ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে যাত্রীবাহী নৌকাডুবির পর তিন দিন সাগরে ভেসে থাকার পর পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাত বছর বয়সী এক শিশুকন্যাও রয়েছে বলে রোববার দেশটির উদ্ধার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
গত বুধবার বড় দ্বীপ সুলাওয়েসির দক্ষিণে সেলায়ার দ্বীপের কাছে ৭০ জনের বেশি আরোহী নিয়ে চলা নৌকাটি ডুবে যায়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, তারা আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত ২৫ জনের একটি দলের সঙ্গে ছিলেন। তবে প্রবল বাতাস ও উত্তাল সাগরের কারণে তারা অন্যদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন।
স্থানীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার কর্মকর্তা মুহাম্মদ আরিফ আনোয়ার জানান, নৌকাডুবির পর তারা হাতে পাওয়া জেরিক্যান, কর্কের টুকরোসহ বিভিন্ন ভাসমান বস্তু দড়ি দিয়ে বেঁধে একটি অস্থায়ী ভেলা তৈরি করেন। সেটির সাহায্যে তারা তিন দিন সাগরে ভেসে ছিলেন।
তিনি বলেন, শনিবার বিকেলে স্থানীয় জেলেরা তাদের উদ্ধার করেন এবং রেডিও বার্তার মাধ্যমে কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।
আরিফ জানান, কয়েক দিন পর্যাপ্ত খাবার ও পানীয় ছাড়া সাগরে ভেসে থাকায় তারা অত্যন্ত ক্লান্ত ও দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। তবে সঙ্গে থাকা ইনস্ট্যান্ট নুডলস ও বিস্কুট খেয়ে তারা বেঁচে থাকতে সক্ষম হন।
তিনি আরও জানান, এখনও নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এ কাজে পাঁচটি বড় জাহাজ, একটি অনুসন্ধানী বিমান ও একটি হেলিকপ্টার মোতায়েন রয়েছে।
উদ্ধারকারীরা জানান, নৌকাটির যাত্রী তালিকায় ৫০ জনের নাম থাকলেও পরে যাচাই করে দেখা যায়, এতে মোট ৭৮ জন আরোহী ছিলেন।
ইন্দোনেশিয়ায় নৌযানে প্রকৃত যাত্রীর সংখ্যা ও সরকারি তালিকার মধ্যে অমিল প্রায়ই দেখা যায়। দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দেশটিতে নৌ দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটে।
এর আগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্ব ইন্দোনেশিয়ায় একটি নৌকাডুবির ঘটনায় তিনজন স্প্যানিশ পর্যটক নিহত হন। ওই ঘটনায় উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ১০ বছর বয়সী এক শিশুকে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে পদোন্নতিতে অনিয়ম ও অসঙ্গতির অভিযোগে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে মহামান্য হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন। একই সঙ্গে আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত পদোন্নতি সংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে। দেশের বৃহত্তম রাষ্ট্রায়ত্ত বিশেষায়িত ব্যাংকটির ১০ম গ্রেডের পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য পদোন্নতির দাবিতে শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করে আসছিলেন। দাবি আদায়ে বারবার কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন ও মানববন্ধন করেও সাড়া না পেয়ে তারা শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হন। সূত্র জানায়, পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর (শনিবার) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছুটির দিনে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন করেন, যাতে গ্রাহকসেবা ব্যাহত না হয়। তাদের দাবির প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে তিন মাস পার হলেও প্রতিশ্রুত আশ্বাস বাস্তবায়িত না হওয়ায় তারা পুনরায় ওই বছরের ৩০ নভেম্বর মানববন্ধনের আয়োজন করেন। এতে সারা দেশের শাখা থেকে ১২০০–এর বেশি কর্মকর্তা অংশ নেন। পরদিন (১ ডিসেম্বর) বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক সঞ্চিয়া বিনতে আলী পদোন্নতির বিষয়ে মৌখিক আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা কর্মস্থলে ফিরে যান। পরে কর্মকর্তাদের জানানো হয়, সুপারনিউমারারি পদ্ধতিতে মার্চের মধ্যে পদোন্নতির বিষয়টি সমাধান করা হবে। কিন্তু এখনো তা বাস্তবায়ন হয়নি। অন্যদিকে অগ্রণী, জনতা, রূপালী ও সোনালী ব্যাংকে ইতোমধ্যে মোট ৭,৩১৬ কর্মকর্তা এই পদ্ধতিতে পদোন্নতি পেয়েছেন, যা অর্থ মন্ত্রণালয়ও অনুমোদন করেছে। