‘ফিরে এসেছে’ বলে মনে করছেন জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাবেক ছাত্র উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। এর বিভিন্ন কারণ তুলে ধরে তিনি দলটির ‘ফিরে আসার’ প্রেক্ষাপটও বর্ণনা করেছেন।   মঙ্গলবার কিছু সময়ের ব্যবধানে তিনি এ নিয়ে দুটো ফেইসবুক পোস্ট দেন। এর প্রথমটিতে তিনি লেখেন, “লীগ রাজনৈতিক দলের আগে একটা ধর্মতত্ত্ব, সে ধর্মতত্ত্বে ইমান আবার ফেরত এসেছে।” কীভাবে ফিরল, সে ‘গল্পই’ তুলে ধরার কথা বলেন তিনি। মাহফুজ লেখেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যে দিন থেকে ডানপন্থিদের উত্থানের জন্য অন্তরীণ সরকারের লোকজন কাজ করা শুরু করেসে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন আইনের শাসনের বদলে মবের শাসনে আনন্দ পেয়েছিল গত ১৭ বছরের ‘মজলুমগণ’।“ জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া মাহফুজ এমন এক সময় এই স্ট্যাটাস দিলেন, যেদিন ভারতীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ইমেইলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা শিগগিরই দেশে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতের দিল্লিতে অবস্থান করা শেখ হাসিনা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। অন্তর্বর্তী সরকারে ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত থাকা মাহফুজ এ সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ফেরার প্রসঙ্গ নিয়ে দীর্ঘ পোস্ট দেন। তবে শেখ হাসিনার বিষয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহফুজ কোনো কথা অবশ্য লেখেননি। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্র্তী সরকারেরও কড়া সমালোচনা করে মাহফুজ বলছেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন অন্তরীণ সরকার পলিটিকাল থেকে আমলাতান্ত্রিক হল এবং আমলানির্ভর কিচেন ক্যাবিনেট থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া শুরু হল। যে কিচেন ক্যাবিনেটের অধিকাংশ লোকই ছিল জামাত-বিএনপি বা লীগের ছুপা দালাল। যাদের কাছে জুলাই মানে ছিল। নিজেদের পরিবার, প্রজন্ম আর প্রতিষ্ঠানের স্বার্থরক্ষা।” ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২০২৫ সালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মৃত্যুদণ্ড হয় শেখ হাসিনার। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা হয়েছে দুর্নীতির একাধিক মামলাতে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয়। সেই থেকে দলটি কার্যত রাজনীতির মাঠে নেই। বিভিন্ন সময় মিছিল-স্লোগানের চেষ্টা করলে গ্রেপ্তার হচ্ছেন দলটির নেতাকর্মীরা। ফেইসবুক পোস্টে মাহফুজ লেখেন, “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন থেকে উগ্রবাদীরা মাজারে হামলা করেছে, মসজিদ থেকে ভিন্নমতাবলম্বীদের বের করে দিয়েছে। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন হিন্দুদের উপর নিপীড়ন নিয়ে 'মজলুমগণ' চুপ ছিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন সেকুলার মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষজন এদেশে সরকার প্রযোজিত ডানপন্থার উত্থানে ভয় পেয়েছিল। “লীগ সেদিনই ব্যাক করেছে, যেদিন মবস্টারদের এ দেশে হিরো বানানো হয়েছিল। উগ্রবাদীর সেফ স্পেইস দেয়া হইসিল। লীগ সেদিনই ব্যাক করেছিল, যেদিন ব্যবস্থা বিলোপের বদলে ন্যুনতম সংস্কার ও ‘ঐকমত্য কমিশন’ নাম দিয়ে জনগণকে বিচ্ছিন্ন এবং হতাশ করা হল।” আওয়ামী লীগ সেদিনই ‘ব্যাক’ করেছিল, যে দিন ছাত্ররা বিপ্লবী সংগঠনে রূপ না নিয়ে ‘লুম্পেন চরিত্রের ক্লাব’ আর মবে রূপ নিয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন মাহফুজ। সব শেষে মাহফুজ লেখেন, “লীগ ফিরত আসবে। কারণ, সব দোষ মাহফুজ আলমের। প্রচারে- নিখিল বাংলাদেশের চিরকাল মজলুম-ডানপন্থী বলয়, অন্তরীণ কিচেনের দালাল-সুবিধাভোগী গুপ্ত বলয়, এবং দিস এন্ড দোস বটফোর্সেস, সিন্ডিকেট আর গং মানে গয়রহ।” এ দিকে তার এ স্ট্যাটাসের পর ফেসবুকে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হলে আরেকটি পাল্টা স্ট্যাটাস দেন তিনি। সেখানে মাহফুজ লেখেন, “যারা আগের পোস্টকে পর্যালোচনা হিসাবে পাঠ করেছেন, তাঁদের জন্য বলছি। আমাদের এখনকার কাজ হল- সকল নিপীড়নের বিরুদ্ধে, নিপীড়িতের পক্ষে থাকা। দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে বাংলাদেশের সকল নাগরিকের মানবাধিকারের পক্ষে থাকা। “হঠকারী, উগ্রবাদী এবং অন্তর্ঘাতমূলক রাজনীতিকে পরাস্ত করা। সংখ্যালঘু ও মাজারপন্থিদের উপর হামলার বিচার করার দাবি অব্যাহত রাখা। জুলাই গণহত্যার বিচারের দাবিকে প্রধান করে তোলা এবং বিচারের ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে থাকা। প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করতে বর্তমান সরকারকে বাধ্য করা। “বাংলার বহু ভাষা-সংস্কৃতিকে যাপন-উদযাপন করা এবং রিগ্রেসিভ-ডিফিটিস্ট কালচারাল লড়াইকে জায়গা না দেয়া। কালচারালি-ইন্টেলেকচুয়ালি যারা বিভিন্ন বর্গ থেকে জুলাইয়ের পক্ষে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরকে ঔন করা। লীগের ফ্যাসিস্টদের লক্ষ্যবস্তু এরাই।” যে যার জায়গা থেকে সক্ষম, যতবেশি সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি। একইসঙ্গে জুলাইয়ের পক্ষের সব শক্তির মধ্যে ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের একটি কমন স্পেইস/ল্যাঙ্গুয়েজ তৈরির আহ্বান করেন তিনি।

