সারাদেশ

স্ত্রীর জানাজায়ও আসলেন না আলভী, শায়িত হলেন ইকরা

মারিয়া রহমান মার্চ ০১, ২০২৬ 0
আফরা ইভনাথ খান ইকরা ও অভিনেতা যাহের আলভী। ছবি : সংগৃহীত
আফরা ইভনাথ খান ইকরা ও অভিনেতা যাহের আলভী। ছবি : সংগৃহীত

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা যাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইভনাথ খান ইকরার দাফন সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (১ মার্চ) বাদ আসর ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের রান্দিয়া গ্রামে নানা বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা থেকে ইকরার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে এলাকার আকাশ-বাতাস।

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ইকরার বাবা তার মেয়ের মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, অভিনেতা যাহের আলভী এবং তার মায়ের ক্রমাগত মানসিক প্ররোচনা ও নির্যাতনের কারণেই ইকরা আত্মহননের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

স্বজনদের দাবি, দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে ইকরাকে চরম বঞ্চনা ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়েছে। তাদের অভিযোগ, আলভীর অনৈতিক জীবনযাপন ও অবহেলাই এই করুণ পরিণতির মূল কারণ।

উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে ইকরার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার সময় অভিনেতা যাহের আলভী ঈদুল ফিতরের নাটকের শুটিংয়ে নেপালে অবস্থান করছিলেন।

ইকরার মৃত্যুর পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কিছু ব্যক্তিগত চ্যাটের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে আলভীর বিরুদ্ধে এক সহ-অভিনেত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছিলেন ইকরা। ওই কথোপকথনে তার চরম মানসিক বিপর্যস্ত হওয়ার চিত্রও ফুটে ওঠে।

জনপ্রিয় অভিনেতার স্ত্রীর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে ভালুকার ওই গ্রামসহ সারা দেশে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী ও ভক্তদের দাবি, এই মৃত্যুর পেছনে যদি কারো প্ররোচনা থাকে, তবে তাকে যেন অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হয়।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সারাদেশ

আরও দেখুন
আগুন লাগার দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত
চট্টগ্রামে ট্রেনে আগুন নিয়ন্ত্রণে, পুড়ে গেছে ২ বগি

‎চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের পাওয়ার কার বগিতে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তবে আগুনে পুড়ে গেছে পাওয়ার কার ও পাশের যাত্রীদের এসি বগি। এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি।   বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকাল পৌনে ৭টার দিকে উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের বিএমএ গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি পোর্ট লিংক গেট অতিক্রমের একটি বগিতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি গেটম্যানকে জানালে তিনি রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে আগুন লাগা বগি দুটিকে আলাদা করে ফেলা হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এসময় ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির সৈনিকরা। কুমিরা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সাব-অফিসার আহসান আলী বলেন, খবর পেয়ে ৬টা ৫৫ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। এতে সহযোগিতা করেছেন বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমির সেনাবাহিনীর সৈনিকরা। যার কারণে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। ট্রেনের যাত্রীরা দ্রুত নেমে যাওয়াতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষতিগ্রস্ত বগি দুটির মধ্যে একটি হলো যাত্রীবাহী, আরেকটি হলো ইঞ্জিন বগি।   ফৌজদারহাট রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আবুল কালাম আজাদ বলেন, চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনের দুটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় ট্রেনের পাওয়ার কার বগি থেকে। যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে যাওয়াতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পায়। ঢাকামুখী লেনে ট্রেন চলাচল কিছুক্ষণ বন্ধ থাকলেও এখন স্বাভাবিক রয়েছে।

মোঃ ইমরান হোসেন মার্চ ২৬, ২০২৬ 0
আগুনে পুড়ছে রেলের ইঞ্জিন। ছবি: সংগৃহীত

ঢাকাগামী চট্টলা এক্সপ্রেসে অগ্নিকাণ্ড

ছবি : সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে ৬২টি মোবাইল উদ্ধার, চোর চক্রের ১২ জন গ্রেপ্তার

৯০ ফিট পানির নিচে ছিল বাস, টেনে তোলা হয়েছে ৫০ ফিট

ভারত থেকে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছাবে শুক্রবার (২৭ মার্চ)।
ভারত থেকে আসছে আরও ৫ হাজার টন ডিজেল

ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে নতুন করে আরও ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে পৌঁছাবে আগামী শুক্রবার (২৭ মার্চ)। বিশ্ববাজারে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এটি ভারত থেকে পাইপলাইনে আসা ডিজেলের দ্বিতীয় চালান। পার্বতীপুর ডিপোর ব্যবস্থাপক আহসান হাবিব জানান, বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল থেকে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে পাইপলাইনে পাম্পিংয়ের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। পরবর্তী ৬০ ঘণ্টার মধ্যে এই বিশাল পরিমাণ ডিজেল পার্বতীপুর ডিপোর সংরক্ষণাগারে এসে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর আগে, গত ১৩ মার্চ প্রথম চালানে ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এসেছিল। ডিপো সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সেখানে ডিজেলের মজুত রয়েছে ২২ লাখ ১৫ হাজার লিটার, যেখানে ধারণক্ষমতা ৫৭ লাখ লিটার। এ ছাড়া পেট্রোল ১২ হাজার লিটার, অকটেন ১৬ হাজার লিটার এবং কেরোসিন ৭০ হাজার ২৮৭ লিটার মজুত রয়েছে। বর্তমান এই মজুত দিয়ে আগামী সাতদিন সরবরাহ সচল রাখা সম্ভব হবে। নতুন চালানটি পৌঁছালে জ্বালানি নিরাপত্তা আরও সুদৃঢ় হবে। কৃষিপ্রধান উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় সেচ কাজ এবং যানবাহন চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ২০১৭ সালে ভারতের সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে মোট ১ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পেয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, ডিজেল আমদানিতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ কোটি টাকা। এর একটি অংশ বিপিসি নিজস্ব অর্থায়নে এবং বাকি অংশ ব্যাংক ঋণের মাধ্যমে পরিশোধ করবে। এ ছাড়া আগামী চার মাসের মধ্যে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে অতিরিক্ত আরও ৫০ হাজার টন ডিজেল আমদানির জন্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব দিয়েছে বিপিসি। উল্লেখ্য, প্রতিবেশী দেশটি পাইপলাইনের মাধ্যমে ২০২৩ সালে ৩৫ হাজার ৭১৮ মেট্রিক টন, ২০২৪ সালে ২৮ হাজার ২০৪ মেট্রিক টন এবং ২০২৫ সালে ১ লাখ ২৪ হাজার ২১৬ মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহ করেছে।

মারিয়া রহমান মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
জ্বালানি তেল। ছবি: সংগৃহীত

ডিজেলের মজুত পর্যাপ্ত, পেট্রোল-অকটেনে ঘাটতির আশঙ্কা

ছবি : সংগৃহীত

সিএমপিতে বড় রদবদল, একসঙ্গে সরলেন তিন থানার ওসি

ছবি : সংগৃহীত

জামালপুরে ৩ হাজার লিটার পেট্রোলসহ ৭ জন আটক

ছবি: সংগৃহীত
কলার মোচা দেখিয়ে ট্রেন দুর্ঘটনা ঠেকানো এনামুলকে সম্মাননা

ফুলবাড়ী-বিরামপুর রেলপথের পূর্ব চন্ডীপুর এলাকায় গত সোমবার পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে কলার মোচা দেখিয়ে দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করা মো. এনামুল হককে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে।   মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাজশাহী রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে এক অনুষ্ঠানে তাকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও নগদ অর্থ প্রদান করেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী ফরিদ আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ফরিদ আহমেদ বলেন, নিজের বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে নিশ্চিত ট্রেন দুর্ঘটনা থেকে কয়েকশ মানুষকে রক্ষা করায় এনামুল হককে সম্মাননা দিতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির আশঙ্কা ছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিক বুদ্ধিমত্তায় এনামুল ট্রেন থামিয়ে বড় বিপদ এড়িয়েছেন। রেললাইনের আশপাশে বসবাসকারী মানুষদের এ ধরনের সহযোগিতা রেল পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রেলপথের অবস্থা নিয়ে তিনি বলেন, পশ্চিমাঞ্চলের অনেক রেললাইন পুরোনো হওয়ায় সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য একটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে রেলপথ আরও নিরাপদ হবে। সম্মাননা পাওয়া এনামুল হক বলেন, পূর্ব চন্ডীপুর এলাকায় রেললাইনের পাশে হাঁটার সময় প্রায় এক ফুট অংশ ভাঙা দেখতে পান। তখন কী করবেন বুঝতে না পেরে স্থানীয়দের রেলওয়ে অফিসে ফোন করতে বলেন এবং লাল কাপড় না পেয়ে কলার মোচা ব্যবহার করে ট্রেনকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি বলেন, কলার মোচার পাপড়ি লাঠিতে বেঁধে রেললাইনে দাঁড়িয়ে সংকেত দেন। কয়েক মিনিটের মধ্যে পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি এসে তার সংকেত দেখে নিরাপদ দূরত্বে থেমে যায়। এ কাজটি করতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছেন বলে জানান এনামুল। অনুষ্ঠানে পশ্চিমাঞ্চল রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

মো: দেলোয়ার হোসাইন মার্চ ২৫, ২০২৬ 0
ছবি: সংগৃহীত

২৫ মার্চ ‘কালরাত’ স্মরণে ব্ল্যাকআউট কর্মসূচি শেষ মুহূর্তে বাতিল

ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস জমে ঘরই পরিণত হলো ‘মরণফাঁদে’

ছবি : সংগৃহীত

ঝিনাইদহে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, চড়া দামে খোলা বাজারে বিক্রির অভিযোগ

0 Comments