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের এই উদাসীনতা তাদের প্রতি কর্মীবান্ধবহীন মনোভাব ও কর্তৃপক্ষের অনীহারই প্রকাশ। তারা বলেন, গত বছরের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার পতনের পর অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিবর্তন এলেও কৃষি ব্যাংকে আগের প্রশাসনিক কাঠামো অপরিবর্তিত রয়ে গেছে, যা ন্যায্য দাবি আদায়ের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মহাব্যবস্থাপক ও মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন একাধিক বৈঠকে আশ্বাস দিলেও বাস্তব পদক্ষেপ না নিয়ে বরং আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী কর্মকর্তাদের হয়রানি ও নিপীড়ন করা হয়েছে। ফলে তারা বাধ্য হয়ে এ বছরের চলতি মাসে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন (রিট মামলা নং: ১৬৪২৮/২০২৫, মো. পনির হোসেন গং বনাম রাষ্ট্র ও অন্যান্য)। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৬ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের পদোন্নতিতে দেখা দেওয়া অনিয়ম ও অসঙ্গতি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। পাশাপাশি আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, রুল নিষ্পত্তির আগে কোনো পদোন্নতি কার্যক্রম শুরু করা হলে তা অবৈধ ও আদালত–অবমাননার শামিল হবে। রিটে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক পদোন্নতিতে ১০৭৩ জন কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে মূখ্য কর্মকর্তা) এবং ৫১ জন মূখ্য কর্মকর্তা (ঊর্ধ্বতন মূখ্য কর্মকর্তা পদে) অনিয়মের মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়েছেন। এদিকে জানা গেছে, পূর্বে দুর্নীতির অভিযোগে আলোচিত মানবসম্পদ বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক জাহিদ হোসেন এখনো পদোন্নতি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পদোন্নতি–বঞ্চিত কর্মকর্তারা বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্য করে যদি পুনরায় অনিয়মের পথে যাওয়া হয়, তাহলে তা আদালতের অবমাননা ও রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল হবে। তারা আশা করছেন, এ বিষয়ে দ্রুত ন্যায়বিচার ও সমাধান মিলবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে সাম্প্রতিক সময়ে পদোন্নতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের একটি অরাজনৈতিক সংগঠন ‘বৈষম্য বিরোধী অফিসার্স ফোরাম’ এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক মো. পনির হোসেন ও সদস্য সচিব এরশাদ হোসেনকে শৃঙ্খলাজনিত মোকদ্দমা এবং মুখ্য সংগঠক মো. আরিফ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া মুখপাত্র তানভীর আহমদকে দুর্গম অঞ্চলে বদলি করা হয় এবং সারাদেশের দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে যে, মো. আরিফ হোসেনকে বরখাস্ত করার নথিতে তাকে ‘ব্যাংক ও রাষ্ট্রবিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে, অথচ ব্যাখ্যা তলবপত্রে বলা হয় তিনি ‘রাজনৈতিক কাজে তহবিল সংগ্রহ করেছেন।’ ফরেনসিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তার ব্যাখ্যাতলবের জবাব প্রদানের পরও বরখাস্ত চিঠি আগেই তৈরি করা হয়েছিল, যা অনেক কর্মকর্তার মধ্যে প্রশ্ন তোলেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মহাব্যবস্থাপক জানিয়েছেন, সরকারি কর্মকর্তারা যদি সংবিধান বা আইন অনুযায়ী দায়িত্ব না পালন করেন, হাইকোর্ট তাদের ক্ষমতা প্রয়োগ বা অপব্যবহার রোধের জন্য আদেশ দিতে পারে। অন্য একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, এ সিদ্ধান্তের পেছনে ব্যাংকের ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পদোন্নতি ও ন্যায়বিচারের জন্য আন্দোলন এবং আইনি লড়াই চলবে। ভুক্তভোগী কর্মকর্তারা শিগগিরই বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ উপদেষ্টা ও প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চাইবেন। এ ব্যাপারে মো. আরিফ হোসেন ও পনির হোসেনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