মোঃ ইমরান হোসেন মে ২০, ২০২৬
ছবি : সংগৃহীত

‘অনুপস্থিতি মানে নীরবতা নয়’, ফেরার বার্তা শেখ হাসিনার

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশে নতুন হোমকেয়ার ব্র্যান্ড ব্লিট্‌জের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু

ছবি: সংগৃহীত

রেস্তোরাঁ–হোটেলে প্রতিবন্ধীদের জন্য র‍্যাম্প ও টয়লেট না থাকলে লাইসেন্স বাতিল হবে

ছবি: সংগৃহীত
জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা ভাঙন নিয়ে যা বললেন চরমোনাই পীর

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের সমঝোতা কেন ভেঙে গেলো— এই বিষয়ে কথা বলেছেন দলটির আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম। তিনি বলেন, “সমঝোতায় নতুন দলের সংযুক্তি ও তাদের আসন বন্টনের বিষয়ে সমঝোতায় আগে থেকেই থাকা দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ না করে একক সিদ্ধান্ত নেওয়া, ভারত-আমেরিকার সঙ্গে গোপন বৈঠক করা, ইসলামের নিয়ম অনুয়ায়ী দেশ পরিচালনা না করে বিদ্যমান আইনে দেশ পরিচালনা করার অঙ্গীকার করা, মার্কিনিদের সঙ্গে বৈঠকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশকে উগ্রবাদী বলে সার্টিফাই করার প্রেক্ষিতে সমঝোতা ভেঙ্গে যায়। এরপরেও নানা প্রচেষ্টা করা হয়— কিন্তু সমঝোতা রক্ষা করা যায় নাই বলেও জানান তিনি।       সোমবার (১৮ মে) পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করার সময়ে তিনি এসব কথা জানান।     মতবিনিময় সভায় চরমোনাই পীর বলেন, কেবল এমপি ও মন্ত্রীত্বের জন্য আমরা রাজনীতি করি না। আমরা কেবলই ইসলাম, দেশ-জাতি ও মানবতার পক্ষেই অটল-অবিচল থাকবো। আগামীতেও এসবের ভিত্তিতে জোট হতে পারে।    জুলাই সনদের ব্যাপারে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে পালন করার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার ওপরে আস্থা রাখতে চাই।    নির্বাচন পরবর্তী কাজের ব্যাপারে বলেন, নির্বাচনের পরে একটি বিশেষ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি। দলের ভেতরে নানা সংস্কার চলছে। প্রশিক্ষণের কাজ চলছে।   যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিকে গোলামির চুক্তি আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি করেন চরমোনাই পীর।      পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি তুলে ধরে চরমোনাই পীর বলেন, বিজেপি যা করছে তা কোনও সভ্যরাষ্ট্র করতে পারে না। তাদের ধর্মনিরপেক্ষতার দাবি মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত করছে। ভারতকে এই বর্বরতা থেকে বিরত থাকতেই হবে।   এই সভা থেকেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম ঢাকার দুই সিটিতে নিজ দলের মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী হিসেবে ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি আতিকুর রহমান মুজাহিদ এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম মারুফের নাম ঘোষণা করেন তিনি।  

