আফগানিস্তানে ফের ভয়াবহ ভূমিকম্পের আঘাত হেনেছে। কম্পনের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। তবে কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটের দিকে এই ভূমিকম্প হয় বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে ভারতের ভূকম্পণ পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি (এনসিএস)।
পৃথক এক বিবৃতিতে মার্কিন ভূতত্ত্ব গবেষণা ও জরিপ সংস্থা ইউএসজিস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল বা এপিসেন্টার ছিল দেশটির বাদাখশান প্রদেশের জুর্ম জেলায়।
ভূমিকম্পে এখনো কোনো ক্ষতি বা হতাহতের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানে ভূমিকম্প বিরল কোনো দুর্যোগ নয়। ভৌগলিকভাবে উচ্চমাত্রার সিসমিক জোনের ওপর অবস্থানের কারনে প্রায়েই ভূমিকম্প হয় দেশটিতে।
এর আগে গত ২৭ জুন ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল আফগানিস্তানে। সেই ভূমিকম্পেও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানে সর্বশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্প হয়েছিল ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার সেই ভূমিকম্পে বাড়িঘরের ছাদ-দেয়াল ধসে নিহত হয়েছিলে ৭ জন এবং আহত হয়েছিলেন ১৫০ জন।
সূত্র : এনডিটিভি
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে দায়িত্বরত দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) জওয়ান সহকর্মীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন জওয়ান গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেল ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগর বিএসএফ ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, বৈষ্ণবনগরে বিএসএফের ১১৯ ও ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে দুই ব্যাটালিয়নের কয়েকজন জওয়ানের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে ১১৯ নম্বর ব্যাটালিয়নের জওয়ান শিবম মিশ্র সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের দুই জওয়ান—অজয় কুমার সিং (৫১) ও আম্বদর সুরেশ দরগু (৩৭)—নিহত হন। আহত হন একই ব্যাটালিয়নের সদস্য বিকাশ ব্রহ্ম। গুরুতর অবস্থায় তাকে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত অজয় কুমার সিং বিহারের ছাপরা জেলার বাসিন্দা। অন্য নিহত আম্বদর সুরেশ দরগুর বাড়ি মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলায়। আহত বিকাশ ব্রহ্ম পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার পোলবা এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত দুই জওয়ানের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে ওই জওয়ান সহকর্মীদের ওপর গুলি চালিয়েছেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। খবর পেয়ে বৈষ্ণবনগর থানার পুলিশ ও বিএসএফের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত জওয়ানকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ এবং বিএসএফ পৃথকভাবে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে।
জার্মানির শহরে যে দামে একটি ফ্ল্যাট কেনা যায়, সেই একই দামে বিক্রি হচ্ছে ১৫টি বাড়িসহ একটি ছোট্ট গ্রাম। তবে এর সঙ্গে রয়েছে একটি বড় আইনি জটিলতাও। ইউরোনিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জার্মানির থুরিঙ্গিয়া অঙ্গরাজ্যের কামসডর্ফ এলাকায় প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার ইউরো দামে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে পুরো গ্রামটি। ২৪ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে থাকা এই সম্পত্তিতে রয়েছে ১৫টি একতলা ভবন, প্রতিটির আয়তন প্রায় ১০০ বর্গমিটার। এছাড়া ৩০০ বর্গমিটারের একটি বড় ভবন রয়েছে, যেটা আগে ক্যান্টিন হিসেবে ব্যবহার করা হতো। সম্পত্তির মালিক ফ্রানৎস এবারিশ জানিয়েছেন, তিনি শুধু জমি বিক্রি করতে চান না; এমন একজন ক্রেতা খুঁজছেন, যিনি জায়গাটিকে নতুনভাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখবেন। এই গ্রামটি ১৯৫৪-৯০ সাল পর্যন্ত পূর্ব জার্মানির সময় শিক্ষানবিশদের আবাসন এবং পরে অবকাশযাপন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হতো। পরে দীর্ঘদিন এটি পরিত্যক্ত ছিল। ২০১৪ সালে জায়গাটি কিনে প্রকৃতির কাছাকাছি একটি আবাসিক ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেন এবারিশ। কিন্তু পরে জানা যায়, পরিকল্পনা আইনের কারণে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি পাওয়া সহজ নয়। জার্মান কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় জায়গাটির আগের আবাসিক মর্যাদা বাতিল হয়ে গেছে। ফলে সেখানে