বিশ্ব

ভারতের সেনাপ্রধানের ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারির জবাব দিল পাকিস্তান

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী ‘পাকিস্তান ভূগোলে নাকি ইতিহাসে থাকবে’- এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর এর কড়া জবাব দিয়েছে ইসলামাবাদ।

রোববার পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতকে সতর্ক করে বলেছে, এ ধরনের বক্তব্য দক্ষিণ এশিয়াকে এই অঞ্চলের জন্য বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনার মতো আরেক সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

আইএসপিআর জানায়, পাকিস্তান পারমণিবক শক্তিধর একটি দেশ, বৈশ্বিক পর্যায়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র এবং দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ভূগোলের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পাকিস্তানকে নিশানা করার কোনও চেষ্টা চললে এর পরিণতি কেবল ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং দক্ষিণ এশিয়ার সামগ্রিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলবে।

এর আগে ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী শনিবার নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় পাকিস্তানকে কঠোর সামরিক হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেছিলেন, পাকিস্তান অবিলম্বে তাদের মাটিতে সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দেওয়া এবং ভারতের বিরুদ্ধে অপতৎপরতা চালানো বন্ধ না করলে তারা ভবিষ্যতে বিশ্বের ভূগোলে (মানচিত্র) থাকবে, নাকি ইতিহাস হয়ে যাবে সে বিষয়ে তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

দিল্লির ওই আলোচনা সভায় উপন্দ্রকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গত বছর যে পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানে অপারেশন সিঁদুর চালিয়েছিল ভারত,তা আবার ঘটলে ভারতীয় সেনাবাহিনী কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। এর জবাবেই উপেন্দ্র ওই কথা বলেন।

ভারতীয় সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যের পরদিনই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ওই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া এসেছে।

পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে ভারতকে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, এ ধরনের ঔদ্ধত্যপূর্ণ, উগ্র-জাতীয়তাবাদী এবং সংকীর্ণ মানসিকতা দক্ষিণ এশিয়াকে বারবার যুদ্ধ ও সঙ্কটের দিকে ঠেলে দিয়েছে। আট দশক পার হওয়ার পরও ভারতের নেতৃত্ব পাকিস্তানের মূল ধারণার সঙ্গে একাত্ম হতে পারেনি এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষাও নেয়নি।

আইএসপিআর এর বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সার্বভৌম একটি পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশী দেশকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার হুমকি দেওয়াটা আসলে কাণ্ডজ্ঞানহীনতা, পাগলামি এবং যুদ্ধংদেহী মনোভাব।

পাকিস্তান মনে করিয়ে দিয়েছে, কোনও সার্বভৌম পারমাণবিক শক্তিধর দেশকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা করা হলে তার পাল্টা জবাবও হবে সমমানের এবং ব্যাপক। এই ধ্বংসযজ্ঞ একতরফা হবে না, তা দু’দেশের জন্য এবং সামগ্রিকভাবে গোটা অঞ্চলের জন্য ডেকে আনবে বিপর্যয়।

পাকিস্তান অভিযোগ করে বলেছে, ভারত এই অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা, আন্তঃসীমান্ত হত্যাকাণ্ড এবং বৈশ্বিক অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।

Popular post
হাইকোর্টের রুল জারি, কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতি কেন অবৈধ নয়

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে। 

কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতি বিতর্ক : উদ্বেগে দুই শতাধিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।   

কৃষি ব্যাংকের ‘ভুয়া সিবিএ সভা’ ঘিরে চাঞ্চল্য

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে।  অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