প্যাথলজি ও রেডিওলজি রিপোর্টে শুধু সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের নিজ হস্তে স্বাক্ষর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে রিপোর্টে এখন থেকে ইলেকট্রনিক বা অনলাইন স্বাক্ষর আর গ্রহণযোগ্য হবে না বলেও জানানো হয়েছে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক সমূহ) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এসব তথ্য জানানো হয়েছে। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যে চিকিৎসক বা বিশেষজ্ঞ রিপোর্টে স্বাক্ষর করবেন, তিনি অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এছাড়া, লাইসেন্সের জন্য আবেদনকৃত বিশেষজ্ঞ বা মেডিকেল অফিসারের স্বাক্ষর ছাড়া কোনো রিপোর্ট গ্রহণযোগ্য হবে না। এর মাধ্যমে রোগীর জন্য নির্ভরযোগ্যতা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান নিশ্চিত করা হবে। আদেশে বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোকে শুধু তাদের ট্রেড লাইসেন্সে উল্লিখিত ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করতে হবে। কোনো স্থাপনা বা ঠিকানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ। এমনকি অটো-জেনারেটেড বা সফটওয়্যার-ভিত্তিক রিপোর্ট থাকলে, তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যাচাই ও স্বাক্ষরিত না হলে গ্রহণযোগ্য হবে না। রিপোর্ট স্বাক্ষরকারী চিকিৎসকরা অবশ্যই বিএমডিসির রেজিস্টার্ড মেডিকেল গ্র্যাজুয়েট হতে হবে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে রিপোর্টে তথ্যের সঠিকতা এবং রোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি, সব যন্ত্রপাতি ও রি-এজেন্ট ব্যবহার করার ক্ষেত্রে ২০১৫ সালের বাংলাদেশ মেডিকেল ডিভাইস রেজিস্ট্রেশন গাইডলাইন অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, ল্যাবগুলোর যন্ত্রপাতি নিয়মিত ক্যালিব্রেশন করতে হবে। এটি পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। এছাড়া ল্যাবে রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং সমস্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার রেকর্ড সংরক্ষণ করাও বাধ্যতামূলক। একইসঙ্গে ল্যাবের বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে বলেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অধিদপ্তর বলছে, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব। এসব নিয়মাবলি বাস্তবায়ন করলে বেসরকারি ল্যাবগুলোকে তাদের সেবা আরও মানসম্মত করতে হবে বলেও জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনলাইন বা অটোমেটেড রিপোর্টে ত্রুটি বা জালিয়াতির সম্ভাবনা থাকে। নতুন নিয়মের মাধ্যমে রোগীর রিপোর্টে সঠিকতা নিশ্চিত হবে এবং স্বাস্থ্যসেবা আরও নিরাপদ হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, এই নতুন নিয়মাবলির উদ্দেশ্য স্বাস্থ্যসেবা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। এই পদক্ষেপ রোগীদের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করবে।
বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে একটি ভুয়া কর্মচারী ইউনিয়নের সভায় জোরপূর্বক কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ করানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ব্যাংকের ভিজিল্যান্স স্কোয়াডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ হোসেন। গত ২০ অক্টোবর প্রধান কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘বিশেষ সাধারণ সভা’ নামে একটি অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের (সিবিএ) নামে তারা এটির আয়োজন করে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান ও উদ্বোধক হিসেবে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে তারা প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে ভুয়া নেতাদের কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত হয়ে অনুষ্ঠানটি বয়কট করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাসলিমা আক্তার লিনা হেড অফিসের বিভিন্ন দপ্তরের নারী কর্মকর্তা এবং তার স্বামী মিরাজ হোসেন পুরুষ কর্মকর্তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ওই সভায় অংশগ্রহণে বাধ্য করেন। অংশগ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে বদলি বা পদোন্নতি রোধের হুমকিও দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। হেড অফিসের কয়েকজন কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, লিনা তার স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে নারী সহকর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। কেউ আপত্তি জানালে মিরাজের সহযোগীরা এসে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে থাকে বলেও অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া, লিনা ‘উইমেনস ফোরাম’ নামে একটি সংগঠন গড়ে মাসিক চাঁদা সংগ্রহ করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তার এই কর্মকাণ্ডে অনেক নারী কর্মকর্তা বিব্রতবোধ করলেও চাকরির স্বার্থে নীরব থাকছেন। অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, মানবসম্পদ বিভাগের ডিজিএম জাহিদ হোসেনের প্রত্যক্ষ সহায়তায় তাসলিমা আক্তার লিনা ও তার স্বামী মিরাজ ব্যাংকের অভ্যন্তরে প্রভাব বিস্তার করছেন। এ ঘটনায় নারী কর্মকর্তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে তাসলিমা আক্তার লিনা ও মিরাজ হোসেনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে জানতে তাসলিমা আক্তার লিনার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি নিয়ম অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করছি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। অন্যদিকে, মিরাজ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পণ্য রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে গত সেপ্টেম্বরে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। তবে নিয়মের কড়াকড়িতে সুবিধাটি নিতে খুব বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে না রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো। ফলে সরকারের উদ্দেশ্য সফল হচ্ছে না। রপ্তানিও বাড়ছে না। একাধিক রপ্তানিকারক বলছেন, ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে শুল্ক-কর ছাড়া কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেওয়া হলেও এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রেখে দিয়েছে এনবিআর। সে কারণে বাড়তি সময় ও অর্থ খরচের পাশাপাশি হয়রানির আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা এ সুবিধা নিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এদিকে ব্যবসায়ীরা খুব বেশি আগ্রহ না দেখালেও এ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নতুন করে মোটরসাইকেল, স্পিডবোট, মৎস্য প্রক্রিয়াজাত, হস্তশিল্পপণ্য, বহুমুখী পাটজাত পণ্য, ডায়াপার ও স্যানিটারি ন্যাপকিন, ক্রোকারিজ, তাঁবু, রিসাইকেলড কটন ব্যাগ এবং টেরিটাওয়েল খাতে বন্ড লাইসেন্স ছাড়া শুধু ব্যাংক নিশ্চয়তার বিপরীতে কাঁচামাল আমদানির সুযোগ বিস্তৃত করেছেন। গত সেপ্টেম্বরে রপ্তানি খাতের জন্য এ সুবিধা দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর। তাতে বলা হয়, শুল্কমুক্ত এ সুবিধা গ্রহণের জন্য কাঁচামাল আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে আমদানি করা পণ্যের ওপর কাস্টমসের পক্ষ থেকে নিরূপিত শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থের ব্যাংক নিশ্চয়তা জমা দিতে হবে। জানতে চাইলে ফুটওয়্যার, লেদারগুডস অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (এফএলএএক্সএ) সহসভাপতি নাছির খান প্রথম আলোকে বলেন, সরকার যে সুবিধা দিয়েছে, সেটি কাজে লাগাতে হলে কাঁচামাল আমদানির আগে ও পরে একাধিক অনুমতি নিতে হবে। শুরুতে কাঁচামাল আমদানির আগে একবার অনুমতি নিতে হবে। আবার আমদানির পর ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় করতেও অনুমতি লাগবে। এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে সুবিধাটি কোনো কাজে লাগছে না। সুবিধাটি কার্যকর করতে হলে মূল্য সংযোজন পদ্ধতিতে যেতে হবে। ১০০ মার্কিন ডলারের কাঁচামাল আমদানি করলে ১২০-১৩০ ডলারের রপ্তানি করতে হবে—এমন শর্তে শুল্কমুক্ত সুবিধায় কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিতে হবে। চীন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, জাপানে এ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ থেকে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়। এই রপ্তানি তার আগের বছরের তুলনায় দশমিক ৫৮ শতাংশ কম। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হোম টেক্সটাইল, প্রকৌশলপণ্য ও হিমায়িত পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি হলেও তৈরি পোশাক ও প্রক্রিয়াজাত কৃষিপণ্যের রপ্তানি কমেছে। কেন সুবিধাটি নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা এনবিআরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রপ্তানির ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর প্রযোজ্য শুল্ক–করের সমপরিমাণ অর্থ ব্যাংক নিশ্চয়তার মাধ্যমে কাস্টম হাউস বা স্টেশনে জমা দিতে হবে। প্রতি একক পণ্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালের তালিকা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেটের কমিশনারের কাছে দাখিল করতে হবে। কমিশনার সেটি যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানে পাঠাতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে সব ব্যয় আমদানিকারককে বহন করতে হবে। এরপর কমিশনার অনুমতিপত্র দিলে কাঁচামাল আমদানি করা যাবে। তারপর পণ্য রপ্তানির পর কমিশনারের ছাড়পত্র প্রাপ্তি সাপেক্ষে ব্যাংক নিশ্চয়তার অর্থ ছাড় হবে। প্রজ্ঞাপন জারির সময় এনবিআর আশা প্রকাশ করে বলেছিল, বন্ড লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও শুল্কমুক্ত সুবিধায় পণ্য আমদানির সুযোগ দেওয়ার ফলে রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারবে। এতে রপ্তানিযোগ্য পণ্যের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি দেশের রপ্তানি-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে। আসবাব খাতের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হাতিলের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম এইচ রহমান বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে যে সুবিধা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কারিগরি কিছু সমস্যা রয়েছে। ক্রয়াদেশ পাওয়ার পর অনুমতি নিয়ে কাঁচামাল আমদানি করতে হবে। আমাদের খাতে ১২-২০-২৫ হাজার ডলারের ছোট ছোট ক্রয়াদেশ আসে। ফলে বারবার অনুমতি নেওয়া খুবই কঠিন। আবার আসবাবের জন্য প্রয়োজনীয় লেকার ও বোর্ড আমদানিতে এ সুযোগ নেই। ফলে আমরা এ সুবিধার আওতায় কাঁচামাল আমদানির পথে যাইনি।’ সেলিম এইচ রহমান বলেন, রপ্তানিকারকদের আগে সহজে আমদানির এ সুযোগ দিতে হবে। তারপর কোথাও কোনো নিয়মের ব্যত্যয় হলে শাস্তি দিতে হবে। কিন্তু সুবিধা দেওয়ার আগেই হাত-পা বেঁধে রাখা হয়েছে। এ কারণে বাস্তবে এ ধরনের সুবিধা কাজে লাগছে না। এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এনবিআরের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, গত সেপ্টেম্বরে চালু হওয়ার পর অল্প কিছু প্রতিষ্ঠান সুবিধাটি নিয়েছে। যে বিধান করা হয়েছে, তাতে প্রকৃত ব্যবসায়ীরা যদি কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তা পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে।
গ্রিসের সঙ্গে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের আকাশ প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে যাচ্ছে ইসরাইল। আগামীকাল সোমবার (৩১ আগস্ট) তেল আবিবে চুক্তি সাক্ষর করবে দু’দেশ। এক প্রতিবেদনে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো গ্রিসের জন্য বহুস্তরীয় আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা। চুক্তিটি গত ২৩ জুলাই গ্রিসের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সরকারি কাউন্সিল অনুমোদন করে। গ্রিক সংবাদপত্র একাথিমেরিনি জানিয়েছে, নতুন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় গ্রিসের বিদ্যমান সামরিক সরঞ্জাম ও ইসরাইলি প্রযুক্তির সমন্বয় করা হবে। এর মধ্যে থাকবে গ্রিসের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং দেশটির বিভিন্ন দ্বীপ ও মূল ভূখণ্ডের সামরিক ঘাঁটিতে ইতোমধ্যে মোতায়েন থাকা ড্রোন। এর সঙ্গে যুক্ত করা হবে ইসরাইলের তৈরি আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম। নতুন ‘অ্যাকিলিস শিল্ড’ ব্যবস্থা চালু হলে গ্রিসের আকাশসীমা ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা আরও শক্তিশালী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর সবে মাত্র সাড়ে তিন মাস হয়েছে, এরই মধ্যে সাবেক ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জীর ঘোষণা, খুব শিগগিরই রাজ্যে তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, চোরদের নিয়ে বিজেপি ক্ষমতা দখল করেছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস ও রাখিবন্ধন উৎসব উদ্যাপন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এসব কথা বলেন মমতা। ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত দলের নেতাকর্মী, ছাত্র, যুবদের মমতার পরামর্শ, যেকোনো বিষয়ে রাস্তায় আন্দোলনে নামতে হবে, প্রতিবাদে নামতে হবে। কারাগারে যেতে হলে যাবেন, দরকার হলে এক মাস কারাগারের ভাত খাবেন। কিন্তু বিজেপিতে কেউ যাবেন না। এরপরই তিনি বলেন, মনে রাখবেন, খুব শিগগিরই তৃণমূল ক্ষমতায় ফিরবে। দলীয় কর্মী সমর্থকদের উদ্দেশ্যে মমতার বার্তা, এখানে অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ করবেন, আপনার সামনে কাউকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে গেলে ঝাঁপিয়ে পড়বেন। দেখি কত কারাগার আছে, পুলিশ লকআপ আছে। মমতার অভিযোগ, প্রায় ১৪ হাজার মামলা দিয়েছে, এর বিরুদ্ধে আমি সুপ্রিম কোর্টে যাব, দরকার হলে আন্তর্জাতিক আদালতে যাব। আর তাহলে সরকারও ফাঁসবে, যারা গ্রেপ্তার করছেন তারা ফাঁসবেন। তখন আমি দেখব যারা আজকে অত্যাচার করছেন তারা কোথায় থাকে। বিজেপিকে নিশানা করে মমতা বলেন, চুরির ইতিহাস পাল্টে দেব। চুরির ইতিহাসে আরেকটা বড় পরিবর্তন আসবে। আর সেই পরিবর্তনে রাজনীতিতে ধস নামবে। সেই ধসে কে কোথায় থাকবে দেখে নিন, ভেবে নিন। একদিন বিজেপির লোকেরাই আপনাকে জবাব দেবে। রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি, এবার পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা হবে কারণ বিজেপির অতো কর্মী নেই। পুলিশকে দিয়ে তারা সন্ত্রাস করছে। আমরা এই পুলিশি সন্ত্রাস বন্ধ করবই। মমতার অভিযোগ আমাদের দলের একজনেরও জেড প্লাস নিরাপত্তা নেই। নির্বাচনের পরই সব তুলে নেয়া হয়েছে। ওরা (বিজেপি) এ নিয়ে প্রকাশ্যে মিথ্যা কথা বলছে। তাছাড়া আমাকে ধমকে-চমকে লাভ নেই। আমাকে চমকালে আমি গর্জাই! এরপর আমার জেলা সফর শুরু হবে। অনুমতি না পেলে আমি রাস্তায় রাস্তায় হাঁটব। পুলিশ পারলে ঠেকিয়ে দেখাক।
মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষাপটে পুরো পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিক মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইতোপূর্বে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এতে যোগ দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। পরবর্তীকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান চুক্তিটিকে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, বিশ্ব মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার ব্যবস্থা হিসেবে এই চুক্তি সম্প্রসারিত হলে তা মুসলিম পরিবারের ভেতরের বিষয় এবং এটি নিয়ে অন্য কোনও দেশের উদ্বেগের অবকাশ নেই। চুক্তিটির ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আরও জানান, এতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের বিষয়টি এখনও সরাসরি আসেনি। তবে চুক্তির সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি বাংলাদেশকে অন্তর্ভূক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক অভিপ্রায় প্রকাশ করে, তবে বাংলাদেশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। মক্কা চুক্তি নিয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের বিষয়ে ভারতের অবস্থান জানতে চাওয়া হলে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা সব ধরণের ঘটনার ওপর ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখছি। বিশেষ করে তা যদি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হয়। ভারতের নিরাপত্তা সুরক্ষায় আমরা প্রয়োজনীয় সব ধরণের পদক্ষেপ নিয়ে থাকি।” একই ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রতিক হামলা এবং সে বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে ভারতের পক্ষ থেকে কোনও বিরূপ বা আক্রমণাত্মক মন্তব্য করা হয়নি। মুখপাত্র জয়সওয়াল কেবল জোর দিয়ে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও তা সফলভাবে মোকাবিলা করা বাংলাদেশ সরকারের অভ্যন্তরীণ দায়িত্ব এবং সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা উচিত।