মো: দেলোয়ার হোসাইন মে ১৯, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী ঘোষণা, সিইসির কপালে চিন্তার ভাঁজ

বিএনপির কোণঠাসা প্রবীণ নেতারা ঠাঁই পেতে পারেন মন্ত্রিসভায়

কলেজ নয় যেন সনদ জালিয়াতির কারখানা

বিএনপি ও জামায়াতের লোগো
বিএনপি-জামায়াতের বিরোধিতা কি ‘লোকদেখানো’

নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাদের মধ্যে বিভিন্ন ইস্যুতে তুমুল বিরোধিতা দেখা গেলেও সরকার গঠনের পর থেকেই সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে। দল দুটি সরকার ও বিরোধী আসনে থাকলেও তাদের মধ্যে কিছু ক্ষেত্রে এক ধরনের ‘বোঝাপড়া আছে’ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি ও আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়েও দুপক্ষের অঘোষিত ঐক্য দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় নেতার মাঝে বৈঠক, জ্বালানি ইস্যু, বিরোধী এমপিদের এলাকায় উন্নয়ন, স্থানীয় পর্যায়ে বিচার-সালিশ ও হাঁট-বাজারের ইজারাসহ বেশ কিছু ক্ষেত্রে দুইপক্ষের মধ্যেই এক ধরনের সমন্বয় রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একটি অংশ। তারা বলছেন, দুই দলের দৃশ্যমান বিরোধিতা দেখা গেলেও ভেতরে ভেতরে তাদের মধ্যে ঐক্য ঠিকই আছে।  ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সঙ্গে মিত্রতা ছিল দীর্ঘদিনের। গত দুই দশক রাজপথ থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা সব ক্ষেত্রেই ছিল তাদের দহররম-মহররম সম্পর্ক। তবে ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দলেরই পথ হয়ে যায় আলাদা। বিশেষ করে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় দুই দলের শীর্ষ নেতারাই একজন আরেকজনকে লক্ষ্য করে অভিযোগের তির ছোড়েন। বিএনপির পক্ষ থেকে জামায়াতকে ‘স্বাধীনতাবিরোধী’, আবার জামায়াতের নেতারা বিএনপিকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যায়িত করে বক্তব্য দেন। রাজধানী থেকে তৃণমূল পর্যায়ে বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। তবে নির্বাচনের পর এ চিত্রের অনেকটা পরিবর্তন ঘটে। ‘আমরা বিরোধিতার খাতিরে বিরোধিতা করবো না। সরকারের ভালো কাজেরও প্রশংসা করবো,’ সম্প্রতি বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের এমন বক্তব্যের পর এ ধরনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। অবশ্য দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এমন ঐক্য সময়োপযোগী বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতি ভঙ্গুর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট—সব মিলিয়ে দেশের অবস্থা ভালো নয়। তাই দেশের স্বার্থে সরকার যদি বাণিজ্যিক কোনও সিদ্ধান্ত নিতে চায়, সেটি ইতিবাচক হলে অবশ্যই বিরোধী দলের সহযোগিতা করা উচিত। আর আওয়ামী লীগ প্রশ্নেও তাদের বোঝাপড়া থাকা দরকার। কারণ দুইপক্ষই বিগত দিনে নির্যাতিত হয়েছে। তাই দেশের প্রয়োজনে সরকার ও বিরোধী দলের ঐক্য জরুরি।’ জ্বালানি সংকট নিয়ে ঐক্যের সূচনা ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে গত ফেব্রুয়ারি থেকেই দেশে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করে। প্রতিটি পাম্পেই ছিল যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। এ নিয়ে যখন অচলাবস্থা বিরাজ করছিল, তখন সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে এক ধরনের ঐক্য তৈরি হয়। গত ২৪ এপ্রিল সংসদের ২০তম অধিবেশনে দুপক্ষের মধ্যে কমিটি গঠন করা হয়। সেদিন বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এতে সারা দেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কথা বলার আগ্রহ জানিয়ে স্পিকারের কাছে বার্তা পাঠান তিনি। বক্তব্যে তুলে ধরেন ১০ সদস্যের কমিটি গঠনের মাধ্যমে আলোচনা করার। পরে বিদ্যুৎ জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে প্রধান করে সরকার দলের ৫ সদস্যের নাম ঘোষণা করেন সংসদ নেতা। এদিকে, বিরোধী দল থেকেও পাঁচ সদস্যের নাম চান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান। পরে পাঁচ সদস্যের তালিকা দেয় বিরোধী দল। এসব কমিটির কারণে এ সংকট নিরসন হয় বলে দুই পক্ষেরই দাবি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে অভিন্ন অবস্থান জুলাইয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত কোনও সত্তার যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান যুক্ত করে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ অনুমোদন করেছে জাতীয় সংসদ। গত বছর ওই অধ্যাদেশের বলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সেখানেও সরকার ও বিরোধী দলের তেমন দ্বিমত নেই। গত ৯ এপ্রিল দুপুরে জাতীয় সংসদে এ সংক্রান্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল’ পাস করা হয়। এই অধ্যাদেশের বিষয়বস্তুতে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। এতে কোনও সত্তাকে নিষিদ্ধের পাশাপাশি তার কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ক্ষমতাও এই আইনে থাকছে। আগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে কোনও ব্যক্তি বা সত্তাকে নিষিদ্ধের বিধান থাকলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিধান ছিল না। ওই অধ্যাদেশকে আইনে রূপ দিতে জাতীয় সংসদে বিল পাস হয়। এর মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। সেখানে জামায়াতের আমির সংসদে আলোচনার কথা বললেও সরকারি দল এতে আগ্রহ দেখায়নি। আর বিরোধী দলও তেমন জোরালো আপত্তি করেনি। বাণিজ্যচুক্তিতে দুইপক্ষের সম্মতি নিয়ে আলোচনা নির্বাচনের তিন দিন আগে করা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তির বিষয়েও সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের এক ধরনের ঐক্য রয়েছে বলে বিভিন্ন মহল থেকে কথা উঠেছে। বিশেষ করে প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের পক্ষ থেকে সংসদে আলোচনা বা রাজপথে কোনও আন্দোলন না থাকায় এ ধরনের আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে। বিরোধী দল যখন সংসদে এ সংক্রান্ত আলোচনা উপস্থাপন করেনি, সেখানে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা আলোচনা করতে চাইলেও সুযোগ দেয়নি সরকারপক্ষ। তবে এই চুক্তিতে নিজেদের সম্পৃক্ততা বরাবরই অস্বীকার করে আসছে বিরোধী দল জামায়াত। সর্বশেষ গত ১৬ মে রংপুরে দলীয় কর্মসূচিতে এ নিয়ে মুখ খোলেন দলটির আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি অত্যন্ত দায়িত্ব নিয়ে বলছি, তৎকালীন সরকারের পক্ষ থেকে কোনও একজন মানুষও এ বিষয় নিয়ে আমাদের সঙ্গে একটি শব্দ উচ্চারণ করেনি। এটাই হচ্ছে আমাদের ওপিনিয়ন।’ জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি-সিপিবির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ‘‘তথাকথিত বিরোধী দল যতই সরকারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করুক, দেশের মানুষের তা বোঝার বাকি নেই। তারা মূলত ‘আমরা আর মামুরা’ টাইপের সরকার চালাচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘বাণিজ্যচুক্তিতে দুইপক্ষেরই সম্মতি ছিল। আমাদের বিশ্বাস—তারা এ নিয়ে জবাবদিহি করবে না। তাই রাজপথে বিরোধী দল হিসেবে আমাদেরই ভূমিকা রাখতে হবে।’’ দুই ধরনের ব্যাখ্যা নেতাদের সরকার ও বিরোধী দল আসলে কি লিয়াজোঁ রক্ষা করে চলছে? এমন প্রশ্নে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সহ-সাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন বলেন, ‘বর্তমান সরকার ও বিরোধী দল একে অপরের সহযোগী। অথচ বাইরে বিরোধিতার অভিনয় করছে। এতে জনগণের অধিকার বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কা থাকবে।’ এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘আমরা জনগণের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকারকে ছাড় দিচ্ছি না। তবে ইতিবাচক কাজের প্রশংসা করলেও যেকোনও অন্যায় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সংসদ ও রাজপথে আমাদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে।’ তবে ভিন্ন কথা বলছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান।তিনি বলেন, ‘সরকার তার নিজস্ব গতিতেই চলছে। জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনও পদক্ষেপ এখনও পর্যন্ত নেয়নি। আর বিরোধী দল কখন কী অবস্থান নেয়, সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার।’

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

দেশে ইরেকটাইল ডিসফাংশন থাকা ৮০ ভাগ পুরুষের উচ্চ রক্তচাপ: জরিপ

হেফাজত আমিরের সঙ্গে মামুনুল হকের সাক্ষাত: জামায়াত নিয়ে বার্তা

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নতুন কমিটি, ছাত্রদল বলছে হাস্যকর

0 Comments