কৃষি ব্যাংকে ভুয়া সিবিএ নেতাদের কোটি টাকারও বেশি চাঁদাবাজি

অভিনব কায়দায় চাঁদাবাজিতে নেমেছে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একদল ভুয়া সিবিএ নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা বিশেষ সাধারণ সভা আয়োজনের নামে সারা দেশের শাখাগুলো থেকে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় করছে। তথ্যসূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (সিবিএ), রেজি. নং বি-৯৮৫-এর নাম ব্যবহার করে আগামী ২০ অক্টোবর ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ শিরোনামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজনের ঘোষণা দেয় একদল ভুয়া নেতা। এ উপলক্ষে তারা ব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ২৫০টি ইউনিট থেকে ১০-২০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায় করে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উঠে। গোপন সূত্র জানায়, তাদের নিয়ন্ত্রিত লোকজন শাখা পর্যায়ে বদলি ও পদোন্নতির ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপ-মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, তারা এসব কর্মকাণ্ডে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করলেও এ সিন্ডিকেটের ভয়ে কিছু বলার সাহস পাচ্ছেন না। এ ঘটনায় ব্যাংকের মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ ও আস্কারায় চাঁদাবাজি চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রাপ্ত আমন্ত্রণপত্রে দেখা গেছে, ভুয়া সভাপতি দাবিকারী কৃষি ব্যাংকের সাবেক পিয়ন ফয়েজ আহমেদ ও ভুয়া সাধারণ সম্পাদক মিরাজ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির, উদ্বোধক হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন এবং প্রধান বক্তা হিসেবে সাধারণ সম্পাদক নূরুল ইসলাম খান নাসিমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। কয়েকজন মহাব্যবস্থাপক জানান, তারা বিভিন্ন শাখা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেয়েছেন এবং বিষয়টি ব্যবস্থাপনা পরিচালক অবগত আছেন বলে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানটি কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত হওয়ায় তারা কার্যত কিছু করতে পারছেন না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও একই সিন্ডিকেট শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে প্রায় ৫০ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করেছিল। সেই টাকা তারা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, চাঁদাবাজ ও তাদের মদদদাতাদের সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা বহিরাগত অনুপ্রবেশকারী। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাধারণ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এসব ভুয়া সিবিএ নেতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা দাবি করেছেন। তাদের আশঙ্কা, এসব কর্মকাণ্ডের নেতিবাচক প্রভাব আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে পড়তে পারে।  

হালিম হত্যার আসামিরা পলাতক, ধামাচাপা দিচ্ছে প্রশাসন

বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সংঘটিত এজাহারভুক্ত হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ ও মিরাজ হোসেন পলাতক রয়েছেন। ব্যাংক প্রশাসন বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। খুনের শিকার কৃষি ব্যাংকের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী আব্দুল হালিম ছিলেন কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) সভাপতি। তার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি স্থানীয়ভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১ নম্বর আসামি হিসেবে অবসরপ্রাপ্ত পিয়ন ফয়েজ উদ্দিন আহমেদ এবং ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেনের নাম রয়েছে। তারা বর্তমানে নিজেদের সিবিএ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দাবি করে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন। ব্যাংক সূত্রে গেছে, তারা চাঁদাবাজি, ঘুষ আদায় ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। সূত্র জানায়, ব্যাংকের ভেতরে একটি সিন্ডিকেটের প্রভাবেই এসব আসামিরা এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন। এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্বে আছেন মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেন। এতে আরও যুক্ত রয়েছেন ডিজিএম সৈয়দ লিয়াকত হোসেন, হাবিব উন নবী, ডিএমডি খালেকুজ্জামান জুয়েল ও ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী। গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে মতিঝিলের বিমান অফিসের সামনে আব্দুল হালিমের মৃত্যু হয়। পরদিন সকালে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায়। মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক সজীব কুমার সিং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে জানান, পুরনো সহকর্মীদের সঙ্গে বিরোধের জেরে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং রাত ১টা ৪০ মিনিটে হাসপাতালে মারা যান। হালিমের ছেলে ফয়সাল বলেন, তার বাবা ২০১৪ সাল থেকে কৃষি ব্যাংক সিবিএর সভাপতি ছিলেন এবং বোয়ালখালী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। ইউনিয়নের নেতৃত্ব ও পদ নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে গত নভেম্বরেই মতিঝিল থানায় একটি জিডি (নং ০৫/১১/২০২৪ - ৩৩৫) করেছিলেন তার বাবা। তিনি আরও বলেন, বুধবার রাতে আমার বাবাকে তার অফিসের সহকর্মীরা মারধর করে হত্যা করেছে। সিবিএর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক নাসিম আহমেদ জানান, ২০১৪ সালে আমরা নির্বাচিত হই। এরপর আর কোনো নির্বাচন হয়নি। কিন্তু গত ৫ আগস্ট বিনা নির্বাচনে নতুন কমিটি ঘোষণা করে আমাদের অফিস দখল করে নেয় ফয়েজ ও মিরাজ। এ নিয়ে মামলা চলছে। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিরা অস্থায়ী জামিনে ছিলেন। সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকজন পলাতক রয়েছেন—যাদের মধ্যে আছেন ড্রাইভার সাইফুল, শাহেদ, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মেহেদী ও অবসরপ্রাপ্ত ক্লিনার সিরাজ। এদিকে, মামলার ২ নম্বর আসামি মিরাজ হোসেন নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। যদিও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামির নৈমিত্তিক ছুটি পাওয়ার কোনো এখতিয়ার নেই। মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক এ বিষয়ে বলেন, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন।  কিন্তু স্থানীয় মুখ্য কার্যালয়ের প্রধান মহাব্যবস্থাপক জানান, তিনি কোনো মন্তব্য করতে চান না। কারণ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মন্তব্য না করার নির্দেশ দিয়েছেন। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অভ্যন্তরীণ এই পরিস্থিতিতে কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ইরানের জন্য ছয়টি স্থল করিডোর চালু করেছে পাকিস্তান। ফাইল ছবি: আল-মনিটর
ইরানের ‘দুবাই’ হওয়ার পথে পাকিস্তান