নতুন করে আবাসিক প্রকল্প গড়তে হলে বিশেষ অনুমোদন বা নতুন উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন হবে। এবারিশের পরিকল্পনা হলো, এখানে ফিজিওথেরাপি, যোগব্যায়াম, প্রাকৃতিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন সেবাকেন্দ্র নিয়ে একটি স্বাস্থ্যগ্রাম গড়ে তোলা। তবে প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে তিনি প্রকল্পটি এগিয়ে নিতে পারছেন না। এমনকি মজা করে তিনি টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কের কাছেও প্রায় ১০ লাখ ইউরো বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। বিনিময়ে নিজের আলপাকা খামারে মাস্ককে অবকাশ যাপনের আমন্ত্রণও দিয়েছেন।
বালেন্দ্র শাহ প্রথম দিকে নেপাল সফরে আসা যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গেও দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন। কাঠমান্ডুতে নিযুক্ত বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে একান্ত বা দ্বিপক্ষীয় বৈঠক না করার যে নিয়ম এত দিন ধরে নিজে মেনে চলছিলেন, চলতি সপ্তাহে তা ভাঙতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী এবং কূটনৈতিক সূত্রগুলো দ্য পোস্ট-এর কাছে নিশ্চিত করেছে যে প্রধানমন্ত্রী ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করতে যাচ্ছেন। বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা না হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে চলতি সপ্তাহেই এই বৈঠকগুলো অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ করার পরপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। নেপালের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক চর্চায় এক বড় পরিবর্তন এনে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এককভাবে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন শাহ। এর পরিবর্তে তিনি গত ৯ এপ্রিল এবং ২৬ মে কাঠমান্ডুতে দায়িত্বরত রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে যৌথভাবে বৈঠক করেন। নেপালি কূটনীতিক, পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ও পর্যবেক্ষকদের কাছে তাঁর এই পদক্ষেপ কূটনৈতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও সমতাভিত্তিক পদ্ধতি হিসেবে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছিল। এর একমাত্র ব্যতিক্রম ছিল ৬ জুলাই থেকে নেপালে তিন দিনের সফরে আসা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) প্রেসিডেন্ট মাসাতো কান্দার সঙ্গে তাঁর বৈঠকটি। এমনকি দেশের অভ্যন্তরীণ অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গেও এর আগে বৈঠক এড়িয়ে চলতেন শাহ। তবে সম্প্রতি তিনি ব্যবসায়ী, ঠিকাদার, শিল্পপতি এবং রপ্তানিকারকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। প্রধানমন্ত্রীর এক সহকারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দুই সপ্তাহ ধরে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক শুরু করেছেন। আমরা এখন এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে তাঁর বিদেশি রাষ্ট্রদূত এবং কূটনীতিকদের সঙ্গেও আলোচনা করা উচিত। নেপালের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারের কথা বিবেচনা করলে আমাদের দুই প্রতিবেশী ভারত ও চীনের রাষ্ট্রদূতদের দিয়ে এটি শুরু করাটাই স্বাভাবিক।’ নয়াদিল্লি ও বেইজিং—উভয়ই যে নেপালের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ, তা প্রমাণ করতে শাহ একই দিনে ভারতের রাষ্ট্রদূত নবীন শ্রীবাস্তব এবং চীনের রাষ্ট্রদূত ঝাং মাওমিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন বলে সূচি নির্ধারিত হয়েছে। গত ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর শাহ শুরুতে নেপাল সফরে আসা মার্কিন সরকারের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গেও দেখা করতে রাজি হননি। কাঠমান্ডুতে মার্কিন দূতাবাসের পক্ষ থেকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সমীর পল কাপুর এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গোরের সঙ্গে বৈঠকের অনুরোধ জানানো হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এমনকি নেপাল সফরের সময় মার্কিন জনকূটনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি অব স্টেট সারাহ বি রজার্সও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি। অতীতে দেখা গেছে, নেপালের নতুন নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীরা দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা সরকারি বাসভবনে বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে এককভাবে সাক্ষাৎ করতেন।