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞার কারণে করাচি বন্দরে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আটকে আছে ইরানগামী প্রায় ৩ হাজার কনটেইনার। এই জটিলতা কাটাতে এবং বাণিজ্য সচল রাখতে ইরানের জন্য ছয়টি স্থল করিডোর বা সড়কপথ উন্মুক্ত করেছে পাকিস্তান। জরুরি লজিস্টিক পদক্ষেপ হিসেবে এটি শুরু হলেও বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপ শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদের কৌশলগত প্রভাব বাড়াতে পারে এবং আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতিতে তেহরানের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক সংবাদমাধ্যম আল-মনিটর এ খবর জানিয়েছে। ইরানের সঙ্গে ২০০৮ সালের একটি নিষ্ক্রিয় দ্বিপাক্ষিক সড়ক পরিবহন চুক্তি পুনরুজ্জীবিত করে গত ২৫ এপ্রিল পাকিস্তানের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি নির্দেশ জারি করে। এর মাধ্যমে করাচি, কাসিম ও গদাদর বন্দরকে ইরানের সীমান্তবর্তী গাবদ ও তাফতান অঞ্চলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। বেলুচিস্তানের তুর্বত, পাঞ্জগুর, খুজদার, কোয়েটা এবং ডালবান্দিনের ওপর দিয়ে যাওয়া এই রুটগুলো একটি ট্রানজিট কার্গো নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে। সামুদ্রিক বাণিজ্য অবরুদ্ধ হওয়ার এই সময়ে ইরানের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক স্বস্তির পথ। যদিও স্থলপথের পরিবহন সমুদ্রপথের চেয়ে ধীরগতির এবং ব্যয়বহুল, তবু খাদ্যশস্য, ভোগ্যপণ্য ও পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির জন্য সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ইরানের কাছে এটি এখন বড় এক লাইফলাইন। এই কাঠামোর আওতায় তৃতীয় কোনও দেশের পণ্যও পাকিস্তান হয়ে ইরানে প্রবেশ করতে পারবে, ইসলামাবাদের নিষেধাজ্ঞা থাকায় কেবল ভারতের পণ্য ছাড়া। এর ফলে আঞ্চলিক বাণিজ্যের নিয়ন্ত্রণ এখন অনেকটাই পাকিস্তানের হাতে চলে যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম তেহরান টাইমস জানিয়েছে, ইরান এখন সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবল আলী বন্দরের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে পাকিস্তানের সমুদ্রবন্দরগুলোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। এতে খরচ ও সময় দুই-ই বাঁচবে। নতুন রুটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত হলো ৮৮ কিলোমিটারের গদাদর-গাবদ করিডোর। এর মাধ্যমে করাচি থেকে যেখানে সীমান্তে পৌঁছাতে ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা লাগতো, এখন গদাদর থেকে মাত্র ২-৩ ঘণ্টায় পণ্য পৌঁছানো সম্ভব, যা পরিবহন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেবে। ২০২৪ সাল থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ছিল ইরানের তেলবহির্ভূত পণ্য রফতানির অন্যতম প্রধান গন্তব্য। ওয়াশিংটনের ফিন্যান্সিয়াল ইন্ডাস্ট্রি রেগুলেটরি অথরিটি’র আর্থিক বিশ্লেষক জিশান শাহ বলেন, ‘নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েক দশক ধরে ইরানের বেশিরভাগ তেল ও ট্রানজিট বাণিজ্য দুবাই হয়ে পরিচালিত হতো। কিন্তু এখন ইরান ও আমিরাতের মধ্যকার সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণে পাকিস্তান সেই জায়গাটি নেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। পাকিস্তানের সেই অবকাঠামো আছে এবং সবচেয়ে বড় কথা ইরানের বিশ্বাস রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের কারণে যখন দুবাইয়ের জেবল আলী এবং ইরানের প্রধান বন্দর আব্বাস অচল, তখন এই স্থলপথগুলো পাকিস্তানকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারে।’ ইতোমধ্যে ইরানের চাবাহার ফ্রি জোনের একটি প্রতিনিধিদল পাকিস্তানের গদাদর ও চাবাহার বন্দরের মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তান সফর করেছে। এই রুটগুলো পরবর্তীতে ৭ হাজার ২৪২ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তর্জাতিক উত্তর-দক্ষিণ পরিবহন করিডোরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এটি ভারত, ইরান, মধ্য এশিয়া এবং রাশিয়াকে সংযুক্ত করবে। ইরানের জন্য বাণিজ্য পথ খুলে দেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো, যখন পাকিস্তান ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। সমালোচকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে এই বাণিজ্য সুবিধা দেওয়া মানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক চাপ’-এর নীতিকে দুর্বল করা। এর মাধ্যমে পাকিস্তান ভূ-রাজনৈতিকভাবে তেহরানের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলেও অনেকে মনে করছেন। তবে ওয়াশিংটন এখনও এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোনও আপত্তি জানায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সাংবাদিকরা পাকিস্তানের এই স্থল করিডোর খোলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি জানেন এবং পাকিস্তানি নেতৃত্বের প্রতি তার সম্মান রয়েছে। এই করিডোরের মাধ্যমে পাকিস্তান উপসাগরীয় অঞ্চল, ইরান ও মধ্য এশিয়াকে যুক্তকারী একটি মহাদেশীয় ট্রানজিট রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে একটি চালান উজবেকিস্তানে পাঠানো হয়েছে। হরমুজ প্রণালির সংকটের কারণে পাকিস্তান যখন উচ্চ জ্বালানি খরচ এবং রেমিট্যান্স হ্রাসের মুখোমুখি, তখন এই ট্রানজিট বাণিজ্য থেকে আসা কাস্টমস রাজস্ব দেশটির অর্থনীতিকে কিছুটা চাঙা করবে। তবে বড় কিছু কাঠামোগত বাধা এখনও রয়ে গেছে। কোনও নির্ভরযোগ্য ব্যাংকিং ব্যবস্থা, লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) এবং বিমা সুবিধা ছাড়া এই করিডোরগুলো স্থায়ী বাণিজ্য রুট হিসেবে গড়ে ওঠা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, তবে পাকিস্তানও অর্থনৈতিক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। ইরান অবশ্য কেবল পাকিস্তানের ওপর নির্ভর করছে না। সামুদ্রিক সংকট শুরু হওয়ার পর থেকে চীন-ইরান রেল করিডোরে পণ্যবাহী ট্রেনের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। শিআন থেকে তেহরানের ট্রেন এখন সপ্তাহে একবারের বদলে প্রতি ৩-৪ দিন পরপর ছাড়ছে। তা ছাড়া তুরস্ক, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান এবং কাস্পিয়ান সাগর দিয়েও ইরান পণ্য আমদানি করছে। ইসলামাবাদের উন্নয়ন নীতি ও ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা জুবায়ের ফয়সাল আব্বাসি বলেন, ‘এই স্থল করিডোরগুলো সাধারণ কার্গো পরিবহনের জন্য উপযুক্ত হলেও বড় আকারের তেল পরিবহনের জন্য উপযুক্ত নয়। কারণ জাহাজের মতো একটি ট্রাকে ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা সম্ভব নয়।’ তবে জাতিসংঘের তথ্য বলছে, নিষেধাজ্ঞা বা সংকট কেটে যাওয়ার পরও বিকল্প লজিস্টিক সিস্টেমে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া ব্যবসায়ীরা হুট করে সেই পথ ত্যাগ করেন না। ফলে হরমুজ প্রণালির সংকট কেটে গেলেও পাকিস্তানের এই জরুরি স্থল করিডোরগুলো টিকে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। জিশান শাহের মতে, ‘যতদিন ইরান আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকবে, ততদিন তারা দুবাইয়ে ফিরে না গিয়ে পাকিস্তানের এই রুটগুলোই ব্যবহার করবে।’ সূত্র: আল-মনিটর

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত

ভারতের সেনাপ্রধানের ‘মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার’ হুঁশিয়ারির জবাব দিল পাকিস্তান

ফিলিস্তিনপন্থীদের মিছিলের একাংশ

লন্ডনে পরস্পরবিরোধী দুই মিছিলে হাজার হাজার মানুষ

আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা।ছবি: ভাস্কর মুখার্জি

আসামে অভিন্ন দেওয়ানি আইন চালু হচ্ছে, মুসলিম নেতাদের উদ্বেগ

ছবি : সংগৃহীত
আমিরাতকে কঠোর সতর্কবার্তা দিল ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) প্রতি কড়া বার্তা দিয়েছে ইরান। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর হলে তার পরিণতি ভালো হবে না। একই সঙ্গে ইরান বলেছে, এখনো কূটনৈতিক সম্পর্ক ও বন্ধুত্বের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, তবে দেশটির ধৈর্যেরও একটি সীমা রয়েছে।   ইরানের সাবেক ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) কমান্ডার এবং এক্সপিডিয়েন্সি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই এ সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “আমরা আমিরাতের সঙ্গে সম্পর্কের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করিনি। কিন্তু তাদের বুঝতে হবে, ইরানের ধৈর্যেরও সীমা আছে।”   তিনি আরও অভিযোগ করেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ধীরে ধীরে ইসরায়েলের কৌশলগত পরিকল্পনার অংশ হয়ে উঠছে। রেজাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসরায়েল মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের প্রভাব বাড়াতে উপসাগরীয় দেশগুলোকে ব্যবহার করতে চাইছে এবং আমিরাত সেই ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে।   মোহসেন রেজাই বলেন, “আমরা জানি আমিরাত ও ইসরায়েলের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের সামরিক, গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সহযোগিতা রয়েছে। আমিরাতের উচিত হবে না ইসরায়েলের ষড়যন্ত্রের অংশ হওয়া।”   বিশ্লেষকরা বলছেন, ২০২০ সালে আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পর থেকেই ইউএই ও তেলআবিবের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা দ্রুত বেড়েছে। বাণিজ্য, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে দুই দেশের সহযোগিতা এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি দৃশ্যমান। আর এটিই ইরানের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।   সম্প্রতি ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবেও দেখা হয়। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। বিশেষ করে আমিরাতের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক ঘাঁটিগুলোকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।   এছাড়া সাম্প্রতিক কয়েকটি প্রতিবেদনে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত কিছু গোপন তৎপরতা কিংবা পাল্টা অভিযানে আমিরাতের সহযোগিতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে দায় স্বীকার বা স্পষ্ট বক্তব্য দেয়নি।   রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে ইউএই’র অবস্থান এবং ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের বাড়তে থাকা সামরিক ও গোয়েন্দা সম্পর্ক তেহরানের নিরাপত্তা উদ্বেগকে আরও তীব্র করে তুলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও বাড়ছে।

মোঃ নাহিদ হোসেন মে ১৮, ২০২৬
সিন্ধু নদী। ছবি: রয়টার্স

সিন্ধু পানিচুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের রায় প্রত্যাখ্যান ভারতের

ছবি-সংগৃহীত

আইএস নেতা হত্যায় যোগ দেয়নি মার্কিন সেনা : নাইজেরিয়া

ছবি-সংগৃহীত

মুসলিম দেশগুলোকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল : পেজেশকিয়ান

ছবি-সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের আশঙ্কায় জ্বালানি বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১১ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। এক পর্যায়ে তা ১১২ ডলার ছুঁয়ে যায়, যা ৫ মে’র পর সর্বোচ্চ। অন্যদিকে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে দাঁড়ায় ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৩ ডলার। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাত নিরসনের প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে জাহাজে হামলা ও জব্দের ঘটনা অব্যাহত থাকায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হওয়া ড্রোন হামলার উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তারা একে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ উল্লেখ করে পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার সংরক্ষণের কথা জানিয়েছে। এদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, ইরাকের আকাশসীমা থেকে আসা তিনটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। দেশটি বলেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাজার বিশ্লেষক টনি সাইকামোর বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা নতুন করে বড় ধরনের উত্তেজনার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর পক্ষ থেকে আরও হামলা হতে পারে। অন্যদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরান বিষয়ে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করবেন। এছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়ার সমুদ্রপথে তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিলের যে ছাড় দিয়েছিল, তা নবায়ন না করায় তেলের দামে আরও চাপ তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভারতসহ কয়েকটি দেশ রাশিয়ার তেল আমদানিতে নতুন জটিলতার মুখে পড়তে পারে। সূত্র : রয়টার্স

মারিয়া রহমান মে ১৮, ২০২৬
ছবি-সংগৃহীত

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহত আরও ৩

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক অচলাবস্থার প্রতীকী ছবি।

ইরানকে বাগে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ৫ শর্ত

ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবে ২৭ মে পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা

0 Comments